Wednesday, 12 April 2017

জার্নাল এপ্রিল 2017

“অপু বিশ্বাস” বাংলাদেশ চলচিত্রের একজন স্বনামধন্য নায়িকা। বাংলাদেশের সামাজিক পরিপ্রেক্ষিতে তিনি খুব সাহসী একটি “পেশা”কে নির্বাচন করেছন এবং নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অর্থনৈতিক ভাবে, সামাজিক ভাবে, পারিবারিক ভাবে যথেষ্ঠ প্রিভিলেজড। প্রকৃতির রীতি মেনে জীবনে প্রেম আসে আর নানা কারণে সে প্রেম শেষ পর্যন্ত অনেকেরই তিক্ততায় গড়ায়। মানুষের জীবনে এটা এমন কিছু অভিনব ঘটনা ও নয়। তার সাথে তার স্বামীর মনোমালিন্য হতে পারে, বিবাহ বিচ্ছেদ ও সন্তানের অধিকারের দাবী নিয়ে মত পার্থক্য হওয়াটা ও খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়। সে সব মত পার্থক্য কে মেটানোর জন্যে, “আইন” আছে, “আদালত” আছে, “সালিশ” আছে। টিভি চ্যানেল কবে থেকে স্বামী – স্ত্রী’র মনোমালিন্য মধ্যস্থতা করার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো?
                       
যে কীটস্য কীট তার ভালবাসার দাবী, সন্তানের কথা অস্বীকার করে, পাশে থাকতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, কোন আত্ম মর্যাদা জ্ঞান থাকা মেয়ে কি করে তার পরিচয়ে তার আত্মজ কে বড় করতে পারে? ভুল করে যদি ভুল হয়েও যায়, ভুল তো ভুলই, প্রেমে মানুষের ভুল হয়ই। সেই ভুলের পরিচয় কে সারা জীবন টেনে বেড়ানোর জন্যে যে মেয়ে পাবলিকলি টিভিতে কান্নাকাটি করতে পারে তার জন্যে কোন প্রকার সমবেদনা বোধ করছি না। কোন কারণেই নয়। আইনের দরজায় না গিয়ে, টিভির দরজায় কেনো গেলেন অপু বিশ্বাস? আপনাকে যে অপমান করা হলো তার প্রতিকার না চেয়ে করুণা কেনো চাইলেন?  এ ধরনের নিম্ন শ্রেণী’র পশু যদি তার সন্তানের পরিচয় নিজেও দাবী করে, যে কোন আত্ম মর্যাদা সম্পন্ন মেয়ে তা সমযার্দায় অস্বীকার করত। অপু বিশ্বাস, আপনার সন্তানকে বড় করতে, মানুষ করতে – প্রতারক শাকিবের কি ভূমিকা থাকতে পারে? হাজার হাজার সিঙ্গেল মা তার সন্তানকে সফলতার সাথে পরম মমতায় যত্নে বড় করে যাচ্ছেন দেশে ও বিদেশে। আপনি তাদের গল্প জানেন?

আজ যদি বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে, সামাজিক ভাবে অত্যাচারিত, অর্থনৈতিক ভাবে অপ্রতিষ্ঠিত, পারিবারিক সমর্থন ছাড়া   কোন মেয়ে মানসিক ভাবে ভেঙে পরে কান্নাকাটি করতো তাও এক ধরনের মমতা অনুভব করতাম কিন্তু “নো মের্সি” ফর “অপু বিশ্বাস”। প্রতিষ্ঠিত নারী’র নামের কলঙ্ক আপনি।

নূরা পাগলা পরছে “মঙ্গল শোভাযাত্রা” নিয়ে আর প্রধানমন্ত্রী “ভাস্কর্য” নিয়ে। পাতানো খেলা আবার জমে উঠেছে। বঙ্গবন্ধু’র অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চেতনা প্রধানমন্ত্রী’র হাতে পরে এতো দূর পিছিয়েছে যে, সেখান থেকে বাংলাদেশ আবার কবে সামনে হাঁটবে, আদৌ কি হাটঁতে পারবে কি, তা আজ অনিশ্চিত। ঐশ্বরিক কোন শক্তিতে আস্থা থাকলে, আপনার সুস্বাস্থ্যের জন্যে প্রার্থণা করতাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। যে বিষ কাঁটা আপনি নিজ হাতে বোপন করে দিলেন, তার ফলাফল যেনো নিজে দেখে যেতে পারেন, সেই কামনা করি।

জোক অফ দ্যা ডে “খালেদা জিয়া বলেছেন, হাসিনা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করছে” – বেচারী, সোল এজেন্সী হাত ছাড়া হয়ে গেলো। ব্যবসায় ভাগীদার কার ভাল লাগে।


