Monday, 21 May 2018

টিউলিপের দেশে


https://bangla.bdnews24.com/probash/article1494787.bdnews


অটোমান সম্রাটরা টিউলিপের চাষ করতেন যাকে আজ আমরা তুরস্ক বলে জানি। ষোলশ শতাব্দীতে নেদারল্যান্ডসে টিউলিপের আগমন। পনেরশ বিরান্নবই খ্রীষ্টাব্দে কার্লোস ক্লোসিয়াস যখন প্রথম টিউলিপের ওপর তার অন্যতম বইটি লেখেন তার বাগানে প্রায়ই হানা পড়তো আর টিউলিপের গেঁড় রীতিমত চুরি হত। যখন ওলন্দাজদের স্বর্ণ যুগ চলছিলো, অর্থনীতিসব কিছু সুন্দর আকৃতিতে আসছিলো তখন ফুলের চাষও ছিলো রীতিমত তুঙ্গে। চিত্রাঙ্কনে কিংবা উৎসবে টিউলিপের জনপ্রিয়তা ছিলো সীমাহীন সতেরশো শতাব্দী’র মধ্যভাগে টিউলিপ এতো জনপ্রিয়তা পায় যে আর্থিক ভাবে এর গেঁড় বিক্রি’র সাফল্যকে তখন লোকে “টিউলিপম্যানিয়া” বলতো। লোকে এই পরিমান গেঁড় কিনতো তাতে গেঁড় এর দাম এতই বেড়ে যায় যে, মুদ্রার বদলে বাজারে গেঁড় বিনিময় হত যতক্ষণ পর্যন্ত না গেঁড়টা নষ্ট হয়ে যায়।

এখনো নেদারল্যান্ডস টিউলিপ ও অন্যান্য ফুলের জন্যে বিখ্যাত। প্রায়শই লোকে আদর করে “ফ্লাওয়ার শপ অভ দ্যা ওয়ার্ল্ড” বলে ডাকে। বড় বড় মাঠে টিউলিপের চাষ হয়, যে গুলোকে রঙের জন্যে দেখতে অসাধারণ সুন্দর লাগে। পুরো বসন্ত কাল জুড়ে নেদারল্যান্ডসে টিউলিপ তথা ফুলের উৎসব হয়। টিউলিপের প্রতি ভালবাসা ওলন্দাজদের অপরিসীম, যখন যখন যেখানে বাইরে তারা তাদের বসতি গেড়েছেন, সাথে নিয়ে গেছেন টিউলিপ। তাই এমেরিকার নিউ ইয়র্কে (আদতে যেটা নিউ আমস্টার্ডাম ছিলো), মিশিগান, হল্যান্ড ইত্যাদি শহরে যেখানে যেখানে ডাচ বসতি বেশী সেখানে আজও টিউলিপ ও টিউলিপ উৎসব দেখতে পাওয়া যায়।

উত্তর হল্যান্ডের মাথায় লক্ষ লক্ষ টিউলিপ, হিয়াসিন্ট ও অন্যান্য ফুল দেখা যাবে, যা পুরো দেশের মানচিত্র বদলে দেবে, তৈরী করবে বিভিন্ন রঙের এক সমুদ্র। প্রতি বছর উত্তরপোল্ডারে “টিউলিপ উৎসব” এর আয়োজন করা হয়। টিউলিপ মাঠের ভেতরে এপ্রিল মাসের শেষ দিক থেকে মে মাসের প্রথম দিক পর্যন্ত এই উৎসবটি চলে। ফুলের বাগান, বাজার সব উপচে পরতে থাকে। আমস্টার্ডামের কাছে আলসমেয়ার শহরটিতে দেখা যায় বাড়িতে বাড়িতে ফুলের বেঁচাকেনা, শহরের বাড়ি গুলোও ফুল দিয়ে নানাভাবে সাজানো হয়, সত্যিই দেখার মত একটি ব্যাপার।

বাগান দেখতে চাইলে কইকেনহোফ যাওয়া আবশ্যিক। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফুলের বাগান এটি। হারলেম শহরের দক্ষিন দিকে এর অবস্থান, এবং আপনি অবশ্যই এটি চিনবেন, যদি কখনো কোন ছবিতে বিরাট কোন টিউলিপ ফুলের বাগান দেখে থাকেন, আপনি নিশ্চিত থাকুন এটিই সেটি। পর্যটকদের ভ্রমণ প্যাকেজে প্রায়ই ফুলের বাগান, উৎসব এগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে। বেশীর ভাগ ফুলের বাগানেই পাবলিক ট্রান্সপোর্টের সুবিধা থাকে এবং পর্যটকরা যাতে সহজে যাওয়া আসা করতে পারে তার ব্যবস্থা থাকে।


