Sunday, 11 February 2018

রানী পদ্মাবতী

অবশেষে দেখলাম সঞ্জয় লীলা বানসালি’র বহুল আলোচিত সিনেমা “পদ্মাবত”। কাহিনী যেমনই হোক সঞ্জয় লীলা বানসালি’র সিনেমা দেখা সবসময়ই আনন্দের। তিনি সিনেমাটোগ্রাফী, সেট, মিউজিক, করিওগ্রাফী, ড্রেস ডিজাইন ইত্যাদি’র ওপর খুব নজর রাখেন। তার ভাষায় বলতে গেলে, “Larger than life”. খানিক ক্ষণের জন্যে হলেও রঙিন কল্পনার জগত থেকে ঘুরে আসা, মন্দ নয়। এ ছাড়াও সঞ্জয়ের প্রতি সামান্য একটু দুর্বলতা কাজ করে তার “সারনেম” এর কারণে। সঞ্জয় মানেন তার জীবন এ অব্ধি আগানোতে তার মায়ের ভূমিকা অপরিসীম। তাই তিনি তার মায়ের নাম “লীলা বানশালি” তার নিজের নামের সাথে জুড়ে দিয়েছেন। উপমহাদেশ কেন পুরো পৃথিবীতেই মা’কে এভাবে সম্মান জানাতে ক’জন পারে।


সঞ্জয় বারবার আশ্বস্ত করেছে, "পদ্মাবত" ইতিহাস থেকে নয় বরং পনেরশ চল্লিশ সালে সুফি কবি মালিক মুহাম্মদ জয়াসীস এর "আওয়াধি" ভাষায় লেখা মহাকাব্য "পদ্মাবতী - চিতোরের রানী" কবিতা'র ওপর ভিত্তি করে বানানো।

“পদ্মাবত” সিনেমা’র গল্পানুসারে দিল্লী’র দ্বিতীয় শাসক আলাউদ্দিন খিলজী মেওয়ার এর রাজা রতন সিং বা সেন এর স্ত্রী রানী পদ্মাবতী কিংবা পদ্মিনী’র রুপের গল্প লোক মুখে শুনে দিশেহারা হন। তিনি মেওয়ার দখল করে রানী পদ্মাবতী’কে নিজের করে পেতে চান। রাজপুর রাজা রতন সিং তার রাজধানী চিতোরে তার রাজ প্রাসাদ এবং দূর্গ এভাবেই তৈরী করেছিলেন যে ব্যাপারটা খিলজী’র জন্যে ততটা সহজ হয় না। অতঃপর দিল্লী’র নিয়মনুযায়ী বিভিন্ন অসাধু কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়া। সেই সময় একটি সংলাপে আমার কান আটকে যায়, দৃশ্যটি এরকম, আলাউদ্দিন খিলজী তার তাবুতে বসে মুরগী’র তান্দুরি সাথে আরও অনেক পদ দিয়ে যখন দুপুরের আহার সারছিলেন তখন তার খাস ক্রীতদাস “মালিক কাফুর” এসে বললো, সৈন্য’রা দিনের পর দিন না খেতে পেয়ে ফিরে যাওয়ার জন্যে বিদ্রোহ করছে, দয়া করে ওদের কিছু বলে ওদের মনোবল বাড়ান, ওদের শান্ত করুন।


আলাউদ্দিন খিলজী নিজের তাবু থেকে বেরিয়ে এসে সৈনিকদের বললেন, তিনি দিল্লী’র মসনদের সীমানা আরও বিস্তৃত করার স্বপ্ন আজীবন দেখে আসছেন। কে কে তার সাথে আছে? অনেক বিদ্রোহী শ্রমিকই তখন দেশভক্তি আর রাজভক্তির কাছে পরাজয় মেনে যায়। তখন থেকেই ভাবছিলাম যুগে যুগে একই প্রতারণা! সেই তেরশ চৌদ্দ সালেও যা আজকের দু হাজার আঠার সালেও তাই। এসেছে পেশী শক্তির বদলে নিজের লালসা চরিতার্থ করতে নাম দিয়েছে, দেশ প্রেম। কেউ একজন ও দিল্লী’র সুলতানকে জিজ্ঞেস করে নি, দিল্লী’র মসনদের সীমানা বাড়লে, সাধারণ সৈন্য’রা কি পাবে? তাদের কি জীবন যাত্রা’র মান বৃদ্ধি পাবে? তাদের বাচ্চারা দু’বেলা খেতে পারবে তো? নাকি সব সেই দিল্লী’র কোষাগারে জমা হয়ে কোষাগার উপচে পরবে আর তাদের লালসাময় জীবন ভোগের নিমিত্তে সেই অতল সীমানায় খাবি খাবে। সম্রাট শাজাহান যখন অমরত্বে’র বাসনায় “তাজমহল” তৈরী করছিলেন, তখন দিল্লীতে কিংবা ভারতবর্ষে কত মানুষ না খেয়ে দিন কাটাতেন? কেমন ছিলো তার সৈন্য সামন্ত কিংবা তাজমহল নির্মানে ব্যস্ত থাকা সেই সব নির্মান শ্রমিকদের জীবন?


