Sunday, 17 October 2021

জ্বলো বাংলা জ্বলো

দূর্গাপূজায় আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, খাওয়াদাওয়া বাড়িটা একদম গমগম করতে থাকে। আজ কি হচ্ছে জানতে বাড়িতে ফোন করলো সুইডেন প্রবাসী সুধীর। বরাবরের মত বছরকায় একবার পিসি এসেছে বাপের বাড়ি ছেলেপুলে নিয়ে, কিন্তু বাড়ি বেশ নিঃশব্দ। প্রতিবেশীদের আনাগোনা নেই, নেই ঢাকের শব্দ, হাসির হুল্লোড় কিংবা সন্দেশ-বাতাসা নিয়ে হুটোপুটির আওয়াজ। বরং ফিসফিস কেমন যেনো আতংকে সবাই। পিসিকে জিজ্ঞেস করলো, আদরযত্ন হচ্ছে না পিসিমনি? এত মনমরা কেন? ভাইপো’র আদরের ডাকে পিসি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না, কেঁদেই ফেললো, চারদিকে কি হচ্ছে, শুনছিসতো সুধীর। নিজের জন্যে ভয় পাই না, ভয় পাই ছেলেমেয়েদের নিয়ে। কি হবে আমাদের এই দেশে? সুধীর কি বলে পিসিকে সান্ত্বনা দেবে, কোন আশার বাণী খুঁজে পেলো না। দেশের এই পরিস্থিতি, পুরো পরিবার ওখানে, আতংকে সুধীরের এই প্রবাসের পূজোর মন নষ্ট হয়ে গেলো। পিসির বাড়ির কত স্মৃতি। আদর করে কোলে বসিয়ে কৈ মাছ বেছে বেছে তাকে খাইয়ে দিয়েছে। পিসতুতো ভাই সমীরের সাথে কথা বললো ম্যসেঞ্জারে। কিছু টুকটাক পার্সোন্যাল ইনফরমেশান নিলো। একটা সেমিনারের দাওয়ার পাঠানোর চেষ্টা করবে বললো সুধীর। ছয় মাস পর সমীর সুইডেনের কুপে বাজার করতে যেয়ে দেখে তাদের পাড়ার কাসেম আলীও সেখানে। এই প্রবাসে পরিচিত মুখ দেখে দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে কুশলাদি বিনিময় করলো। অনেক কথা, শেষই হচ্ছে না। সমীরকে আবার দুপুর তিনটা থেকে রেস্টুরেন্টে যেতে হবে, এ সপ্তাহে তার শিফট শুরু হবে তিনটা থেকে। সমীর বললো, কাসেম ভাই, আপনার বাসার ঠিকানা দেন, ছুটির দিনে আমি চলে আসবো, জমিয়ে আড্ডা দেবো। কাসেম একটু চুপ থেকে বললো, তুমি আমাকে আর কাসেম ভাই বলো না। এখন আমার নাম, কমলেশ সাহা, তুমি এখন থেকে আমাকে কমল দাদা বলে ডাকবা। আর্শ্চয হয়ে সমীর বললো, এটা কি করে সম্ভব? কেন? কি ঘটনা। এদিক ওদিক দেখে নিয়ে কাসেম গলা খুব নামিয়ে বললো, সেই দূর্গাপূজার কথা মনে আছে তোমার? ঐ যে কয়েকজন হিন্দু খুন হলো, মেয়েরা নির্যাতিত হলো, গ্রামের পর গ্রাম লুটপাট করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হলো? ম্লান হেসে সমীর বললো, মনে রেখেই আর কি কাসেম ভাই? কেউ তো আটকাতে এগিয়ে এলো না। কাসেম, আমরা কি করতাম কও? আমাদের কথা কেউ কি শুনতো? যাক, যা বলছিলাম, এরপর কিছু হিন্দু বাংলাদেশ ছেড়ে ইউরোপের নানাদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে চলে গেলো। আমাদেরতো জানোই সংসারের অবস্থা। আব্বায় কইলো, হিন্দু কোটায় তুইও চইলা যা, আল্লাহর যা মর্জি। দালাল ধইরা আমার নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম হিন্দু পরিচয় দিয়া পাসপোর্ট বানাইয়া, আমিও সুইডেনে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলাম, এখন কেইস কোর্টে আছে, দেশের যা পরিস্থিতি আশাকরি শীঘ্রই স্টে অর্ডার পাইয়া যামু। সমীর বললো, তোমরা না সবাই, শুক্রবার শুক্রবার জুম্মায়, হিন্দুদের কাফির বলে গালাগালি করতে, বেদাত বলে গালি দিতে, এখন এসব, হুজুর জানে? কাসেম খিকখিক হেসে বললো, আব্বা হুজুরের সাথে আলাপ করার পরই আমাকে কইলো। আর আসার দিন হুজুরও কইলো, আমার কাগজপত্র সেট হইয়া গেলেই, হুজুরের ছেলের জন্যে চেষ্টা করতে। বিপদে মিথ্যা কথা কওয়া জায়েজ আছে, আল্লাহ মাফ কইরা দেয়। আচ্ছা, আজকে যাই, আমাকেও কাজে যেতে হবে। বাসায় কিন্তু আইসো হতভম্ব হয়ে সমীর কাসেমের চলে যাওয়া দেখতে থাকলো। ১৭/১০/২০২১

