Thursday, 7 December 2017

ডুবিয়াছে যে তরণী

মাঝখানে প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক চিত্র পরিচালকের সিনেমার কারণে শাওন আর হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে আর এক দফা হয়ে গেলো। ফেসবুক তো সব সময় ইস্যু খুঁজে আর এগুলো হলো হিট ইস্যু, লিখলেই হিট। তখন থেকেই কিছু কথা মাথায় ঘুরে যাচ্ছিলো, লিখবো কি লিখবো না সেই দ্বন্দ্বে ভুগছিলাম, আগুনে ধোঁয়া দিতে ইচ্ছে করে না, এখন তো পরিস্থিতি কিছুটা ঠান্ডা, তাই লিখছি।

শাওন নিজে একজন স্থপতি, ভাল গান জানে, নাচ জানে, তার বাবা বাংলাদেশের নামকরা একজন শিল্পপতি এবং মা রাজনীতিতে সক্রিয়, বর্তমানে ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দলের এম।পি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শাওনের অবস্থান থেকে হুমায়ূন আহমেদের মত কোন একজন বর পাওয়া কি খুব কঠিন ব্যাপার ছিলো? শাওন চাইলে কিন্তু শুধু জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক অংশটুকু বাদ দিয়ে বাকি এ সকল গুন সম্পন্ন, কিংবা দু একটা গুন আরো বেশি আছে এমন একটি পাত্র পেতে পারতো।

হুমায়ূন আহমেদ বিবাহিত ছিলো, তাঁর স্ত্রী ছিলো, চার সন্তান ছিলো। এসবের দায়িত্ব ছিলো তাঁরশাওনের তো নয়। সংসার ভাঙলে হুমায়ূন আহমদে ভেঙেছে, শাওন তো ভাঙেনি। শাওনের ওপরে সবার এত রাগের কারণ কি তবে? শাওনের কারণে তো কিছু ভাঙে নি, ভেঙেছে হুমায়ূন আহমেদের প্রেমের কারণে আর এটাই যেহেতু বাস্তবতা তাহলে তো এটা যে কারো কারনেই কি ভাঙতে পারত না? প্রেম তো একজনে আটকে থাকতো না যেমন গুলতেকিনে থাকে নি, শাওন সাড়া না দিলে অন্য কেউ দিতো, অন্য কোথাও গড়াত এই প্রেম।

হুমায়ূন আহমেদের সাথে শাওন সম্পর্ক করে অনেক ফায়দা নিয়েছে বলে তার সমালোচনাকারীরা প্রায় সবসময়ই বলে থাকে। শাওন নিজেও প্রচন্ড মেধাবী, এখন হুমায়ূন আহমেদ নেই, সিনেমা পরিচালনা, ব্যবসা, সংসার সব সামলে সে নিজের দক্ষতা ও মেধার প্রমান  দিচ্ছে। লাইম লাইটে শাওন আসতে চাইলে কি হুমায়ূন আহমেদই একমাত্র রাস্তা ছিলো? এত এত মেধাবী ছেলে মেয়ে গান গাইছে, নাটক করছে, সিনেমা করছে সবাই হুমায়ূন আহমেদের হাত ধরেই এসেছে? তার হাত ধরেই সবাই সাফল্য পেয়েছে? আমার মতে এই সম্পর্কে শাওন বরং অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পুরো দেশের রক্ষনশীল মানসিকতায় ধাক্কা দিয়েছে যার জন্যে দেশ শুদ্ধ সবাই তার শক্র হয়েছে রয়েছে। এত তরুণ বয়েসে তিনি এখন একা, দুটো বাচ্চার দায়িত্ব তার ওপর। আর সব মেয়ের মত তারও একা লাগা স্বাভাবিক। কাউকে চাই পাশে, এটা আমি বুঝতে পারলে তিনি কি বোঝে না? কিন্তু তিনি চাইলেও সহসা হয়ত কাউকে সঙ্গী করতে পারবেন না, পুরো দেশের কওমী জনগন আবার তেড়ে উঠবে, পাবলিক সেন্টিমেন্ট বুঝে আবার হয়ত তাকে চরম খলনায়িকা দেখিয়ে ডুবের সিক্যুয়াল তৈরী হয়ে যাবে।