তানবীরা তালুকদার
১৬/১১/২০১৭

আমাদের মা দিবসের গল্প

মেঘের জন্মদিনের পরে যে উৎসবটি আমাদের বাড়িতে মহা ধুমধাম করে পালন হয় সেটি হলো, মাদার’স ডে। কিছুটা প্যারালাল ও বলা চলে। বোঝা যাচ্ছে না? আচ্ছা, তাহলে বিস্তারিতই লিখি।
আমি যদি জন্মদিনের আগে মেঘ কে ধমক দেই, বলি, তুমি আমার কথা শোন না, তোমার জন্মদিনের পার্টি ক্যান্সেল, কেন আমি এত কষ্ট করতে যাবো? আজকাল, আমি উলটো ঝাড়ি শুনি, তাহলে মাদার’স ডেও ক্যান্সেল, তুমি আমার কোন কথাটা শোন, শুনি? তোমাকে গিফট দেই না আমি? স্পেশাল নাস্তা বানিয়ে বিছানায় নিয়ে দেই না? তুমিও তাহলে কিছু পাবে না আর।
তারপর সে সব ভুলে আমরা আবার বন্ধু হই। এক মাস ধরে বাসার বিভিন্ন জায়গায় আমার হাঁটা চলা বন্ধ, কারণ ওখানে আমার উপহার লুকানো আছে, আমি জিমে গেলে আমার জন্যে হাতে কার্ড বানানো হয় সাথে আরও নানা কিছু। লুকিয়ে ইউটিউব দেখা চলে, আমার জন্যে নতুন রেসিপি খোঁজা হয়, তবে এসবই কিন্তু সততার সাথে করা হয় না।
বন্ধুরা মিলে যায়, মায়েদের জন্যে উপহার কিনতে, মায়েদের জন্যে কিনতে গেলে নিজেদের জন্যে পছন্দ হয়ে যায়, (মা কি বেটি), যা টাকা নিয়ে যায় বাবার কাছ থেকে তার অর্ধেক দেখা যায় নিজের জন্যে কিনে আগেই নিয়ে নিয়েছে, বাকি অর্ধেক ও নিজের পছন্দের জিনিস কেনে, জানে ওটা মায়ের পছন্দ হবে না, ওকেই দিয়ে দেবে। এবার তাই বলে দিয়েছি, গিফট নিয়ে চোট্টামি করবি তো, যা যা পছন্দ হবে না, সব দোকানে ফেরত দিয়ে বদলে নেবো, তোকে কিন্তু দেবো না। ডাচ কায়দা মত সাথে ক্যাশ মেমো দিয়ে দিবি।
হেসে কুটিপাটি হয়ে বলেছে, না, না এবার তোমার পছন্দ মত উপহার দেবো মামি। ইউএসতে বড় মায়ের সাথে মেইল ও চালাচালি হল এই নিয়ে, আমাকে বলা হলো, সাজেশান দিতে, কি কি আমি চাই। কিন্তু কোনটা কেনা হলো সেটা আমাকে জানানো হয় নি। মেয়ের বাবা আবার এক ডিগ্রী বেশি চালাকি করতে এসে ধরা, তোমার গলার, হাতের আর আঙ্গুলের মাপ দাও। আমি বললাম, সাজেশানে গলা নেই, যাও ভাল করে চেক করো, এত স্মার্ট সাজারও কিছু নেই। বাবার বোকা-চালাকি’তে মেঘ আবার হেসে কুটিপাটি।
উপহার ছাড়াও এবারের মা দিবস অনেক অনেক অনেক স্পেশাল। আদুরে মেঘের স্পেশাল স্পেশাল খালামনিরা আসছে এবার মেঘের সাথে মা দিবস উদযাপন করতে। মেঘ সবার জন্যে আলাদা আলাদা ডিজাইনের কার্ড বানিয়েছে, চার দিন ধরে। প্রত্যেকটা কার্ডের ডিজাইন আলাদা হতে হবে, ইউনিক হতে হবে প্রতিটা কার্ডকে। আজ আমাদের বাড়ি তে চার চান লাগ গায়ে।
ধমক দিয়েছি আমার সোনা বাচ্চাকে, সারাদিন এগুলো নিয়ে বসে আছিস, গান প্র্যাক্টিস কখন করবি? বেচারী মেয়ে আমার ভয়ে, খালি গলায় গান গাইছে আর সাথে সাথে দু হাতে কাগজ কাটছে আর আঠা লাগাচ্ছে। কার্ড ডিজাইন করছে, আড়চোখে নজরও রাখছে, আমি দেখে ফেলছি কি না তার সারপ্রাইজ। তারপর ঠোঁট ফুলিয়ে বললো, তোমার জন্যে বছরে দু বার সব হয়, জন্মদিন আর মাদার’স ডে আর আমার শুধু জন্মদিন। কেন, একটা কিডস ডে থাকবে না? এটা খুব আনফেয়ার না মামি? আমিও খুব কনফিডেন্ট গলায় বললাম, রোজ ডে’ই তো কিডস ডে, তোকে তো আমি রোজ পেলে যাই, বছরে একটা দিন মাদার’স ডে, ঐটাই সবচেয়ে আনফেয়ার।
আমি জানি মেঘ, সামটাইমস, আ এম মীন টু ইউ এজ ইউ আর টু মি বাট ইউ বোথ নো, উই লাভ আস দ্যা মোস্ট
পৃথিবী’র সব মা’দেরকে মা দিবসের প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। আর আফশোস হয় কেন কোন মা দিবসে আমি আমার মায়ের কাছে নেই, আমার মা আমার কাছে নেই। দূর থেকে উপহার দিয়ে কি সব আহ্লাদ মেটে? ছোটবেলায় তো জানতাম না, মা দিবস কি।
ভীষণ মিষ্টি এই দিনটি সব মা প্রাণ ভরে উপভোগ করুক, যেমন আমি বা আমরা অনেকেই করছি।
মঙ্গল হোক সকলের।

