Thursday, 14 January 2010

ধর্ম ধর্ম আদতে ভাই ভাই

আমরা গরমের দেশের মানুষেরা সহজেই উত্তেজিত। রাজনীতি, মেয়েঘটিত, আর ধর্ম হলো চরম তরম উত্তেজিত হওয়ার মতো প্রিয় বিষয় আমাদের। আগাপাশ তলা না ভেবে হুঙ্কার ছেড়ে ঝাপিয়ে পরি যুদ্ধে। কোথায় কে একখান কার্টুন আঁকলো তাই নিয়ে মার মার কাট কাট, সালমান রুশদী কিংবা তাসলিমা কিছু লিখেছে, কল্লা কাটো। এরমধ্যে অন্ততকাল থেকে পাশাপাশি থাকার জন্য ও অর্থনৈতিক বৈষম্যতার কারনে এ উপমহাদেশে হিন্দু - মুসলিম বৈরীতা চার্টের টপ লিষ্টেড আইটেম যাকে বলে। কিন্তু আদতে ধর্মগুলোর মধ্যে অমিলের থেকে মিলই বেশি। হিন্দু মুসলমান গুতাগুতি কেনো করে সেই নিয়ে আজ একটু ধর্ম রংগ।

দুই দলের ধর্মান্ধরাই একে অন্যের বাড়িতে অন্ন গ্রহন করেন না। দুদলের একই সমস্যা, জাত যাবে। একদল হালাল ছাড়া খাবেন না আবার অন্যদল মুসলমানের ছোঁয়া বলে খাবেন না।

শুদ্ধ হওয়ার জন্য দুদলের লোকেরাই উপবাস করে থাকেন।

দুদলেরই পাপ মোচন করার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ও সময় আছে।

বিশুদ্ধ পানিও আছে। একদলের আছে জমজমের পানিতো অন্যদলের আছে গঙ্গাজল।

দু দলই তাদের পবিত্র কাজের সময় সেলাই করা বস্ত্র পরিধান করেন না। মুসলমানরা হজ্বের সময় আর হিন্দুরা পূজার সময়।

গরুর ভূমিকা এ উপমহাদেশের দুদলের কাছেই অপরিসীম। স্বরগে যাওয়ার জন্য দুদলই গরু উৎসর্গ করে থাকেন কিন্তু ভিন্ন পদ্ধতিতে। পদ্ধতি ভিন্ন হলেও বস্তু একই।

যদিও মুহম্মদ, রাম, কৃষ্ণ সবাই শান্তির বানী প্রচার করার দাবী করেছেন কিন্তু তারা শান্তির চেয়ে অশান্তি থুক্কু যুদ্ধই করেছেন বেশি।

এই তিনজনের জীবনেই নারীদের অপরিসীম ভূমিকা ছিল, বৈধ এবং অবৈধ পন্থায়।

দুই ধর্মেই পুরুষের নীচে মেয়েদের স্থান, স্বামী পরম গুরু।

দুদলই পাপমোচনের আশায় হুজুর কিংবা পূজারীকে অজস্ত্র দান ধ্যান করে থাকেন। তার বাইরে কেউ মসজিদ বানানতো কেউ মন্দির।

মৃত্যুর পর অন্তত সুখ, সাথে উর্বশী, হুর, আঙ্গুর বেদনার প্রতিশ্রুতি উভয়েই দেন আমাদেরকে।

দুদলেরই ধর্মানুভূতি অত্যন্ত প্রখর। ধর্মানুভূতিতে আঘাত করা আর শ্লীলতাহানি করা একই পর্যায়ের অপরাধের স্তরে পরে। কথার আগে তাদের ছুরি চলে। ভন্ড নাস্তিক আর আঁতেলে দল ভর্তি। সবারই রক্ত লাল আর মরে গেলে ফিরে আসার সম্ভাবনা অনেক কম জানা সত্বেওও তাদের ধর্মের নামে এই অপরিসীম যুদ্ধ চলছে এবং চলতেই থাকবে।

তানবীরা
১৪.০১.১০

Sunday, 10 January 2010

যে দশটি জিনিস স্বামীদের কখনোই করতে নেই

যে দশটি জিনিস স্বামীদের কখনোই করতে নেই

মূলঃ ডায়ানে ওটিস
অনুবাদঃ তানবীরা

প্রিয়তম, তোমাকে আমি প্রানের চেয়ে ভালোবাসি, সত্যিই বাসিগো। কিন্তু তুমি এতোই একটা চমৎকার চীজ আর মাঝে মাঝে এমন সব ঘটনা ঘটাও যে ইচ্ছে করে, সবচেয়ে কাছে থাকা জানালাটা দিয়ে লাফিয়ে পরে নিজে মরি আর নাহলে তোমায় ধাক্কা মেরে নীচে ফেলে দিয়ে সব যন্ত্রনার অবসান করি। দয়া করে অন্তত দয়া করে হলেও নিজেকে শোধরাও এবার .........