Tuesday, 5 October 2021

22nd July

বাইশে জুলাই, দুই হাজার এগারো, নরওয়েতে সন্ত্রাসী হামলায় উনসত্তর জন বাচ্চা আর আটজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষ নিহত হয় আর আহত হয় দুশোর ওপরে। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে জরুরী মীটিং ডাকেন তৎকালীন প্রাইম মিনিস্টার ইয়েন্স স্টুলতেনবার্গ, তাদের জিজ্ঞেস করেন, এটা কি করে হতে পারে?! আগে থেকে কেউ কিছু জানতে পারেনি? আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জবাব দিয়েছে, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি কিন্তু সব ঠেকানো হয়ত সম্ভব নয়। প্রাইম মিনিস্টার ইয়েন্স স্টুলতেনবার্গঃ কেন ঠেকানো সম্ভব হলো না সেটার ওপর আমি পরিপূর্ণ তদন্ত এবং তার রিপোর্ট চাই। মনক্ষুন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রাইম মিনিস্টার ইয়েন্স স্টুলতেনবার্গঃ শুধুমাত্র এর মাধ্যমেই আমরা পরের বারের বিপদগুলো অতিক্রম করতে পারবো। গতবার নরওয়ে ঘুরে এত ভাল লেগেছিলো, এ বছরের গরমের ছুটিতেও দশ দিন নরওয়ে ছিলাম বন্ধুর বাড়ি। প্রচুর পাব্লিক ট্রান্সপোর্টে ঘুরেছি। বারবার আমি আর মেঘ বলেছি, বাস ড্রাইভাররা কি আন্তরিক আর ভদ্র। ইউরোপ যদি ভদ্র হয় তাহলে নর্ডিক হলো সভ্য, ওয়ান স্টেপ এহেড। সাতাত্তর জন মানুষ তাও এলিট ক্লাশের, যাদেরকে দিন দুপুরে ঠান্ডা মাথায় খুন করে দিয়েছে, সেই খুনীর মানবাধিকার রক্ষায় প্রশাসন থেকে আদালত যে পরিমান তৎপর, তখন বলতে ইচ্ছে হয়, ইটস কিলিং। হ্যাভ মার্সি অন দিজ সেভেনটি সেভেন ফ্যামিলিজ। জনগনকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রাইম মিনিস্টার ইয়েন্স স্টুলতেনবার্গকে ট্রায়ালের সম্মুখীন হতে হয়। এত গোলা বারুদ দেশের ভেতরে আসলো, তিনি কি করে জানলেন না ইত্যাদি নিয়ে তাকেও জবাবদিহি করতে হয়েছে। প্রাইম মিনিস্টার ইয়েন্স স্টুলতেনবার্গ যখন নিহতদের পরিবারদেরকে ডেকে তাদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থণা করছিলেন, তখন কান্না থামানো দুঃস্কর ছিলো। “আমি পারিনি, ব্যর্থ হয়েছি” বলা খুব সহজ ব্যাপার নয়। নওরোজিয়ান সাংবাদিক ও লেখক Åsne Seierstad এর লেখা বই, “One of Us: The Story of a Massacre in Norway — and Its Aftermath” এর ওপর ভিত্তি করে পল গ্রীনগ্রাস চিত্রনাট্য তৈরী এবং সিনেমাটি পরিচালনা করেন। সিনেমাটিকে খুব কমই সিনেমা মনে হয়েছে। ক্যাপ্টেন ফিলিপ্স, ব্লাডি সানডে, ওমেঘ যারা দেখেছেন তারা জানেন পল গ্রীনগ্রাস কি করে বাস্তবতাকে তার সিনেমায় ফুটিয়ে তুলতে পারেন। এন্ডার্স ড্যানিয়েলসন ব্রেইভিকের চরিত্রে অনন্য অভিনয় করেছেন। সিনেমার সবচেয়ে বলিষ্ঠ চরিত্র ছিলো, গেইর লিপেস্টাড। একজন কর্তব্যনিষ্ঠ ইউরোপীয়ানের ভূমিকাটি তিনি সততার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন। ভেতরে প্রচুর ঘৃণা, সন্ত্রাসবাদের বিপক্ষে তার অবস্থান, তা সত্বেও পেশাগত দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন, ব্যক্তিগত অনুভূতিকে সেখানে প্রশয় দেননি। যদিও এই কারণে তার সন্তানকে স্কুল থেকে রেস্ট্রিকটেড করে দেয়া হয়েছে যেটা মেনে নিয়েই তিনি তার দায়িত্বটুকু শেষ অব্ধি পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনের শেষে তিনি তার ক্লায়েন্টের সাথে হাত মেলাতে পর্যন্ত অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। উতোয়া সামার ক্যাম্পিং এ যেয়ে হাইস্কুলের উনসত্তরটা বাচ্চার মৃত্যু, মেনে নেয়া অসম্ভব, নরওয়েবাসী কোন প্রাণে সহ্য করেছে কে জানে। সন্ত্রাসীরা চায় ভিন্ন মতালম্বীদের মৃত্যু, তারা শুধু মতবাদ দেখে, জলজ্যান্ত মানুষ দেখে না। সন্ত্রাস নিপাত যাক মানবতা মুক্তি পাক দুই হাজার আঠারতে রিলিজড এই সিনেমাটি আগ্রহীরা নেটফ্লিক্সে দেখে নিতে পারেন।
তানবীরা হোসেন ০৪/১০/২০২১