যুগে যুগে যুদ্ধের লক্ষ্য মেয়েরাই হয়। রানী পদ্মাবতীই শুধু? তুর্কি বংশভূত খিলজী থেকে মুঘল সম্রাট, কার হাত থেকে নারীরা রক্ষা পেয়েছিলেন? যোধা বাই থেকে শুরু করে অসংখ্য রাজকন্যা মুঘল সম্রাটদের রানী হয়েছেন কিংবা হতে বাধ্য হয়েছেন। মুঘলদের নানাবিধ অত্যাচার আর ভোগ বিলাসের মধ্যে এটিও ছিলো উল্লেখযোগ্য। শুধু মুঘলরাই বা কেন? একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাক বাহিনী’র বিরাট লক্ষ্য ছিল নারীদের ওপর অত্যাচার করা। হ্যাঁ, অত্যাচারকে অত্যাচারই বলবো, মানুষের জীবন যেহেতু তার ব্যক্তিগত অঙ্গে লুকিয়ে থাকে না তাই এর সাথে সম্মানকে জড়িয়ে ফেলারও কিছু নেই। এর থেকে কি এখনও পৃথিবী মুক্তি পেয়েছে? আজকের লুটেরা বাহিনী আইএস এর হাত থেকে যেসব মেয়ে’রা বেঁচে আসতে পেরেছে তাদের কাছে কি অসংখ্য রানী পদ্মাবতী’র গল্প আমরা শুনি নি? বোকো হারামের হেরেমে কি আজও অসংখ্য রানী পদ্মাবতী আত্মাহুতি দিচ্ছেন না?


হ্যাঁ, সেসব হতভাগীদের নিয়ে এ যাবত কালের সবচেয়ে ব্যয় বহুল সিনেমা’টি তৈরী হয় নি বটে। কিন্তু পৃথিবীর বহু জায়গায় আজও রানী পদ্মাবতী বাস্তব, কোন মাইথলজিক্যাল চরিত্র নয়। বহু মেয়ে নিজেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়ে জওহার না হলেও অন্যভাবে আত্মাহুতি দিচ্ছে। খিলজী’র মত পাপী রাস্তায় রাস্তায় মুখোশ ধরে আজও ঘুরে বেড়াচ্ছে আর তাই ফসলের ক্ষেতে, নদীর পারে, বাড়ির পেছনে, আইএস কিংবা বোকো হারামের কালো কুঠুরীতে রানী পদ্মাবতীদের বিগলিত লাশ পাওয়া যায়।

১২.০২. ১৮ 

Wednesday, 24 January 2018

দৃষ্টির সীমানায় না থাকলেই চেনা সব কিছু হারিয়ে যায়?

আপনি কাকে আপনার জীবনের কতটা ভাবলেন সেটা আসলে তত জরুরী কিছু নয়। কে আপনার সাথে কী রকম আচরন করলো, সেটার সাথে সমঝোতা করে নিলে, সুখ না হোক অন্তত স্বস্তি পাওয়া যায়।


লাইফ ইজ আ ওয়ান ওয়ে জার্ণি, নো চান্স টু টার্ণ ব্যাক। প্রত্যেকটা মানুষ আলাদা, প্রত্যেকটা সম্পর্ক আলাদা। কোন নির্দিষ্ট প্রত্যশা রাখা ঠিক না। আঁকড়ে ধরার প্রবনতা থেকে মানুষ বার বার একই ভুল করে যায়। চিরন্তন বলে পৃথিবীতে কিছু নেই। সবকিছু বদলে যায়, বদলে যাওয়াই জীবন। আর সবচেয়ে বেশী বদলায় মানুষের মন, যদিও মানতে চাই না কিন্তু সত্য তাই।
যা কিছু হারিয়ে যায় তা ফিরে পাওয়া যায় না, সব শূন্যতাও কখনও পূর্ণ হবার নয়, হারানো সুর পিছু ডাকে বটে কিন্তু পিছু ডাকলে অমঙ্গল হয়, তাই শুধু সামনে তাকানো, গভীর অস্ত্বিত্বহীনতার দিকে তাকিয়ে তবুও দিন কেটে যায় – পাখির ডানায়
তবে এই হোক তীরে জাগুক প্লাবন
দিন হোক লাবন্য হৃদয়ে শ্রাবণ
ছুঁয়ে কান্নার রঙ ছুঁয়ে জোছনার ছায়া,
জানে কান্নার রঙ জানে জোছনার ছায়া।