এ প্রসঙ্গে প্রায়ই আমার তসলিমা নাসরিন এর লেখাটা মনে পরে, সকল গৃহ হারালো যার--
আমার লেখার কারণে শাস্তি এক আমাকেই পেতে হয়, অন্য কাউকে নয়৷ আগুন আমার ঘরেই লাগে৷ সকল গৃহ হারাতে হয় এই আমাকেই৷

প্রেমের কারণে শাস্তি শাওনই পাচ্ছে তবু লোকে সকাল বিকাল তাকেই দোষে। একজন শিক্ষিতা, সুন্দরী, অসংখ্য গুনের অধিকারী, আত্মনির্ভরশীল মেয়েকে সমাজ কোন পর্যায়ে নিগ্রীহিত করতে পারে, শাওন তার এক উজ্জল উদাহরণ। তার নিজের কর্মের, জীবনের দায়িত্ব তিনিই নিয়েছেন কিন্তু নিস্তার নেই তার। সে তুলনায় বয়সে বড় হুমায়ূন ধোয়া তুলসী পাতা। পুরুষ মানুষ করতেই পারে কিন্তু মেয়েরা! মেয়েরা করবে কেন?


২৭/১১/২০১৭




হুমায়ূন আহমেদ আর শাওনের সম্পর্ক সমর্থন করতে পারি না কারণ এগুলো সমাজে ভারসাম্য নষ্ট করে

রিয়েলি!!!!

সৃষ্টির আদিকাল থেকে দাদার বয়সী বুড়োরা নাতনী বয়সী মেয়ে বিয়ে করে গেছে এবং আজও যাচ্ছে তার বেলায়? মুহাম্মদ (সাঃ) নিজে পঁচিশ বছরের যুবক থাকা অবস্থায় চল্লিশ বছরের খাদিজা কে বিয়ে করেছেন আর পঞ্চাশোর্ধ অবস্থায় ছয় বছরের বালিকা আয়েশাকে বিয়ে করেছেন, সেগুলো? রাধা কৃষ্ণ বয়সে বড় ছোট আর সম্পর্কে মামী ভাগ্নে, তারা পূজনীয়?

দক্ষিন ভারতে আপন ভাগ্নীকে বিয়ে করা রেওয়াজ মুসলমানদের মধ্যেও নিকট আত্মীয় বিয়ে করা রেওয়াজ আর রোজ দিন মামা-কাকা-দাদা দ্বারা তো শিশু নির্যাতন হয়েই চলছে, তার কি ব্যাখা আছে আপনার কাছে? সমস্তই নিশ্চয়ই শাওন আর হুমায়ূন আহমেদ কারণ নয়?

তবে আপনার নিজের রক্ষণশীল এই মানসিকতাও সমাজেরই দান 

  

Sunday, 3 December 2017

কি কথা সে রেখে যায়

নরম কমলা রোদ হেমন্তে জানালা গলে ঢল নামল মাখন 
চঞ্চল বাতাসের ছায়া পর্দা হয়ে বিছানার চাদরের নাক ছুঁয়ে দিলো 
চোখের পাতায় যেন মেক-আপের ব্রাশ রেণু বিকেল রেণু প্রজাপতি। 
আলসেমী জড়িয়ে থাকো, এলেমেলো মাখো
নতুন প্রবল সকাল ফোন পাশ বিছানায় রাখো
বাজলো মেসেজে টিং, তোর সাথে কথা আছে নেস্টিং ডোভ
মেসেজের মন-সুর ঘর হারিয়ে পাখি হয়ে উড়ল
প্রতীক্ষায় ভ্যানিলা সকাল চকলেট দুপুরে থাকল
রঙের দুপুর গড়াল টিরামিস্যু বিকেল।
টোমপুস হেমন্ত কোকোনাট বাটার শীতে
আর শীত লেমন বসন্তে মোবাইলে ভরা ক্যানিয়নের নিস্তব্ধ,
হয়ত সে ভুলে গেছে অলুক্ষণে ব্যস্ততায় হয়ত সময় নেই,
ব্যস্ত সে অবিরাম বা বাসি ডাল ভাত ভেবে প্রয়োজন মনে করেনি
ভেবে পার করে সে সোনার কাঠি রুপোর কাঠি দিন রজনী।