Friday, 24 September 2021

নারীর প্রতি সহিংসতা - রুপালী পর্দায়

নারীর প্রতি সহিংসতা - রুপালী পর্দায় পুরুষতান্ত্রিক এই পৃথিবীতে “নারীর প্রতি সহিংসতা” একটি বৈশ্বিক বিষয়। আর এই সহিংসতার সিংহভাগ ঘটে পরিবারে, যার গাল ভরা ইংরেজি টার্ম হলো “ডমেস্টিক ভায়োলেন্স”। পৃথিবীর খুব কম জায়গা হয়তো আছে যেখানে নারীরা নিজ পরিবারেই সহিংসতার শিকার হন না। প্রায় সারা বিশ্ব জুড়েই “ডমেস্টিক ভায়োলেন্স” থেকে নারীদের রক্ষার্থে কিছু আইন প্রণয়ন করা হয়েছে তাতে পশ্চিমে সহিংসতা কিছুটা কমেছে বটে, পুরোপুরি মুছে কিন্তু যায়নি। ভারতবর্ষ, আরববিশ্ব কিংবা প্রাচ্যের কথাতো বলাই বাহুল্য। নারী নির্যাতনকে সেখানে সামাজিক, পারিবারিক অধিকার হিসেবে দেখা হয়। বেশীরভাগ সময় প্রাচ্যের সামাজিক পরিবেশও কাজ করে নারীর বিপক্ষে। গুগল করলে বিশ্বের যেকোন দেশের পরিসংখ্যান বলে দেবে এই হার কি মারাত্বক। করোনার সময় লকডাউনে বারবার খবরের শিরোনাম হয়েছে “পারিবারিক সহিংসতার উর্ধ্বগতি”। খবরের কাগজের পাতা থেকে বইয়ের মলাট বেয়ে রূপালী পর্দায় সেসবের কিছু ঝলক কখনো উঠে আসে বইকি। এই লেখায় উল্লেখ করা প্রায় সবগুলো সিরিজ ও সিনেমা সত্য ঘটনার ওপরে ভিত্তি করে নির্মিত। এপল টিভির তৈরী করা সিরিজ “তেহরান” বেশ জনপ্রিয়। কাহিনী মূলতঃ ইস্রায়েল আর ইরানের ভেতরের দ্বন্দ্ব। দু দেশই দু দেশের ওপর কর্তৃত্ব বজায় রাখতে চায় আর তার জন্যে শক্তিশালী গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ও যন্ত্রপাতি কিংবা প্রযুক্তি দু দেশেরই আছে। কোন দেশের গোয়েন্দা কতটা দক্ষতার সাথে অন্যের নেটওয়ার্কে ঢুকে যেতে পারে তার ওপর ভিত্তি করে এই গল্প। পেশাগত জীবনের জন্যে তাদের পারিবারিক জীবনে কি মূল্য দিতে হয় সেটিও দেখানো হয়েছে। এই ইতিহাস যেহেতু জানা, গল্প আর মেকিং যাকে বলে দূর্দান্ত। রাজনৈতিক আর সামাজিকতা বাদেও দুই দেশের নাগরিকরা কীভাবে নিজেদের মূল্যায়ন করে সেই ব্যাপারেও খানিকটা দৃষ্টিপাত করা হয়েছে। মজার বিষয় হচ্ছে, “তেহরান” নাম হলেও এই সিরিজের শ্যুটিং ইরানে করা হয়নি। শ্যুটিং করা হয়েছে গ্রীসের রাজধানী এথেন্সে। যদিও “তেহরান” সিরিজটা ইসরায়েলিদের নির্মিত, তবুও তারা নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেছে পুরো সিরিজ জুড়েই। অবশ্য নিজেদের বানানো গল্পে কতটুকুই বা নিরপেক্ষ থাকা সম্ভব! পুরো সিরিজ জুড়ে ছিলো টান টান উত্তেজনা। ইস্রায়েলি অভিনেত্রী নিভ সুলতান যিনি সিরিজে “তামর” চরিত্রটি করেছেন তার “ত্রুটিবিহীন" কাজের জন্য বিশ্বে পরিচিত। সিরিজটি মূলত পার্সিয়ান এবং হিব্রু ভাষায় নির্মিত তবে এপল কিনে নিয়ে এতে ইংলিশ সাবটাইটেল যোগ করেছে। দ্বিতীয় সিজনের কাজ চলছে। তবে মধ্যপ্রাচ্য সমস্যার ওপর কিংবা বলা চলে চলমান সন্ত্রাসী হামলাগুলোর মূল কারণ অনুসন্ধানে আজ অব্ধি সবচেয়ে ভাল সিরিজ, নেটফ্লিক্সের তৈরী “খেলাফত”। এটি অবশ্য সত্যি ঘটনার ওপর ভিত্তি করে বানানো, বেথনাল গ্রীন ট্রিও, লন্ডনেরর হাই স্কুলে পড়া তিন উঠতি বয়সী কিশোরীদের গল্প, দুই হাজার পনেরোর ফেব্রুয়ারীতে যারা ইসলামিক স্টেট তৈরী করার পরিকল্পনাকারী জিহাদীদের খপ্পরে পরে। স্কুল বালিকা সুলেইকা আর লিসাকে কাজে লাগিয়ে জঙ্গীরা হামলা করতে চায়। সুইডিশ গোয়েন্দা ফাতিমা, সিরিয়ান বংশোদ্ভূত সুইডিশ নারী পারভিন যে ইসলামিক স্টেটে জঙ্গী স্বামীর গৃহে অনেকটা বন্দী আছে তাকে কাজে লাগিয়ে তাদের রক্ষা করা সহ, হামলা আটকাতে চায়, যার বিনিময়ে পারভিনকে সুইডেনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সওদা হয়। পারভিন কি ফিরতে পেরেছিলো সুইডেন? উইলিয়াম বেরমানের তৈরী সুইডিশ টিভির প্রযোজনায় এই সিরিজটিতে উঠে এসেছে, ইসলামী উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ, মুসলমানদের মধ্যে উত্তেজনা, নারীর অধিকার এবং মানবাধিকার। এসটিভিত প্লে লিস্টে এটিই আজ অব্ধি সবচেয়ে বেশি দেখা অনুষ্ঠান। ইসলামিক স্টেট দেখাতে এটার শ্যুটিং করা হয়েছে জর্ডানে। মুসলিম বিশ্বে নারীর প্রতি সহিংসতার একটি প্রামান্য দলিল হিসেবেও এই সিরিজটির ভূমিকা অসীম। নারীর ওপর সহিংসতায় মুসলিম তথা এশিয়ানদের কেউ বেট করতে পারবে না। সত্য ঘটনা অবলম্বনে ফরাসী-ইরানিয়ান সাংবাদিক ফ্রিদো সাহেবজামের লেখা উপন্যাস “লা ফেমে লাপিডে” প্রকাশিত হয়েছে উনিশো নব্বই সালে যা ইরানে আজও নিষিদ্ধ। এই উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে দুইহাজার আট সালে পার্সিয়ান ভাষায় বানানো সিনেমা, “দ্য স্টোনিং অফ সুরাইয়া এম" পরিচালনা করেছেন ইরানিয়ান বংশোদ্ভুত আমেরিকান সাইরাস নৌরাস্তা। টরেন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এটি “ডিরেক্টরস চয়েস” এওয়ার্ড জেতে। জীবনে দাগ কেটে যাবে এমন এক সিনেমার নাম “দ্য স্টোনিং অফ সুরাইয়া এম"। নামেই সিনেমার ঘটনা কিছুটা আন্দাজ করা যায়। সুরাইয়ার অত্যাচারী স্বামী আলী, গ্রামের চৌদ্দ বছর বয়সী এক মেয়েকে বিয়ে করতে মনস্থ করে। সুরাইয়াকে তালাক দিয়ে নিজের পথ থেকে সরাতে সে গ্রামের মৌলভীদের সাহায্য নিয়ে একটি ষড়যন্ত্রের নাটক রচনা করে। সুরাইয়া মারা গেলে, দুই পুত্রের খরচ দেয়ার হাত থেকে আলী বেঁচে যাবে তাই সুরাইয়াকে অপবাদ দিয়ে গ্রাম্য সালিশে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করা হয়। ইরানী বংশোদ্ভূত এমেরিকান অভিনেত্রী মোজহান মার্নো সুরাইয়ার ভূমিকায় অভিনয় করেছে। শেষ দৃশ্যে মাটিতে অর্ধেক পোতা সুরাইয়াকে পাথর মারার সেই রক্তাক্ত দৃশ্য সহ্য করা কঠিন। “তেহরান”র হাইটেক চমকধামক আর লীডিং নারী চরিত্র দেখে “দ্য স্টোনিং অফ সুরাইয়া এম" এর সময় থেকে ইরানের বাস্তবতা পরিবর্তন হয়েছে মনে করা হবে বিরাট ভুল। সাতচল্লিশ বছর বয়সী ইরানী চলচ্চিত্র পরিচালক বাবাক খোরামদিন, লন্ডনে থাকতেন তিনি, পশ্চিম তেহরানের একবাতান নামে একটি এলাকায় তার টুকরো করা দেহ পাওয়া গিয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তার বাবা-মা জানিয়েছে তারা তাকে হত্যার পর মৃতদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে আবর্জনার স্তূপে ফেলে দিয়েছিলেন। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক এবং ইরান ইন্টারন্যাশনাল টিভির সম্পাদক জ্যাসন ব্রডস্কি দ্য ডেইলি মেইলকে বলেন, ‘ইরানে পারিবারিক সহিংসতার যে সুদীর্ঘ প্যাটার্ন আমরা দেখে আসছি, আমার ধারণা, বাবাক খোরামদিনের ভয়ঙ্কর মৃত্যু সেটির স্রেফ একটি সাম্প্রতিকতম উদাহরণ।’ তিনি বলেন, ‘সমকামিতার দায়ে পরিবারের হাতে খুন হওয়া আলি ফাজেলি মনফারেদের মর্মান্তিক মৃত্যুসংবাদের রেশ ধরেই আমরা বাবাকের মৃত্যুর কথা জানলাম। গত বছর অনার কিলিংয়ের নামে বাবার হাতে শিরচ্ছেদের মাধ্যমে খুন হওয়া ১৪ বছর বয়সী কিশোরী রোমিনা আশরাফির ঘটনাও মনে আছে আমাদের। ব্রডস্কি বলেন, দুই হাজার বিশ সালে ইরানে একটি শিশু সুরক্ষা আইন পাস হওয়া সত্ত্বেও অনার কিলিং ও পারিবারিক সহিংসতা বন্ধ হয়নি। ইরানের এই বিষয়ের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর দেওয়া উচিত।‘ মনে দাগ কাটার মত আরও একটি সিনেমা “নট উইথআউট মাই ডটার”। বেটি মাহমুদি’র নিজের জীবনের ভয়ংকর সব অভিজ্ঞতা, ইরান থেকে পালিয়ে আসার ওপর ভিত্তি করে লেখা বই “নট উইথআউট মাই ডটার” এর চিত্ররূপ এই সিনেমা। উনিশো একানব্বই সালে তৈরী এই সিনেমার শ্যুটিং হয়েছে এমেরিকা, তুরস্ক আর ইস্রায়েলে। মেয়েদের জীবন একটা অদ্ভূত চক্রের মধ্যে ঘোরে। এমেরিকা হোক আর তুরস্ক কিংবা বাংলাদেশ, কত শিক্ষিত, কত বড় চাকুরী করে, পেশাগত জীবনে কত সফল কিছুই যায় আসে না, ধোঁকা তারা খাবেই। ধোঁকাবাজ প্রেমিকের হাতে পরা নারীদের যেনো অনেকটা নিয়তি। তারওপর হলো এশিয়ান আবার মুসলমান, ধোঁকাবাজিতো কোই ইন লোগো সে শিখে। কোরানে হাত রেখে মিথ্যে শপথ করে এমেরিকান বউকে ইরানে এনে মুসলমান ধর্মে ধর্মান্তরিত করার জন্যে অত্যাচার করাকে মাহমুদির পরিবারের কেউ অন্যায় ভাবছেই না! এমনকি ইরানী সমাজের সবাইও সেটা স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছে! পুরো সিনেমায় ইরানে অবস্থিত এমেরিকান কনস্যুলেটের ভূমিকাটাই স্পষ্ট হলো না। হাজার হাজার এমেরিকান নারী সেখানে অত্যাচারিত হচ্ছে জেনেও তারা ইরানী ল মেনে মুখে আঙুল চুষছে। তাহলে ইরানে কনস্যুলেট রাখার দরকার কি! ভিসা দিয়ে ইরানী পুরুষদের এমেরিকায় পাঠিয়ে এমেরিকান নারীদের বিপদে ফেলাই এই কনস্যুলেটের উদ্দেশ্যে! বন্দীদশা থেকে উদ্ধার পাওয়ার আশায় বেটিকে দিনের পর দিন মাহমুদি পরিবারের সাথে অভিনয় করতে হয়েছে। তাদের বিশ্বাস জয়ের কি প্রাণান্ত চেষ্টা। মেয়ের জন্মদিনে কেক কাটার সময় বেটি “বিসমিল্লাহ” বলেছে, তাতে শাশুড়ি খুবই আনন্দিত দৃষ্টিতে পুত্রের দিকে তাকিয়েছে, আর পুত্র গর্বিত চোখের নীরব ভাষায় মা’কে নিশ্চিত করেছে, আমি পেরেছি মা, কাফির বউকে মুসলমান করতে পেরেছি। ব্রায়ান গিলবার্টের পরিচালনায় ইংলিশ ও পার্সি ভাষায় বানানো এই সিনেমায় স্যালি ফ্রিল্ড ও স্প্যানিশ বংশোদ্ভূত বৃটিশ-এমেরিকান অভিনেতা আলফ্রেড মলিনা অসাধারণ অভিনয় করেছে। কৃষ্ণা ভামসির পরিচালনায় কারিশমা কাপুর আর নানা পাটেকার অভিনীত “শক্তিঃ দ্যা পাওয়ার”কে অনেকে “নট উইথআউট মাই ডটার” এর হিন্দি রিমেক বলে কিন্তু দুটো সিনেমার মধ্যে মিল খুব সামান্যই। “শক্তি” মোটা দাগের হিন্দী সিনেমাই যেখানে সবকিছু বড্ড “লার্জার দ্যান লাইফ”। “নট উইথআউট মাই ডটার” দেখতে দেখতে বহুদিন আগে দেখা বাঙালি লেখক সুস্মিতা ব্যানার্জীর “কাবুলিওয়ালার বাঙালি বউ” বইটির কথা মনে পড়ে গেলো। প্রায় একই কাহিনী তবে এবার ইরানে নয় আফগানিস্তানে, মেয়ে এমেরিকান নয় বাঙালি কিন্তু তার শেষ রক্ষা হয়নি, তিনি খুন হন। দুই হাজার তিন সালে উজ্জল চক্রবর্তী পরিচালনায় “এস্কেপ ফ্রম তালিবান”, সুস্মিতা ব্যানার্জীর চরিত্রটি করেন মনীষা কৈরালা। সুস্মিতা স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে ভারতে এসে আবার সোশ্যাল ওয়ার্ক করার জন্যে আফগানিস্তানে যেয়ে স্বামীর সাথেই বসবাস করতে থাকেন। মাঝ রাতে তাকে তুলে নিয়ে বিশটি বুলেট দিয়ে তার শরীর ঝাঝরা করে দেয়া হয়, যদিও তালিবান এই হত্যার দায় অস্বীকার করেছে। সুস্মিতার বাড়ি থেকে খুনীরা শুধু সুস্মিতাকেই ধরে নিয়ে যায় বাড়ির আর কারো গায়ে আঁচরটি অব্ধি লাগেনি। পুঁজিবাদী অর্থনীতির প্রসারে, মেয়েরা শিক্ষিত, স্বাবলম্বী হচ্ছে, এসময়ে মানসিকভাবে মেয়েরা যতটা পরিনত, অগ্রগামী, পুরুষেরা ঠিক ততোটা এখনো হয়ে ওঠেনি, তাই সংঘাত হয়ে উঠেছে অনিবার্য। হাজার ট্যাবু ভেঙে অনেক মেয়েই বায়োগ্রাফি লিখছেন, সেগুলো নিয়ে সিনেমা হচ্ছে, সারা পৃথিবী দেখছে, শিউরে উঠছে, আইন তৈরী হচ্ছে কিন্তু অবস্থার কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। তনু, নুসরাত থেকে মুনিয়া কিংবা হালের পরীমনি জীবিত কিংবা মৃত সবাই এ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার শিকার। সুরাইয়া থেকে বেটি কিংবা সুস্মিতা খুন কিংবা খুনের হাত থেকে নিতান্ত ভাগ্যের জোরে বেঁচে যাওয়া, এখানে নাম না উল্লেখ করা অসংখ্য নারীরা প্রমাণ করে দুই হাজার একুশেও বাস্তবতা বদলায়নি। তানবীরা হোসেন ০২/০৮/২০২১