মোবাইল থাকতে মোবাইলের মর্যাদা বোঝা যায় না। সম্পর্ক হারিয়ে গেলে বোঝা যায়, সেটা কতটা ছিলো।
দিনশেষে সম্পর্ক একটা গাছের মত, যার গোড়ায় দুজনকেই পানি দিতে হয়। গাছটার যত্ন নিতে হয়, তবেই গাছটা ধীরে ধীরে বেড়ে উঠে ডালপালা ছড়ায়।
সব সম্পর্ক কি তাই? লেন-দেন? না, কিছু সম্পর্ক আছে, বন আলো করে ফুটে থাকা নাম না জানা উজ্জল সেই ফুলটি’র মত। কেউ জল দেবে, আলো দেবে তার অপেক্ষায় সে নেই। সে নিজের আনন্দেই চারপাশ আলো করে ফুটে থাকে, সৌন্দর্য বিলায়, গন্ধ বিলায়। খুব কম, কিন্তু থাকে, কেউ কেউ অনেক দূর থেকেও কাছে থাকে।



Tuesday, 2 January 2018

কুয়ো’র ব্যাঙ

কুয়ো’র ব্যাঙ ভাবে কুয়ো’টাই গোটা বিশ্ব। কিন্তু মাঝে মাঝে “নাস্তিক” বিজ্ঞানীদের আবিস্কার করা ইন্টারনেট দিয়ে ব্লগ, ফেসবুক, ইউটিউবে ঢুকে পরে। ব্যাঙের ধাঁ ধাঁ লেগে যায়। ওমা!!! কুয়ো’র বাইরেও আরো একটা গোটা পৃথিবী আছে! সে পৃথিবী’র ব্যাঙ গুলো নাকি অন্যরকম! বাপ-দাদাদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জন্ম থেকে মগজে ঢুকিয়ে দেয়া সে সব “বিশ্বাসের ভাইরাস” বাহিত গল্প গুলোকে ওরা বিশ্বাসতো করেই না বরং চ্যালেঞ্জ করে!।

কি আশ্চর্য! গল্প বিশ্বাস না করলেও ঐ ব্যাঙ গুলো দেখতে ঠিক সাধারণ আর সব ব্যাঙের মতই। জানা না থাকলে কেউ আলাদাই করতে পারবে না! কি অদ্ভূদ না? গায়ের রঙ, মাথা’র চুল, হাঁটা, চলা, বলা সব একদম ঠিক ঠিক সাধারণ। কেটে গেলে এদের গা থেকেও রক্ত পরে আর অবাক কান্ড হলো, এদের রক্তের রঙ ও লাল, দুঃখ পেলে এরাও কাঁদে, এদেরও পরিবার আছে, বাবা-মা আছে। এরা’ও প্রেমে পরে, প্রেমে প্রতারণাও করে, আজকাল শোনা যায়, টাকা পয়সা নিয়েও নাকি মানুষের সাথে নয়-ছয় করে। পুরো আর সাধারণ দশটা ব্যাঙেরা যা করে, এরাও তো তাই, তাহলে এরা নিজেদের আলাদা দাবী করে কেন? আহা! এসব কি এদের নাকি? এগুলো সব আমাদের করায়ত্ত্ব করা কলাকৌশল। ধর্মের আফিম গুলিয়ে দিয়ে যুগ যুগ ধরে এগুলো আমরা করে এসেছি, আমরাই করবো, এসব একান্তই আমাদের উত্তরাধিকার। তোরা করলে অন্য কিছু করবি বাপু যা এলিয়েন’রা করে সাধারণরা নয়। তোরা তো আসলে এলিয়েন’ই, এমন অদ্ভূদ কি ব্যাঙ হয়!