01/12/2017

Tuesday, 21 November 2017

মনামি

এখানে জয় পরাজয়ের কিছু নেই
আছে পাশাপাশি চলা
হাতে হাত রাখা
আর ভালবাসা।
আছে কিছু চাওয়া পাওয়া
ভুল বোঝাবুঝি
অশ্রু হতাশা
আর কিছু প্রেম।
আছে ধুন্ধুমার ঝগড়া চ্যাঁচাম্যাচি
আক্রমন প্রতিআক্রমন
ভুলে যাওয়া জমা রাখা
ক্লান্তি আর ক্লেদ।
আছে কিছু বৃষ্টি আর রোদ
হাওয়া আর মেঘ
জেনে রেখো
তবুও হবে না বিচ্ছেদ।

Wednesday, 15 November 2017

সম্পর্ক - প্রেম?

কিছু জানা আর অজানায়,
হয়ত চেনা নাকি অচেনায়,
কিছু পছন্দ কিংবা অপছন্দের,
কখনও খানিকটা ছাড় দিয়ে,
মাঝে সাঝে জেদ মেনে নিয়ে ,
অপ্রীতিকর স্মৃতি সরিয়ে দিয়ে
কবিতা, গানে, আদরে, অভিমানে  
বহু ক্রোশ দূর হেঁটে যাওয়া,
বেহিসেবী পাওয়া না পাওয়া,
ভুলে চাওয়া না চাওয়া
ঋতু যায় ঋতু আসে  
পায়ে পায়ে এগিয়ে যাওয়া।  


 ১৫/১১/২০১৭

Tuesday, 14 November 2017

স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা



সেদিন একটা আড্ডায় আমির খানের নতুন মুভি, “সিক্রেট সুপারস্টার” নিয়ে কথা হচ্ছিল। সবাই খুব প্রশংসা করছিলো, আমির খানের সিনেমা বলে কথা। এই ভাল – সেই ভাল ইত্যাদি। আমি অনেকক্ষণ চুপচাপ থেকে তারপর বলেই ফেললাম, আমার কাছে খুব ফরম্যাটেড ফিল্ম মনে হয়েছে, তেমন আলাদা কিছু লাগে নি। ইরানীয়ান মুভি গুলোতে সাধারণতঃ এই ঘটনা গুলো খুব অন্যরকম ভাবে চিত্রায়ণ করা হয়, সিনেমা মনেই হয় না, মনে হয়, পাশের বাড়িতেই কাউকে দেখছি। আ সেপারেশান, দ্যা কালার ওফ প্যারাডাইস, এম ফো মাদার, আ মোমেন্ট অফ ইনোসেন্স, হেয়ার উইথাউট মি সিনেমা গুলো দেখলে কখনোই মনে হয় না সিনেমা দেখছি। সিনেমা সুলভ কোন ব্যাপারই থাকে না, থাকে কিছু হৃদয় নিংড়ানো কষ্টকর বাস্তবতা। যারা চুপচাপ ছিলো তারাও তখন বলেই ফেললো, হ্যাঁ, “সিক্রেট সুপারস্টার” তাদেরকেও হতাশ করেছে। তারা কিছু তামিল, মারাঠি সিনেমার কথা বললো, যেগুলোতে আরও গভীরতা ছিলো কাহিনী’র। কাহিনীর যে গভীরতা ছিলো, হতে পারত মা ও সন্তানদের সংগ্রামের একটি বাস্তবচিত্র সেদিক থেকে “সিক্রেট সুপারস্টার” একটি সম্ভাবনার অপমৃত্যু।