Thursday, 23 September 2021

মিথ ও বাস্তবতা

মিথ: ----- মেয়েরা সাধারণত: রাতের অন্ধকারে অপরিচিত লোকদের দ্বারা ধর্ষিতা হয়; সুতরাং মেয়েদের রাতের অন্ধকারে একাকী বের হওয়া ঠিক নয়। বাস্তবতা : ---------- মাত্র ১০% ধর্ষণ সম্পাদিত হয় অপিরিচিত লোকের মাধ্যমে। ৯০% ধর্ষণ ঘটে পরিচিত পুরুষের মাধ্যমে। সেই ৯০% পুরুষকে আবার মেয়েরা নিরাপদ মনে করতো, তাদের প্রিয়জন,বন্ধু, সহকর্মী, প্রতিবেশী, গ্রাহক বা তাদের ভুতপূর্ব স্বামী বা প্রেমিক। এই ধর্ষণ ঘটে তার নিজের বাড়িতে, কাজের জায়গায় অথবা এমন কোনো জায়গায় যেখানে মেয়ে নিরাপদ বোধ করে। * মিথ : ------ একমাত্র আকর্ষণীয়া, যুবতী ও যারা খুব ‘খোলামেলা’ পোশাক পরে তারাই শুধুমাত্র ধর্ষিতা হয় বাস্তবতা : --------- যে কোনো বয়সের,যে কোনো ধর্ম বর্ণের, যে কোনো সংস্কৃতির, যে কোনো সময়ে যে কেউ নিগৃহীত হতে পারে। ভিকটিমের পোশাকের সাথে ধর্ষণের কোনো সম্পর্ক নেই। * মিথ: ------- যৌন সংসর্গের সময় মেয়েদের আচরণ থাকে বাধামূলক ও ‘না’ বোধক আর এই ‘আপত্তি’ ও ‘না’-কে পুরুষ ‘হ্যাঁ’ ভাবাই উচিত। বাস্তবতা: ---------- যে কারো যে কোনো সময় ‘না’ বলা তাদের মৌলিক অধিকার। এমনকি যৌন কর্মের যে কোনো পর্যায়ে ‘না’ মানে ‘না’। এই ‘না’ কে অবজ্ঞা মানেই ধর্ষণ। * মিথ : ------- যদি দুজন ব্যাক্তি আগে পরষ্পর সেক্স করে থাকে, মানে হলো এরা দুজন সবসময়ই সেক্স করতে পারবে। বাস্তবতা: ------------ আগে যা-ই হোক না কেনো, প্রতিবারই তাদের উভয়ের সম্মতি আবশ্যক। যে কোনো এক পক্ষের যে কোনো অসম্মতি মানেই ‘না’। * মিথ: --------- অ্যালকোহল, ড্রাগ, মানসিক চাপ বা ডিপ্রেশন মানুষকে ধর্ষকে পরিণত করে। বাস্তবতা: ----------- অ্যালকোহল বা ড্রাগ কখনোই কাউকে ধর্ষক বানায় না। এমনকি ডিপ্রেশন বা মানসিক চাপও ধর্ষণের জন্য ফ্যাক্টর না। ধর্ষণের জন্য কোনো অজুহাত অগ্রহণযোগ্য। * মিথ: --------- কোনো মেয়ে স্বেচ্ছায় প্রচুর অ্যালকোহল বা ড্রাগ সেবন করার পর ধর্ষিতা হলে তার অভিযোগ করা ঠিক না। বাস্তবতা: ---------- যে কোনো পর্যায়ে পার্টনারের সম্মতি আবশ্যক। সঙ্গী অ্যালকোহল বা ড্রাগের কারণে অচৈতন্য হলে তার সাথে সেক্স ধর্ষণ বলে গণ্য হবে। * মিথ: -------- ধর্ষণের সময় কেবল শারীরিক বল প্রয়োগ ও ভিকটিম শারীরিক ক্ষত বিক্ষত থাকবে্। বাস্তবতা: ----------- ধর্ষণে যে শুধুমাত্র বহিরাঙ্গে দৃশ্যমান ইনজুরি থাকবে এমন নয়। অভ্যন্তরীণ ইনজুরি হতে পারে। কখনো ধর্ষক অস্ত্র বা অন্য কিছুর ভয় দেখিয়ে বিনা ইনজুরিতে সেক্স করতে পারে। ধর্ষক যদি ভিকটিমের নড়াচড়া না করার বা ঘুমন্ত থাকার,অচৈতন্য থাকার বা কথা না বলতে পারার সুযোগ নেয়, এ সবই ধর্ষণ। * মিথ: -------- ছেলেরা একবার উত্তেজিত হলো আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না,তাকে সেক্স করতেই হবে। বাস্তবতা: ---------- পুরুষ চাইলে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ধর্ষণ যৌন তৃপ্তি নয়, সহিংস অপরাধ। * মিথ: -------- অনেক নারী পুরুষের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ আনে মিডিয়ার নজর কাড়ার জন্য। বাস্তবতা: ------------- পৃথিবীতে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ বিরল। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভিকটিম সামাজিক কারণে পুলিশের কাছে যায় না আবার অনেক ক্ষেত্রেই আদালতে প্রমাণ জটিল হয়ে পড়ে। * মিথ: ------- যে সমস্ত পুরুষ ছোটবেলায় যৌন নির্যাতনের শিকার হয় তারা বড় হয়ে নিজেরাই শিকারী হয়। বাস্তবতা: ---------- এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ধর্ষকদের পক্ষে যে কোনো যুক্তিই অচল। * মিথ: ------- পুরুষ কখনো ধর্ষিত হয় না বা মেয়েরা কখনো যৌন অপরাধ করে না। বাস্তবতা: ---------- যদিও বিশাল সংখ্যক অপরাধ মেয়ে ও শিশুর বিরুদ্ধে করা হয়। সামান্য সংখ্যক পুরুষও নারী কর্তৃক যৌন নির্যাতিত হয়।* ---------------------------------------- *একটি বিদেশি ওয়েবসাইট অবলম্বনে --

যৌনতা কি শুধুই শারীরিক?