বদলে যাওয়া প্রেম

গল্পে গল্পে রাত হত, ভালবাসায় ভোর
পাশে বসে খাওয়া, আদর নিয়ে জোর
খটখটে বিকেল কিংবা সন্ধ্যে ছোঁয়া বৃষ্টি
লোকের ভীড় আর ক্রিকেট মাঠের অনাসৃষ্টি
পায়ের ব্যথায় কাতর তবুও চলেছো হেঁটে 
দু ঘন্টা কথা বলে কি এই আজন্ম তৃষ্ণা মেটে?
বোশেখ মাসের এই গরমে চলছে এসি, বন্ধ পাখা
এ পাশে অপেক্ষার প্রহর গুনছে আজও সে একা
রাতের খাওয়া বদলে গেছে, অন্য কারো সাথে
পড়বে হয়ত মনে এই আশায় কেউ তবুও থাকে।
সময় বদলায়, কথা ফুরায়, হারায় মানুষ ন্যায্য পাওনাটুকু
বদলে বুঝি শুধু আমিই গেছি, বদলাও নি কি তুমিও এতটুকু?

সে যে বসে আছে একা একা

এক সওদাগরী আপিসে সে কেরানি ছিলো, জীবন মানে সপ্তাহে পাঁচ দিন, ভোর সাড়ে ছয় ঘটিকায় নিদ্রা হইতে জাগিয়া বৃষ্টি-বরফ ঠেলিয়া তাহাকে আপিসে যাইতে হইতো। সেইখানে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত ঘরে’র আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যসম্মত কুরসী’তে বসিয়া সারাদিন রাজ্যের মাইনষের প্যানপ্যান, ভ্যানভ্যান শোনাই ছিল তাহার কাজ। এইসব রসকষহীন কঠিন হিসাবের কথা শুনিতে শুনিতে বেলা গড়াইয়া দ্বিপ্রহর।


অথচ ইহার মধ্যেই ঐ দূর নীল আকাশে কত শত শাদা মেঘ ডানা মেলিয়া উড়িয়া যাইতো। সেই দৃশ্য অবলোকন করিয়া কিছু পাখি কলকাকলি করিয়া তাহাদের সুমিষ্ট সুরে গান গাহিয়া উঠিতো। হঠাৎ হঠাৎ আকাশ ভীষম রাগিয়া কাঁদিয়া উঠিতো। মাঝে মাঝে তাহাতে রাস্তায় জল জমিয়া যাইতো। দুষ্ট মিষ্টি ছেলের দল তাহাতে লাফাইয়া উঠিয়া ব্যস্ত পথিকের জামা কাপড় ভিজাইয়া দিতো। লাজুক কোন মায়াবতী কিশোরীর দুই চোখ আচমকা কোন বিপ্লবী তরুণের হৃদয় ছুঁইয়া তাহাকে আর্দ্র করিয়া তুলিতো। আরও কত শত কিছু ঘটিয়া যাইত এই বিশাল ধরাধামে যাহার কোন ছোঁয়া এই সওদাগরী আপিসে আসিয়া পৌঁছাইত না। সেইখানে সারাক্ষণ চলিত কঠিন লাভ আর লোকসানের বাণিজ্যিক খেলা।


মানুষের দুঃখ কষ্ট লাঘবের সাধ্য তাহার ছিল না। তাহাকে চলিতে হইত কঠিন নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে দিয়া। তবুও তাহাদের খানিক সত্যি আর খানিক মিথ্যা সহমর্মিতা দেখাইয়া সান্ধ্য ছয় ঘটিকার দিকে সে বাটি ফিরিতো। ফিরিয়া তাহাকে বাধ্যতামূলক রান্নাবাটি খেলিতে হইত। সেই খেলা সাঙ্গ হইলে শুরু হইত পিতা-কন্যার যুগলবন্দী ঘ্যান প্যান। এই সমস্ত কিছুর মাঝেই সে তাহার মুঠোফোন খানি ব্যবহার করিয়া মুখবহিতে প্রবেশ করিত, সেইখানে রাজ্যের হাসিখুশী মানুষ তাহাদের সুখ আনন্দের ছবি বা বার্তা পোস্ট করিয়া রাখিয়াছে, দেখিয়া তাহারও ভাল লাগিত। সেই ভাল লাগা সে এইদিক সেইদিক কিছু “লাইক” কষাইয়া যথাসাধ্য প্রকাশ করিত আর তাহার পর ঘুমাইতে যাওয়ার আয়োজন করিত কারণ পরদিন তাহাকে আবার একই রুটিনে চলিতে হইবে।