এক বাসায় হালিম খাচ্ছিলাম। “আসল হালিম”, আমার গলা দিয়ে কিছুতেই নামছিলো না কিন্তু অন্যরা বাটি ভরে ভরে খেতে খেতে প্রচুর প্রশংসা করছিলো। আমি বাটি আর চামচ নেড়ে চেড়ে যাচ্ছি, গৃহকর্ত্রী বেশ কয়েকবার বলে গেলো, খেয়ে নাও, জীবনে ভুলবে না, মামা হালিম খাওয়া জেনারেশান, আসল হালিম তো কি জিনিস জানো না। কিন্তু ক্রমাগত আমার বাটি চামচ নাড়াচাড়া দেখে পাশের জন বললো, কি রে, খেতে পারছিস না। আমি ভয়ে কোন “টু” শব্দ না করে, মাথা নেড়ে জানান দিলাম, না পারছি না। পাশের জন উঠে আমার বাটি নিয়ে সিঙ্কে ঢেলে দিয়ে এলো, সাথে নিজের বাটিও ঢেলে দিয়ে এলো। এসে বসে তার পাশের জনকে চোখ ট্যারিয়ে জিজ্ঞেস করলো, খেলি পুরোটা? পাশের জন নিপাট ভদ্র, প্রথমে বুঝতে পারে নি, বেশ গদ গদ বলতে থাকলো, তখন আবার সে জিজ্ঞ্রেস করলো, পুরোটাই খেলি, খেতে পারলি? বোধহয় এন্টেনায় কিছু ধরা পরলো, আমতা আমতা শুরু করলো, কি করবো? ভদ্রতা, দিয়েছে, খেতে তো হবেই ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিছু দিন আগেই ফরিদ কবির ভাই তার আর ঝর্ণা আপা’র একটা ছবি পোস্ট করলেন তাজমহলের সামনে সাথে তার স্মৃতিকথা। স্মৃতিকথা পড়তে অপূর্ব লেগেছে, সবাই তার প্রশংসা করছে, সাথে তাজমহলেরও। আমি শেষ পর্যন্ত বলেই ফেললাম, “তাজ” আমাকে টানেনি। জীবনের বড় একটি আশাভঙ্গ’তার নাম হল “তাজমহল”। মসজিদ আকৃতির এই ইমারতটি দেখে আমি হতাশ হয়েছি। আমার অন্য কিছু আশা ছিলো। বরং আগ্রা ফোর্ট, যেখানে আওরঙ্গজেব, সম্রাট শাহজাহান আর তার কন্যা জাহানারা’কে আটকে রেখেছিলেন সেটি আমার অনেক মন ছুঁয়েছে, যমুনার তীর ঘেঁসে, এখনো কি বিষন্ন, যেনো পুরো নদী আর প্রাসাদে এখনও তাদের কান্না মিশে আছে।  প্রথমে আমাকে বেশ কয়েকজন বললো, “তাজমহল” মানে শুধু পাথর আর ইমারত নয়, চর্ম চক্ষু দিয়ে দেখলে তো তাই দেখবো, মনের চোখ দিয়ে যদি দেখি, ভাবি, উপলব্ধি করি তাহলে এর আসল সৌর্ন্দয বুঝতে পারবো। আমি সারেন্ডার করে বললাম, অন্য কোন জনমে হয়ত, এবার আর হলো না। অবাক হয়ে দেখলাম তারপর, নেহাত মন্দ নয়, আরও অনেক বন্ধু নিজ থেকে এসেই বললো, তারাও চর্ম চক্ষুতে “তাজমহল” দেখেছে এবং হতাশ হয়েছে।

মা হয়েও আমার এই অভিজ্ঞতা হয়েছে। সিনেমায় দেখেছি, আজ বাচ্চা হলো, কাল শর্মিলা ঠাকুর, বাচ্চার কান্না শুনে আকাশ পাতাল এক করে ফেললো। নিজের বেলায় তেমন কিছু হচ্ছে না দেখে নিজের মনুষ্যত্ব বোধ নিয়ে খুব হীনমন্যতায় ছিলাম। এর বেশ অনেকদিন পর বান্ধবী’রা আমাদের দেখতে এলে, একদিন কথায় কথায় সাহস করে বলেই ফেললাম, দেখি আস্তে আস্তে অন্যরাও তাদের মনের কথা বলছে। মা হওয়া, একটি অন গোয়িং প্রসেস। মা আর বাচ্চা যত সময় একসাথে কাটাবে, যত সুখ দুঃখের স্মৃতি এক সাথে জমা হবে, বাচ্চার কান্না, বাচ্চার হাসি, বাচ্চার খেলা এ সবই মা’কে বাচ্চার কাছে টেনে আনে আর মায়ের এই নিঃশর্ত কাছে আসা টেনে আনে বাচ্চাকে তার মায়ের কাছে।

