Thursday, 17 September 2020

শিক্ষায়-শিল্পে নবাব পরিবারের অবদান

 https://www.jugantor.com/todays-paper/literature-magazine/346004/%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AC-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%A8

 

ভোজন রসিক যারা মোগলাই ঘরানার খাবার ভালবাসেন তাদের প্রথম পছন্দের ঠিকানা ছিলো আগে পুরান ঢাকা। হোক সে বাখরখানি, কিংবা হাজি বা নান্নার বিরিয়ানি, পনির সমুচা, সূতা কাবাব আর নইলে আনন্দের কেক-বিস্কিট। বলা হয়ে থাকে, এসবের বেশিটাই এসেছে নবাবদের রসুই ঘর থেকে। সারা ঢাকায় নয়ন জুড়ানো স্থাপত্য, বিদ্যুতায়ন, পানি পরিশোধন, পার্ক, আধুনিক মার্কেট তৈরী সহ নবাবদের বহু অবদান চোখে পড়ে, কিন্তু চোখে পড়ে না, এরকম অজানা অনেক তথ্য ও রয়ে গেছে ইতিহাসের পাতায়। ব্রিটিশ রাজ দ্বারা ভূষিত ঢাকার প্রথম নবাব ছিলেন খাজা আলিমুল্লাহ আর শেষ নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ। তবে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, নবাব সলিমুল্লাহই শিল্প, শিক্ষা, নগর উন্নয়নে তার পরিবারের অন্যান্যদের তুলনায় অনেক বেশি অবদান রেখেছেন।

 

নবাব সলিমুল্লাহ ঢাকার আহসান মঞ্জিলে ১৮৭১ সালের ৭ জুন জন্মগ্রহণ করেন। কার্জন হলে পূর্ববঙ্গের ছোটলাট ল্যান্সলট হেয়ারের বিদায় এবং বেইলী-এর স্বাগত অনুষ্ঠানে নবাব সলিমুল্লাহ ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড হার্ডিঞ্জ ১৯১২ সালে ২৯ জানুয়ারি তিন দিনের সফরে ঢাকা আসেন। এ সময় নবাব স্যার সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ ১৯ জন মুসলিম নেতার একটি প্রতিনিধিদল ৩১ জানুয়ারি গভর্নর জেনারেলের সঙ্গে দেখা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লর্ড হার্ডিঞ্জ ঘোষণা করেন, ‘The Government of India realized that education was the true salvation of the Muslims and that the Government of India, as an earnest of their intentions, would recommend to the Secretary of State for the constitution of University of Dacca.’ ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। যদিও নবাব সলিমুল্লাহ জীবদ্দশায় এই বিশ্ববিদ্যালয় দেখে যেতে পারেন নি। ১৯১৫ সালের রাত ২-৩০ মিনিটে তার কলকাতার চৌরঙ্গী রোডস্থ ৫৩ নম্বর বাড়িতে মাত্র ৪৪ বছর বয়সে নবাব সলিমুল্লাহ ইন্তেকাল করেন।

 

নবাব সলিমুল্লাহর দান করা জমিতে বুয়েট প্রতিষ্ঠিত। ১৯০২ সালে ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল (বর্তমানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠায় তিনি তাঁর পিতার দেয়া পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুসারে ১ লক্ষ ১২ হাজার টাকা মঞ্জুর করেন। ১৯০৮ সালে নবাব সলিমুল্লাহ আরো অর্থ দান করে পিতার নামে স্কুলটির নামকরণ করেন ‘আহসানউল্লাহ স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং।’ ১৯৪৭ সালের পর স্কুলটি কলেজে উন্নীত হয়। মুসলিম লীগ সরকার ১৯৬২ সালে কলেজটির উন্নয়ন করে প্রতিষ্ঠা করে পূর্ব পাকিস্তান প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় যা ছিল তদানীন্তন প্রদেশের প্রথম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। স্বাধীনতার পর এটির নামকরণ করা হয়েছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি (বুয়েট)।

 

এতিম মুসলিম ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য ১৯০৮ সালে আজিমপুরে ২৮ বিঘা জমি দান করে সলিমুল্লাহ প্রতিষ্ঠা করেন এতিমখানা পরবর্তীতে নামকরণ করা হয় নবাব সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা। লেখাপড়ার জন্য এতিমখানায় ছেলেদের জন্য একটি এবং মেয়েদের জন্য একটি করে দুটি স্কুল রয়েছে। শত শত এতিম ছেলেমেয়ের থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা, পোশাক-পরিচ্ছদ ও লেখাপড়ার যাবতীয় ব্যয় নবাব সলিমুল্লাহ মৃত্যু পর্যন্ত নিজের পকেট থেকে ব্যয় করেছেন।

 

১৮৬৩ খ্রি. নওয়াব আবদুল লতিফ-এর মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি প্রতিষ্ঠার সাথে নওয়াব খাজা আবদুল গনি ও খাজা আহসানুল্লাহ প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। ১৮৭৮ খ্রি. সৈয়দ আমীর আলী ‘সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান এ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠা করলে ঢাকার নওয়াব তাতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে মুসলমানদের সংখ্যানুপাতে সুযোগ আদায়ের লক্ষ্যে উক্ত এ্যাসোসিয়েশন সরকারকে স্মারকলিপি দেয়ার জন্য ১৮৮৫ খ্রি. এক স্বাক্ষর অভিযান চালায়। নওয়াব আবদুল গনি এ অঞ্চলের ৫ হাজার লোকের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে ১৮৮৫ খ্রি. নভেম্বর মাসে বঙ্গীয় সরকারের নিকট এক স্মারকলিপি পেশ করেন।

 

১৮৭৭ সালে জাহাজে করে জ্ঞানদান্দিনী, তিন সন্তান নিয়ে পুরুষবিহীন একা বিলেতে যান যেটি ভারতবর্ষে সে সময় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। নবাবনন্দিনী পরীবানু ১৯২০ সালে কন্যা জুলেখা বানুকে সঙ্গে নিয়ে একা প্লেনে করে ইংল্যান্ডে বেড়াতে গিয়েছিলেন, সে কথাটি আমরা কয় জন জানি? ঢাকার নবাব পরিবারের বিদুষী সদস্যা পরীবানু নবাব খাজা আহসানউল্লাহর কন্যা। জন্ম ১৮৮৪ সালের ১ জুলাই। তিনি গৃহশিক্ষকের কাছে আরবি, ফারসি এবং ইংরেজি শিক্ষা লাভ করেন। শিখেছিলেন ঘোড়ায় চড়া, জমিদারির কাজকর্মও। ১৯১৯ সালে পরীবানু ৬০ বিঘা জমিসহ শাহবাগ বাগানবাড়ীর দক্ষিণাংশ নবাব হাবিবুল্লার কাছ থেকে নিজ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। এরপর থেকে তিনি ঢাকার সম্ভ্রান্ত মহিলাদের বেড়ানোর জন্য প্রতি শনিবার বাগানটি উন্মুক্ত রাখার ব্যবস্থা রাখেন। সম্ভবত সেই থেকেই লোকমুখে পরীবাগ নামটি বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠে। ঢাকার বিভিন্ন উন্নয়নে তিনি এবং তার বোনেরা মিলে লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করেছেন।