১. নিজের সন্তানকে দেখাশোনা করাঃ যখন কারো ষোল বছর বয়সী প্রতিবেশী একাজটা করে, তখন এটাকে দেখাশোনা বলে। আর নিজের সন্তানকে বাবা মা লালন পালন করে। অন্তত আঠারো অব্ধিতো করেই, বুঝতে পারলে .........

২. অফিসের কাজ়ে বাড়ির কাজের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হয়ঃ সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করার পর হয়তো তোমার কান দিয়ে ধোয়া বেরোচ্ছে। কিন্তু তুমি যদি বাস্তব চোখে দেখো, সারাদিন তুমি তোমার ঘরে বসেই ছিলে। আমার কান দিয়েও কিন্তু সেই ধোয়াই বেরোচ্ছে। এই ধোয়া নিয়েই আমি বাড়ি পরিস্কার করেছি, সারাদিন বাচ্চাদের সামলেছি, সারা শহর ছুটোছুটি করে বাজার করে এনে, থলেটা পাশে রেখেছি। তাহলে যখন বলছি আমি ক্লান্ত, তখন তোমাকে বুঝতে হবে অবশ্যই আমি ক্লান্ত।

৩. ঘরে ব্যবহারের জিনিসকে উপহার হিসেবে দেয়া!ঃ আমায় মাফ করো সোনা যদি আমি ভুল বুঝে থাকি। কাপড় ধোঁয়ার মেশিন উপহার, সত্যি? তোমার গাড়ির জন্য কেনা বরফে চলার চাকাগুলোকে কি তাহলে আমি তোমাকে উপহার দিতে পারি?

৪. বেড়ালের গন্ধওয়ালা সুগন্ধি কেনো নিয়ে আসো?ঃ গোল গলার সোয়েটার নীচে থাকা আমার হৃদয়টাকে তোমার কাছে অবাধ্য শিয়ালীনির মতো মনে হলেও, আমি আসলে কিছুতেই সেরকম হতে চাই না ( যদিও তুমি ভালোই ঠকাতে চেয়েছিলে )

৫. গাড়ি চালানো নিয়ে সব সময় বড়াই করাঃ এটা আমাকে শোনানোর মানেই হলো, তুমি আমার চেয়ে অনেক ভালো গাড়ি চালাও। তুমি যদি আর একবার আমায় বলো, “১৯৭৮ থেকে তুমি দুর্ঘটনা মুক্ত স্ট্যাটাসে আছো”। তাহলে আমি নিজে যেয়ে তোমার গাড়ির চাকার স্ক্রু খুলে দিয়ে আসবো, যাতে গাড়ি একদিকে গড়িয়ে পরে তবু তোমার মুখ বন্ধ করব তবে ছাড়বো।

৬. অনেক সময় এবং যত্ন নিয়ে করা রান্না খাবার খাওয়ার সময় মুখ গোমড়া!!ঃ আমি জানি না আসলে এটা কার দোষ? (রেসিপি বইয়ে নাকি জুলি অথবা জুলিয়ার?) কিন্তু মাঝে মাঝেই আমি ভাবি, মজার একটা স্যুপ বানিয়ে আমি সারাদিন বোনাবুনি করবো। স্যুপ যদি ততো মজা নাও হয়, তাতেতো আর ভূমিকম্প হবে না, অন্তত সামান্য প্রশংসাতো করতেই পারো।

৭. না পরে কাপড় কেনা, মাগো ভাবাই যায় নাঃ আমি জানি যে মূহুর্তে তুমি কাপড়ের দোকানে পা রাখো, তোমার মাথা ঘোরাতে থাকে। কিন্তু, তুমিই বলো পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করে দেখে পরে নেয়াই কি ভালো না? না হলে পরে ফেরত দিতে আসার ঝামেলা কে পোহায় শুনি?

৮. লোকের সামনে সামলানোঃ ও সোনা, যখনি তুমি লোকের সামনে যেকোন ব্যাপারে ঝামেলায় পরো, আমি এগিয়ে এসে সব সামলে নেই। আমি জানি সে সময় অন্যেরা বিব্রত বোধ করতে থাকে।

৯. চুল কাঁটা নিয়ে দূর থেকে ঘ্যানঘ্যানানিঃ কখনো নতুন ধরনের চুল কাঁটায় আমাকে বেশ মানিয়ে যায় আবার কখনো নতুন স্টাইলটা ঠিক আমাকে মানায় না। সেটা আমিও বুঝতে পারি। তোমায় অস্থির হতে হবে না।

১০. ঘরে সামান্য একটু কূটো নেড়ে দ্বিগবিজয়ের ভাব ধরাঃ উউউহ, এটা তোমারো বাড়ি, বুঝলে? আজকের জন্য পেতলের মেডেলটাই রাখো। কোনদিন যদি সেরকম খাটো তাহলে সোনার মেডেলটা পেতে পারো।