সত্যি কথা মাঝে মাঝে বলে ফেলার রিস্ক অনেক কিন্তু একটা গেইন থাকে, পোশাকী গল্পের বাইরে কিছু আটপোড়ে সত্যি গল্প শুনতে পাওয়া যায় যেখানে রঙচঙ থাকে না। নিজেকে যাচাই করা যায়, ঝালিয়েও নিয়ে যায়। মাঝে মাঝে সত্যি উচ্চারনে এই সাহসটা আমি পেয়েছিলাম, খুব ছোট একটা বাচ্চার থেকে।


একবার এক বাসায় মিলাদ হচ্ছিল, হুজুর ইনিয়ে বিনিয়ে কথা বলেই যাচ্ছে তো বলেই যাচ্ছে, কিছুতেই শেষ হচ্ছে না। বড়রা কেউ বসে আছে তো কেউ এই ঐ উছিলায় এদিক ওদিক করছে, মহিলা’রা মাঝে সাঝে টুকটাক কথা সেরে নিচ্ছে, ছোট’রা এই অবসরে একটু দুষ্টুমি করছে। মিলাদ শেষ হওয়ার পর বাচ্চাটির মা, বাচ্চাটিকে খুব বলছিলো, হুজুর ভাল ভাল সব কথা বলছিলো, তুমি শুনছিলে না, দুষ্টুমি করেই যাচ্ছিলে, ঠিক করছিলে কাজটা? বাচ্চাটা এমনিতে লক্ষী, বাবা মায়ের কথা শোনে, পড়াশোনায়ও ভাল। মায়ের কথা শুনতে শুনতে এক পর্যায়ে বলে উঠলো, আমি জানি হুজুর ভাল ভাল কথা বলছিলো, কিন্তু ভাল কথা শুনতে বেশিক্ষণ ভাল লাগে না আম্মু।  

এই সাধারণ কিন্তু সহজ আর সত্য কথাটি উচ্চারন করতে একটা বাচ্চা মেয়ে’র অনেকটাই দৃঢ়তা আর আত্মবিশ্বাসের প্রয়োজন হয়। সমাজের বেশি’র ভাগ মানুষই সুযোগ সন্ধানী। সুবিধা যেখানে পাবে সেখানেই গলা মিলিয়ে ফেলে। সেখানে খুব ঠান্ডা, বিনম্র, আস্তে কিন্তু দৃঢ় গলা’র এই কথা গুলো কিন্তু কিছুতেই ফেলনা নয়। কারো না কারো কানে তো পৌঁছবে, সেটাই সার্থকতা। আওয়াজটা খুব অল্প থাকে কিন্তু থাকে। হয়ত ঝাঁকের কই  হয়ে ক্ষণিক সুবিধে আনন্দ নিয়ে হারিয়ে যায় কিন্তু মৃদ্যু আওয়াজটা থেকে যায়।

১৫/১১/২০১৭


Thursday, 9 November 2017

ডাচ এজুকেশান সিস্টেম: গাইডিং টু ফিউচার

ক্লাশ এইটে ওঠার পর সব বাচ্চাদেরকে কে কোন দিকে পড়তে চায় সেটা নিয়ে ভাবতে বলে। ছয় মাস সময় পায় তারা সেটা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার। কার কোন দিকে আগ্রহ, কার কি পড়তে ভাল লাগে এগুলো নিয়ে স্কুলে আলোচনা হয়। স্কুল আর ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে আলোচনা হয় এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ বাবা মায়েদের ডাকেন আলোচনা’র জন্যে। শুধু ভাল লাগলেই হবে না, সেটা পড়তে পারার মত যোগ্যতা সে রাখে কী না সেটাও বিবেচনায় থাকে। যোগ্যতা শুধু নম্বর আর পরীক্ষার ফলাফলের ওপরই নির্ভর করে না, বাচ্চার মানসিক অবস্থা, পারিপার্শ্বিক অবস্থা সেটাকে সমর্থন করে কি না সেটাও এখানে একটা গুরুত্বপূর্ন বিবেচনার বিষয়।