 

নবাব খাজা আলিমুল্লাহের মৃত্যুর পর তার ও জিনাত বেগমের সন্তান খাজা আবদুল গণি নবাব হন। রক্ষণশীল সমাজের বিরোধিতা সত্ত্বেও তিনি মহিলাদের মঞ্চ নাটকে অভিনয়ে সাহায্য করেন। ১৮৪৬ সালে খাজা আবদুল গণি ইসমতুন্নেসার সন্তান আহসানুল্লাহ ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। আহসানুল্লাহ একজন উর্দু কবি ছিলেন।তিনি শাহীন নাম ব্যবহার করতেন। তার কিছু নির্বাচিত কবিতা, কুলিয়াত-ই-শাহীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত আছে। তার বই তাওয়ারিক-ই-খানদান-ই-কাশ্মীরিয়া পাকিস্তানি ইতিহাস ও সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

নবাব খাজা আহসানউল্লাহ এবং নবাব খাজা সলিমুল্লাহ ছিলেন শিল্প ও সংস্কৃতির দুর্দান্ত অনুরাগী। দু'জনেই ১৮৮৮-৮৯ এবং ১৮৯০-১৯৬৬-এর কোলকাতা ভিত্তিক ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সদস্য ছিলেন। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় ফটোগ্রাফির বিকাশ ঘটে ঢাকায়। ১৮৯৮ সালের এপ্রিলের বসন্তে, নবাব খাজা আহসানউল্লাহ কোলকাতা থেকে “সিনেমাটোগ্রাফ কোম্পানী”কে আহসান মঞ্জিলে আমন্ত্রণ জানান। সে অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্যরা এবং শহরের উচ্চবিত্তরা উপস্থিত ছিলেন। ১৯১১ সালের ১৬ই ও ২২শে মার্চ “রয়্যাল বায়োস্কোপ কোম্পানী” আহসান মঞ্জিলে শো প্রদর্শন করেছিল। খাজা ইউসুফজান, যাকে এর আগে নবাব উপাধি দেওয়া হয়েছিল, তার সম্মানে নবাব সলিমুল্লাহ, এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন । আবদুল আলীম এবং খাজা আজিজুল্লাহর বাসভবনে আরও দুটি অনুষ্ঠান যথাক্রমে ২৪ ও ২৫ তারিখে আয়োজন করা হয়েছিল। ১৯১৬ সালের ৫ই জুন থেকে দু'দিন ধরে নবাবজাদা খাজা আতিকুল্লাহ তাঁর দিলখুশার বাসায় সিনেমাটির প্রিমিয়ারও করেছিলেন।

 

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে শিল্পী, প্রযুক্তিবিদ এবং স্টুডিওর পুরো সুযোগ সুবিধাসহ কোলকাতা ছিল চলচ্চিত্র প্রযোজনার দুর্গ। ঢাকায় এই সমস্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব ছিল। নবাব পরিবারের আর্থিক সহায়তায় ও পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশে প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ১৯২৭-২৮ সালে নবাব পরিবারের একদল যুবক এগিয়ে এলেন। পরীক্ষার জন্যে তরুণ ছেলেরা 'সুকুমারী' নামে একটি শর্ট ফিল্ম প্রযোজনা করেছিল। “সুকুমারী” পরিচালনা করে ছিলেন নাট্যকার ও জগন্নাথ কলেজের শারীরিক শিক্ষার প্রশিক্ষক অম্বুজ প্রসন্ন গুপ্ত। নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নবাবজাদা নসরুল্লাহ। মজার বিষয়, তখনকার সময় কোনও অভিনেত্রী খুঁজে পাওয়া অসম্ভব ছিল। সৈয়দ আবদুস সোবহান নামে এক যুবককে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। দিলকুশা বাগানে শুটিং হয়েছিল। আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক খাজা আজাদ এবং ফটোগ্রাফি অধ্যয়নরত বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ খাজা আজমল ক্যামেরাটি রোল করেছিলেন। এই সিনেমাটি তৈরিতে সহায়তা করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আন্দালিব সাদানী, সৈয়দ আবদুস সোবহান, কাজী জালালউদ্দিন প্রমুখ। সিনেমাটি ১৯২৮-২৯ -এর মধ্যে শেষ হয়েছিল, পরীক্ষার সফল সমাপ্তি। এটি ছিল চারটি রিলের সম্পূর্ণ নীরব একটি সিনেমা। দুর্ভাগ্যক্রমে চলচ্চিত্রটি সবাই দেখার জন্যে কখনোই উন্মুক্ত ছিল না। তবে ব্যক্তিগত পরিসরে কয়েকবার দেখানো হয়েছিল। “সুকুমারী' চলচিত্রটির কোন প্রতিলিপি আর নেই, এটি চিরতরে হারিয়ে গেছে। একটি মাত্র অমূল্য স্থির ছবি (নায়ক খাজা নাসারুল্লাহ এবং নায়িকা সৈয়দ আবদুস সোবহানের সাথে) বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের কোষাগারে রয়েছে।

 

