Wednesday, 5 May 2021

বিল গেটস আর মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ

বিল গেটস আর মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ, বিয়ের পর সাতাশ বছর। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে রচনা হয়েছে কত আনন্দ-বেদনার কাব্য। তিনটে সন্তান বড় করেছেন। বৃষ্টিতে ভিজেছেন, জোস্ন্যায় হাত রেখে হেঁটেছেন। হাজারো মানুষকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া এই পরিবারটি একটি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। একটি সাধারণ পরিবারের ডিভোর্সের মত সিদ্ধান্ত নিতে যখন অনেক সময় লাগে তখন এদের লেগেছে কত বছর! এরমধ্যে কত রক্তক্ষরণ হয়েছে, কত কিছু বুকে চেপে টিভির সামনে এসেছেন, ইন্টারভিউ দিয়েছেন, সুখী মানুষের, আর্দশ দম্পত্তির অভিনয় করেছেন, ভেবেছেন তারপরও যদি চালিয়ে নেয়া যায়। বাঙালি জাতির পরিবারটির প্রতি কোন সহমর্মিতা নেই। তাদের কাছে ইস্যু হলো একশো চব্বিশ বিলিয়ন ডলার। মনে হয়, বিল আর মেলিন্ডা তাদের পয়সা বাঙালি জাতির কাছে জমা রেখেছিলো, এখন ঈদের আগে বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের রিজার্ভ ভেঙে এই টাকা তাদেরকে বিশেষ করে মেলিন্ডাকে পরিশোধ করতে হবে। এই জাতি বউ, মেয়ে খুন করে টানিয়ে রাখতে অভ্যস্ত, এদের এরকম কিছু হজম করা কঠিন। এক ঘরোয়া আড্ডায় এডভোকেট তারানা হালিম আপা বলেছিলেন, বাংলাদেশে কোন মেয়ে তার বরকে ডিভোর্স দিতে আর্জি দিলে, মেয়ের বিরুদ্ধে তার শ্বশুরবাড়ি চুরির কেইস দেয় নাই, এই ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে আজ অব্ধি নেই। আর সামান্য কাবিনের টাকা না দেয়ার অসামান্য টালবাহানাতো আছেই। কিন্তু বিদেশে সাধারণত ফিফটি ফিফটি হয় আর এতে পুড়ে যাচ্ছে বাঙালি জাতি তাও অন্যের টাকা। শুধু টাকায় কি সংসার হয়! প্রত্যেক কর্মজীবি মেয়ে সে দেশে হোক কিংবা বিদেশে সংসারে পুরুষদের চেয়ে অনেক বেশী শ্রম দেয়। ব্যতিক্রম বাদ দিলে। সেই অনুসারে ধরলে সেভেন্টি/থার্টি হওয়া উচিৎ। ঘরের বাসনটা কেনা, বাচ্চার এক্সাম, টিচারের সাথে কথা বলা, এই ইউরোপেও সকালের দৃশ্য আশির ভাগ মা বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাচ্ছেন, অফিস থেকে ছুটি নিচ্ছেন বাচ্চার বিভিন্ন কারণে। বাঙালি জাতি এসবকে সব টেকেন ফো গ্র্যান্টেড ধরে নেয়। বারবার বিলের টাকা নিয়ে কষ্টে মরে যাচ্ছে, এটাকা বিল আর মেলিন্ডার টাকা, দুজনের টাকা, আপনার কষ্টের কোন কারণ নেই ব্রো। হিলারী রডহ্যাম ক্লিনটন, সাব্রিনা সোবহান, আমিনা ত্যাইয়িবা’র মত সংসার অন্তপ্রাণ নন বলে মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চকে সাধুবাদ জানাই। যদিও তুলনাটা অসম তারপরও আবার মিল আছে। এই টাকার কারণেই অনেকে সারাজীবন কাটিয়ে দেয়। সুখী হোক বিল আর মেলিন্ডা তাদের সামনের দিনগুলোতে, ভালবাসা তাদের জন্যে এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মেলে না শুধু সুখ চলে যায়, এমনই মায়ার ছলনা এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মেলে না এরা ভুলে যায়, কারে ছেড়ে কারে চায়…