,
রাঁধার পরে খাওয়া, আর খাওয়ার পরে রাঁধা
বাইশ বছর এক চাকাতেই বাঁধা।


রবি ঠাকুর তাহাকে ভাবিয়াই হয়ত এই পদ্যখানি রচিয়া ছিলেন। এই সংসার বেড়াজাল হইতে তাহার কোন মুক্তি ছিল না। অথচ কত কি করিবার ছিল, কত দেশ-বিদেশ ঘুরিয়া দেখিবার ছিল, কত সহস্র বই তাহার না পড়াই রহিয়া গেলো, কত লক্ষ সঙ্গীত রহিল অশ্রুত, সিনেমার কথা না হয় নাই বা কহিলো, এ ছাড়াও আরও আরও আরও কত শত কত কি


সে যে বসে আছে একা একা, রঙ্গীন স্বপ্ন তার বুনতে,
সে যে চেয়ে আছে ভরা চোখে, জানালার ফাঁকে মেঘ ধরতে।
তার গুণগুণ মনে গান বাতাসে ওড়ে, কান পাতো মনে পাবে শুনতে,
তার রঙের তুলির নাচে মেঘেরা ছোটে, চোখ মেলো যদি পারো বুঝতে।
সে যে বসে আছে একা একা, তার স্বপ্নের কারখানা চলছে,
আর বুড়ো বুড়ো মেঘেদের দল, বৃষ্টি নামার তাল গুনছে।
তার গুণগুণ মনের গান বৃষ্টি নামায়, টপটপ ফোঁটা পড়ে অনেকক্ষণ,
সেই বৃষ্টিভেজা মনে দাগ দিয়েছে, ভেজা কাক হয়ে থাক আমার মন।

১১/০৪/২০১৮

সাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ - ভারতবর্ষ

সাম্প্রতিক কালে আসানসোলে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনাটি নিয়ে অর্ক ভাদুড়ী’র হৃদয় নিংড়ানো লেখাটি বেশ কয়েকজন আমাকে ইনবক্সে পাঠিয়েছেন। প্রত্যেককে আমি আবারও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, আমাকে আপনারা এর যোগ্য ভেবেছেন বলে। ইমাম সাহেবের আচরনে আপনারা আশাবাদী হলেও আমি নিতান্ত বিনয়ের সাথে সাদামাটা ভাষায় এখানে আমার হতাশা বলছি,


ইমাম সাহেব তার ছেলে হত্যার বিচার চান না, তিনি অসম্প্রদায়িক ভারতবর্ষের স্বপ্ন দেখেন, যেমন কখনো ছিল। আচ্ছা, ইতিহাস আমরা সবাই কম বেশি পড়েছি, আমরা নিজেরাও কালের সাক্ষী, ইতিহাসের অংশ হয়ে আছি। “ভারতবর্ষ” ঠিক কোন সময়টাতে অসাম্প্রদায়িক ছিল, বলতে পারবেন কেউ? সেই সময়ের কোন ইতিহাস কি কেউ কখনো পড়েছেন? ইমাম সাহেব অলীক কোন স্বপ্ন দেখছেন না তো? ইতিহাস সাক্ষী, ভারতীয়দের মধ্যে একতা থাকলে শত শত বছর ধরে ভারতবর্ষ বিদেশীদের দ্বারা শাসন হত না।


বৃটিশ সামাজ্র্যে কখনও সূর্য অস্ত যেতো না, সে কি এমনি এমনি ছিল? সেটুকু দূরদর্শিতা ছিল বলেই তারা দু’শ বছর আমাদের শাসন করেছে। ভারতের সব বিচ্ছিন্ন টুকরো গুলোকে একসাথে জুড়ে যেমন গোটা ভারতের মানচিত্র এঁকেছিল আবার ছেড়ে যাওয়ার সময় টুকরো’ও করে গেছে এই সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে। নইলে কোন যুক্তিতে একটি দেশ এখন তিনটি দেশ? তিনটি দেশ হয়েই কি থেমেছি আমরা কোথাও? এখনও সেই হানাহানি করেই যাচ্ছি। আড়াইশ বছর আগেও যা ছিল এখনও তো তাই আছে। ব্রিটিশদের এই রাজনীতি এখন খেলছে আমাদের স্বদেশী রাজনৈতিক নেতারা। বাংলাদশে যা অবস্থা ভারতেও অবস্থাও তথৈবৈচ। জনতা খায় রাজনীতিবিদরা খাওয়ায়, খেলা চলছে হরদম এবং চলবে “কায়ামত সে কায়ামত তাক”।


আড়াইশ বছরে ঈদ–পূজা ডিজিটালাইজড হয়েছে কিন্তু চলছে। বরং আরও বেড়েছে, থামেনি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমরা কি করে রক্ষা করি? ফেসবুকে অসাম্প্রদায়িক স্ট্যাটাস লেখা’র মাধ্যমে। সেই স্ট্যাটাসের ভাষা হয়ঃ “সব মুসলিম বন্ধুদের ঈদের শুভেচ্ছা” কিংবা “সব সনাতন ধর্মালম্বীদের শারদীয়া শুভেচ্ছা”। শুভেচ্ছা’র মত একটা সার্বজনীন ভদ্রতা’ও হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবাই পায় না, হায় অভাগা ভারতবর্ষ। আমাদের পূর্ব পুরুষরা যা করে গেছে আমরাও তা বিনা বাক্যে পালন করে যাচ্ছি। কখনও কি নিজের মনকে প্রশ্ন করি, কি করছি আর কেন করছি?