“সুকুমারী”র সাফল্যের পরে নবাব পরিবারের যুবকরা আরও বড় উদ্যোগ নেয়। তারা ঢাকায় ইস্ট বেঙ্গল সিনেমাটোগ্রাফ সোসাইটি স্থাপন করে এবং “দ্য লাস্ট কিস” শিরোনামে একটি পূর্ণ দৈর্ঘ্য নীরব চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছিল। অনুপম হায়াতের ভাষ্য অনুযায়ী, খাজা আজমল নায়িকা লোলিতার বিপরীতে অভিনয় করেছেন। ডাঃ এমডি আলমগীরের মতে, খাজা নাসারুল্লাহ প্রথমে নায়ক ছিলেন এবং পরে কাজী জালালউদ্দিন তারও পরে খাজা আজমল স্থান পেয়েছিলেন। গ্যাংয়ের নেতা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, বিখ্যাত শিল্পী শৈলেন রায় (টোনা বাবু)। অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন, খাজা আদেল, খাজা আকমল, খাজা শাহেদ, খাজা নাসারুল্লাহ এবং সৈয়দ সাহেব ই আলম। অভিনেত্রীরা হলেন লোলিতা ওরফে বুড়ি (নায়িকা), চারুবালা, দেবাবালা ওরফে দেবী এবং হরিমতি। শিল্পীদের প্রথম তিনজন এসেছিলেন পুরান ঢাকার পতিতালয় থেকে আর হরিমতি ছিলেন সেসময়ের একজন বিখ্যাত বাইজি । ১৯৯৯ সালের অক্টোবর থেকে ছবিটির শুটিং শুরু হয়েছিল, দিলকুশা, মতিঝিল, পরীবাগ এবং আজিমপুরের আশেপাশে শুটিং হয়েছিল। ক্যামেরাটি পরিচালনা করেছিলেন খাজা আজাদ। সহকারী ক্যামেরাম্যান ছিলেন খাজা আজমল ও খাজা জহির। পরিচালক অম্বুজ গুপ্ত নিজেই ছবিটির ইংরেজি ও বাংলা সাবটাইটেল তৈরী করেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দালিব শাদানী উর্দু সাবটাইটেল রচনা করেছিলেন। মুদ্রণ ও প্রসেসিংয়ের কাজ কলকাতায় হয়েছিল। মুভিটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল বারো হাজার টাকা। ১৯৩১ সালে, “দ্য লাস্ট কিস” মুকুল সিনেমা হলে (বর্তমানে আজাদ) মুক্তি পেয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রমেশচন্দ্র মজুমদার চলচ্চিত্রটির প্রিমিয়ার শো উদ্বোধন করেন। সিনেমাটি কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে চলে। তারপর ছবিটি সর্বসাধারণের জন্যে প্রদশর্নের উদ্দেশ্যে কোলকাতায় নেওয়া হয়েছিল। অরোরা ফিল্ম সংস্থা সিনেমাটি নিয়েছিল কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক ভাবে তাদের কাছে সিনেমাটি হারিয়ে যায়।

 

“দ্য লাস্ট কিস” চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে নবাব পরিবারের এক সদস্য সাইদ সাহাবুদ্দিনের মন্তব্য, একটি দৃশ্যে দেখা যায়, ফয়জ আলমের বাবা কালু চাচা (সাহেব-ই-আলম), একটি দুর্দান্ত ঘোড়সওয়ার, শিশু শাহেদকে অপহরণ করে এবং তারপর ঘোড়ায় চড়ে তারা চলে গিয়েছিলেন। আমার মা অনুভব করেছিলেন যে এটি খুব বিপজ্জনক, এবং শাহেদকে তিনি দৌড়ানো ঘোড়ায় উঠতে দেয়নি। অতএব, এই দৃশ্যের জন্য একটি পুতুল বা কিছু ব্যবহার করা হয়েছিল। আমাদের বাল্যকালকে কল্পনা করুন। যখন এই দৃশ্যটি দেখানো হয়েছিল, আমরা প্রত্যেকে ছবিটি দেখছি, একে অপরকে ফিসফিস করে বলছি, “কাউকে বলবেন না, এটি শাহেদ নয়।"

 

"দ্য লাস্ট কিস" এর চিত্রগ্রহণের কথা আমার স্পষ্ট স্মরণ রয়েছে, যেমন কিছু দৃশ্য বায়তুল-আম্নে চিত্রিত হয়েছিল, যেখানে আমরা থাকতাম। চাচা আজাদ ক্যামেরাটি পরিচালনা করছিলেন এবং রৌপ্য কাগজে আচ্ছাদিত বড় স্কোয়ার কার্ডবোর্ডগুলি সূর্যের আলোতে প্রতিচ্ছবি হিসাবে ব্যবহৃত হত। তারপর আমরা ছবিটি দেখেছি। মুকুল সিনেমার পুরো সারিটি আমার, ও আমার ছেলেমেয়েদের দখলে ছিলো। স্মৃতিচারণ - আমার বোন তাহেরা ও বিলকুইস; নাজমা, আনোয়ার ও হামিদ; মাশুক; শাহেনশাহ; ইফাত এবং শফিক, ফায়াজ এবং আমি - যদি কাউকে ভুলে গিয়ে থাকি তবে এটি স্মৃতি বিবর্ণ হওয়ার কারণে। শুধু একজন অনুপস্থিত ছিলেন, আমার তিন বছরের বড় ভাই শাহেদ, যিনি আমাদের সাথে খুব কম বয়সী ছিলেন, কিন্তু সিনেমায় শিশু অভিনেতা হিসাবে অভিনয় করার মত যথেষ্ঠ পরিপক্ক ছিলেন। যদি আমার ভুল না হয়, তিনি এবং রাই বাহাদুর সাতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কন্যা টুনটুনকে ঘিরে চলচ্চিত্রের চরিত্রগুলি নির্মিত হয়েছিল।

 

 

গ্রন্থপঞ্জিড. মোহাম্মদ আলমগীর সম্পাদিত “নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহর জীবন ও কর্ম এবং ঢাকা নওয়াব এস্টেট”,  ড. মো. আলমগীর রচিত ‘মুসলিম বাংলার অপ্রকাশিত ইতিহাস: ঢাকার নওয়াব পরিবারের অবদান’, বাংলাপিডিয়া, অন্তর্জাল
http://www.nawabbari.com/main_arts.html?string=lastKiss.html

 

তানবীরা তালুকদার

০৩/০৯/২০২০

 

Wednesday, 2 September 2020

দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – ১১ (সেপ্টেম্বর)

 

 