১০.০১.১০

http://shine.yahoo.com/channel/sex/10-things-husbands-should-never-do-552285/

Friday, 8 January 2010

প্রিয় বইমেলা

আবারো মিস করবো তোমাকে প্রিয় বইমেলা
কিন্তু তুমি জেগে থেকো, অপেক্ষায় থেকো
কোন একদিন ফিরে আসবো
ফেব্রুয়ারীর শীত সন্ধ্যায় তোমার বুকে
তাজা বইয়ের মাতাল গন্ধ
মাইকে বেজে যাওয়া অহরহ
কবিতা গান কিংবা আলোচনা
যার কিছু শুনছি আবার কিছু না
বাইরে চটপটি ফুচকার হাঁকডাক
সদ্য গজানো তরুনীদের পরনে
নতুন তাঁতের শাড়ির মাড়ের ঘোচঘাচ
কাঁচের চুড়ির টুংটাং
বইমেলা তুমি ফিরে ফিরে এসো
এই ফেব্রুয়ারীতে, আমিও অপেক্ষায় থাকবো
আগুন ঝরা এই ফাগুনে
তোমার জন্যে শুধু তোমার জন্যে।

তানবীরা
০৮।০১।১০

Wednesday, 30 December 2009

টুকরো টাকরা গল্প ১

আমার মেয়ের মাঝে আমি অনেক সময় বিশাল দর্শন, জ্ঞান - বিজ্ঞানের সন্ধান পাই। অসংখ্য আপাতঃ ছোট খাটো ব্যাপারে ওনার মন্তব্য, ক্রিয়া - বিক্রিয়া দেখে বিশাল মজাও পাই। মা - বাবা আর উনি এ জীবন থেকে যখন আমরা বছরে একবার অনেক লোকজনের দেশ, বাংলাদেশে যাই, আত্মীয় স্বজনের ভিড়ে ওনি কনফিউজড থাকেন। অনেককেই প্রথম দেখে, আবার অনেকের কথা হয়তো মনে থাকে না কিংবা মনে রাখতে পারে না। কিন্তু বুদ্ধির চার্তুয্য খেলেন আমার কন্যা। শাড়ি, কাপড় চোপড় কিংবা চুলের রঙ দেখে ওনি তার সাথে সম্পর্ক ঠিক করেন। একবার আমার এক বেশ মর্ডান চাচী এসেছে আমাদের সাথে দেখা করতে। আমার মেয়ে ওনাকে “খালামনি” বলেছে। আমি তাড়াতাড়ি বল্লাম ওনি “দিদা”। আমার মেয়ে খুবই গম্ভীর গলায় বললো, “দিদা” কি করে হবে? ওতো সালোয়ার কামিজ পরেছে আর দেখোনা চুলটা কেমন কাটা? “দিদা”রাতো এভাবে চুল কাটে না আর এই ডিজাইনের সালোয়ার কামিজও পরে না।

!!!! ডিং ডং

আমার নানুর বয়স হয়েছে। তিনি আর আগের মতো চলাফেরা করতে পারেন না। তাই আমরাই গেলাম আমাদের নানুবাড়ি। আমি - কন্যা - কন্যার পিতা এক বাসায় থাকি এটাই তার কাছে স্বাভাবিক। বাংলাদেশে আসলে সে আমার সাথে বেশি নানার বাড়ি থাকে এটাও সে জানে। মায়ের বাবা মা আছে একটা কষ্টে সিষ্টে সে মেনেও নেয়। আব্বুরও আছে কি আর করা, যাক সেটাও সহ্য করলো। কিন্তু আমার মানে মায়েরও নানা বাড়ি আছে মানে “দিদার”ও মা বাবা আছে, আরো অন্য একটা বাড়ি আছে তাতে সে ভীষন কনফিউজড। “দিদা” থাকবে দিদার বাসায়, তার তিনকূলে কেউ থাকবে না এ হিসাবটাই সোজা আপাত দৃষ্টিতে। মা কখনো ছোট ছিল এটাইতো আজব ব্যাপার তার কাছে, মায়ের ছোট বেলার ছবি দেখলেই সে নানা প্রশ্ন করতে থাকে, “তুমি কেনো ছোট ছিলে”? তুমিতো আম্মি। আম্মি কি করে ছোট হবে? এখন যখন শুনে দিদাও কোন দিন ছোট ছিল, ফ্রক পরে, মাথায় রিবন লাগিয়ে এ বাড়ির ঘরে বাইরে উঠোনে দৌড়াদৌড়ি করেছে, সে তার স্বাভাবিক কল্পনায় তা মানতে পারে না।