 12-04-2017

Sunday, 9 April 2017

বিশ্বের সবচেয়ে সুখী হলো ওলন্দাজ বাচ্চারা – তাদের সুখের আটটি গোপন কারণ

দু’হাজার তের সালে ইউনিসেফ উন্নত বিশ্বের বাচ্চাদের ওপর “Child Well Being in Rich Country Survey” নামে একটি সমীক্ষা চালায়। এই সমীক্ষায় ডাচ বাচ্চারা পৃথিবীর সুখী বাচ্চা দের তালিকায় এক নম্বরে উঠে আসে। সমীক্ষার পাঁচটি বিভাগের মধ্যে যে তিনটিতে তারা সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়ে এগিয়ে থাকে সেগুলো হলো - জীবনধারণে বস্তুগত সুযোগ-সুবিধা, পড়াশোনার সুযোগ-সুবিধা এবং আচার-ব্যবহার ও জীবন যাত্রার ঝুঁকি। এরকম সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র জার্মান ইউনিসেফ-এরই নয়। ব্রিটেন চাইল্ড প্রোভার্টি একশন গ্রুপ, দি ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশান এবং ইউনিসেফ ইন্টারন্যাশনাল সবাই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, ডাচ শিশুরাই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী শিশু।
প্রশ্ন আসতে পারে, কেন ডাচ বাচ্চারা এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী বাচ্চা? আমি একজন প্রবাসী মা, এবং দীর্ঘদিন ধরে একটি ডাচ শহরতলীতে বাস করি। আমার পক্ষে ডাচ বাচ্চাদের সুখের পিছনে অন্তত: আটটি গোপন কারণ খুঁজে পাওয়াটা খুব কঠিন কিছু নয়।
১. ডাচ পিতা-মাতারা পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষদের অন্তর্ভুক্ত :
পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী বাচ্চাদের বাবা মায়েরা যে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষদের মধ্যে পড়বে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ কারা, এ নিয়ে জাতিসংঘের প্রথম প্রতিবেদনে “ডাচ’রা (১২ই সেপ্টেম্বর ২০১৩) পৃথিবীর চার নম্বর সুখী মানুষদের তালিকায় ছিলো। এই ‘সুখ সূচক’ নির্ধারণে সামাজিক অগ্রগ্রতিকে খুবই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। এটা বুঝতে কারোই কষ্ট হবার কথা নয় যে, আসলে সুখী বাবা-মা মানেই সুখী বাচ্চাকাচ্চা।
২. ডাচ মায়েরা প্রকৃত সুখী মা :
ডাচ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং সাংবাদিক এলেন ডা ব্রুন (Ellen de Bruin) এ বিষয়ের ওপর “ডাচ মহিলারা কখনোই বিষন্নতায় ভোগেন না,” নামে একটি বই লিখেছেন যেখানে তিনি বিষয়টি ব্যাখা করেছেন। তাঁর ভাষায়, “ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধিনতাই হলো মূল চাবিকাঠি। ডাচেরা তাদের পছন্দের জীবনসঙ্গী, ধর্ম এবং লিঙ্গ-বৈশিষ্ট্য বেছে নিতে পারে। আমরা সাধারণ ড্রাগস গুলি নিজেরাই বেছে নিয়ে ব্যবহার করতে পারি। এবং, বলার স্বাধীনতা আছে আমাদের। নেদারল্যান্ডস একটা খুবই মুক্তমনা দেশ।”
আমেরিকা এবং পৃথিবীর অন্যান্য দেশের নারীদের মত রুপ, আতিথিয়তা এবং চটকদারিতা ডাচ নারীদের অগ্রাধিকারের তালিকায় তেমন উপরের দিকে স্থান পায় না। তবে, সাধারণ ভাবে বললে বলতে হয়, ব্রাউন ডাচ নারীদের সম্বন্ধে কিছু অবিবেচনাপ্রসুত মন্তব্যও করেছেন। যেমন, তিনি বলেছেন, ডাচ নারীরা ফ্যাশনেবাল জামা কাপড় পরতে জানে না (বিশেষ করে যখন তারা সাইকেল চালিয়ে সব জায়গায় যায়), রাতের খাবারের সময় কেউ যদি তাদের বাড়িতে অপ্রত্যাশিত ভাবে উপস্থিত হয় তাহলে তাকে না খাইয়ে বিদায় করে দেয়, এবং তারা তাদের পুরুষদের ওপর বেশ কর্তৃত্বপরায়ণ।
ডাচ নারীরা চাকরী আর সংসারের কাজের মধ্যে একটি সুন্দর ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে বলে হয়ত তারা এতো সুখী। পৃথিবীর আর সব OECD দেশের বেশীর ভাগ নারীদের মত ডাচ নারীরাও তাদের কর্ম জীবন উপভোগ করে। ডাচ নারীদের আটশট্টি ভাগ পার্ট টাইম চাকুরী করে। মোটামুটি ভাবে বলতে গেলে, তাঁরা সপ্তাহে পঁচিশ ঘন্টা কাজ করেন।