শান্তির বারতা প্রচার করতে যেয়ে যুগে যুগে ধর্ম বারবার অশান্তিই এনেছে, নিয়েছে প্রাণ। এদের হাতে নিহত হয়েছে ব্রুনো, হাইপেশিয়া, আর্কিমিডিস, সক্রেটিস, এরিস্ট্যাটল কিন্তু এদের কর্ম এখনও বর্তমান। এদের কাজ কে আজ অব্ধি কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারে নি, পায় নি এদের মধ্যে কোন লোক ঠকানো কিংবা প্রতারণা’র প্রমাণ যদিও তাঁদেরও নিশ্চয় নিজস্ব আনন্দ-বেদনার কাব্য ছিলো। হায় সেলুকাস, দিনরাত “অবিশ্বাসী”দের গালাগালি করতে ঘরে বসে যেই মাধ্যম গুলো ব্যবহার করা হয় তার কোনটাই ধর্মের দান নয়, অবিশ্বাসীদের অবদান। মনের কুয়ো থেকে বের হতে পারলে ব্যাঙ জানতে পারতো, “অন্ধের কাছে দুধ কাঁচির মত বাঁকা হলেও, যার দৃষ্টি আছে তার কাছে দুধ দুধের মতই তরল।“  

কিন্তু এই এলিয়েনদের নিয়ে কুয়ো’র ব্যাঙদের যুগ যুগ ধরেই কৌতুহল অনেক। ওরা যখন ভুল বলছে, ভুল করছে, ওদের কথায় যখন কোন সত্যতা নেই তাহলে ইগনোর করে দেন ওদেরকে। জার্মানী’র যখন পাকা পায়খানা আর বদনা বেশি হয়ে গেছে, বাংলাদেশীদের না দিয়ে ওরা শান্তি পাচ্ছে না, তাহলে ওদেরকে ওখানেই যেতে দেন, সমস্যা কি আপনাদের? সৌদি যেয়ে তো আর পবিত্র ভূমি’র পবিত্রতা নষ্ট করছে না। পৃথিবীতে নিশ্চয়ই আরো বিষয় আছে যেগুলো বোকা, লোভী নাস্তিকদের কার্যকলাপ থেকে অনেক বেশি আকর্ষনীয় তো সেদিকেই মনোযোগ দিন না, সকাল বিকাল ঐ হতভাগাদের পিন্ডি না চটকিয়ে বুঝি আরাম হয় না? “একই ভাষায় কথা বললে, একই রকম ভাবতে’ও হবে, নইলেই কল্লা দিয়ে দিতে হবে?”

আর আছে এলিয়েনদের জ্ঞানের বহর পরিমাপ করার বিভিন্ন দাড়িপাল্লা। কলোনিয়াল মানসিকতায় ইংরেজি বলা হলো শিক্ষা দীক্ষা মাপার প্রধান ইউনিট। ভাল ইংরেজি বলতে পারে না মানে কিছুই জানে না। আমার জীবনে আমি যত গুলো বই পড়েছি, তার মধ্যে দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর এর লেখা, “সত্যের সন্ধানে” ও “সৃষ্টি’র রহস্য” মাইল ফলক, এত সহজ ভাষায়, এত অকাট্য যুক্তি, কজন ভাবতে পারেন আর লিখতে পারেন। কিন্তু আজকাল আমার মনে হয়, তিনি ইংরেজি বলায় ফ্লুয়েন্ট ছিলেন কি! নইলে তো তাঁরও খবর হ্যাজ হয়ে যেতো।

হায়রে ভজনালয়,
তোমার মিনারে চড়িয়া ভন্ড গাহে স্বার্থের জয়! 

            মানুষেরে ঘৃণা করি
কারা কোরান, বেদ, বাইবেল চুম্বিছে মরি মরি!
মুখ হইতে কেতাব গ্রন্থ নাও জোর করে কেড়ে
যাহারা আনিল গ্রন্থ-কিতাব সেই মানুষেরে মেরে।
পূজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল! -মূর্খরা সব শোনো,
মানুষ এনেছে গ্রন্থ;- গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো ।




Thursday, 28 December 2017

যায়ে তো কাহা যায়ে

নিউজফীডে বার বার এক কিশোর আর কিশোরীর মুখ ভেসে আসছে। গৃহভৃত্য হিসেবে কৈশোরে প্রাণ দিলো এই বেচারী বালকটি। জীবন কি, পৃথিবী কি জানার আগেই চির বিদায়। মানুষের জীবন এত সস্তা! হবে হয়ত। একশ একটি দোরা’র কারণে মৃত্যু হয়েছে এই বালিকা’র। নিতান্তই বালিকা, আহারে।

আচ্ছা, ভারতীয় উপমহাদেশের পরিবার গুলো যদি তাদের নিজেদের মেয়েদের পাশে দাঁড়াত তাহলে পারিবারিক নির্যাতন কোন পর্যায়ে থাকত? ছেলেরা যেহেতু জানেই, একবার বিয়ে করে নিয়ে এলে কেউ ধরতে আসবে না, বলতে আসবে না, সামাজিক এবং ধার্মিক পদ মর্যাদায় তারা তাদের স্ত্রীদের প্রভু, তাহলে পছন্দ না হলে কিংবা ইচ্ছে হলে স্ত্রীকে যে কোন ধরনের শাসনে বাধা কোথায়? প্রতি বছর কত মেয়ে মারা যায় নির্যাতনের শিকার হয়ে? কত মেয়ে আত্মহত্যা করে?