আমি শয়তান কিসিমের মানুষ। মানুষকে খোঁচাইয়া বিশাল আনন্দ লাভ করি এটা সত্য কথা। মেয়েকেও না খোঁচাইয়া পারি না। মানুষ অভ্যাসের দাস, আমি তার ব্যতিক্রম না। মেয়েকে তার বাংলা ভাষা জ্ঞান আর উচ্চারনের বহর দিয়া বহুত খোঁচাই। সারা ডাচেরা আমাদের যতো বিরক্ত করেছে, মেয়েকে সে সমাজের প্রতিনিধি ভেবে তার ওপর সেগুলো ঢেলে দেই। মেয়ে যথেষ্ঠ বিরক্ত হয় আমার এহেন হি হি হাসিতে। বলতে থাকে রাগিত মুখে, দুষ্ট আম্মি, দুষ্ট আম্মি। কিন্তু চোরে না শুনে মেয়ের বকা। আমি তাকে আরো বিভ্রান্ত করার জন্য বলতে থাকি, আমার নানুরও আলাদা বাড়ি আছে, সেও ছোট ছিল, তারও বাবা মা আছে। আবার নানুর মায়েরও মা আছেন, তিনিও আবার অন্য বাড়িতে থাকতেন ... আমার মেয়ে টাশকি খেয়ে শূন্য দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। কিছুই বলতে পারে না। সৃষ্টির এই অসীমতায় তার বুদ্ধিলোপ পায়। সে সময় অন্যরা এসে মেয়েকে আমার কাছ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

অনেকদিন ধরে বাইরে আছি, অন্তর্জালেও বিচরন করি বেশ অনেককাল হয়ে গেলো। বিদেশে আসার পর প্রধান যে ব্যাপারটা নিয়ে সবার সাথে বিতর্ক বা আলোচনা হয় সেটা হলো “ধর্ম”। ব্লগগুলো শুরু হওয়ার আগে যখন ভিন্নমত, মুক্তমনা, সদালাপ, সাতরঙ, বাতিঘর কিংবা বাংলার ইসলাম ছিল ঘুরে ফিরে এই নিয়েই আলোচনা আর বিতর্ক হতো। ব্লগ হওয়াতে ভিন্ন ভিন্ন লেখার পড়ার সুযোগ হয়েছে। ব্লগ হোক কিংবা ওয়েবজিন হোক কিছু কিছু লোকের লেখা পড়লে, তাদেরকে আজকাল আমার মেয়ের মতো সাত বছরের শিশু মস্তিকের অধিকারী মনে হয়। যা তার জ্ঞান, কল্পনা কিংবা হিসাবের বাইরে তাইই অবাস্তব। যা তাদের চিন্তা ভাবনার বাইরে তাই অসম্ভব। চিন্তা ভাবনাকে ঐ এক ঘরে বন্দী করে ফেলেছে। কি ধর্ম, কি বিজ্ঞান, কি স্বাধীনতা কিংবা কবি আল মাহমুদ সবই একই বৃত্তে ঘুরে। বানরের থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে মানুষ এসেছে !!! তাই কি হয়? তাহলে হাতি কোইত্থেকে আইলো শুনি? আকাশ মানে শূন্য অসীম, কি করে হবে? মাথা তুলে তাকালেই নীল দেখা যায় না? অসীমতা কল্পনা করা কষ্ট তার চেয়ে সাত আসমানের ধারনাটাই বেশি কাছের। পাঞ্জাবী পায়জামা পরা মানেই খাঁটি মুসলমান, ভালো লোক। তাহলে বন্দুক হাতে নিক না নিক তিনিই মুক্তিযোদ্ধা।

ধন্যবাদ সবাইকে।

তানবীরা
৩০.১২.০৯

Monday, 28 December 2009

ব্যাক্তিগত টুকিটাকি

একটা ব্যাক্তিগত ইমেইল আমার চিন্তার আকাশটাকে আজ কদিন ধরে মেঘাচ্ছন্ন করে রেখেছে। মাঝে মাঝেই মনটা না দেখা সেই মেয়েটার পানে ছুটে যায় আর ভাবে কি করা যায়? মানুষ হিসেবে কি আমার কিছুই করার নেই?

একটি সাধারণ মেইল এসেছে পরিচিত একজনের কাছ থেকে। একটি মেয়ের বিয়ের জন্য সাহায্যের আবেদন জানিয়ে। মেয়েটি সে অর্থে সুশ্রী নয়, পড়াশোনা অনেক বেশি নয়, বয়স প্রায় পঁয়ত্রিশ। সম্প্রতি মেয়েটির বাবা ভাই অতি কষ্টে মেয়েটির জন্য একটি পাত্র যোগাড় করেছেন। পাত্রকে নগদ দুই লক্ষ টাকা, মেয়েটিকে আট ভরি সোনার গহনা আর চারশো বরযাত্রীকে দুই বেলা আপ্যয়ন করতে হবে এই শর্তে। অতি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে এ দুঃসাধ্য। কিন্তু তারা বিয়ের দিনক্ষন ঠিক করে এখন পয়সার সন্ধানে সব জায়গায় হত্যা দিচ্ছেন। চিঠিটিতে আরো একটি ছোট টীকা দেয়া ছিল, “মেয়েটি মাইনোরিটি গ্রুপের”। যিনি মেইলটি করেছেন তিনি জানেন, আমার টাকা পয়সা না থাকলেও আমি আমার ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে এদিক সেদিক বেড়িয়ে পরবো মেয়েটিকে সাহায্যের জন্যে। আর কিছু না পারলেও মানুষের দুয়ারে ধর্ণা দিয়ে পরে থাকতে পারি আর নিজে ছটফট করতে পারি।