লিসা ব্যালকিনস হুফফিংগন (Lisa Belkin’S Huffington) এর What Mothers Really Want: To Opt In Between (INFOGRAPHIC)” প্রতিবেদনে দেখা যায় একটি বিরাট সংখ্যক মা তাঁদের সংসার আর চাকুরীর মাঝে আদর্শ ভারসাম্য রেখে পার্ট টাইম কাজ করতে চান। আমেরিকাতে ২১২৭ জন মায়ের ওপর সমীক্ষা চালানো লিসা ব্যালকিনস হুফফিংগন এর মতে, যাদের বাড়িতে আঠারো বছরের নীচে সন্তান আছে তাদের শতকরা পয়ষট্টি ভাগ পার্ট টাইম চাকুরী করতে চায়, শতকরা নয় ভাগ ফুল টাইম চাকুরী করতে চায় আর শতকরা ছাব্বিশ ভাগ কাজ না করে ঘরে বসে থাকতে চায়।
৩. ডাচ বাবাদের পার্ট টাইম চাকুরীর মাধ্যমে সংসারে সাহায্য করা ও বাচ্চা প্রতিপালনে সমান সমান দায়িত্ব পালন করা :
“একুশ শতাব্দী’তে পার্ট টাইম চাকুরী” করা নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস একটি প্রতিবেদন ছেপেছিলো যেখানে ডাচ জনগোষ্ঠী’র পার্ট টাইম চাকুরী প্রীতি ব্যাপারটিকে উল্লেখযোগ্য ভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে ডাচ সরকার এ দেশের নাগরিক পার্ট টাইম চাকুরীজীবীদেরকে ফুল টাইম চাকুরীজীবিদের সমান সুযোগ ও মর্যাদা দিয়ে কর্ম জীবন ও ব্যক্তি জীবনের মধ্যে সামঞ্জস্য আনার রাস্তা পাকা করে দিয়েছে। প্রতি তিন জনে একজন বাবা এখন এই সুযোগটি নিচ্ছেন। তাঁদের নারী সহযোগীদের মত দিন দিন অনেক বাবা’ই সপ্তাহের তিন দিন বা চার দিন কাজ করে বাকি একদিন সন্তানদের সাথে কাটান। “বাবা দিবস (Papa day)” এখন শুধু মুখের কথা নয় বরং ডাচ জীবনের একটি অংশ। ডাচ বাবারা সন্তান লালন পালনে নিজের দায়িত্ব গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন এবং নিজের ভূমিকাটি সযতনে পালন করেন।
৪. ডাচ বাচ্চাদের স্কুলে প্রতিযোগিতা করার চাপ না থাকার কারণে তাদের মানসিক পীড়ন খুব কম, এবং তাদের কোন বাড়ির কাজ থাকলেও খুব সামান্য থাকে তাই তাদের স্কুলের পরে খেলার সুযোগও পর্যাপ্ত :
ডাচ প্রাইমারি স্কুলে দশ বছরের নীচে বাচ্চাদের কোন বাড়ির কাজ থাকে না। তাদেরকে শুধু লিখতে ও পড়তে শেখাটাকে উপভোগ করতে উৎসাহিত করা হয়। বারো বছর বয়সে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্তির সময় একটি বিশেষ পরীক্ষা নেয়া হয় বাচ্চাদের। এটাকে “CITO” পরীক্ষা বলা হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বাচ্চাদের মেধা আর বুদ্ধিবৃত্তির একটা ধারনা নেয়া হয় । এটি দিয়ে আসলে নির্ধারন করা হয় ব্যক্তিগত পর্যায়ে কোন ধরণের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষায় তারা ভাল করতে পারবে।
এই কারনে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরাও “SATs কিংবা “ACTs” পড়ার অমানুষিক মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়না কিংবা কেতাবী বিদ্যায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের প্রতিযোগিতা’র মুখোমুখি হয় না। বেশীর ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্যে কোন আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতার মুখোমুখিও তাদের হতে হয় না।
স্কুল নিয়ে ডাচ বাচ্চাদের এই আয়েশী আর সুখী মনোভাব আমাকে আমার বাড়ির কথা মনে করিয়ে দেয়। আমি এখনও স্পষ্ট মনে করতে পারি যেদিন আমি আমার হাই স্কুলের প্রথম ক্লাশ শুরু করি সেদিন থেকেই একটা “ভাল” কলেজ বাছাই করা নিয়ে বাড়ির ভেতর আর বাইরে থেকে ভীষণ চাপ শুরু হয়ে ছিলো আমার ওপর। যখন যদি ভাবি আমার ছেলেটা পড়াশোনার আনন্দের জন্য স্কুলে যেতে পারছে না, তাকে সারাক্ষণ প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে কৃতকার্য হওয়ার জন্যে চেষ্টা করতে হচ্ছে, তো তাহলে ভয়ে আমার ভেতরটা শুকিয়ে আসে।
৫. তারা সকালের নাস্তায় সাদা রুটির ওপর মাখন বা চকলেটের টুকরো এসব খেতে পায় প্রত্যেকদিন, যেটা কোনও সহজ কথা নয়ঃ