যেকোন একটি ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে বাংলাদেশ–পাকিস্তান–ভারতের মধ্যে যে পরিমান গালি’র বন্যা বয়ে যায় তাতে নিঃন্দেহে আমাদের অসাম্প্রদায়িকতাই ধরা পরে। বিচ্ছিন্ন হওয়া যে আমাদের কতটা অনিবার্য ছিল তা আজও প্রতীয়মান। ফেসবুকে’র বিভিন্ন লেখালেখি গ্রুপে আমার খুব সামান্য যাতায়াত। স্বাভাবিকভাবেই বাংলা ভাষাভাষী গ্রুপে আমি বেশি যুক্ত। এই খেলা নিয়ে দু দেশের সৃজনশীল ব্যক্তিরা যে ভাষায় একজন অন্য একজনকে আক্রমণ করে তারপর সেই ব্যক্তিই আবার প্রেমের কবিতা’ও লেখে। সেলুকাস।


সর্বশেষে, পুত্র হারা ইমাম সাহেব ছেলে হত্যার বিচার চান না। এই দুঃখী আত্মার প্রতি যথেষ্ঠ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, এটি কিন্তু খুব সুস্থ কোন ব্যাপার নয়। আপনারা যারা ইমাম সাহেবের মহানতা দেখছেন এরমধ্যে তার সাথে কি তার বিচার ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা, প্রচলিত গনতন্ত্রের প্রতি অনাস্থাটা দেখতে পেয়েছেন? তিনি মহান, আমিও নিসঙ্কোচে স্বীকার করছি কিন্তু সাথের এই কারণ গুলো’ও বাস্তব। বিচার চান নি “দীপন” এর বাবা’ও। কারণ জানতেন, বিচার পাবেন না। বিচার চেয়ে চেয়ে আজও পথে পথে ঘুরছেন, অভিজিতের বাবা। বিচার পাননি। তারা সবাই কিন্তু ঠিক একই কারণে খুন হয়েছেন। এই ভারতবর্ষে কম ছেলের প্রাণ উৎসর্গ হয় নি। আজকে আসানসোল তো কালকে ব্রাক্ষনবাড়িয়া। ইমাম সাহেবের ছেলের আগেও অনেকের প্রাণ গেছে, এখনও যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও যাবে যাদের কখনও কোন বিচার হয় নি, হয় না আর হবে না।


আসলে গোটা পৃথিবী’র কোন জায়গাটাতে “ধর্ম” নিয়ে মারামারি হয়নি সে জায়গাটি আমি খুঁজছি। ইউরোপ এখন আটকে আছে কঠিন আইনের বেড়াজালে। আইন শিথিল হলেই অন্য চেহারা বের হয়ে আসতে পারে সে ব্যাপারে আমার দ্বিধা কম।


ইমাম সাহেবের শোকার্ত পরিবারের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা আর অর্ক ভাদুড়ী’কে অসংখ্য ধন্যবাদ এই মর্মস্পর্শী লেখাটি আমাদের দ্বারে পৌঁছে দেয়ার জন্যে।

০৯/০৪/২০১৮

ডাচ এজুকেশান সিস্টেম – গাইডিং টু দ্যা ফিউচার – ২


ডাচ এজুকেশান সিস্টেমগাইডিং টু দ্যা ফিউচার

সারাদিন অফিস করে বাসায় আসতে আসতে মাথা ঘুরছিলো বাসায় ফিরতেই মেঘের জোরালো হুকুম, স্কুলের টেক্সট বইয়ে কিছু প্রশ্ন আছে সেগুলোর উত্তর লিখতে দিতে হবে ও বই গুছিয়ে ঘুমোতে যাবে বই খুলে আমি দিশেহারা ডাচ এজুকেশান সিস্টেম অনুযায়ী ডাচ হাই স্কুলে, আঁকা, গান, নাচ কিংবা অভিনয় এই চারটি বিষয়ের মধ্যে থেকে তিনটিকে প্রথম তিন বছর অনুশীলন করতে হবে তারপর যেকোন একটি নিতেই হবে একটির বেশি চাইলে বেশিও নেয়া যাবে সেই সিলেবাস অনুযায়ী, মেঘদের ভাগে এবার পরেছে, শেক্সপীয়ারের রোমিও জুলিয়েটনাটকটি এই নাটকটি তাদের পড়তে এবং অভিনয় করতে হবে বাবা মায়েদের আগেই দাওয়াত পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে অভিনয় দেখতে যাওয়ার জন্যে