কিন্তু যৌতুকের জন্য সাহায্য দিতে বিবেকের কাঁটায় বার বার বিঁধছে। তাহলেতো আমি যৌতুককে প্রশ্রয় দিচ্ছি। এ অন্যায়ে নিজেকে সামিল করতে পারি কি করে? সবকথা আমার নিজের ওপর টেনে ফেলা আমার চিরদিনের অভ্যাস। বারবার মনে হয়, আমার নিজের ছোটবোন হলে কি আমি এতে রাজী হতাম না বাঁধা দিতাম? আর এগুলো পেলেই যে পাত্র পক্ষ এখানে থামবে তার নিশ্চয়তা কি? আমার স্বাভাবিক বোকা বুদ্ধিও বলে এ শুধু শুরু এ কখনই শেষ নয়। যতোই গাছ নুইবে ততই তাকে আরো চাপা হইবে। পুলিশে খবর দিলে ধরিয়ে দিয়েও কি কিছু হবে? পাত্রতো কোন কাগজ়ে সই করেনি। এমনিতেই মেয়েটির বিয়ে হয় না পুলিশের নাম এরমধ্যে যুক্ত হলে বিয়ের সমস্যা আরো বাড়বে। একমাত্র উপায় মেয়েটির স্বাবলম্বী হওয়া। কিন্তু আমি কি করে অচেনা কাউকে সেটা বলতে পারি, তুমি এই জানোয়ারের কাছ থেকে পালাও, নিজে বাঁচো, পরিবারকে বাঁচাও। আবার ভাববে টাকা পয়সা দিবে না কিছু শুধু বড় বড় কথা। আমি ইমেইল প্রেরককে আমার মতামত জানাতেই সে তুরন্ত উত্তর দিল, আপা মাইনোরিটি কি করবেন, কন?

এ জায়গায় ধৈর্য্য রাখা মুশকিল। এটি একটি সামাজিক সমস্যা যেটা দক্ষিন এশিয়াতে ক্যান্সার রূপে সমাজকে খাচ্ছে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানে মারাত্বক রকমে এই রোগটি ছড়িয়ে আছে। উইপোকার মতো সমস্ত কাঠ খেয়ে নিচ্ছে। সর্বরকম মুখোশের আড়ালে আছে, সব শ্রেনীতে বিদ্যমান। কোথাও দুই লাখ টাকা রুপে, কোথাও এ্যামেরিকা যাওয়ার গ্রীন কার্ড, কোথাও ব্যবসার অংশিদ্বারিত্ব পাকা করা, কোথাও বা ফ্ল্যাট রূপ ধারন করে। এর সাথে কেনো ধর্মের কথা আসে? এ জায়গায় একজন সংখ্যাগুরুর পরিবারওতো সমান অসহায়। সংখ্যাগরিষ্ঠরা কি কন্যা দায়গ্রস্ত হন না? সৃষ্টির আদিকাল থেকে মেয়েরা শুধু মেয়েই। তাদের ধর্ম নেই, জাত নেই, সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নেই। তারা পন্য। ইভ টিজিং কিংবা অন্যান্য অপমানে একজন রূমি, একজন শিউলি, একজন শাজনীন যখন মারা যান তখন ধর্মের তকমা কোন কাজেই আসে না। মেয়েরা এমন বস্তু যে তারা নিজ গৃহে থেকে বাবা ভাইয়ের সামনেও তাদের অসহায়ত্বের কারনে মারা যেতে পারেন, ধর্মকে পরিহাস করতে করতে।
যৌতুকের সমস্যা উপমহাদেশীয় সমস্যা, সামাজিক ব্যাধি যার সাথে “ধর্ম”কে যোগ করা বাতুলতা মাত্র। একজন মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রীষ্টান পাত্র সমান পাষন্ড এ জায়গায়। অবস্থার সুযোগ নিতে কেউ পিছপা হয় না। আমি এই উত্তর দেয়ার পর আর কোন জবাব আসেনি। আমি জানি পছন্দ হওয়ার মতো কিছু হয়তো আমি বলিনি। কিন্তু আমার মনের সত্য থেকে আমি পিছু হটবো কেমন করে? এই ছেলেটি নিঃস্বার্থভাবে ঐ অসহায় পরিবারটিকে সাহায্য করতে নেমেছে, সেও ঠিক আছে। কিন্তু তার নিজের কাছে আগে নিজেকে পরিস্কার হতে হবে। সে কি একটি অসহায় পরিবারকে মানবিক কারনে সাহায্য করছে না একজন সংখ্যালঘু পরিবারকে করুণা করছে? সাহায্য আর করুণা আমার কাছে দুটো আলাদা ব্যাপার।