"যৌনতা” মানুষের জীবনের মৌলিক চাহিদা। এই চাহিদা সমাজে অন্যতম একটা ভূমিকা রাখে, জানো কেন? এটা যার তার সাথে হয় না। এর মূল উপাদান হলো প্রেম – ভালবাসা। যে মেয়েটি প্রেমিক পুরুষের সাথে সাত রকম ভাবে খেলে, তার সঙ্গীর সব খেলায় তাল দেয়, অজানা-অচেনা স্পর্শে, কিংবা অনাকাঙ্খিত স্পর্শে সেইই আবার গুটিয়ে যায়, নিজেকে অশুচি অনুভব করে। আচ্ছা, এটা কি শুধু মানুষের বেলায়? না তো, পশু-পাখিরাও তো কাউকে পছন্দ করে, নির্বাচন করে, তার সাথে সময় কাটায়, তারপর খেলায় লিপ্ত হয়। শরীর থেকে শরীরে যা প্রবেশ করে তার নাম অনুভূতি, প্রেম, মায়া। প্রাচীন যুগে আদিম নর-নারীরা কি সবাই সবার সাথে শুয়ে বেড়াতো? ইতিহাস কিন্তু তা বলে না, প্রেম-মায়ার বড় ভূমিকা ছিলো বলেই, বিয়ে এসেছে, সঙ্গী প্রথাটি এসেছে, পরিবার সৃষ্টি হয়েছে, তার থেকে সমাজ, রাষ্ট্র। এখনও যেখানে "সভ্যতা" নামের জীবানু পৌঁছে যায় নি, তারা কি প্রত্যেকে প্রত্যেকের সাথে শোয়? ডকুমেন্টরী, সিনেমা, বই কিন্তু উলটো কথা বলে। টারজানের সাথে তো নোরা ছিলো, তারা শ্রেণীহীন, মুক্ত পৃথিবীর সদস্য। তাদের যার সাথে “মন” মজে তার সাথেই শোয়। প্রেম এই খেলার মূল উপাদান বলে, যেখানে প্রেম আছে সেখানে এর নাম “লাভ মেকিং” আর যেখানে নেই তার নাম “রেপ”। ***** মুসলিম ধর্মে বিয়ের আগে ছেলেমেয়ে মেলামেশা নিষিদ্ধ। কবুল বলার পর তাদেরকে সাধারণতঃ একঘরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। দুটো অচেনা-অজানা ছেলেমেয়ে যারা নিজেদের পছন্দ-অপছন্দ, স্বপ্ন, লক্ষ্য, গন্তব্য একসাথে বিনিময় করে নাই তারা শরীর বিনিময়ের মধ্যে দিয়ে জীবন শুরু করে। প্রাকৃতিক স্বাভাবিক সংকোচ থেকে সাধারণতঃ মেয়েরা এখানে প্যাসিভ থাকে আর জোর কিংবা এক্টিভ রোলটা পুরুষের থাকে। সামাজিকভাবে ছেলেরা এটা দেখে বড় হয় বলে, “বল” খাটানোকেই পৌরুষত্ব ভাবে। অথচ উলটো ব্যাপারটা স্বাভাবিক ছিলো না? দুটো মানুষের মধ্যে তাদের ভাল লাগা-মন্দ লাগা বিনিময়ের পর সিদ্ধান্ত নেয়া, এই কি সেই, যাকে খুঁজেছিলাম? যে জীবনটা উলটো দিক থেকে শুরু হয় সেটি কি করে স্বাভাবিক চলতে পারে? জোর খাটানো দিয়ে যে জীবনের শুরু, তাতে জোর করাই স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ায়, তাই নয়?

Thursday, 16 September 2021

দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – চৌদ্দই সেপ্টেম্বর টুয়েন্টিটুয়েন্টি ওয়ান