শিক্ষিত, অর্থনৈতিক ভাবে স্বচ্ছল, ক্ষমতাশীল, সচেতন কোন পরিবারটি তাদের মেয়ের পাশে দাঁড়ায়? টেলিফোন করে কাঁদতে কাঁদতে যখন মেয়ে বলে, বাবা, আমাকে নিয়ে যাও, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে, তাও বাবা কি নিতে আসে? কত হাজার বছর ধরে কত মেয়ে তার বাবাকে, ভাইকে আর্তনাদ জানিয়ে আসছে সমাজে নিজেদের প্রতিষ্ঠা ধরে রাখতে এবং পূন্য লাভের উদ্দেশ্যে সহমরনেপাঠিয়ে দেয়া সংস্কৃতির মানুষ তো আদতে আমরা, মেয়েরা কি শুধু শাশুড়ি, ননদের হাতেই পুড়েছে, বাবা – ভাইদের হাতে কি পোড়েনি?  মেয়েরা কোথায় না বলির শিকার, কার কাছে না উটকো ঝামেলা? কে চায় সেধে কাধে দায় নিতে?

যে মেয়ে গুলো বিভিন্ন কারণে পারিবারিক ভাবে নির্যাতিত হয়ে হাসপাতাল বা পুলিশ পর্যন্ত যায় তাদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, পরিবার জানতো, জেনেই মরতে ছেড়ে দিয়ে রেখেছিল। অর্তকিতে ঘটে যাওয়া কোন দুর্ঘটনা নয় এগুলো। মরে গেলে তখন পুলিশ, মামলা কিন্তু বেঁচে থাকতে মেয়ে’র পাশে নেই। আত্মজার কান্না, আত্মজার যন্ত্রণা কত সহজেই উপেক্ষা করা যায় নিজের বাবা মায়েরই যেহেতু মন গলে না, অন্যের মা-বাবার কাছ থেকে সহানুভূতি পাওয়ার আশা তো বাতুলতা মাত্র কি অদ্ভূত সেলুকাস এই পৃথিবী, কি বিচিত্র এর মানুষেরা। রাষ্ট্র নির্লিপ্ত, নির্লিপ্ত পরিবারও, যাবে তো কোথায় যাবে। ঠোঁটে হাসির ক্যামোফ্ল্যাজ ধরে রেখে, কষ্টের দাগ লুকাবে। তারপর একদিন নিউজফীডে চেহারা আসবে ........................

১৮/১২/২০১৭


Monday, 18 December 2017

এন আনসেন্ট লেটার টু মাই ডিয়ারেস্ট ডটার

গুনে দেখলাম, এটা তোমার তৃতীয় জন্মদিন যে দিনটিতে তুমি আমি এক সাথে নেই, সামনে হয়ত আরও অনেক বেশী হবে তুমি বন্ধুদের সাথে স্টাডি ট্যুরের আনন্দে আছো আর আমি আছি তোমার প্রতীক্ষায় ………………

এই দিনটি যতটা তোমার প্রিয়, ঠিক ততোটাই আমারও প্রিয় তুমি অনেকভাবে সেলিব্রেট করতে ভালবাস, আমিও যদিও আমি তোমাকে কথা শোনানোর ওপরে থাকি, এত টাকা খরচ হচ্ছে তোমার জন্যে, এতো কাজ করতে হচ্ছে তোমার জন্যে ইত্যাদি ইত্যাদি কথা না শুনলে ভয়ও দেখাই, পার্টি ক্যান্সেল। এখন তুমি একটু বড় হয়েছো, আর ভয় পাও না, তুমি জেনে গেছো মা এসব কিছুই মীন করে না, তুমিও মজা পাও, আমিও

তাড়াতাড়ি ফিরে এসো মা সোনা কলিজা আমার কার্ডের জবাবে তোমার কার্ডটা খুউউউউব মিষ্টি হয়েছে জীবনের নিয়ম মেনে তুমি আমার থেকে দূরে যাবে, ঠিক যেমন আমি ফেলে এসেছি আমার মাকে, ব্যস্ত থাকবে নানা কাজে, আমাকে এমন কার্ডে অভ্যস্ত হয়ত হতে হবে কার্ড পেয়েই তোমার গন্ধ পাওয়ার সাধ মেটাতে হবে, তবুও কার্ড হলেও তোমাকে চাইই