সুশীল সাজতে ইচ্ছে করে না। দু - পাঁচ হাজার টাকা সাহায্য দিয়ে মানসিক আনন্দ নিতে পারতাম কারো জন্য খুব বড় একটা কিছু করা হয়েছে এই ভেবে। আত্মপ্রসাদের ঢেকুর তুলে ঘুমাতেও যেতে পারতাম হয়তো। কিন্তু বার বার অদেখা অচেনা দুটো জল ভরা চোখ মনের ভিতটাকে দুলিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে আমি দূর থেকে বিনে পয়সার উপদেশ বিতরন করলাম ঠিকাছে কিন্তু মেয়েটার কি গতি হলো শেষ পর্যন্ত? ওর পরিবার কি সিদ্ধান্ত নিল? পারলো এতো টাকার যোগাড় দিতে নাকি বিয়েটা ভেঙ্গে গেলো? মেয়েটা কিভাবে নিবে তার পরবর্তী জীবনটাকে। জানার কোন উপায় নেই কিন্তু অচেনা মেয়েটার কথা বড্ড জানতে ইচ্ছে করে।

তানবীরা
২৮.১২.০৯

Wednesday, 23 December 2009

কাছের মানুষ দূরের মানুষ

দিনকে দিন যেনো সময় কমে আসছে। কথাটা কি ঠিক? না ঠিক নয়। সময় প্রত্যেকের জন্য সমান চব্বিশ ঘন্টা। আমরা আমাদের পছন্দের কাজ করতে করতে গুরূত্বপূর্ন জিনিসের জন্য সময় বের করতে পারি না। কিন্তু দোষ দেই সময় ব্যাটার ঘাড়ে। বই পড়া একসময় নেশার মতো ছিল। অফিসেও বকা খেয়েছি বই পড়ার জন্য। বাংলা বই পড়তেই বেশি ভালো লাগে। খুব ভালো বিখ্যাত কিংবা আলোচনাকারী বই না হলে ইংরেজী কিংবা ডাচ বই পড়ি না। মাতৃভাষাটাই কাছের মনে হয়।

আজকাল বইয়ের পাহাড় জমে যাচ্ছে বাসায়। পড়া হচ্ছে না কিন্তু কিনে স্তুপ করে ফেলছি একদিন সময় হবে, তখন পড়া হবে সে আশায়। এখন মনে হচ্ছে আসলেই কি একদিন পড়া হবে? সে একদিনটা কবে আসবে, কোনদিন? নিজের জন্য মূলত সময় পাই রাত নয়টার পরে, মেয়েকে শুইয়ে দিয়ে। আগে সে সময়টায় বই নিয়ে সোফায় কাত হতাম, কিংবা সিনেমা দেখতাম অথবা কাউকে ফোন দিতাম। আজকাল এর কিছুই করা হয় না। অন্তর্জাল জীবনকে ঝালা ঝালা করে ফেলছে। সিনেমা দেখি না ধরতে গেলে বহুদিন। পারতে কাউকে ফোন দিই না, মনমতো কেউ না হলে অন্যের ফোনেও চরম বিরক্ত হই। এ সময়টা আমার একান্ত নিজস্ব। কারো প্রবেশ নিষেধ এই দু - তিন ঘন্টা। সারাদিন অনেক কম্প্রোমাইজ দেই, তাই একান্ত সময়ে আর কোন সমঝোতা নয়।

ব্লগ নিয়ে পরে থাকি। ব্লগ পড়তে খুব ভালো লাগে। ব্লগ পড়া, ফাকে ফাকে জিটক কিংবা ফেসবুক। এইকরে সাড়ে এগারো বারোটা তারপর আবার হাই তুলতে তুলতে বিছানায় যাওয়া। তাহলে বই পড়বো কখন? বইগুলো মুখ কালো করে অভিমানের দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে টেবলের ওপর দিনের পর দিন পরে থাকে আধ পড়া। কখনো অন্যজন ড্রাইভ করলে লং ড্রাইভে বই পড়ি আজকাল। জিপিএস এর কল্যানে আজকাল আর ম্যাপ রীডআউট করতে হয় না। আগে ভালো সিডি জমিয়ে রাখতাম, লং ড্রাইভে শুনবো বলে এখন আমার বইও সে অবস্থায় চলে গেছে। অনেক সময় বেশ কয়েক সপ্তাহ কোথাও বের না হওয়া হলে কি পড়েছিলাম সেটাও ভুলে যাই। আবার আগের থেকে শুরু করি। সোজা বাংলায় বৃত্তের মধ্যে পরিক্রমা করি।

কিন্তু বই দেখলে ঠিক থাকতে পারি না। দেশ থেকে আসার সময় শুধু এই বই জিনিসটা স্যুটকেসকে ওভারওয়েট করিয়ে দেয়। বইয়ের প্রচ্ছদ, গন্ধ সবই মনকে মাতাল করে। তাহলে কি বইয়ের লেখকরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন বলে আর ব্লগ লেখকরা কাছের লোক বলে ব্লগটাই বইকে ছাঁপিয়ে উঠছে আজকাল আমার কাছে? এক সময় মঞ্চ নাটক করতাম বেশ। জনগনের সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাবার একটা নেশাও আছে। সরাসরি লেখকের কাছে থাকতে পারি বলেই কি ব্লগ আকর্ষনীয়? নাকি অনেক অনেক ব্লগ লেখকের লেখার মধ্যে নিজেকে ঘুরে ফিরে দেখতে পাই বলে এটা হচ্ছে? কাছের মানুষ আর দূরের মানুষের খেলার মধ্যে আছি কি?