“পরিস্থিতি এখন উদ্বেগজনক নয়, কিন্তু উত্তেজনাপূর্ণবললেন মিনিস্টার প্রেসিডেন্ট মার্ক রুতে তার পয়লা সেপ্টেম্বরের “করোনা” কনফারেন্সে। কোন বড় কিংবা অপ্রত্যাশিত কারণ ছিলো না তারপরও কনফারেন্সটি রাখা হয়েছিলো, যাতে সচেতনতা বজায় থাকে সেই রুটিন মেইনটেইন করার জন্যে। দুটি ব্যাপার নিয়ে কথা বলবেন তিনি, একঃ প্রায় ছয় মাস ধরে নেদারল্যান্ডস করোনা সারভাইভ করছে, এই মুহূর্তে নেদারল্যান্ডসের অবস্থান কোথায়? আক্রান্তের এই সংখ্যা আমরা কিভাবে দেখছি? আর দ্বিতীয়ঃ সেকেন্ড গলফ এড়ানোর জন্যে আমরা কি ধরনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে প্রস্তূত থাকবো? এই নিয়ে কথা বলবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুগো ডি ইয়ং। শুরু করার আগেই মার্ক রুতে জানিয়ে দিলেন, প্রত্যেকের অধিকার আছে সংসদরা “করোনা” নিয়ে কি কাজ করছে সে প্রশ্ন করার এবং তাদের কাজের সমালোচনা করার। এটা খুবই স্বাভাবিক ছয় মাস পরে মানুষ এই কারণগুলো অনুসন্ধান করবেই। কেউ যদি কোন ধরনের পরামর্শ দিতে চান চিকিৎসা কিংবা ডিসিপ্লিন নিয়ে সেটা নিয়ে সাংসদরা সংসদে আলোচনা করতে পারেন। এ ব্যাপারে সবাই স্বাগত। আজকেও তিনি চতুর্থবারের মত যুব সমাজের সাথে এই নিয়ে মত বিনিময় করেছেন। ভাইরাস মোকাবেলা করার তো শুধু একটি পন্থা নয়, অন্যান্য পন্থাগুলো নিয়েও আলোচনা আর কাজ করতে চান। আর তাই তিনি আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সামনের সপ্তাহে অনলাইনে দেশের সবার সাথে এই নিয়ে আলোচনা করবেন, ভবিষ্যতের কর্মপন্থা ঠিক করবেন। মার্ক রুতে বললেন, আমরা শতভাগ জ্ঞান নিয়ে শুরু করি নি কিন্তু প্রতিদিনই নতুন নতুন জিনিস শিখছি।   

 

দুই সপ্তাহ আগের স্পীচের পর মানুষজন আবার সচেতন হয়েছে। সংক্রমণের হার শুধু স্থিতিশীল নয়, কমছে। এই মুহূর্তে প্রতিদিন প্রায় পাঁচশো লোক আক্রান্ত হচ্ছে, আই-সি-ইউ আর হাসপাতালের ওপর চাপ পরছে না কারণ প্রস্তূতি রয়েছে। পয়লা জুলাইয়ের তুলনায় সংক্রমনের হার অনেক বেড়েছে কিন্তু পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল। আর এটা শুধু নেদারল্যান্ডসেই হচ্ছে তা নয়, অন্যান্য দেশে যেখানে ‘করোনা” স্থিতিশীল ছিলো সেখানেও একই রকমই চিত্র। আজকেও বিশেষজ্ঞ দল বলেছেন, সংক্রমনের আশঙ্কা বেশি থাকায় নাইট ক্লাব আর ডিস্কোথেক আপাতত বন্ধ থাকবে। আর সংক্রমনের আশঙ্কা কম থাকায়, শূন্য থেকে বারো বছর পর্যন্ত বাচ্চারা ডে কেয়ারে যেতে পারে, তাদের কেয়ারন্টিনের দরকার নেই।   

 

কিছু মানুষ সারাক্ষণ শুধু দুঃখ করছে, কি কি করতে পারছে না তাই নিয়ে। কিন্তু আজকে আমি সেই কথাগুলো উল্লেখ করবো, অন্যদেশের তুলনায় নেদারল্যান্ডসে সবসময় মানুষ অনেক বেশি কিছু করতে পেরেছে। এখানে কখনো বলা হয় নি, বাসা থেকে এক কিলোমিটারের বেশি দূরে যাওয়া নিষেধ কিংবা বাজার করতে যাওয়ার জন্যে সিটি করপোরেশানের সীল লাগবে হাতে। তারওপর এখন স্কুল খোলা, রেস্টুরেন্ট খোলা, সিনেমা-থিয়েটার খুলে দেয়া হয়েছে, শুধুমাত্র সামান্য কিছু প্রাথমিক নিয়ম-নীতি পালন করতে হবে।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানালেন, সচেতনতা বেড়েছে তাই পরীক্ষার সংখ্যাও বেড়েছে। শুধুমাত্র গত দুই সপ্তাহে পরীক্ষার হার একশো হাজার থেকে একশো ষাট হাজারে পৌঁছেছে। ল্যাবের ওপর চাপ পরেছে তাই টেষ্ট করতে আর রেজাল্ট জানতে মানুষকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে সামনের সময়টাতেও পরিস্থিতি এরকমই থাকবে। তাই আবারও বলা হচ্ছে, উপসর্গ না থাকলে পরীক্ষার জন্যে ভীড় করতে না, আর এই অবস্থা সাময়িক, পরীক্ষার হার বাড়ানোর জন্যে চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন যেহেতু সীজন চেঞ্জ হচ্ছে, সর্দি-কাশি এ সময়টাতে এমনিতেই হয়ে থাকে। পরীক্ষার সুযোগ বাড়াতে, জার্মানের দুটো ল্যাবের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। জিজিডি মানুষকে দ্রুত ট্রেইন করছে, যাতে তাড়াতাড়ি পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো যায়। যেহেতু করোনার লক্ষন সব সময় একই রকম নয়, তাই স্বাস্থ্যকর্মীদেরকে প্রতি সপ্তাহে টেষ্ট করতে হবে।  

 

এখন থেকে করোনা ড্যাশবোর্ড ওয়েবসাইটে এলাকা ভিত্তিক বিধি-নিষেধ দেয়া থাকবে। প্রত্যেক এলাকার পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে বিধায় নিয়ম নীতিও আলাদা থাকতে পারে। পাঁচটি কোম্পানীর সাথে ভ্যাক্সিন নিয়ে কথা হয়েছে আর আশা করা হচ্ছে সব ঠিক থাকলে দুই হাজার একুশের প্রথম দিকে ভ্যাক্সিন পাওয়া যাবে। প্রথম সেপ্টেম্বর থেকে “করোনা এপ” চালু হওয়ার কথা থাকলেও সেটি সম্ভব হয় নি এখনও ট্রায়াল ফেজে আছে, চেষ্টা করা হচ্ছে দ্রুত চালু করার।

Tuesday, 1 September 2020

নেদারল্যান্ডসবাসীকে কেন ডাচ বলা হয়?