যখন তুমি আরো ছোট ছিলে, তোমার এখনের চেয়েও অনেক বেশিমামিপেতো গুটুল গুটুল হাত দুটো বাড়িয়ে আমাকে বলতে, “আমার ইট্টু মামি পেয়েছে”এখন দিন বদলেছে, অনেক ব্যস্ত তুমি, ইনস্ট্রাগ্রাম, হোয়াটসএ্যাপ কিংবা স্ন্যাপচ্যাটে। সেই তুলতুলে হাত দুটো, সেই বেড়াল বাচ্চা সম নরম “হাগ” মা অনেক মিস করি। এখন মায়ের অনেক বেশি “মেঘ” পেয়ে যায়।

যেমন বলি ঠিক তেমনই বলছিশূচি শুভ্র স্নিগ্ধ থেকোআনন্দে থেকো --- হাজার হাজার বছরের আয়ু নিয়ে ---- উজ্জল হয়ে থেকো আমি যেখানেই থাকিতোমাকে দেখবোভালবাসব

ভরা কলসির পানি ঢালার সময় যেমন থেকে থেকে একটা মিষ্টি সুন্দর আওয়াজ সৃষ্টি হয়তুমি যখন মাআআআআআমিডাকো তেমনি আমার কান পেতে শুনতে ইচ্ছে করে যখন তুমি ক্লান্ত বা ব্যস্ত, কথা বলতে চাও না, আমি অনেক গল্প করিআমার যে তোমার কথা শুনতে ইচ্ছে করে, তুমি রাগ করো, সেটাও মিষ্টি লাগে মিসিউ মা মিসিউ


 লাভিউ - এত্তো গুলো



Thursday, 14 December 2017

হোক্স ইন সোশ্যাল মিডিয়া স্পেসিফিক্যালি ইন এফ বিঃ

কয়দিন ইনবক্সে খুব গুরুত্বপূর্ন একটা বার্তা আসতে থাকলো। অমুক যদি আপনাকে “ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট” পাঠায়, এক্সেপ্ট করবেন না। সে ফ্রেন্ড হলে আপনার চৌদ্দ গুষ্টি’র খবর নিয়ে আপনাকে ব্যাঙ্ক ক্রাফট করে ছাড়বে, আপনার জমি জমা হাতাবে, ফেসবুকের ফার্মভিলের মালিকানা নিয়ে নেবে ইত্যাদি ইত্যাদি। যতদিন না আরিফ জেবতিক ভাই, তার যুগান্তকারী স্ট্যাটাস দিলেন, অমুকের সংগে আমি বন্ধুত্ব করমু, চা খামু, চ্যাট করমু, আড্ডা দিমু, সেলফি তুলমু, আপনের কি? ততদিন চললো এই সতর্কবার্তা।

তারপর এলো, মায়ানমার’কে রক্ষা করার হুজুগ। ইউনুস নবী মাছের পেটে আটকে ছিলেন, এই দোয়ায় বের হয়েছেন সো এখন মায়ানমার’কে সুকী’র পেট থেকে বের করতে হবে। যত জন নিষ্ঠার সাথে এই দোয়া এগারোজন কে পাঠিয়েছেন তাদের কত জন নিজে এই দোয়াটা মায়ানমারের জন্যে পড়েছেন, আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে। দোয়া পাস করেই সওয়াব হাসিল করে ফেলবে কিংবা মায়ানমার’কে রক্ষা করে ফেলবে। বাঙালি জাতি’র মত এত শর্টকাটে বেহেস্ত যাওয়ার রাস্তা এই পৃথিবীতে অন্য কোন জাতি জানে কিনা সন্দেহ আছে।

এবার এলো ব্লু হোয়েল --- ইহা কি বস্তু ঠিক করে জানার আগে, নানা পোস্ট শেয়ার আর বার্তা এসে গেলো। এই অত্যাচারও মোটামুটি নীরবেই হজম করলাম।

তারপর শুরু হলো “অপারেশান” নিয়ে। যারা যারা ম্যসেজ ইনবক্স আর শেয়ার করছেন, তাদের কাছে জানতে চাই, নিউজটি’র অথেনটিসিটি চেক করেছেন? কেই এই শিশু? তার বাবার আসলে কি সমস্যা? কি অসুখ?