হয়তো দেখা গেলো কোন বাচ্চা খুব বায়োলজি পড়তে আগ্রহী, আগ্রহ নিয়ে সে পড়াশোনা করছে, ফলাফলও ভালো। ল্যাবে তাকে বলা হলো, কোনো একটা মাছ বা প্রাণী’র ব্যবচ্ছেদ করে দেখাতে, রক্ত দেখে সে অজ্ঞান হয়ে গেলো। কিংবা মানব শরীরের কঙ্কাল দেখে খুব ভয় পেয়ে গেলো। বায়োলজি পড়ার স্বপ্ন দেখার রোমান্টিসিজম এর সময় কোনো বাচ্চারই পারিপার্শ্বিক এই ব্যাপার গুলো মাথায় থাকে না।
শুধু আলোচনার মাধ্যমে দিক নির্দেশনা দিয়ে এখানেই স্কুল কর্তৃপক্ষ কিংবা রাষ্ট্র তার দায়িত্ব শেষ করে না। বিভিন্ন দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, পলিটেকনিক কলেজ ও অন্যান্য উচ্চ শিক্ষা ও পেশাদারী প্রতিষ্ঠানের সম্বনয়ে আয়োজিত হয় “শিক্ষা মেলা”। শিক্ষা মেলায় বিনা মূল্যে প্রবেশ করা যায়। তবে আগে থেকে ই মেইলের মাধ্যমে তার প্রবেশ কার্ডটি সংগ্রহ করতে হয়। ইমেইলে জানাতে হয়, সে কি ছাত্র হিসেবে আসছে না কি ছাত্রের বাবা মা হিসেবে আসছে কিংবা সপরিবারে আসছে।

পুরো মেলাটি যেহেতু অনেক বড় আর সব ব্যাপারে সবার আগ্রহ না’ও থাকতে পারে তাই শিক্ষামেলায় কম্পিউটার দেয়া আছে, প্রত্যেকে নিজের পছন্দ মতো তার নিজের “ওয়াকিং রুট” বানিয়ে, ম্যাপ প্রিন্ট আউট নিয়ে সেদিকে হাঁটতে পারে। কেউ পছন্দের বিষয় ভিত্তিক রুট বানাতে পারে, কেউ পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক রুট বানাতে পারে, কেউবা দেশ, ভাষা ইত্যাদি’র ওপর পছন্দ করে নিজের নিজের কাস্টমাইজ রুট নিয়ে মেলা হেঁটে ঘুরে দেখতে পারে।
মেলায় কাজ করে প্রধানত সব ছাত্র ছাত্রী’রা। যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে ছাত্র ছাত্রী যে বিষয়ের ওপর পড়ছে বা হাতে কলমে কাজ করছে তারা সে বিষয়েই ছোটদের কৌতুহলের উত্তর দেয়। যারা এখনও মনস্থির করে উঠতে পারে নি, কি পড়বে, কোনটা পড়বে তাদের আগ্রহী করার চেষ্টা করে। ইমেল এড্রেস রাখে, বাসার এড্রেস রাখে, মেলায় রাখা ফোল্ডারের বাইরেও অতিরিক্ত আরো তথ্য পাঠায়।