 https://bangla.bdnews24.com/kidz/article1796718.bdnews?fbclid=IwAR1I3OMW4KDU3SOPPMOrZHOaZVcKAMRPYBKnihM3OC69_RSb089WdWzQXX8

Wednesday, 19 August 2020

“ব্লাইন্ড স্পট”

 

পশ্চিমাদের একটা সুন্দর জিনিস আছে, ভেতরে ভেতরে তারা যতই পাজি হোক, কাজগ-পত্রে “পলিটিক্যালি কারেক্ট” থাকবে। ভয়ংকর সব জিনিস তারা প্র্যাক্টিস করবে কিন্তু এর কারণ-বারণ সব উদাহরণ সহ সুন্দর করে নথিপত্রে দলিল করে রাখবে।

 

প্রিন্সেটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সামাজিক মনোবিদ এমিলি প্রোনিন তার আর দুই সহকর্মী ড্যানিয়েল লীন আর লী রোস “ব্লাইন্ড স্পট” শব্দটি তৈরী করেন। মস্তিস্কের ভেতরে তথ্যপ্রবাহ শুরু হওয়ার অনেক আগেই চাক্ষুষ তথ্য অপটিক নার্ভ দিয়ে চোখের দিকে ছুটতে শুরু করো। সোজা বাংলায় দাঁড়ায়, মাথা কাজ করার অনেক আগেই চোখ কাজ করতে শুরু করে। অপটিক স্নায়ুর একটি নির্দিষ্ট এলাকা রয়েছে যার কোনও গ্রহণ করার মত শক্তিসম্পন্ন কোষ নেই (যেখানে চোখের কাছে যেয়ে অপটিক স্নায়ুটি শেষ হয়ে যায়) এবং এর ফলস্বরূপ, সে আর তথ্য গ্রহণ করতে পারে না। যার ফলাফল হলো, “ব্লাইন্ড স্পট”।

 

“ব্লাইন্ড স্পট” অথবা “আনকশাস বায়াসেস” = “অবচেতন পক্ষপাত” হলো এক ধরনের মানসিক বৈকল্য যা প্রতিদিন যে লক্ষ লক্ষ তথ্য আমরা জানতে পাই তা দিয়ে আমাদের জ্ঞান বা অনুভূতি তৈরীতে সাহায্য করে। যেকোন ঘটনায় আমরা যখন কোন সিদ্ধান্ত নেই, সেখানে এর প্রভাব পরে।

 

একটিকে বলা হয়, “The halo effect”- প্রথম দর্শনের মুগ্ধতাকে আমলে নিয়ে যখন কারো সম্পর্কে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অন্যটি “The horns effect” – প্রথম দর্শনের বিরূপতাকে ভিত্তি করে যখন নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অনেক সময় “কনর্ফামেশান বায়াসেস”, “হালো আর হর্ন” ইফেক্টকে আরো শক্তিশালী আর চাঙ্গা করে তোলে।    

”কনর্ফামেশান বায়াস” হলো যখন আমরা আমাদের বিশ্বাসকে সমর্থন করে এমন প্রমাণের সন্ধান করি এবং এর বিপক্ষের প্রমাণগুলোকে উপেক্ষা করি।

অসংখ্য গবেষণায় দেখা গেছে যে লোকেরা এমন তথ্য অনুসন্ধান করতে ভালবাসে যা তাদের বিশ্বাসকে নিশ্চিত করে এবং এমন তথ্য উপেক্ষা করে যেটা তার পছন্দের বিপক্ষে যায়।

যাকে আমরা সহজ ভাষায় “ভুল” বলি, বিজ্ঞান এটিকে “ব্লাইন্ড স্পট” বলে। আমাদের অচেতন মন, না জেনেই নব্বই ভাগ  সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতি সেকেন্ডে এগারো মিলিয়ন তথ্য দিয়ে আমাদের মাথা বোঝাই হয়, তাদের মধ্যে থেকে কেবল চল্লিশটি আমরা ব্যবহার করতে পারি। অতীতের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আমরা অদ্ভূতভাবে সংক্ষিপ্ত রাস্তায় জ্ঞানগর্ভীয় অনুমানে পৌঁছাই। আমরা না জেনেই অবচেতন পক্ষপাত ঘটাই। বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, আমাদের প্রায় শতকরা নব্বই ভাগ সিদ্ধান্তই আমাদের অবচেতন মনের দ্বারা নেওয়া হয়।  

Assume = ass – u – me

“ব্লাইন্ড স্পট” নিয়ে জীবন-যাপন আমাদেরকে একটি সুড়ঙ্গের মধ্যে আটকে ফেলতে পারে, একই দৃষ্টিকোণ, একই সিদ্ধান্ত, মানে হলো একই ফলাফল।

 

ফুটনোটঃ ওপরের তথ্যগুলো অফিসের পাওয়ার পয়েন্ট স্লাইডের ভাষান্তর আর কিছু অন্তর্জাল থেকে নেয়া। এমন একটি দেশ আমি চিনি যার প্রায় পচাঁশি ভাগ মানুষ সিভিয়ার “ব্লাইন্ড স্পট” সিনড্রোমের পেশেন্ট। দেশটির নাম জানতে চাইবেন না, নাম বললে আর কল্লা থাকবে না।

 

১৯/০৮/২০২০

দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – ১০ (আগস্ট)

 আঠারোই আগস্ট জানালেন প্রিমিয়ে মার্ক রুতে, দু সপ্তাহ আগের সাংবাদিক সম্মেলনের পর নেদারল্যান্ডসে করোনা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। সংক্রমনের হার আর হাসপাতালে ভর্তির হার দুটোই বেড়ে গেছে। এখনই যদি সর্তক না হই আবার সংকটে পরতে দেরী হবে না। আমরা কিছুতেই অর্থনৈতিকভাবে দ্বিতীয়বার এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চাই না। আজকে রাতেই আমাস্টার্ডামের মেয়র জনবহুল এলাকার জন্যে তাদের আলাদা নিয়ম নীতির ঘোষনা নিয়ে আসবেন। এই পরিস্থিতিতে কোথাও কোথাও এলাকা ভিত্তিক নীতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দেশ জুড়ে যে নিয়মগুলো বলবৎ থাকবে তা হলোঃ