কি কারণে একটাকা কম বেশি না, পুরো এক কোটি টাকা লাগবে? কে বলেছে এই টাকার অঙ্ক? টাকা’টা কোথায় পাঠাবো, তার ঠিকানা কি? ওদের সাথে যোগাযোগ করবো, তার নম্বর কি? ঠিকানা কি? ফেবু’তে শেয়ার দিয়েই এক কোটি টাকা তুলে চিকিৎসা হয়ে যায়?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আপনি কয় টাকা দিয়েছেন? নাকি টাকা দেবে অন্যরা আপনি শুধু লোকের ইনবক্সে পাঠাবেন? একটা বাচ্চার ছবি এভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, কোন কমন সেন্স ও তো কাজ করা উচিত, নাকি? আর ছবি দেখে ও তো বোঝার উপায় নেই, মেয়েটির হাতের কাগজে আসলে কি লেখা? পেছনের ক্যালেন্ডার দেখে, সন তারিখ বোঝার উপায় নেই, যেমন বোঝার উপায় নেই জায়গাটা কি বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্ডিয়া, মায়ানমার না ভূটান।

শেয়ার দিয়ে যদি কোটি কোটি টাকা উঠানো যেতো, তাহলে বহু “ট্যাটনা” ফেবুতে বসে আছে, নানা রঙের ফটো দিয়ে সয়লাব করে, শেয়ার দিয়ে কোটি’র কোটি পতি হয়ে যেতো। “চিলে কান নিয়ে গেছে” শুনলে কবে আমরা চিলের পেছনে দৌড়ানো’র আগে কানে হাত দিয়ে কবে দেখবো? বিশ্বব্যাপী বাঙালি’রা চিলের পেছনে অবিরাম ছুটে চলছে। 

এখন শুরু হয়েছে, ডাঃ গীতা কৃষ্ণামী’র নাম দিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে কি কি পদক্ষেপ নিতে হবে তার বিস্তারিত বর্ননা। ভাই, নিজে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিন্তা ভাবনা করে, কিংবা সব স্টেপ মনে রেখে ডাক্তার পর্যন্ত যাওয়া খুব অসম্ভব ব্যাপার। নিজেরটা পরের কথা, পরিবারের কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে, এত মিনিট গরম পানি খাইয়ে তত মিনিট অবস্থার গুরুত্ব পর্যবেক্ষণ করার মত মানসিক শক্তি খুব কম মানুষেরই থাকে। এসব জিনিস পঁচিশ জন কে পাঠিয়ে তাদেরকে ত্যাক্ত করা থেকে বিরক্ত থাকুন।


সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার মত আদৌ ম্যাচুর কি হয়েছি আমরা? 

Thursday, 7 December 2017

ডুবিয়াছে যে তরণী

মাঝখানে প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক চিত্র পরিচালকের সিনেমার কারণে শাওন আর হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে আর এক দফা হয়ে গেলো। ফেসবুক তো সব সময় ইস্যু খুঁজে আর এগুলো হলো হিট ইস্যু, লিখলেই হিট। তখন থেকেই কিছু কথা মাথায় ঘুরে যাচ্ছিলো, লিখবো কি লিখবো না সেই দ্বন্দ্বে ভুগছিলাম, আগুনে ধোঁয়া দিতে ইচ্ছে করে না, এখন তো পরিস্থিতি কিছুটা ঠান্ডা, তাই লিখছি।

শাওন নিজে একজন স্থপতি, ভাল গান জানে, নাচ জানে, তার বাবা বাংলাদেশের নামকরা একজন শিল্পপতি এবং মা রাজনীতিতে সক্রিয়, বর্তমানে ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দলের এম।পি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শাওনের অবস্থান থেকে হুমায়ূন আহমেদের মত কোন একজন বর পাওয়া কি খুব কঠিন ব্যাপার ছিলো? শাওন চাইলে কিন্তু শুধু জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক অংশটুকু বাদ দিয়ে বাকি এ সকল গুন সম্পন্ন, কিংবা দু একটা গুন আরো বেশি আছে এমন একটি পাত্র পেতে পারতো।

হুমায়ূন আহমেদ বিবাহিত ছিলো, তাঁর স্ত্রী ছিলো, চার সন্তান ছিলো। এসবের দায়িত্ব ছিলো তাঁরশাওনের তো নয়। সংসার ভাঙলে হুমায়ূন আহমদে ভেঙেছে, শাওন তো ভাঙেনি। শাওনের ওপরে সবার এত রাগের কারণ কি তবে? শাওনের কারণে তো কিছু ভাঙে নি, ভেঙেছে হুমায়ূন আহমেদের প্রেমের কারণে আর এটাই যেহেতু বাস্তবতা তাহলে তো এটা যে কারো কারনেই কি ভাঙতে পারত না? প্রেম তো একজনে আটকে থাকতো না যেমন গুলতেকিনে থাকে নি, শাওন সাড়া না দিলে অন্য কেউ দিতো, অন্য কোথাও গড়াত এই প্রেম।