এখন বইতে দুটো আলাদা এঙ্কেটে দেয়া আছে, একটা বাবা মা পূরণ করবে আর একটা বাচ্চা পূরণ করবে কিন্তু কেউ কারওটা আগে থেকে দেখবে না তারপর একসাথে সবাই মিলে দেখবে উত্তরগুলো, আলোচনা করবে কিংবা দেখবে দুজনের উত্তর গুলোই মিলে গেলো কি না আমাকে প্রশ্ন করা হলো, সন্তানের ভবিষ্যত পার্টনারের মধ্যে আমি কি কি গুন দেখতে চাই আর কেন আমি সেসব গুন গুলো দেখতে চাই, তার পার্টনার নির্বাচনে আমার কোন শর্ত বা চাহিদা আছে কি না আমি আমার উত্তর লিখলাম তারপর পাতা উলটে মেঘও লিখলো মেঘের জন্যে আবার একটা প্রশ্ন বেশি, বাবা মায়ের পছন্দ তার কাছে যৌক্তিক মনে হয় কীনা আমি হাত মুখ ধুয়ে এসে মেঘকে বললাম, আয় উত্তর দেখি, মেঘ মোচড়ামুচড়ি তার উত্তর দেখাবে না আমি বারবার বললাম, স্কুল থেকে তো বলে দিয়েছে, দেখাতে তাহলে দেখাবি না কেন? তারপরও দেখায় না, সান্টিং দিলাম, এরপর স্কুল থেকে কিছু লিখতে বললে কিন্তু লিখে দেবো না মেঘও উলটো সান্টিং, দিও না, পাপা দেবে

এবার পাপা বকা লাগাতে, দিলো বইটা সে লজ্জায় লাল বেগুনী হয়ে মেঘের উত্তর দেখে বোঝা গেলো, স্কুলে এই নিয়ে অনেক আলোচনা আগেই হয়েছে, স্বাভাবিকভাবে সে প্রস্তূত ছিলো, তার পার্টনার এর কাছে সে কি আশা করে, কেমন পার্টনার চায় এ নিয়ে সে বিস্তারিত লিখেছে, মায়ের মত এক কথায় প্রকাশ করে নি যদিও সে শেষ প্রশ্নে মায়ের সাথে একমত হয়েছে, মায়ের পছন্দকে তার যৌক্তিক মনে হয়েছে এই নিয়ে একটু গল্প করার চেষ্টা করলাম মেঘের সাথে, মেঘ প্রথমে অনেক আড়ষ্ট থাকলেও পরে একটু স্বাভাবিক হলো রোমিও জুলিয়েটদেখতে যাবো, মেঘ মোচড়ায়, গাঁইগুই করে দেখতে যাওয়ার দরকার নেই, তুমি কত ব্যস্ত, শুধু শুধু তোমার সময় নষ্ট আমি বললাম, কত সময় নষ্ট করলাম তোমার পেছনে আর একটা ঘন্টাতে কি যাবে আসবে

বয়োসন্ধিতে ছেলে মেয়ের মন মানসিকতার পরিবর্তন আসে এ সময় প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই ছেলে মেয়েরা কাছাকাছি আসে তাদের তখন স্বপ্ন দেখার বয়স। তাই নিয়ে পরিবারে দূরত্ব তৈরী হয়, মনোমালিন্য হয় বাচ্চাদের মন অশান্ত হতে পারে। তারা নানারকম ক্ষতিকারক পদক্ষেপ নিতে পারে। পড়াশোনা করিয়ে পরীক্ষা নেয়াই স্কুলের একমাত্র দায়িত্ব নয়, সমাজকে সুনাগরিক, সুখী নাগরিক উপহার দেয়াও স্কুলের সামাজিক দায়িত্ব এই নিয়ে পরিবারের মাঝে আলোচনা হলে বাবা মায়ের মানসিক প্রস্তূতি থাকলে, দু পক্ষের মধ্যে যেন আচমকা ধাক্কা না লাগে, সহনশীলতা থাকে তার মানসিক প্রস্তূতি দেয়াও স্কুল নিজের দায়িত্বের মধ্যেই ধরে মেঘ ঘুমোতে চলে গেলে পুরোটা সন্ধ্যে আমি নিশ্চুপ আর নিঃশব্দ বসে ভাবছিলাম, সেদিনই আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কথা যেখানে প্রধানমন্ত্রী বানী দিয়েছেন, প্রশ্ন সব সময়ই ফাঁস হত কম আর বেশি দায়িত্বহীন এই সমাজ নিয়ে কান্না করার মত কান্নাও আর আমার নেই মেঘের ছোটবেলা বলা কথাটাই আমি ভাবি, এই দুটো দেশ কি করে এক প্ল্যানেটে হবে মা, এরা কত অন্যরকম