লাইফ উইথাউট সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং প্রিমিয়ে রুতেঃ ১.৫ মিটারের সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং দিয়ে উইকিপেডিয়াতে জায়গা করে নেয়া নেদারল্যান্ডস পঁচিশে সেপ্টেম্বর থেকে এটি তুলে নিচ্ছে। হিপ হিপ হুড়ড়ে। তবে থিয়েটার, কনসার্ট, মুভি, মেলা, স্টেডিয়াম, রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে ইত্যাদিতে ঢুকতে তের বছর থেকে সবাইকে করোনা সার্টিফিকেট দেখাতে হবে। চৌদ্দ বছরের ওপর থেকে আইডি কার্ড দেখাতে হবে। কোন অনুষ্ঠান যদি একদিনের বেশী হয় তাহলে অনুষ্ঠানের সবাইকে পরদিন থেকে প্রতিদিন সবাইকে করোনা টেস্ট করাতে হবে। আপাতত এগুলোর ব্যয় সরকার বহন করবে। প্রতি মিউনিসিপ্যালটিতে এজন্য বরাদ্দ পাঠানো হয়েছে। রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে ইত্যাদিতে যতজন আর যখন ইচ্ছে যেতে পারে তবে রাত বারোটা থেকে সকাল ছয়টা এগুলো বন্ধ থাকবে। মুভি, মেলা, কনসার্ট, থিয়েটার যেখানে নির্দিষ্ট বসার জায়গা আছে, সেখানে হলের পুরো ধারন ক্ষমতার সমান দর্শক থাকতে পারবে। যেখানে বসার জায়গা নির্দিষ্ট নয় সেখানে মূল ধারন ক্ষমতার পচাত্তর ভাগ মানুষ যেতে পারবে, তারপরও সবাইকে সাবধান থাকতে বলা হচ্ছে। মেলা, খেলাধূলা ইত্যাদি বাইরের সব বিনোদন সম্পূর্ণ বিধিনিষেধ মুক্ত। ট্রেন, ট্রাম, বাস, ট্যাক্সিতে মাস্ক পরতে হবে, সিকিউরিটি পার হওয়ার পর এয়ারপোর্টে মাস্ক বাধ্যতামূলক। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠান আর চার্চে করোনা সার্টিফিকেট লাগবে না। এটি সম্পূর্ণ চার্চের ওপর নির্ভর করে, সরকার সেখানে কিছু বাধ্যবাধকতা দেয়ার এখতিয়ার রাখে না। শিক্ষাক্ষেত্রঃ ম্যাক্সিমাম পচাত্তর জনের বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না। মাস্ক আর বাধ্যতামূলক নয়, ঐচ্ছিক। প্রাইমারি স্কুলে একজন করোনা পজিটিভ হলে পুরো ক্লাশকে আর কেয়ারন্টিন যেতে হবে না, শুধু যারা পজিটিভ তারা গেলেই চলবে। পয়লা নভেম্বর আবার দেখা হবে প্রেস কনফারেন্সে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুগো দ্যা ইয়ংঃ ভ্যাক্সিন নেয়া কিংবা না নেয়া ব্যক্তির ইচ্ছের ওপর নির্ভরশীল থাকবে, ভ্যাক্সিন নিতে কাউকে বাধ্য করা হবে না। যারা ভ্যাক্সিন নেয়নি তাদেরকে কোথাও যেতে হলে প্রত্যেক বার করোনা পরীক্ষা করাতে হবে আর এটি তারা বিনামূল্যে করাতে পারবে। তবে ভ্যাক্সিন নেয়ার জন্যে আমি অনুরোধ করবো, শতকরা পচানব্বই জন ভ্যাক্সিন নেয়া মানুষ হাসপাতাল ছাড়া সারভাইভ করতে পারে আর সাতানব্বই জন আইসিইউ ছাড়া সারভাইভ করতে পারে। হাসপাতালে আসা বেশীর ভাগ মানুষই যারা এখনও ভ্যাক্সিন নেয়নি। যত বেশী মানুষ ভ্যাক্সিন নেবে ততো আমরা সব নিয়ম শিথিল করতে পারবো, কারণ ভ্যাক্সিন নেয়া থাকলে অন্যদের সংক্রমণ করার সুযোগ কম থাকে। অফিসে জিজ্ঞেস করতে পারে, তুমি ভ্যাক্সিন নিয়েছো কিনা। তবে জবাব দেয়া না দেয়া কর্মীর ইচ্ছা। কিন্তু নিজেদের অফিস নিরাপদ রাখতে বা সংক্রমণ এড়াতে অফিস বলতে পারে, ভ্যাক্সিন নেয়ার কথা। কিংবা টেস্ট করার কথা। তবে কেউ কাউকে বাধ্য করতে পারবে না। যারা স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করছে তাদের ক্ষেত্রে এটি বেশি প্রযোজ্য। দুর্বল স্বাস্থ্যের মানুষজন যাদের ইম্যুয়ন যথেষ্ঠ নয়, তারা নিজেদের ডাক্তারদের থেকে অক্টোবর মাসে তৃতীয় টিকা নেবার চিঠি পাবে। দুইশো থেকে চারশো হাজার মানুষ এর আওতায় পরবে। যেহেতু সাধারণ ভ্যাক্সিনটি বৃদ্ধ, অসুস্থ এমনকি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের জন্যেও অনেক কার্যকর তাই আপাতত বুস্টার ডোজ কাউকে অফার করা হচ্ছে না। কিন্তু প্রয়োজন হলে আমরা তৈরিই আছি। সাংবাদিকঃ একদিকে বলছেন নিয়ম শিথিল করছেন অন্যদিকে বলছেন কফি খেতে গেলেও করোনা সার্টিফিকেট লাগবে। কেন? প্রিমিয়ে রুতেঃ আনফরচুনেটলি ইয়েস, দেড় মিটার দূরত্বের বাধ্যবাধকতা যেহেতু তুলে নিয়েছে, সবাই নিরাপদ আছে এটা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। সাংবাদিকঃ কি করে সেসব নিশ্চিত করা হবে? প্রিমিয়ে রুতেঃ প্রতিটি মিউনিসিপ্যালটিকে এজন্য আলাদা টাকা দেয়া হয়েছে, তারা পুলিশ বা চেকার নিয়োগ করবে যারা রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে এসবে যেয়ে চেক করবে এবং যারা নিয়ম মানেনি তাদের জরিমানা করবে। সাংবাদিকঃ ফ্রান্সে পনেরশো টাকা জরিমানা ধরা হয়েছে আমাদের কত টাকা জরিমানা? প্রিমিয়ে রুতেঃ সেটা এখনও ঠিক হয়নি, আমার মনে নেই, তবে আলোচনা চলছে। শুধু জরিমানা নয় দরকার হলে ক্যাফে বন্ধও করে দেয়া হতে পারে। সাংবাদিকঃ নাইট ক্লাবস সব রাত বারোটায় বন্ধ করে দিতে বলেছেন? আপনি কি গত বছর নাইটক্লাবে গেছেন? সেখানে কি হয়? আর যদি রাত বারোটায় বন্ধ করেই দেন তাহলে মানুষ বাসায় যেয়ে পার্টি করবে, তাহলে লাভটা কি হলো? সংক্রমণতো ওখানেও হতে পারে? প্রিমিয়ে রুতেঃ আমাদেরকে প্রতিটি পা খুব গুনে গুনে ফেলতে হবে। ছাব্বিশে জুনের শিক্ষা আমাদের মনে রাখতে হবে। সাংবাদিকঃ আপনি ভাবছেন বারোটায় নাইট ক্লাব থেকে এসে মানুষ সব শুয়ে পরবে? প্রিমিয়ে রুতেঃ আমি কিছুই ভাবছি না, আমি শুধু বলতে চাই, সবাইকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। সাংবাদিকঃ ভাইরাসের কি ঘড়ি আছে? সাংবাদিকঃ বাসায় পার্টি চলতে পারবে, মেলা, কনসার্ট চলতে পারবে শুধু ক্যাফেতে বসে রাত বারোটার পর ড্রিঙ্ক করা যাবে না? আমরা কি তাহলে ড্রাগ প্রমোট করতে চাইছি? প্রিমিয়ে রুতেঃ আমরা শুধু ভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে চাইছি। সাংবাদিকঃ ডান্স ফিস্ট কেন বন্ধ করলেন? এত প্রটেস্ট হচ্ছে সেটা দেখেছেন? করোনা নিয়ে আপনাদের ওপর জনগনের আস্থা খুবই কম। হুগো দ্যা ইয়ংঃ ওএমটি’র উপদেশানুসারে বন্ধ করেছি, নাইট লাইফ থেকে যেহেতু সংক্রমণ বেশী হয়, সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে সবাইকে। সাংবাদিকঃ ঠিক কখন এসব থেকে আমরা বের হতে পারবো? সংক্রমণ কোন হারে এলে নিজেদের স্ট্যাবল ভাববো? হুগো দ্যা ইয়ংঃ চল্লিশ জন হাসপাতালে, দশ জন আইসিইউতে সাতদিন কিংবা তারপরেও যদি এটাই কন্টিনিউ করে তাহলে আমরা আরও অনেক শিথিলতার দিকে যাবো বা যেতে পারবো। আমরা কিছুতেই আগের পরিস্থিতি বা লকডাউনে ফিরে যেতে চাই না।

Sunday, 12 September 2021

দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – তেরই আগষ্ট টুয়েন্টিটুয়েন্টি ওয়ান