যখন জাতিসংঘ বললো ডাচ বাচ্চারা স্বাস্থ্যকর নাস্তা খায়, আমি খুব মজা পেয়েছিলাম। ডাচদের একটি গতানুগতিক সকালের নাস্তা মানে প্রায়শই সাদা পাউরুটি আর তার ওপর মাখন এবং চকলেট - তা আপনি বড় বা ছোট যে বয়সেরই হন না কেন। এক টুকরো রুটির সাথে কখনো পনির কিংবা চিকন বা এক টুকরো হ্যামই হলো ডাচদের দুপুরের খাবার, এবং সেটাকে আমার কাছে তেমন ভাল খাবার বলে মনে হয়নি।
জাতিসংঘের সমীক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার উঠে এসেছে - ডাচ শিশু আর কিশোর-কিশোরীরা নিয়মিত পরিবারের সাথে সকালে নাস্তা করে। পৃথিবীর অন্য কোন দেশে শিশু কিশোররা এত নিয়মিত ভাবে পরিবারের সাথে নাস্তা করে না। সকালের এই নাস্তা খাওয়ার সাথে যে শুধু স্কুলে ভাল করা আর আচরনের সমস্যা কমিয়ে আনার যোগ আছে তাই নয়, রোজ এভাবে একসাথে নাস্তা খাওয়ার কারণে পরিবারের সবার একসাথে অনেকটা সময় কাটানো হয়, ফলে পারিবারিক বন্ধন মজবুত হয় আর স্বতন্ত্র পরিচয়ে বেড়ে ওঠাটাও সহজ হয়।
৬. তাদের নিজেদের মতামত ব্যক্ত করার পূর্ণ স্বাধীনতা আছে :
ডাচ বাচ্চাদের প্রতি মনযোগ দিয়ে নজর দেওয়া হয় এবং তাদের কথা সেভাবে শোনাও হয়। যে মুহূর্ত থেকে তারা নিজেদের বাক্য গুছিয়ে বলতে শেখে, সে মুহূর্ত থেকে তারা তাদের মতামত দিতে পারে আর তাদের বাবা মায়েরা সেটা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
৭. তাদের একটা দাদু-নানু দিবস থাকে :
সপ্তাহের কর্মব্যস্ত কোন দিনে আপনি যদি ডাচ বাচ্চাদের খেলার জায়গায় যান তাহলে আপনি সেখানে একজন নানু বা দাদুর দেখা পাবেন যিনি তাঁর নাতি নাতনীদের নিয়ে পার্কে গেছেন। অনেক ডাচ দিদু’রাই তাঁদের নাতি নাতনীদের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে তাঁদের সন্তানদেরকে গর্বের সাথে সাহায্য করে থাকেন। দাদী-নানীদের থেকে সপ্তাহে একদিন সন্তানদের প্রতি যত্ন পাওয়াতে ডাচ বাবা মায়েরা তাদের কর্মজীবন আর ব্যক্তিজীবনের মাঝে সুন্দর একটা সমন্বয় ঘটাতে পারেন। দিদু’র সাহচর্য্য শিশুর নিজের আত্ম সম্মান গড়ে তুলতেও সাহায্য করে।
৮. ডাচ পরিবারদেরকে সংসার খরচের জন্যে ডাচ সরকার প্রতি মাসে টাকা দিয়ে থাকেঃ আমরা সবাই জানি বাচ্চা বড় করা খুবই খরচান্ত ব্যাপার হতে পারে। USDA এর মতে, ২০১২ সালে জন্ম নেয়া কোন বাচ্চা আঠারো হতে হতে, ২৪১.০৮০ ডলার খরচ হবে। কি বিশাল একটা অঙ্ক।
অর্থনৈতিক মন্দা বেড়ে যাওয়ার এই সময়ে যেখানে নানা রকম সরকারী সুবিধে কেটে দেয়া হচ্ছে তখনও ডাচ পরিবারগুলো ডাচ সরকার থেকে টাকা পাচ্ছে। বিশেষ করে বলতে হয়, ডাচ পরিবারগুলো বাচ্চাদের ভাতা (allouance), বাচ্চাদের জন্য সুবিধা বৃত্তি বা বেনিফিট স্টাইপেন্ড (যেটা বাবা মায়ের আয়ের ওপর নির্ভর করে), সম্মিলিত ছাড় বা কম্বিনেশান ডিসকাউন্ট (বাচ্চাদের ডে-কেয়ার ও অন্যান্য খরচ সামলানোর জন্যে করের একটা অংশ ফেরত পাওয়া) আর বাচ্চাদের যত্ন নেয়ার জন্য নিয়মিত ভাতা এসব পেতেই থাকবে। আপনাদের কথা জানি না কিন্তু আমি যদি আমার বাচ্চা বড় করার জন্যে টাকা পাই সেটা নিয়ে আমার কোন আপত্তি থাকবে না।
আমাদের বাস্তবতা অবশ্যই এরকম না যে আমরা একটি আদর্শ ডাচ পরিবারকে অনুসরন করবো। আমার স্বামী একজন উদ্যোক্তা, এবং তাঁর খন্ড কালীন চাকুরীর কোনও সুযোগ নেই। আর আমিও একজন বাড়িতে থাকা মা। যাইহোক, আমরা সুখী কারণ আমরা সেভাবেই জীবন যাপন করছি যেভাবে আমরা তা করতে চেয়েছিলাম। নেদারল্যান্ডসে বাস করার সুযোগ আমাদেরকে চিরায়ত ঐতিহ্যমন্ডিত পারিবারিক পরিবেশ উপভোগ করতে সাহায্য করেছে। আমার কোলের দুরন্ত দামাল ছেলেটার পেছনে সারাদিন দৌড়াতে থাকাটা যদিও আমার জন্যে অত্যন্ত ক্লান্তিকর, আমি সৃষ্টিকর্তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দেই সে সুযোগ তিনি আমাকে দিয়েছেন। এটাই ডাচ দেশে বসবাস করার প্রশান্তি।
রিনা মায়া কস্টা
ভাষান্তর
তানবীরা তালুকদার
৩০/০৩/২০১৭