হুমায়ূন আহমেদের সাথে শাওন সম্পর্ক করে অনেক ফায়দা নিয়েছে বলে তার সমালোচনাকারীরা প্রায় সবসময়ই বলে থাকে। শাওন নিজেও প্রচন্ড মেধাবী, এখন হুমায়ূন আহমেদ নেই, সিনেমা পরিচালনা, ব্যবসা, সংসার সব সামলে সে নিজের দক্ষতা ও মেধার প্রমান  দিচ্ছে। লাইম লাইটে শাওন আসতে চাইলে কি হুমায়ূন আহমেদই একমাত্র রাস্তা ছিলো? এত এত মেধাবী ছেলে মেয়ে গান গাইছে, নাটক করছে, সিনেমা করছে সবাই হুমায়ূন আহমেদের হাত ধরেই এসেছে? তার হাত ধরেই সবাই সাফল্য পেয়েছে? আমার মতে এই সম্পর্কে শাওন বরং অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পুরো দেশের রক্ষনশীল মানসিকতায় ধাক্কা দিয়েছে যার জন্যে দেশ শুদ্ধ সবাই তার শক্র হয়েছে রয়েছে। এত তরুণ বয়েসে তিনি এখন একা, দুটো বাচ্চার দায়িত্ব তার ওপর। আর সব মেয়ের মত তারও একা লাগা স্বাভাবিক। কাউকে চাই পাশে, এটা আমি বুঝতে পারলে তিনি কি বোঝে না? কিন্তু তিনি চাইলেও সহসা হয়ত কাউকে সঙ্গী করতে পারবেন না, পুরো দেশের কওমী জনগন আবার তেড়ে উঠবে, পাবলিক সেন্টিমেন্ট বুঝে আবার হয়ত তাকে চরম খলনায়িকা দেখিয়ে ডুবের সিক্যুয়াল তৈরী হয়ে যাবে।

এ প্রসঙ্গে প্রায়ই আমার তসলিমা নাসরিন এর লেখাটা মনে পরে, সকল গৃহ হারালো যার--
আমার লেখার কারণে শাস্তি এক আমাকেই পেতে হয়, অন্য কাউকে নয়৷ আগুন আমার ঘরেই লাগে৷ সকল গৃহ হারাতে হয় এই আমাকেই৷

প্রেমের কারণে শাস্তি শাওনই পাচ্ছে তবু লোকে সকাল বিকাল তাকেই দোষে। একজন শিক্ষিতা, সুন্দরী, অসংখ্য গুনের অধিকারী, আত্মনির্ভরশীল মেয়েকে সমাজ কোন পর্যায়ে নিগ্রীহিত করতে পারে, শাওন তার এক উজ্জল উদাহরণ। তার নিজের কর্মের, জীবনের দায়িত্ব তিনিই নিয়েছেন কিন্তু নিস্তার নেই তার। সে তুলনায় বয়সে বড় হুমায়ূন ধোয়া তুলসী পাতা। পুরুষ মানুষ করতেই পারে কিন্তু মেয়েরা! মেয়েরা করবে কেন?


২৭/১১/২০১৭




হুমায়ূন আহমেদ আর শাওনের সম্পর্ক সমর্থন করতে পারি না কারণ এগুলো সমাজে ভারসাম্য নষ্ট করে

রিয়েলি!!!!

সৃষ্টির আদিকাল থেকে দাদার বয়সী বুড়োরা নাতনী বয়সী মেয়ে বিয়ে করে গেছে এবং আজও যাচ্ছে তার বেলায়? মুহাম্মদ (সাঃ) নিজে পঁচিশ বছরের যুবক থাকা অবস্থায় চল্লিশ বছরের খাদিজা কে বিয়ে করেছেন আর পঞ্চাশোর্ধ অবস্থায় ছয় বছরের বালিকা আয়েশাকে বিয়ে করেছেন, সেগুলো? রাধা কৃষ্ণ বয়সে বড় ছোট আর সম্পর্কে মামী ভাগ্নে, তারা পূজনীয়?

দক্ষিন ভারতে আপন ভাগ্নীকে বিয়ে করা রেওয়াজ মুসলমানদের মধ্যেও নিকট আত্মীয় বিয়ে করা রেওয়াজ আর রোজ দিন মামা-কাকা-দাদা দ্বারা তো শিশু নির্যাতন হয়েই চলছে, তার কি ব্যাখা আছে আপনার কাছে? সমস্তই নিশ্চয়ই শাওন আর হুমায়ূন আহমেদ কারণ নয়?

তবে আপনার নিজের রক্ষণশীল এই মানসিকতাও সমাজেরই দান