ধরা যাক, কেউ একজন বায়োলজি পড়তে আগ্রহী, সে বায়োলজি’র কোন শাখায় কাজ করতে চায়? বায়ো টেকনোলজি, বায়ো মেডিসিন নাকি বোটানী। একজন মানুষের স্বভাব খুব ঘর কুনো, সে বাইরে বের হতে চায় না, তার জন্যে কৃষি উন্নয়ন পড়ার কোনো মানে নেই। মাঠে, ঘাটে, জঙ্গলে বেরিয়ে তাকে পড়তেও হবে কাজও করতে হবে। ফুল, গাছ, পাখি, লতা, পাতা, প্রজাপতি, ফড়িং, গরু, ঘোড়া এ সমস্ত নিয়েই তাকে কাজ করতে হবে। যে এগুলো ভালোবাসবে না, সে এই নিয়ে কাজ করার কোনো আগ্রহ পাবে না। আবার কেউ যদি খুব বর্হিমুখী স্বভাবের হয় কিন্তু বায়োটেকনোলজি পড়তে চায় সেটাও সমস্যা। তাকে অনেক বেশি সময় ল্যাবে থাকতে হবে, একাকী কাজ করতে হবে, নির্জনতা প্রিয় না হলে এই কাজে সে আগ্রহ পাবে না। এ সমস্তই শিক্ষা মেলায় বিস্তারিত ভাবে প্রায় একজন একজন করে সমস্ত ছাত্র ছাত্রীদের কে বলা হয়। আসলে তৈরি হতে বলা হয়, নিজেকে চেনো-জানো, কি চাও, কেনো চাও, আসলেই চাও তো? ভুল করছোনা তো? যা সব সিনেমায় বা টিভিতে দেখে ভাবছো বাস্তব ও তাই তো?
যারা একদমই জানে না, কি পড়তে চায়, কী সে তার আগ্রহ, ভবিষ্যতে কি করবে কিংবা কিসে আছে সুনিশ্চিত সেই ভবিষ্যত তাদের জন্যে আলাদা করে প্রতি আধ ঘন্টা অন্তর অন্তর তথ্যমূলক ভিডিও চিত্র দেখানো হয়। ভিডিও দেখার পরও যারা দ্বিধায় ভোগে তারা আবার আলাদা একটা হলে তথ্যপ্রদান মূলক সেমিনারে যোগ দিতে পারে। এর পরও কেউ কারো সাথে কথা বলতে চাইলে, উপদেশ নিতে চাইলে, শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা সেখানে আছে, তারা বিনামূল্যে তাদের সাথে কথা বলে, আলোচনা করে। এই সার্বজনীন শিক্ষা মেলা ছাড়াও প্রায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলাদা আলাদা করে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে এই “তথ্য মেলা”র আয়োজন করে থাকে। তবে সাধারণতঃ দেখা যায়, বিষয় নির্বাচন করার পর, সেই বিষয়টি কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়, সেটি’র ওপর নির্ভর করে ছাত্র ছাত্রী’রা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য মেলায় যোগ দেয়।

এই পুরো কার্যক্রমটিই হয় রাষ্ট্রের স্বার্থে যদিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো এতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। যত ছাত্র ছাত্রী যোগাড় করতে পারবে ততই রাষ্ট্রীয় অনুদান পাবে। যুগোপোযোগী অত্যাধুনিক শিক্ষা কার্যক্রম, ভালো ফলাফল ও যথেষ্ঠ ছাত্র ছাত্রী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর রাষ্ট্রীয় অনুদান পাওয়ার অন্যতম শর্ত এখানে। নইলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সনদও বাতিল হয়ে যেতে পারে। এই কার্যক্রমটিকে নাগরিক স্বার্থেও বিবেচনা করা যেতে পারে। বাচ্চারা সঠিক জায়গায় নিজেদের মেধা, আগ্রহ, সামর্থ্য দিতে না পারলে সেটা তাদের ব্যক্তিগত ক্ষতির সাথে রাষ্ট্রেরও ক্ষতি। অসুখী, অদক্ষ, অনাগ্রহী নাগরিকদের নিয়ে তো আর কোনো সুখী সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র গড়ে উঠতে পারে না।
যদিও এত কিছুর পরও বেশীর ভাগ সময়ই শেষ রক্ষা হয় না। এখানের বাচ্চা’রা মানসিক চাপ নিতে পারে না। পড়াশোনার চাপে উচ্চ শিক্ষার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। জরিপে দেখা যায়, পঞ্চাশ শতাংশ ক্ষেত্র বিশেষে আরো কম ছাত্র ছাত্রী তাদের স্নাতক বা স্নাতোকত্তর পড়াশোনা পুরোপুরি শেষ করে। কুড়ি ভাগের মতো ছাত্র ছাত্রী, কর্ম জীবনে প্রবেশ করার পর আবার পড়াশোনায় ফিরে এসে, কাজের পাশাপাশি স্নাতক শেষ করে। যার কারণে “গবেষনা ও উন্নয়ন” বিভাগে বিরাট শূণ্যতা বিরাজ করে যেটা পূরণ করে বিদেশীরা। এই জায়গা টুকুতে দেখা যায় প্রচুর বিদেশী কাজ করে যাচ্ছে। আজকাল প্রচুর বাংলাদেশী মেধাবী’রাও নেদারল্যান্ডসের “গবেষনা ও উন্নয়ন” বিভাগে কাজ করছে।
 http://nari.news/post/dutch-education

http://www.shomoynews.com/2017/11/09/%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A6%9A-%E0%A6%8F%E0%A6%9C%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A6%83-%E0%A6%97%E0%A6%BE/#sthash.KuVVV6Vx.GeBBdrkV.gbpl