Tuesday, 28 March 2017

Happy Birthday Bhaiya

আই মিস দ্যাট চাইল্ড হুড, দুপুরে মা ঘুমিয়ে গেলে, আমরা চার্লিস এঞ্জেলস, সিক্স মিলিয়ন ডলার ম্যান খেলতাম। দোতলার ক্যান্টিলের ওপর থেকে রাস্তার পাশে বাড়ি বানানোর জন্যে জমিয়ে রাখা, ইট বালুর ওপর লাফ দিয়ে দিয়ে পরা। সমস্ত অমূল্য মধুর স্মৃতির আনন্দ ধারা এন্ড ইউ আর দ্যা হিরো

আমি মিস দোজ নাইটস, ইউনিভার্সিটিতে পড়ার লির্বাটির কারণে বাইরে থেকে শিঙ্গারা, সমুচা, ঝালমুড়ি, ফুচকা সব খেয়ে আসতাম। শরীর নিতে পারতো না। প্রচন্ড ব্যথায় মধ্য রাতে উঠে, কারো ঘুম না ভাঙিয়ে নিঃশব্দে বেসিনে বমি করার সময়, অসীম মমতায় দুটো হাত আমাকে ধরে রাখতো। বমির দমকে আমার সারা শরীর ভেঙে চুরে আসতো, মনে হত বেসিন ভেঙে নিয়ে পরবো আমি, তখন সেই মমতার দুই হাত আমাকে শক্ত করে ধরে রাখতো। সব কিছু নিজে পরিস্কার করে, আমাকে বিছানায় ঘুমোতে পাঠাতো। দুজনের মধ্যে একটা শব্দ বিনিময় হতো না বটে কিন্তু আমি জানতাম, মায়ের বকুনি খানিকটা পিটুনির হাত থেকে ও আমাকে আনকন্ডিশনালি রক্ষা করা হলো।

আই মিস আমাদের পুরনো সাদা টয়োটা করলা। আমরা চার বোন আর তুমি আমাদের হিরো, সব এক সাথে বের হতাম, ঢাকার অন্যদের ভয় দেখাতে (আমাদের ভাষায়)। ফুল ভলিউমে, মায়া লাগাইছে পিরিতি শিখাইছে চালিয়ে দিয়ে, সাভার, আশুলিয়া, গুলশান কিংবা সংসদ ভবন। আমাদের খিক খিক এর কারণে, রাস্তার পুলিশরা আমাদের ধরে অকারণে, নিয়ম নীতি শেখানোর চেষ্টা করতো, ভদ্র আচার ব্যবহার শেখানোর ব্যর্থ চেষ্টা বাবা মায়ের পর তারাও করতো

And I miss u terribly when I’m somber and helpless – every tough moment of my life – I wish u were here to hold me like before.  Again and again I realize – I should have listened to you.

He says, we r unmissable parts of his body. We say, you are the “heart” of us. 
Happy Birthday Bhaiya – You are the “best” thing ever happened to us.
All the RED tomatoes of the whole world are only for you.
The most unbeatable coolest guy on the earth --- The ever green hero – have a blast today

মানুষ আশায় বাঁচে, আমরাও তোমার দেয়া আশার ওপর ভরসা করে আছি পেনশান লাইফে সংসারের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি নিয়ে তোমার প্ল্যান মত আবার সবাই একসাথে থাকবো আমাদের বুড়ো বেলায় আবার আমরা ছোট হয়ে যাবো তোমার জন্মদিনে তোমার পাশে দাঁড়িয়ে কেক কাটার নানা পোজের ছবি তুলবো




Tuesday, 14 March 2017

তোলা থাক কিছুটা সময় ..... ওসব উচিৎ অনুচিৎ..

কে তুমি?
ভয়াবহ শুদ্ধ সুন্দরেররূপ ধরে!
বরং এক চিলতে নেমে এসো অল্পকরে
অবান্তর আনন্দের অশোভনতায়
যেমন মাঝেমধ্যে শীতে গরম নেমে আসে
আর গ্রীষ্মে নেমে আসে শীত.......
তোলা থাক কিছুটা সময়
ওসব উচিৎ অনুচিৎ.......

১৫/০৩/২০১৭ 

Friday, 10 March 2017

আমার সৌমিত্র

“জীবনে কি পাব না ভুলেছি সে ভাবনা সামনে যা দেখি, জানি না সেকি আসল কি নকল সোনা” মান্নাদের এই গানটা ছোটবেলা থেকে অনেক বার শোনা, ক্যাসেটের বদৌলতে। ছোটবেলায় চটুল গানে আকর্ষিত হতাম এমনিতেই বেশি। তার অনেক পরে বাড়িতে যখন ভিসিআর এলো তখন দেখলাম সাদা কালো পর্দায় ছিপছিপে স্মার্ট অত্যন্ত সুর্দশন এক ছেলে টুইস্ট নাচছে এই গানের সাথে। হয়ত সে সময়ের বাংলা সিনেমার এই একমাত্র নায়ক সে টুইস্ট নেচেছেন। তাকে দেখা মাত্র প্রেম, মানে হাবুডুবু প্রেম, যাকে বলে “লাভ এট ফার্স্ট সাইট”। “তিন ভুবনের পারে” ছবিতে তনুজা’র ওপর তো রীতিমত রাগই হচ্ছিলো, এই মারাত্বক “হ্যান্ডশাম” বরকে এতো কষ্ট দিচ্ছে বলে। সারা বাংলা যখন উত্তম – সুচিত্রায় মগ্ন, আমি তখন মগ্ন “সৌমিত্র – অপর্ণা”তে। সত্যজিতের “অপুর সংসার” ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখি। সেখানে অবশ্য নায়িকা কিশোরী শর্মিলা ঠাকুর। তারপর হীরক রাজার দেশে। আস্তে আস্তে সাত পাঁকে বাঁধা, তিন কন্যার সমাপ্তি, চারুলতা, পরিণীতা ইত্যাদি। সৌমিত্রকে দেখার জন্যেই এতো সত্যজিত দেখা হয়ে গেলো এক সময়।