বাসায় নিজের বন্ধু, পরিবারের মধ্যে যেহেতু মানুষ “সোশ্যাল ডিসটেন্স” মেইনটেইন করছে না, হাত মেলানো, জড়িয়ে ধরা প্রভৃতি বন্ধ করছে না, দেখা যাচ্ছে বেশীর ভাগ সংক্রমনের উৎপত্তি এখানেই। তাই আপাতত বাসায় বড় গেটটুগেদার বন্ধ, রেস্টুরেন্টে বা বাইরে পার্টি হোক, বাসায় নয়। বাসায় ছয় জনের বেশি আপাতত গেস্ট ডাকা যাবে না। এর মধ্যে বারো বছর অব্ধি বাচ্চাদের ধরা হয় নি। দাওয়াত করার সময় জিজ্ঞেস করতে হবে, কারো কোন অসুস্থতা আছে কি না। জনগনের ওপর প্রিমিয়ের আস্থা আছে, পুলিশ দিয়ে তিনি কন্ট্রোল চেক করবেন না।

জন্মদিন, জুবলিয়াম, বিয়ের অনুষ্ঠান বাইরে করা যেতে পারে, তবে আগে রেজিস্ট্রেশান আর কন্ট্রোল চেক করে নিতে হবে। মেহমানদের প্রত্যেকের জন্যে আলাদা নির্দিষ্ট চেয়ার থাকতে হবে, একজনের চেয়ারে অন্যজন বসতে পারবে না। সবগুলো চেয়ার দেড় মিটারের সামাজিক দূরত্ব মেইনটেইন করে সেট করতে হবে। অনুষ্ঠানে “পোলোনাজ” ডান্স নিষেধ আর অভিনন্দন জানাতে হবে দূর থেকে। সব রেস্টুরেন্ট আর হল মালিকদের এ দিকে কঠোর দৃষ্টি রাখার জন্যে বলা হয়েছে।

“ওয়ার্কিং ফ্রম হোম” আপাতত পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বলবত থাকবে, এর কোন পরিবর্তন হবে না।

সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অবিশ্বাস্য প্রস্তূতি গ্রহণ করেছে দূরত্ব মেনে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাশ চালানোর। কোন বাচ্চা অসুস্থ হলে বাসায় থাকবে, পরিবারের কেউ “করোনা পজিটিভ” হলে সেই পরিবারের বাচ্চা বাসায় থাকবে। এর কোন ব্যাতায় হবে না। সংক্রমিতদের তৃতীয় স্তরটি হলো পনেরো থেকে উনিশ বছরের মধ্যে। কোন স্কুল থেকে যদি সংক্রমনের হার বাড়ে জিজিডি সেদিকে আলাদা নজর রাখবে। মার্চ থেকে জুন আমরা সবাই মিলে প্রমাণ করেছিলাম যে ভাইরাস আমরা নীচে নিয়ে আসতে পারি আর এখন আমাদের সবার প্রমাণ করতে হবে, ভাইরাস আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি।

শুধু বয়স্ক মানুষরাই যে অসুস্থ হচ্ছে তা নয়, বিশ-ত্রিশের মানুষরাও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আমরা লকডাউনে যেতে চাই না। গত সপ্তায় প্রায় চার হাজার মানুষ “পজিটিভ” এসেছে, আরআইভিএম ধারনা করছে তাহলে হয় প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষের মধ্যে এই ভাইরাসটি এই মুহূর্তে বিচরণ করছে। জিজিডি যখন পঞ্চাশ জনের একটি দলকে ফোন করে ট্রেস এন্ড ট্র্যাক করে এবং কেয়ারন্টিনে থাকতে বলে, তার ভেতরে চার-পাঁচ দিন চলে যায় বলে এই পন্থাটি তত কার্যকর হচ্ছে না। তবে কেয়ারন্টিনের সময় এখন চৌদ্দ দিনের বদলে দশ দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে। মানুষ নিজ থেকে কেয়ারন্টিন না মানলে তাদেরকে আলাদা বাধ্যতামূলক কেয়ারন্টিন সেন্টারে রাখার প্রস্তাব করেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডি হুগো, পার্লামেন্ট যদিও এটাকে প্রচন্ড শক্তি প্রয়োগ হিসেবে আপাতত দেখছে তবে এর বিকল্প কি করা যায় তা নিয়ে পার্লামেন্ট এই সংশ্লিষ্ট অন্যদের সাথে আলোচনা করছে।

প্রথম সেপ্টেম্বর থেকে “করোনা এপ” চালু হবে। পাঁচ লক্ষেরও বেশি লোক এটি অলরেডি ইন্সটল করে ফেলেছে।


১৮/০৮/২০২০

Friday, 14 August 2020

তাই বুঝতে হবে তোকে শুধু সত্যি-মিথ্যে ঝোঁকে






আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ যখন প্রথম ক্রিকেট খেলা শুরু করলো তখন প্রায় সব খেলাতেই অবধারিত ভাবে হারতো। আমি প্রায় কখনোই খেলা দেখতাম না, হারবে জানিই আর অনেক সময় খেলা শুরু না হতেই শেষ, সব আউট। দৈবাৎ কখনো জিতে যাচ্ছে ব্যাপার থাকলেই খেলা দেখতে বসতাম। ভাই, কাজিন, চাচা-মামা অন্যদের সাথে আমি-আমরাও গলা ফাটিয়ে চিৎকার দিতাম, ছক্কা, চার ইত্যাদি ইত্যাদি। উত্তেজনায় নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস আমাদেরও ফুলতো, লাফালাফি করতাম, বাংলাদেশ তো আমাদেরও, এটাই ভাবতাম। কিন্তু কখনো বিজয় মিছিল, রঙ খেলায় আমাদের-আমার অংশ গ্রহণ ছিলো না, আমাদের পরিধি ছিলো, খেলা শেষ হলে পাড়ায় পাড়ায় মিছিল হবে সেটা বাসার বারান্দা কিংবা ছাদ থেকে দেখা, অন্যদিন বাসার বাইরে পা দেয়ার কোন পারমিশান থাকলেও সেসময় বিশেষ করে সব বন্ধ। পরদিন পেপারে দেখা যেতো বিশ্ববিদ্যাল ক্যাম্পাস গুলোতে মিছিল হয়েছে, টিএসসিতে রঙ খেলা হয়েছে এবং এই খবরের পাশে আলাদা বক্সে প্রায়শঃই দু’চারটে মেয়ের অসহায় মুখের ছবি যারা এই উপলক্ষ্যে নিজের ভাই-বন্ধুদের দ্বারা আপন ক্যাম্পাসে লাঞ্চিত হয়েছে।