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুসলিম ক্রিকেট দল

যদিও “মাশরাফি-শুভাশীস” প্রসঙ্গে কেউ আমার মতামত চায় নাই তথাপি একজন একনিষ্ঠ, কর্মঠ, দায়িত্বশীল, নিষ্ঠাবান, নিবেদিত প্রাণ ফেসবুকার হিসেবে আমি এই “জাতীয় ইস্যু”তে আমার দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারি না  

বাংলাদেশ দুটি ক্রিকেট দল থাকা দরকার ঃ ক) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুসলিম ক্রিকেট দল খ) বাংলাদেশ অ-জাতীয়তাবাদী হিন্দু-খ্রীস্টান-বৌদ্ধ-আদিবাসী ক্রিকেট দল (নন মুসলিম’রা নিজেদের যতই বাংলাদেশি বলে ভাবুক না কেন, মুমিন’রা তা যেহেতু মানতে নারাজ, তাই “গায়ে মানে না আপনি মোড়ল” সাজা’র কোন দরকার নেই, অ-জাতীয়তাবাদীই তারা।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুসলিম ক্রিকেট দলঃ বলা বাহুল্য, তারা ক্রিকেট সমাজের দন্ডমুন্ডের কর্তা থাকবে। তারা গালি দিবে, তারা ক্ষমা চেয়ে ভিডিও আপ করবে, তারা মহান। তারা খেলার মাঠের উত্তেজনা, স্ট্রেস, অভিব্যক্তি, আনন্দ সব কিছু করতেই পারমিটেড। এমনকি সুবিধা বুঝলে ম্যাচ ফিক্সিং ও।

বাংলাদেশ অ-জাতীয়তাবাদী হিন্দু-খ্রীস্টান-বৌদ্ধ-আদিবাসী ক্রিকেট দলঃ তোমরা যে বাপু জন্মের পর থেকে হাড্ডি আস্ত রেখে স্কুল-কলেজ পাড়ি দিতে পেরেছো এটাই বেশি। আবার ক্রিকেট কিসের, শুনি? ক্রিকেট খেলায় যে তোমাদেরকে নেয়, সেটাই তোমাদের চৌদ্দ পুরুষের ভাগ্য। মাঠে নিজের উত্তেজনা, স্ট্রেস, রাগ, কষ্ট, কান্না সব চেপে রেখো। নইলে বাগে পেলে কুপিয়ে ভিটেয় ঘু ঘু চড়িয়ে দেবে বাছারা। যতই জান দিয়ে “বাংলাদেশে”র হয়ে খেলো না কেন, বাংলাদেশ তোমাদের না, এ দেশ শুধু মুমিনদের। মুমিন’রা ক্রিকেট ম্যাচ ফিক্স করেও এত গালি খায় না যত তোমরা কোন খেলায় একটা ক্যাচ মিস করে খাও।

খেলার মাঠে খেলোয়ারদের মধ্যে মারামারি, হাতাহাতি, উত্তেজনা চিরন্তন ব্যাপার। বিশ্বকাপ ফুটবল, ক্রিকেট, অলিম্পিক কোথায় না থাকে সে সব?  হাজার হাজার ক্যামেরার সামনে মা-বোন তুলে গালি, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি কি না হয়? কিন্তু ধর্মের ভিত্তিতে গালাগালি শুধু বাংলাদেশেই সম্ভব।


তাই বলি, শুধু ক্রিকেট কেন? সর্বক্ষেত্রেই এই বিভাজন অফিসিয়ালি ঘোষনা করে মেনে চলা হোক।

http://seralekha.com/news/-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80-%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AE-%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%9F-%E0%A6%A6%E0%A6%B2-!-

09/11/2017