আমি কিশোরী থেকে তরুনী হয়েছি, তিনি যুবকেই থেকে গেলেন আজীবন, চির সবুজ। আজও বেলা শেষে বা প্রাক্তনে তাকে দেখে ভাল লাগে। সিনেমা’র বক্তব্যের সাথে একমত না হলেও তার উপস্থিতির কারণে মুগ্ধতা অস্বীকার করতে পারি না। সত্যজিত ছাড়া বাংলা সিনেমার আর এক দিকপাল মৃণাল সেনের সাথে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন, তপন সিংহ, অজয় করের মত পরিচালকদের সাথেও। তার নাটক দেখার সৌভাগ্য হয় নি কিন্তু মুগ্ধ হয়েছি তার আবৃত্তি শুনে, বার বার। এতোটা ভরাট কন্ঠ শুধু আবৃত্তি’র জন্যেই বোধ হয় তৈরী হয়। অরন্যের দিনরাত্রি, অশনি সংকেত, ফিফটিন পার্ক এভিনিউ, আবার অরন্যে, শাখাপ্রশাখা, গনশত্রু, মনিহার, আকাশ কুসুম কোথায় ভাল লাগে নি তাকে। বোধ হয় তার প্রতি বেশি আকর্ষন কাজ করেছে, তিনি ছকের বাঁধাধরা নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন নি বলে, সেরকম মেকাপ গেটাপ নেয়ার চেষ্টা করেন নি বলে। তিনি যা তিনি তাই ছিলেন, অন্য ভাষায় বলতে গেলে একদম “ছাঁটকাট” সৌমিত্র। সত্যজিত কে এ জন্যে ভাল লাগে, তিনি নায়িকা অনেক বদলেছেন, কিন্তু নায়ক ততো নন। সৌমিত্র কে ছাড়া ফেলুদা কল্পনা করতে পারি না।

বহুমুখী প্রতিভা তাঁর। নিজে নাটক লেখেন, পরিচালনাও করেন, ছবি আঁকেন, কবিতা লেখেন। তার প্রথম কাব্য গ্রন্থের নাম “জলপ্রপাতের ধারে দাঁড়াবো বলে”, ৮১৩ পাতার বই (২০১৪)। যদিও আনন্দ পাবলিশার্সের ইচ্ছে ছিলো প্রথমে তার নাট্যসংগ্রহ বের করার। অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে যতোটা আড়াল করেন, কবিতার মধ্যে দিয়ে নিজেকে ততোটাই প্রকাশ করেন তিনি। আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “আঠারো বছর বয়স কি দুঃসহ, সেই আমিকে প্রকাশ করতেই প্রথমে কবিতা লিখি। কবিতায় আমি মুক্ত। কবিতা সমগ্রের ভূমিকাতে আমি লিখেছি, আমি কবিতা লিখতে শুরু করেছিলাম কৈশোরের নতুন জন্মানো প্রেম আকাঙ্ক্ষার আন্দোলনে। পরবর্তীকালে অবশ্য একটু একটু করে প্রকৃতি, সমাজ, বেঁচে থাকার অপরিহার্য অভিজ্ঞতাও কবিতার মধ্যে ফুটে উঠতে আরম্ভ হলো। কোন বড় ভাব বা আদর্শের প্রভাবে আমার লেখা শুরু হয়নি।“ স্ত্রী দীপাকে চিঠির বদলে কবিতা লিখতেন তিনি। কখনও বা চিঠির ফর্মে না দিয়ে আমার অনুভূতিগুলো কবিতার আকারে আমি ওকে পড়ে শুনিয়েছি। দীপা বরাবরই আমার কবিতার বড় শ্রোতা।“

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সম্মান 'Officier des Arts et Metiers' পেয়েছেন । সত্তরের দশকে তিনি পদ্মশ্রী পান কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি । পরবর্তী কালে তিনি পদ্মভূষণ পুরস্কার লাভ করেন। ২০১২ সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র পুরস্কার দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার লাভ করেছেন।

ভাল লাগে ভাবতে, উই আর গ্রোয়িং ওল্ড টুগেদার। যতো বড় হয়েছি, ততোই মুগ্ধতা বেড়েছে, প্রেম দীর্ঘস্থায়ী থেকে চিরস্থায়ী হয়েছে।

টাক পড়ুক আর নাই পড়ুক তিনি সৌমিত্র,
সে জানুক আর নাই জানুক, প্রেম তার সাথেই দিবা রাত্র।