দু’হাজার দশ সালে নেদারল্যান্ডস বিশ্বকাপে খেলছে, এই উপলক্ষ্যে হুইন্দাই টিভি কিছু শহরের সিটি সেন্টারে বড় বড় স্ক্রীন টানিয়ে দিলো সবাই একসাথে সিটি সেন্টারে দেখা হবে। নেদারল্যান্ডসের খেলা হলেই আমি আমার সাত বছরের মেয়ের হাত ধরে মেয়ের বাবা আরও বন্ধুদের সাথে খেলা দেখতে যাই। একবারও ভাবিনি, আমার বা মেয়ের বা পরিবারের কারো কিছু হতে পারে। পুলিশ ছিলো, মিউনিসিপ্যালটির লোকও ছিলো, এত গরমে আমাদের গায়ে পানি ছিটিয়ে ছিটিয়ে দেয়া হচ্ছিল যাতে কেউ মাথা ঘুরে না পরে যায়। ব্রাজিল-নেদারল্যান্ডসের খেলার দিন প্রথম হাফে যখন ব্রাজিল তিন গোল অলরেডি দিয়ে ফেলেছে, পাঁচ-সাতটা ব্রাজিলিয়ান মেয়ে তাদের পতাকা নিয়ে নির্ভয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করে ভুভুজালা বাজাচ্ছিলো, দুঃখী মুখ করে ডাচেরা তাদের অভিনন্দন জানিয়েছিলো কিন্তু গায়ে হাত দেয় নি, বলে নি, লাফাস ক্যান।



সিগারেট-হুইস্কি শুধু ছেলেদের জন্যে বুঝি? লিভ টুগেদার করা কিংবা একা থাকা শুধুই ছেলেদের ব্যাপার? জিন্স-টি শার্ট ছেলেদেরই পোষাক? বাইরের পৃথিবী, বিশ্ব ভ্রমণ, ফটোগ্রাফি, ভিডিও, ইউটিউব সব পুরুষদের এখতিয়ারে? মেয়ে মানুষকে বুঝি মানায় না, না? প্রশাসন পরিকল্পিত ভাবে শিপ্রার ব্যক্তিগত ভিডিও, ছবি ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়াতে ছেড়েছে। ১.সিনহা খুনের মামলাকে জাস্টিফায়েড করে ২.নিজেদের আসন রক্ষা করতে ৩.পাব্লিক সেন্টিমেন্ট তাদের পক্ষে আনতে এবং ইট ওয়ার্কড। মেজর সিনহা হত্যার দাবী এখন পেছনে চলে গেছে, তৌহিদী জনতা এখন বিভক্ত, তারা ব্যস্ত "শিপ্রার কখন এবং কেন ওড়না পরা উচিত ছিলো“ এই নিয়ে। পরিকল্পনা করে মেয়েটাকে টার্গেট করা হয়েছে, সিফাত আর নূর নিয়ে কোন পোস্ট নেই। প্রশাসন এই দেশের মানুষের নাড়ি-নক্ষত্র রগেরগে জানে, তারা জানে, মুমিনকূল ওড়না নিয়ে যত ব্যস্ত, জাঙ্গিয়া, চাড্ডি কিংব হাফপ্যান্ট নিয়ে ঠিক ততটাই উদাসীন। "সাতান্ন ধারা“ কিংবা "আইসিটি এক্ট“ কি প্রশাসনের রত্নদের জন্যে প্রযোজ্য নয়? তাদের ইচ্ছে হলে প্রথমে কাউকে মেরে ফেলবে তারপর অন্যদের পাব্লিকলি ডিফেম করবে? সবই তাদের ক্ষমতার ওপর দেখছি। মদ খাওয়া, জীন্স পরা কি অপরাধ? খুন করা যায় সেজন্যে?



যৌথ পরিবারে বাবার সাথে তাস খেলতাম মাঝে মাঝে, তাতেই কতবার বৃহৎ পরিবার থেকে টিপ্পনী শুনেছি, কি দিনকাল আইলো, মাইয়ারা নাকি টাসটুস খ্যালে। স্বয়ং বাবা জড়িত ছিলেন বলে এটা আর উচ্চ পর্যায়ে যায় নি কিংবা একশান নেয়া হয় নি। দাবাও খেলতাম কিন্তু সেটা কেন যেনো লোকের সহ্যের মধ্যে পরতো। অথচ দুটো খেলাই বাসায় নিরিবিলি বসে ওয়ান টু ওয়ান কিংবা গ্রুপে নিরীহ খেলা। এই তো আমাদের মনোবৃত্তি, শুরুর শিক্ষাটা তো আসে সেখান থেকেই। সেসব কতদিন আগের কথা, এত বছরে বাংলাদেশ কি একচুল বদলেছে? না, একে বারেই না, বরং দিন দিন আরও রসাতলে গেছে, প্রত্যেকটি সেক্টরে। আসে ঘোড়ার ডিমের জিডিপির ঢসকিলা দিতে। জনগনের এই মনোবৃত্তির সুযোগ প্রশাসন নিচ্ছে এখন।



প্রবাসে যত যন্ত্রণাতেই থাকি, এই "ওড়না“ যন্ত্রণা নেই, তাই এই ওড়নার দেশকে আর আপন মনে হয় না, কখনো ফিরবো না এখানে।



("ওড়না“ শব্দটি প্রতীকি অর্থে ব্যবহৃত)





.
#stop_harassing_shipra

#journey_twentytwenty 

14/08/2020

Thursday, 6 August 2020

দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – ৯ (আগস্ট)

দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – ৯ (আগস্ট) 

 

নেদারল্যান্ডসের করোনা পরিস্থিতি আবার খারাপ হওয়াতে ছয়ই আগস্ট মার্ক রুতে টিভিতে এলেন নতুন করে আবার নিয়ম- নীতি নিয়ে কথা বলতে

বেসিক যে নিয়মগুলো দেয়া আছে সেগুলো পালনের কোন বিকল্প নেই। অনেক জায়গাতেই সেগুলো পালিত হচ্ছে না বলে পরিস্থিতি আবারও খারাপের দিকে যাচ্ছে। মিউজিয়াম, ট্যুরিস্টি প্লেস, রেস্টুরেন্ট আবারও বন্ধ হোক তা কেউই চায় না তাই সর্তক থাকার কোন বিকল্প নেই বলে আবারো সবাইকে জানালো হলো। ভাল লাগুক আর নাই লাগুক আপাতত এর কোন সমাধান কারো হাতে নেই।