তানবীরা তালুকদার
২১/০২/২০১৮

Thursday, 29 March 2018

প্রিয় ইশ্বর/খোদা/ভগবান

খুব ক্লান্ত বুঝি? ঘুমোচ্ছ? বিশ্রাম নিচ্ছো? অনেক অনেক কান্না’র শব্দে তুমি পর্যুদস্ত কি? তনু’কে ভাল্লুকে খেয়ে ফেললো এই কষ্টে তনু’র মা আজও বিলাপ করে কাঁদে, তনু’র বাবা শয্যাশয়ী। এরমধ্যে আর কত শত বিলাপের রোল, বিউটি, নুসরাত, এক বছড় দশ মাস বয়সী শিশুর কান্না ………। তারা জানে সব তোমার ইচ্ছেতেই হচ্ছে কিন্তু তারপরও অসহায় এই মায়ে’রা, এই পরিবার গুলো তোমার নাম নিয়েই বিলাপ করে চলছে, তোমার কাছেই লাগাতার তাদের ফরিয়াদ। এই পরিবার গুলো আর কখনও স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে না, কখনও ঈদ, পূজা, বৈশাখ তাদের বাড়িতে সেই আনন্দ নিয়ে আসবে না। এমনকি তাদের পরের বংশধর’রাও এই জেনেই বড় হবে, তাদের ফুপি, খালা এই দেশে বিনা দোষে নির্যাতিত হয়ে মারা গেছে যার বিচার পর্যন্ত হয় নি। তুমি সব কেড়ে নিয়েছো জেনেও, তোমাকেই বলছে, হে খোদা, তুমি এর বিচার করো। তোমার ইচ্ছেতে সব হারিয়েও তারা বিশ্বাস করে, তুমি ছাড়া তাদের আর কেউ নেই। পুলিশ তো নেইই, আইন নেই, দেশ নেই, মন্ত্রী নেই, তাদের কিছু নেই শুধু তুমিই আছো।


অনেকদিন তো পশ্চিমে আরাম করলে এখন তুমি পূর্ব দিকে যাও, ওদের তোমাকে খুব প্রয়োজন। এখানে তো সব চলছে ঠিক মত, আজকাল এরা তোমাকে নিয়ে মাথা ও ঘামায় না, তেমন চাহিদা বা যত্ন আত্তিও নেই তোমার। ওদের বাজারে তোমার প্রয়োজন শেষ। যেদিকে তোমাকে সবাই অকাতরে ডেকে চলছে, সেদিকেই আছ তুমি মুখ ফিরিয়ে! কত চাহিদা তোমার ঐ বাজারে, তোমার অনুপস্থিতিতে তোমার নাম নিয়ে কত খেলায় না চলছে। তবুও “তুমি কি এমনি করে থাকবে দূরে?”


আচ্ছা, তুমি কি পূর্বের খবর কিছু রাখো? অত্যাচার-নির্যাতনের কারণ হিসেবে তারা মেয়েদের জামা কাপড়ের দোষ দেয়। তুমি তো অনেকদিন পশ্চিমে আছো, পশ্চিমের মেয়েদের জামা কাপড় কি তাহলে আকর্ষনীয় নয়? নাকি এখানকার পুরুষদের মধ্যে কিছু সমস্যা আছে? তারা কি যথাযথ পুরুষ নয়? তারা এসব স্বল্প বসনা মেয়ে দেখেও কেন তাদের আক্রমণ করার মত যথেষ্ঠ উত্তেজনা অনুভব করে না? মজার কথা কি জানো, পূর্বের এই বীর পুরুষেরা, যারা সেখানে ছয় গজ কাপড় পরা মেয়ে দেখেও নিজের উত্তেজনা সামলাতে পারে না সেই তারাই পশ্চিমে এসে কোন স্বলপ বসনা মেয়ের দিকে সোজাসুজি তাকানোর সাহস পর্যন্ত করে না, পুলিশ ডাকলে খবর হয়ে যাবে সেই ভয়ে। আমার অবাক লাগে, এই বীর পুরুষেরা নিজেদের পরিবার, বউ, বান্ধবী, প্রেমিকা, মেয়ে, বোন পাশে থাকার পরও সেখানে নিজেকে সামলাতে পারে না কিন্তু প্রবাসে কেউ পাশে না থাকা সত্বেও নিজেকে সামলে রাখতে পারে, জানো? এখানে তারা “মানসিক” ভাবে ব্যালান্সড থাকে, অদ্ভূত লাগে না? উলটো হওয়ার কথা ছিলো না? সামথিং ইজ ভেরি রঙ, ইজ’ন্ট ইট?