Image may contain: 1 person, smoking, outdoor and close-up

“জীবনে কি পাব না ভুলেছি সে ভাবনা সামনে যা দেখি, জানি না সেকি আসল কি নকল সোনা” মান্নাদের এই গানটা ছোটবেলা থেকে অনেক বার শোনা, ক্যাসেটের বদৌলতে। ছোটবেলায় চটুল গানে আকর্ষিত হতাম এমনিতেই বেশি। তার অনেক পরে বাড়িতে যখন ভিসিআর এলো তখন দেখলাম সাদা কালো পর্দায় ছিপছিপে স্মার্ট অত্যন্ত সুর্দশন এক ছেলে টুইস্ট নাচছে এই গানের সাথে। হয়ত সে সময়ের বাংলা সিনেমার এই একমাত্র নায়ক সে টুইস্ট নেচেছেন। তাকে দেখা মাত্র প্রেম, মানে হাবুডুবু প্রেম, যাকে বলে “লাভ এট ফার্স্ট সাইট”। “তিন ভুবনের পারে” ছবিতে তনুজা’র ওপর তো রীতিমত রাগই হচ্ছিলো, এই মারাত্বক “হ্যান্ডশাম” বরকে এতো কষ্ট দিচ্ছে বলে। সারা বাংলা যখন উত্তম – সুচিত্রায় মগ্ন, আমি তখন মগ্ন “সৌমিত্র – অপর্ণা”তে। সত্যজিতের “অপুর সংসার” ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখি। সেখানে অবশ্য নায়িকা কিশোরী শর্মিলা ঠাকুর। তারপর হীরক রাজার দেশে। আস্তে আস্তে সাত পাঁকে বাঁধা, তিন কন্যার সমাপ্তি, চারুলতা, পরিণীতা ইত্যাদি। সৌমিত্রকে দেখার জন্যেই এতো সত্যজিত দেখা হয়ে গেলো এক সময়।
আমি কিশোরী থেকে তরুনী হয়েছি, তিনি যুবকেই থেকে গেলেন আজীবন, চির সবুজ। আজও বেলা শেষে বা প্রাক্তনে তাকে দেখে ভাল লাগে। সিনেমা’র বক্তব্যের সাথে একমত না হলেও তার উপস্থিতির কারণে মুগ্ধতা অস্বীকার করতে পারি না। সত্যজিত ছাড়া বাংলা সিনেমার আর এক দিকপাল মৃণাল সেনের সাথে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন, তপন সিংহ, অজয় করের মত পরিচালকদের সাথেও। তার নাটক দেখার সৌভাগ্য হয় নি কিন্তু মুগ্ধ হয়েছি তার আবৃত্তি শুনে, বার বার। এতোটা ভরাট কন্ঠ শুধু আবৃত্তি’র জন্যেই বোধ হয় তৈরী হয়। অরন্যের দিনরাত্রি, অশনি সংকেত, ফিফটিন পার্ক এভিনিউ, আবার অরন্যে, শাখাপ্রশাখা, গনশত্রু, মনিহার, আকাশ কুসুম কোথায় ভাল লাগে নি তাকে। বোধ হয় তার প্রতি বেশি আকর্ষন কাজ করেছে, তিনি ছকের বাঁধাধরা নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন নি বলে, সেরকম মেকাপ গেটাপ নেয়ার চেষ্টা করেন নি বলে। তিনি যা তিনি তাই ছিলেন, অন্য ভাষায় বলতে গেলে একদম “ছাঁটকাট” সৌমিত্র। সত্যজিত কে এ জন্যে ভাল লাগে, তিনি নায়িকা অনেক বদলেছেন, কিন্তু নায়ক ততো নন। সৌমিত্র কে ছাড়া ফেলুদা কল্পনা করতে পারি না।
বহুমুখী প্রতিভা তাঁর। নিজে নাটক লেখেন, পরিচালনাও করেন, ছবি আঁকেন, কবিতা লেখেন। তার প্রথম কাব্য গ্রন্থের নাম “জলপ্রপাতের ধারে দাঁড়াবো বলে”, ৮১৩ পাতার বই (২০১৪)। যদিও আনন্দ পাবলিশার্সের ইচ্ছে ছিলো প্রথমে তার নাট্যসংগ্রহ বের করার। অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে যতোটা আড়াল করেন, কবিতার মধ্যে দিয়ে নিজেকে ততোটাই প্রকাশ করেন তিনি। আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “আঠারো বছর বয়স কি দুঃসহ, সেই আমিকে প্রকাশ করতেই প্রথমে কবিতা লিখি। কবিতায় আমি মুক্ত। কবিতা সমগ্রের ভূমিকাতে আমি লিখেছি, আমি কবিতা লিখতে শুরু করেছিলাম কৈশোরের নতুন জন্মানো প্রেম আকাঙ্ক্ষার আন্দোলনে। পরবর্তীকালে অবশ্য একটু একটু করে প্রকৃতি, সমাজ, বেঁচে থাকার অপরিহার্য অভিজ্ঞতাও কবিতার মধ্যে ফুটে উঠতে আরম্ভ হলো। কোন বড় ভাব বা আদর্শের প্রভাবে আমার লেখা শুরু হয়নি।“ স্ত্রী দীপাকে চিঠির বদলে কবিতা লিখতেন তিনি। কখনও বা চিঠির ফর্মে না দিয়ে আমার অনুভূতিগুলো কবিতার আকারে আমি ওকে পড়ে শুনিয়েছি। দীপা বরাবরই আমার কবিতার বড় শ্রোতা।“

Wednesday, 8 March 2017

আকাশ আর মেঘ

মেঘের খুব অভিমান হয়েছে
জেনে ও আকাশ, দূরে সরে রয়েছে
মেঘ ভেঙে পরেছে
অবিরাম ঝরে যাচ্ছে
আহত আকাশ অনেক রেগে গেছে
গর্জে উঠেছে, বর্ষে যাচ্ছে
স্টক এক্সচেঞ্জে কি শেয়ার দর পড়েছে
ডোনাল্ড ট্রাম্প কি তার ইস্যু থেকে নড়েছে
দুজনের অভিমানের খেলায়
আমাদের ভিজিয়েই যাচ্ছো
শোন বোকা, তোমার কান্নায় এই পৃথিবীর আহ্নিক গতির
কোন পরিবর্তন হবে না,
কোন ফুল পাপড়ি মেলা বন্ধ করবে না
কান্না থামাও মেঘ
আমাদের দোহাই লাগে,
আকাশের সাথে বোঝাপড়া নিভৃতে হোক
ভালবাসায়ায় মিলুক ঐ দু চোখ
ভিজিয়ে ভিজিয়ে সারাবেলা
কষ্ট দিও না আর ম্যালা