দেখা যাচ্ছে, অনেক মানুষই টেস্ট করাচ্ছে না, সর্দি-কাশিতে বাড়ি থাকছে না, দেড় মিটারের সোশ্যাল ডিসটেন্স মানছে না তাতে আক্রান্তের সংখ্যা আবার বেড়ে চলছে।

দেখা যাচ্ছে, বার্থ ডে পার্টি, বাসায় ডিনার পার্টি, অফিসের পার্টি কিংবা অফিসের কাজের ক্ষেত্র ইত্যাদিতে দেড় মিটার সোশ্যাল ডিসটেন্স মানা হচ্ছে না আর তাতেই হু হু করে এটি চারদিকে এত ছড়িয়ে পরছে। কিছু কিছু উদাহরণে দেখা গেছে, মামা, খালা, চাচা, দাদু মিলে পার্টি করার পর সবাই করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। তাই অবাধ মেলামেশার সময় এখনো আসে নি বলে আবারও জানালো হলো। বিশেষ করে তরুণ  সমাজ বড্ড বেপোরোয়া চলছে, কোন নিয়ম নীতির ধার ধারছে না। তাদেরকে বিশেষ করে বলা হচ্ছে, এত বাড়াবাড়ি করলে, আবার সবাইকে ঘরে বন্দী থাকতে হবে। যারা নিয়ম নীতির ধার ধারছে না তাদের বলা হচ্ছে, বাবা-মা, দাদু-দাদীর কাছে না যেতে, তাদের থেকে দূরে থাকতে। তাদের নিজেদের অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি। দায়িত্বশীল আচরন করার জন্যে আবারও সতর্ক করা হয়েছে।

যেসব জায়গায় ঝুঁকি বেশি সেখানের মেয়ররা চাইলে “মাস্ক” ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে পারে। সমুদ্র সৈকত আর সিটি সেন্টারে গাড়ি পার্কিং, ব্যস্ত মার্কেটের রাস্তা ওয়ান ওয়ে করে দেয়া, শৌখিন কিংবা নিয়মিত খেলাধূলার প্রতিযোগিতা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সুযোগ দেয়া, নাইট শপ আর রেস্টুরেন্ট বারোটার মধ্যে বন্ধ করে দেয়া ইত্যাদি সব স্থানীয় প্রশাসনের হাতে থাকবে। টিকিট কিনে ফুটবল দেখতে আসা দর্শকদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রনও তাদের হাতেই থাকবে।   

হাই স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি তাদের ইন্ট্রোডাকশান ইভেন্ট অনলাইনে আয়োজন করবে। গ্রুপ এক্টিভিটি শুধুমাত্র ছোট ছোট গ্রুপের জন্যে আয়োজন করা যাবে। শরীর চর্চার স্কুল গুলোতে কঠোর শৃংখলার মধ্যে দিয়ে এক্টিভিটি আয়োজন করা হবে কিন্তু তাতে কোন এলকোহল থাকবে না, দেড় মিটার ডিসটেন্স আর রাত দশটার মধ্যে ছুটি। সেসবও আলাদা করে সিটি মেয়রের পারমিশান নিয়ে আয়োজন করতে হবে।

রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে এখন থেকে নাম আর কন্টাক্ট ডিটেলস দিয়ে আসতে হবে যাতে যেকোন দরকারে খুব তাড়াতাড়ি ট্রেস করা যায়। যদি দেখা যায়, কোন মিউজিয়াম, রেস্টুরেন্ট, এট্রাকশান পার্ক থেকে দ্রুত করোনা ছড়াচ্ছে তাহলে সেটিকে সর্বোচ্চ চৌদ্দ দিনের জন্যে বন্ধ করে দেয়া হতে পারে। 

যেসব দেশে অরেঞ্জ আর রেড সাইন দেয়া আছে, সেখানে কেউ ভ্রমন করে ফিরে এলে, তাকে চৌদ্দ দিন কেয়ারন্টিনে থাকতে হবে। জি-জি-ডি থেকে ফোন করে তাদের খোঁজ খবর নেয়া হবে। প্রথমে স্কিপলে একটি টেস্ট বুথ বসানো হবে পরে অন্যান্য বিমান বন্দরে, যাতে ঐসব দেশ থেকে কেউ ফিরে এলে সাথে সাথে বিমান বন্দরেই টেস্ট করা যায়। সবাইকে এই পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে কারণ ঐ সকল দেশে সংক্রমনের হার অনেক বেশি। সবাইকে শিওর হতে হবে যে স্যুটকেসে করে ভাইরাস নিয়ে এসে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে না। টেস্টে করোনা পাওয়া যাক বা না যাক, তাদেরকে চৌদ্দ দিন কেয়ারন্টিন থাকতেই হবে।

সতেরোই আগস্ট থেকে তুইন্তে আর ড্রেনতে শহরে মোবাইল এপের মাধ্যমে করোনার রিপোর্ট করা যাবে আর প্রথম সেপ্টেম্বর থেকে পুরো নেদারল্যান্ডস থেকে করা যাবে। যারা করোনা রোগীর সংস্পর্শে এসেছিলো তারা এপের মাধ্যমে সেটা জানাবে আর কেয়ারন্টিনে থাকবে। সাত দিন পর তাদের টেস্ট করা হবে এবং সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এভাবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা হবে কেয়ারন্টিনের সময়টা আরও কমিয়ে আনা যায় কি না। বারোই আগস্ট থেকে ডিজিটাল পোর্ট ওপেন হচ্ছে যেখানে মানুষ সরাসরি তাদের স্বাস্থ্যের রিপোর্ট দেখতে পারবে। বড় কোন সমস্যার জন্যে অপেক্ষা করার আর দরকার নেই, সর্দি-কাশি সামান্য হলেও সাথে সাথে রিপোর্ট করতে বলা হচ্ছে। হট লাইন নম্বর ০৮০০ ১২০২। যাতে আক্রান্ত হওয়া, টেস্ট করা আর চিকিৎসা শুরু হওয়ার সময়টা আরও কমিয়ে আনা যায়।  

ভ্যাক্সিনের জন্যে চারদিকে আলোচনা হচ্ছে, আস্ট্রাজেনিকার সাথে চুক্তি হয়েছে ভ্যাক্সিন কেনার, আরও অন্য কোম্পানীর সাথে কথাবার্তা চলছে নতুন চুক্তি করার, ইউরোপীয়ান কমিশনের সাথে চুক্তি হয়েছে কিন্তু এখনও হাতে কিছু আসে নি।

 ০৬/০৮/২০২০