তানবীরা
২৩.১২.০৯

Tuesday, 15 December 2009

একজন সুবিধাবাদিনীর পক্ষ থেকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা

অফিসে অসম্ভব ব্যস্ত আর বিভিন্ন কারনে মানসিকভাবে পর্যুদস্ত। বেশি ব্যস্ত থাকলে যা হয় কাজ হয় না বেশি কিন্তু ব্যস্ত ব্যস্ত ভাব নিয়ে সারাক্ষন একটা অকারণ টেনশান হতে থাকে। বিভিন্ন কারনে অকারনে বিভিন্ন ওয়েবগুলোতে বেশি ক্লিক করা হয়। মন বসাতে পারি না, কি করলে ভালো লাগতো তাও জানি না। জীবন সব সময় এক রকম থাকে না জানি, কিন্তু যা যা জানি তাও সব সময় মন থেকে মেনে নিতে পারি না। মেনে নেয়ার ক্ষমতা নিয়ে আমি পৃথিবীতে আসিনি যদিও জানি তার সাথে আজ এটাও জানি একদিন সব দুঃখ কষ্ট সয়ে যাবে। মাঝখানে কটা দিন রক্তক্ষরণ হবে শুধু। কালরাত থেকে বিভিন্ন ব্লগে বিজয় দিবসের ওপর লেখা পড়ে যাচ্ছিলাম। সবাই যুদ্ধপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার। বর্তমান সরকার এ প্রতিশ্রুতি দিয়েই তরুন সমাজের ভোট বাগিয়েছেন। মনটা সেই নিয়েও ভাবছে। আসলে কি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে নাকি এজীবনে বিচার দেখে যেতে পারবো না।

আজকে এক কলিগের জন্মদিন ছিল। সে সকালে অফিসে “কফিব্রেড” নিয়ে এসেছে সবার জন্যে। খেতে বেশ ভালো অনেকটা আমাদের দেশের চালের গুড়ো আর গুড় দিয়ে বানানো পিঠার মতো। আমাদের কুমিল্লার ভাষায় বলে, “তেলের পিঠা”। রস থেকে পিঠা গুলো তুলে রাখলে যেমন পিঠার সারা গায়ে সাদা শুকনো চিনির গুড়ার মাখামাখি থাকে এ পিঠাতেও ঠিক তাই। “কফিব্রেড” হাতে নিয়ে মন উড়ে যায় ............। এখন শীতের সময়। সারা দেশ জুড়ে পিঠা খাওয়ার ধুম। মাইনাস ঠান্ডায় কৃত্রিমভাবে গরম করে রাখা অফিসঘরটিতে বসে ঢাকার ফুটপাতের পাশে বসে কোন এক রিক্সাচালক রঙ চঙে মাফলার সারা মুখে মাথায় জড়িয়ে হয়তো প্লাষ্টিকের ছোট প্লেটে ভাঁপা পিঠা খাচ্ছেন ভেবে দুচোখ ভিজে উঠলো। মন খারাপ থাকলে আমার এমনই হয়। সারাক্ষন যা মনে পড়ে তাতেই চোখ ভিজে যায়। কেউ তাকালে বলি, “সর্দি”। ভাবনা এখন রিক্সাচালক ছাড়িয়ে আমার বাড়ির উঠোনে।