০৭/০৩/২০১৭

আকাশ, তুমি কি তোমার হারিয়ে ফেলা প্রেমিকার জন্যে
আজ কেঁদেই যাবে?
সকাল দুপুরে গড়াবে আর দুপুর বিকেলে
জানো না বুঝি, যা হারিয়ে যায়
তা হারিয়ে যায়, মহাকালের গর্ভে
হারানো জিনিস আর ফেরে না
তোমার হাজার কান্নায় তোমার প্রেম
ফিরবে না আকাশ, জেনে রেখো।

২৬/০৮/১৬

Friday, 3 March 2017

নরম রোদের উদাস দুপুর - হাত ছানি দেয় কোন সে নুপূর

হাঁটছিল পিয়া আলতো পায়ে কাঁধে বইয়ের ব্যাগ আর তাতে শেষ না হওয়া এসাইনমেন্টের বোঝা কিন্তু মন উড়ছে কোথাও, কোন সে দূরে হঠাৎ ভাবলো, কি হবে এসব সারাক্ষণ ভেবে, ঢাকার যানজটের মতই কখনো সমাধান হবে না, সমস্যা হলো পড়াশোনা এসাইনমেন্ট শেষ হলো সেটা ডি, এই এক্সাম শেষ হলো তো অন্যটা মাথার ওপর, পাশের ফ্ল্যাটের বেরসিক রমনীর নেড়ে দেয়া পেটিকোটের মত ঝুলছে তার চেয়ে বরং কফি খাই এক কাপ

নির্জনতা চাইছে মন খুব করে কোলাহল ছাড়িয়ে কোনের দিকের নিরিবিলি টেবলটাই সে বেছে নিলো কি খাবে? একটু অন্যরকম কিছু, যা রোজ খায় না। মেনু কার্ড দেখে অর্ডার করলো, লাটে মাকিয়াতো, অনেকটা দুধ দেয়, কাপুচিনোর মডার্ন ভার্সণ, খেতে বেশ লাগে। আজকে নিজেকেই নিজে ট্রিট দিচ্ছে সে। মাঝে মাঝে নিজের সাথে নিজের এই ডেট, নিজেকে যত্ন করতে, ভালবাসতে আজকাল বেশ লাগে।

রোদ উঠেছে, শীতের এই রোদে কোন তাপ নেই, আছে সর্বাংগ জড়িয়ে থাকা প্রেমিকের মিষ্টি ওম। পিঠে রোদের নরম সেই ছোঁয়া পিয়া’র মনকে অন্য কোন দিকে টানতে চাইছে। ভার্সিটির এই করিডোর টা অসাধারণ। ভিক্টোরিয়ান মোজাইকের এই ডিজাইন গুলোর দিকে সারাবেলা তাকিয়ে থাকলেও কোন ক্লান্তি আসে না। আজ তার ওপর বাড়তি পাওয়া এই আলো আধারি’র খেলা।

এ সময় ক্যাফেটারিয়াটা খুব ব্যস্ত থাকে। তার লাটে মাকিয়াতো আসতে বেশ সময় নিচ্ছে। নিজের ভেতর ডুবে যাওয়ার এর চেয়ে ভাল সময় আর হয় না। বড় একটা নিঃশ্বাস নিয়ে চোখ বন্ধ করলো, কোথাও কোন ছবি ভাসে কি? এক মিনিট, দু মিনিট, তিন মিনিট – পাঁচ মিনিট --- না কোথাও কোন ছবি নেই। মন এখন স্থির, কোন চঞ্চলতা নেই এখানে। এতোটা পথ পেরিয়ে আসতে তাকে অনেক নির্ঘুম রাত, অনেক চোখের জল ত্যাগ দিতে হয়েছে। সেসব ভুলে যেতে চায়। কথা হলো, পেরেছে, মন কে স্থির করতে, এটাই সত্যি আর বাকি সব মিথ্যে।


এলো লাটে মাকিয়াতো, চিনি মেশাবে নাকি মেশাবে না, ভাবতে কিছুটা সময় নিলো। তারপর তাতে অল্প চিনি মেশাতে গিয়ে নিজের অজান্তেই হেসে ফেললো, কেন এতো শাসন করে সারাবেলা নিজেকে সে? নিজের প্রতি কেন এতো কাঠিন্য? সে তো তার নিজের কাছে কিছু ট্রিট পাওনা আছে। অনেকটা চিনি মিশিয়ে নিয়ে গরম লাটে মাকিয়াতো’র কাপে আলতো ঠোঁট ছুঁয়ে, ব্যাগ থেকে সদ্য কেনা, দাউদ হায়দারের “ভালবাসার কবিতা” বইটি বের করে তাতে চোখ বোলাতে লাগলো। মনটা ঝরঝরে, ফুরফুরে – ফিসফিস করে নিজেকে বললো, চিয়ার্স পিয়া