অনেকেই বলে, তুমি নাকি ঈমানের পরীক্ষা নাও, ভগবান দুঃসময় দিয়ে পরীক্ষা করে দেখে। সত্যিই তাই? একটানা এই পরীক্ষা তুমি তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র থুক্কু উন্নয়নশীল দেশের ওপরই নাও কেন গো? এদের তোমার চোখে পরে না, হ্যাঁ, এদের কথাই বলছি, এদের, যেখানে তুমি গ্যাঁট হয়ে বসে ফায়ার প্লেসে আগুন পোহাচ্ছ। আর যদিও তৃতীয় বিশ্বকেই গিনিপিগ ধরলে, তাহলেও অবিরাম পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছে, পাহাড়ি মেয়ে গুলো, সংখ্যা লঘু মেয়ে গুলো, দরিদ্র শিশু-কিশোরী কিংবা মাদ্রাসা’র ছাত্ররা। এ কেমন অসম পরীক্ষা? তাদের তো এমনিই কিছু নেই তাদের কি পরীক্ষা নাও তুমি প্রত্যেকদিন? হ্যাঁ প্রত্যেকদিন? পরীক্ষা নিতে হয়, তাহলে নাও মন্ত্রী’র মেয়ের, বিত্তবান ব্যবসায়ী’র মেয়ের, কিংবা সামরিক বা উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা’দের মেয়েদের। তাদের তো অনেক আছে, তাদের ধরো তো দেখি। নাকি তাদের মেয়ে’রা যথেষ্ঠ আকর্ষনীয় পোষাক পরে না? তাদের বেলায় ঈমানী জোশ কাজ করে না? সব ক্ষমতা বুঝি দরিদ্রের মুখের হাসি কেঁড়ে নেয়ার বেলায়?


অভিনেতা মোশাররফ করিম একটি টক শো পরিচালনা করতেন, সেখানে তিনি দৃঢ় কন্ঠে উচ্চারণ করেছিলেন, “সমস্যা পোষাকে নয়, সমস্যা মানসিকতায়”। আশ্চর্য হলেও সত্যি, সমস্ত মৌলবাদি জনগন এই কারণে ক্ষেপে গিয়ে তাকে আক্রমণ করে। এর চেয়ে অত্যাশ্চার্য ঘটনা হলও, তার একজন সহকর্মী’ও তার পাশে এসে দাঁড়ায়নি, তার পক্ষ হয়ে প্রতিবাদ করে নি। কিন্তু গাজি রাকায়েতের লুচ্চামি ধরা পরার পর তাকে সহায়তা দিতে প্রায় পুরো নাটক পাড়া তার পাশে দাঁড়িয়ে গেলো। তুমি বুঝতে পারো কোথায় নেমেছি আমরা? এই দেশে মাত্র চল্লিশ বছর আগেও স্বাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটেছে। শিল্পী’রা তাদের গানে, কবিতায়, নাটকে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। পাকিস্তানী শাসকদের ব্যাঙ্গ করেছে, মুক্তিযোদ্ধা’রা তাদের থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছে। এই দেশেই গান হয়েছিলো, “একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে মোরা যুদ্ধ করি, একটি ফুলের হাসি’র জন্যে মোরা অস্ত্র ধরি”, “ও, আমার সাত কোটি ফুল দেখো গো মালি, শক্ত হাতেই বাইন্ধো মালি, লোহারও ডালি”। এই বিপ্লব যারা ঘটিয়েছিলেন তাদের অনেকেই আজও সুস্থ সবল বেঁচে বর্তে আছে কিন্তু টুঁ শব্দটিও করে নি।


আগা থেকে গোঁড়া পর্যন্ত যখন কিছু পঁচে যায় তখন তার ধ্বংসই ভাল। “শেষ থেকে শুরু যে এবার” --- একটা প্রচন্ড সুনামি, ভূমিকম্প কিছু দিয়ে তুমি সব লন্ডভন্ড করে দিয়ে আবার একটি ভোর আনো, বিশুদ্ধ ভোর। পঁচে যাওয়া এই ভূখন্ড তাকিয়ে আছে আজ একটি বিশুদ্ধ শুরু’র দিকে। “ভোর হয়নি, আজ হলো না, কাল হবে কি না, তাও জানা নেই।“ এক বছরের, তিন বছরের, পাঁচ বছরের শিশু গুলোকে তুমি নির্যাতন করে না মেরে, এমনিতেই ভূমিকম্পে মেরে ফেলো, তাদের পরিবার গুলো কোথাও তো স্বান্ত্বনাতো পাক। একটা তিন বছরের শিশু নির্যাতিতা হয়ে মারা গেলে তার বাবা-মা, ভাই-বোন কি কখনো আর স্বাভাবিক আচরণ করতে পারে, শিশুটি শুধু মারা যায় না, পুরো পরিবারটা জীবন্মৃত হয়ে যায়। শুধু নিঃশ্বাস নেবার নামই কি বেঁচে থাকা? ঠোঁট বাঁকা’র নামই হাসি?


পাকিস্তানী’রা আর দেয় না হানা, নেই তো রাজাকার
তবু কেন এ দেশ জুড়ে, লাশের পাহাড়
জেনেছো দেশ তো স্বাধীন, আছে ওরা বেশ
দুঃখ কষ্টের আর নেই কোন রেশ
একদন্ড নিরাপত্তা নেই সেখানে, নেই সান্ত্বনা
শরৎবাবু এ চিঠি পাবে কি না জানি না আমি
এ চিঠি পাবে কি না জানি না

http://www.sylhettoday24.news/opinion/details/8/1126?utm_campaign=shareaholic&utm_medium=facebook&utm_source=socialnetwork

http://nari.news/post/prio-tanbira