আগে শীতের দিনে পিঠা দেখলে বরং বিরক্তই হতাম। কিন্তু এখন সমানে চোখের সামনে ভেসে যাচ্ছে আমার মেয়ের গালের মতো ফোলা ফোলা দুধ সাদা চিতোই পিঠা, নারকেল আর গুড় জর্জরিত ভাঁপা পিঠা, ছিটা পিঠা, কুৎসিত কদাকার মেরা পিঠা। যেটা দেখা মাত্র পিত্তি জ্বলে যেতো। এগুলো ভাবতে ভাবতেই লক্ষ্য করলাম আগের মতো বুকটা ফেটে চৌচির হচ্ছে না। বরং কলিগ যখন বললো, অনেক “কফিব্রেড” বেঁচে গেছে আরো কেউ নিতে চাইলে নিতে পারো। আমি যেয়ে আবার আর একটা ব্রেড নিলাম আর বেশ আনন্দের সাথেই খেলাম। দেশে কথা হলে যখন শুনি ওরা ভালো মন্দ খাচ্ছে আগের মতো বুকটা চৌচির হয় না, সামান্য একটু ব্যথা হয়েই থেমে যায়। সেদিন একজন ফোন করল বাংলাদেশে যাচ্ছে ছুটিতে তাই বিদায় নিতে। সেদিন সারাদিন আমার বালুশাই খেতে এমন ইচ্ছে করছিল যে, আমি ওকে বল্লাম “রস” নয়তো “সর” থেকে বালুশাই আনবে আমার জন্যে। আর ভাবলাম দেশে যেয়ে এবার এই মিষ্টি বানানোটা হাতে নাতে শিখে আসবো। কিন্তু রাতে শুয়ে মনে হলো, আজকাল এয়ার লাইন্সের যা অবস্থা, ধুত বেচারা লজ্জায় হয়তো কিছু বলতে পারেনি কিন্তু তাকে এ বেকায়দায় না ফেললেও চলতো। এখন দেশীয় জিনিসের আকাঙ্খা সহ্য সীমার মধ্যে এসে পড়েছে, এ কিসের লক্ষন ?

আজকাল কেমন যেনো নিজেকে অপাক্তেয় লাগে। বোধ হয় কোথাও আমার বাড়ি নেই ঘর নেই। এ মিছেই পথ চলা। যার কিছুই হয়তো সত্য নয়। বাংলাদেশে গেলে সব কিছুতেই প্রচুর শব্দ লাগে। মনে হয় সবাই অকারনে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে কথা বলে। অনেক বেশী কথা বলে, মানুষের ভীড় বেশী। নেদারল্যান্ডসের নিজের বাড়ির একলা কোনটাকে তখন আবার খুব চাই। অথচ এক সময় এখানের এই মৃত্যুশীতল নীরবতা বুকে পাথর হয়ে চেপে থাকতো, কতোদিন মনে হয়েছে, এখুনি আমি দম আটকে মরে যাবো। মরার হাত থেকে বাঁচার জন্য জোরে টিভি চালিয়ে রাখতাম সারাদিন। একটা সময়ের পর ঢাকার যানজট অসহ্য লাগতে থাকে, মনে হয় কখন ফিরে যাবো ঐপারে? অসু্খ হয় নির্ঘাত দেশে যাওয়ার পরপরই। ডাক্তার আর ওষুধের বাহার দেখলে মনে হয় ফিরে যাই নেদারল্যান্ডস। পানি খাওয়ার সমস্যা, যেখানে সেখানে কার্ডে পে করার সমস্যা, ব্যাগে টাকা নিলে ছিনতাইয়ের সমস্যা, আবার জিনিসপত্র আকাশছোয়া দাম, মেয়েদের টয়লেটের সমস্যা ক্লান্ত মনটা তখন বলতে থাকে, ভালো লাগে না এবার ফিরে যাই। আবার বিজয় দিবসের ঢাকাকে কল্পনা করে, পহেলা ফাল্গুনের ঢাকাকে কল্পনা করে, একুশের ঢাকাকে কল্পনা করে কিংবা পহেলা বৈশাখের ঢাকাকে কল্পনা করে চোখের পানি ফেলি। তখন ইচ্ছে করে সব ছেড়ে ছুড়ে ফেলে ঢাকা চলে যাই, যা হয় হোক। মায়ের হাতের রান্না, যত্ন সবকিছুর জন্যই মন ব্যাকুল থাকে।

তারমানে আমি সব জায়গার ভালোটা চাই, খারাপের সাথে থাকতে চাই না। আগে ঢাকা গেলে যখন বেশ অসুস্থ হতাম তখন আমার প্রাক্তন বস একবার বলেছিল, তুমি নিজেকে অনেক জোর করো তানবীরা। তুমি চাও বা নাও তুমি এখানে থাকতে থাকতে এখানের জল - হাওয়াতে অভ্যস্ত হয়ে গেছো। এখন দেশে যেয়ে তোমার অনভ্যস্ত সিস্টেমকে যখন হঠাৎ অনেক জোর দাও, তারা নিতে পারে না তুমি অসুস্থ হয়ে পরো। তখন আমার দেশপ্রেম তুঙ্গে থাকাতে বসের সাথে জোর গলায় বলেছি, কখনোই না, যেখানেই থাকি বাংলাদেশি আছি তাই থাকবো চিরকাল। আজকাল একটা অশুভ সত্যি চোরাগুপ্তা উঁকি দেয় আমার মনে, সে কি ঠিক বলেছিল নাকি সেদিন? বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে যখন সবকটি ব্লগে তুমুল লেখালেখি চলছে তখন আমি ভাবছি, “তাহলে কি আমার দেশপ্রেম সত্যিই কমে গেছে”? আমি কি তাহলে এতোদিনে সত্যি সত্যি সভ্য সমাজের সুশীল তৈরি হলাম?

এ সত্যটাও মানতে পারছি না।

তানবীরা
১৬.১২.০৯