প্রিমিয়ে রুতেঃ ছাব্বিশে জুন অনেক নিয়মনীতি শিথিল করার পর গ্রীস্মের শুরুতে সংক্রমণের যেরকম উর্ধ্বগতি ছিলো তা ছিলো বিস্ময়কর। তারপরও আমরা সবাই নিয়মনীতির বাইরে খানিকটা করোনাবিহীন একটি সুন্দর গ্রীস্ম উপভোগ করতে পেরেছি। এই পুরোটা সময় আমাদের জন্যে ছিলো শিক্ষনীয়। এখন সবার মনে একটাই প্রশ্ন, হেমন্ত কেমন যাবে আমাদের? দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির উপদেশ অনুযায়ী আমরা আস্তে আস্তে একটি একটি করে নিয়ম শিথিল করবো। যদিও আমরা জানি প্রতিটি পদক্ষেপই ঝুঁকিপূর্ণ, আর বিশেষ করে সেটি শিক্ষার্থী ও ক্যাটারিং ব্যবসায়ীদের জন্যে খুবই বেদনাদায়ক। প্রায় এক মিলিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দেড় বছর ধরে অনলাইন ক্লাশ করছে তাতে অনেকেই পড়ায় পিছিয়ে গেছে, রেজাল্ট খারাপ করছে ইত্যাদি। এছাড়াও নিঃসঙ্গতা থেকে অনেক বেশী মানসিক সমস্যায় ভুগছে তারা। তাই শিক্ষাঙ্গনে ত্রিশে আগষ্ট থেকে সামাজিক দূরত্বের বিধিনিষেধ থাকছে না। তবে পচাত্তর জনের বেশী একসাথে হতে পারবে না। সবাই সপ্তাহে দুবার নিজেরা করোনা পরীক্ষা করবে, মাস্ক পরবে এবং রুমে প্রচুর বাতাস খেলা করার সুযোগ থাকতে হবে, হাইজিন মেইনটেইন করতে হবে। তবে বিশে সেপ্টেম্বর থেকে সমস্ত নেদারল্যান্ডস থেকে দেড় মিটার সামাজিক দূরত্বের বাধ্যবাধকতা উঠে যাচ্ছে, পাব্লিক ট্রান্সপোর্টে আর মাস্ক পরতে হবে না, ওয়ার্ক ফ্রম হোমও আর দরকার নেই। ইউনিভার্সিটিগুলোয় শিথিলতা দেয়ার প্রতিক্রিয়া কি হয়, সংক্রমণের হার কতটুকু বাড়ে সেটা দেখে শুক্রবার সতেরই সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হবে। তবে যেখানে সবচেয়ে বেশী সংক্রমণ হয়, ডিস্কোথেক আর নাইট ক্লাবস তখনও বন্ধই থাকবে। উৎসব, সিনেমা, থিয়েটার, কনসার্ট, কংগ্রেস, স্টেডিয়াম ইত্যাদিতে পচাত্তর জনের ওপরে হলে ভ্যাক্সিন/অনুমতিপত্র বাধ্যতামূলক। ক্যাটারিং সার্ভিস সহ অন্যান্য যেসব ব্যবসায়ীরা করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত তারা পয়লা অক্টোবর পর্যন্ত সরকারী অনুদান পাবে। আর উৎসব আয়োজনকারীদের জন্যে বিশে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আপাতত অনুদান বরাদ্দ আছে। আর ডিস্কোথেক আর নাইট ক্লাবসের অনুদান চলমান থাকবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুগো দ্যা ইয়ংঃ সমস্ত জনসংখ্যা থেকে এক দশমিক আট মিলিয়ন মানুষের এখনো কোন ইম্যুনিটি তৈরি হয়নি। তারা করোনাক্রান্ত ও হয়নি তারা ভ্যাক্সিন ও নেয়নি। আমরা ভয় পাচ্ছি হেমন্তে তাদের থেকে হাজার হাজার মানুষ অসুস্থ হতে পারে এবং খুব বাজে ভাবে অসুস্থ হতে পারে। হয়ত তাদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হতে পারে আর যদি হাজার হাজার মানুষ একই সময় অসুস্থ হয় তাহলে আবার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, হাসপাতালের সাধারণ রুটিন, ডিসিপ্লিন ভেঙে পড়বে। তাই যারা যারা এখনো ভ্যাক্সিন নেয়নি তাদের বলছি, দ্রুত ভ্যাক্সিন নিয়ে নিতে। আর জিজিডিতে ভ্যাক্সিন নিতে গিয়ে যারা ঝগড়া ও মারামারি করেছে, আমি স্বাস্থ্যকর্মীদের পক্ষ হয়ে তাদের আন্তরিক নিন্দা জানাচ্ছি। সাংবাদিকঃ যদি কোন রেস্টুরেন্ট মালিক বলে, ভ্যাক্সিন না থাকলে আমি রিজার্ভেশান নেবো না, তাহলে কি হবে? প্রিমিয়ে রুতেঃ নেদারল্যান্ডসের আইন অনুযায়ী এরকম একজন একজনকে বলতে পারে না, সেটা বেআইনী হবে তারপরও আমি বলবো, যারা যারা এখনো ভ্যাক্সিন নেয়নি তারা যেনো দ্রুত ভ্যাক্সিন নিয়ে নেয়, অনেক জায়গায় প্রবেশ করতেই ভ্যাক্সিনেশান সার্টিফিকেটের দরকার হবে। সাংবাদিকঃ বিশে সেপ্টেম্বর থেকে ঠিক কোথায় কোথায় প্রবেশ করতে করোনা চেক বাধ্যতামূলক? প্রিমিয়ে রুতেঃ রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, উৎসব, স্টেডিয়াম, মেলা, সিনেমা ও থিয়েটার, ভেতরে এবং বাইরে। সাংবাদিকঃ পয়লা সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মত নেদারল্যান্ডসে উৎসব পালিত হচ্ছে যেখানে প্রায় একশো হাজারেরও বেশী মানুষের পদচারণা হবে সেটি কি নিয়মের সাথে সাংঘর্ষিক নয়? প্রিমিয়ে রুতেঃ নিয়ম মানলে সাংঘর্ষিক কেন হবে? ওখানে সবাই বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করবে। ভ্যাক্সিন সার্টিফিকেট দেখালে ধারন ক্ষমতার দুই তৃতীয়াংশ মানুষ আসতে পারবে আর সার্টিফিকেটের বাধ্যবাধকতা না থাকলে এক তৃতীয়াংশ। সাংবাদিকঃ অনেক শিক্ষকই ভয় পাচ্ছেন ক্লাশে ভ্যাক্সিন নেয়নি এমন ছাত্র ছাত্রীও থাকবে, সেক্ষেত্রে সংক্রমণ অনেক তাড়াতাড়ি ছড়াবে হুগো দ্যা ইয়ংঃ সুখবর হলো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে কথা বলে চুক্তি করে নিয়েছে, যারা যারা এখনো ভ্যাক্সিন নেয়নি তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বসেই ভ্যাক্সিন নিতে পারবে। ভ্যাক্সিন নিতে তাকে কোথাও যেতে হবে না, স্বাস্থ্যকর্মী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে ভ্যাক্সিন দিয়ে যাবে। সাংবাদিকঃ কিছু কিছু মানুষের ভ্যাক্সিন নেয়ার থেকে সমস্যা হচ্ছে, বা নেয়াতে সমস্যা আছে, ইম্যুইন সিস্টেমও ভাল না তাদের সম্পর্কে কি ভেবেছেন? হুগো দ্যা ইয়ংঃ তাদের জন্য বুস্টার ডোজের কথা ভাবা হচ্ছে যদিও সেটি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশানুযায়ী হবে তাতে হয়ত তাদের ইম্যুইন সিস্টেম খানিকটা ডেভেলাপ করবে। তাছাড়া সবসময় কিছু মানুষ থাকবেই বিভিন্ন কারণে যাদের ভ্যাক্সিন দেয়া যাবে না, দুর্বল, অন্য কিছু সমস্যা, তাদের ব্যাপারে কি করা যায় সেটি নিয়ে আলোচনা চলছে। তানবীরা হোসেন ১১/০৯/২০২১