Friday, 30 April 2021

মিডিয়া

একটি গাছে একটি গাধা বাঁধা ছিল। এক রাতে এক ভূত দড়ি কেটে গাধাকে ছেড়ে দেয়। গাধাটি গিয়ে পাশের কৃষকের জমিতে ফসল নষ্ট করে। ক্ষিপ্ত হয়ে কৃষকের স্ত্রী গাধাকে গুলি করে হত্যা করে। গাধাটির মালিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে উত্তরে কৃষকের স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করে। স্ত্রীর মৃত্যুতে রাগ হয়ে কৃষক একটি কাস্তা নিয়ে গাধার মালিককে হত্যা করে। গাধার মালিকের স্ত্রী এত রেগে গেলো যে সে এবং তার ছেলেরা কৃষকের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিলো। কৃষক তার বাড়ির দিকে তাকিয়ে ক্রোধে ছাই হয়ে গেল এবং গাধার মালিকের স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যা করল। অবশেষে, কৃষকের যখন অনুশোচনা হলো, তখন সে ভূতকে জিজ্ঞাসা করল কেন সবাইকে সে হত্যা করেছে? ভূত জবাব দিলো, "আমি কাউকে হত্যা করি নি। আমি কেবল একটি গাধাকে ছেড়েছিলাম যা দড়িতে বাঁধা ছিল। আপনারা সকলেই আপনাদের মধ্যে থাকা শয়তানকে মুক্তি দিয়েছেন এবং এই কারণে তারপরের যা কিছু সব খারাপ হয়েছে। আজকাল মিডিয়াও সেই ভূতের মতো। এটি প্রতিদিন একটি গাধা ছেড়ে দেয়। এবং আমরা দ্বিতীয়বার চিন্তা না করে একে অন্যের সাথে তর্কে লিপ্ত হয়ে নানারকম প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে একে অপরকে আহত করি। শেষ পর্যন্ত, মিডিয়া চতুরতার সাথে সমস্ত দায়িত্বভার আপনাকে ধরিয়ে দেয়। সুতরাং, মিডিয়া দ্বারা প্রকাশিত প্রতিটি গাধা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া না জানানো এবং আমাদের বন্ধু, আত্মীয়স্বজন এবং সম্প্রদায়ের সাথে আমাদের সম্পর্ক রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। মূলঃ অন্তর্জাল ভাষান্তর ও সম্পাদনাঃ তানবীরা হোসেন

প্রস্থান

বাবু, এখন তুমি কোথায় আছো কেমন আছো, পত্র দিয়ো৷ এক বিকেলে মতিঝিলের সর্বনাশা আন্দোলনের গায়ের ব্যথা পূর্ণিমাতে বেড়ে গেলে পত্র দিয়ো৷ রুহানী বাপ মামুনুলের কোন বিয়েটায় ব্যথিত হও সুন্দরীরা ডাগর চোখে যখন দেখে, পত্র দিয়ো৷ কোন প্রলোভন অষ্টপ্রহর কেবল বাজে মনের কোনে জান্নাতুলের উস্কানিতে ভাসতে থাকো প্রেমের বানে বাবু আমার, লাইনে এসো, তাড়াতাড়ি লাইনে এসো। আর না হলে যত্ন করে ভুলেই যেয়ো, আপত্তি নেই৷ বেহাত হবে রেলের জমি? এসে গেছে কার কী তাতে? তুমি না হয় আন্দোলনে পথে নেমে ভুল করেছো নামলে ষড়যন্ত্রে আবার মিথ্যে আশার পরাগ দেখে! সতেরো জন রুহানি পুত খুন হয়েছে, কী আসে যায়? জীবন এত সস্তা, আরও নষ্ট হবে, জান্নাতেরা কতোটা আর কষ্ট দেবে! তেলাল হাপিস 'যে তেলে দেশ জ্বলে'

Wednesday, 21 April 2021

দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – বিশে এপ্রিল

ইয়েইইইইই – এইবার এইবার প্রিমিয়ে মার্ক রুতে নাইমেইখেনের মেয়র হুবার্টস মারিয়া ফ্রান্সিসাস রোববারে এক টিভি ইন্টারভিউতে বলেছেন, ঝুঁকি না নিয়ে আমরা এই ক্রাইসিস থেকে বের হতে পারবো না। তবে দায়িত্বহীন ঝুঁকি নেয়া যাবে না। পাঁচটি পদক্ষেপের কথা ভাবা হয়েছে যার মাধ্যমে এই গরমের ছুটির সময় থেকে আমরা করোনা নিয়মানুবর্তিতা থেকে বের হতে পারবো। সাতাশে এপ্রিল কিংস ডে, ওয়েদার ভাল থাকলে নিয়মনীতিকে কলা দেখিয়ে এমনিতেই প্রচুর লোক বাইরে বের হবে। সো আমরা সবাই মোটামুটি আগে থেকেই জানতাম, শিথিলতা আটাশে এপ্রিল থেকেই আসবে। ধন্যবাদ মিনিস্টার প্রেসিডেন্ট আপনাকে সেটা কনফার্ম করার জন্যে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছাব্বিশে এপ্রিল থেকেই খুলবে। আরআইভিমের চার্টে দেখা যাচ্ছে, সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর কার্ভ নীচের দিকে তাই আমরা ভাবছি এখন শিথিলতার দিকে যাওয়া যায়। একঃ আটাশে এপ্রিল সকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে আর কার্ফিউ থাকবে না। দুইঃ বুধবার থেকে বাড়িতে একজনের জায়গায় দুজন গেস্ট এলাউড। তিনঃ বারোটা থেকে ছয়টা অব্ধি বাইরের ক্যাফেগুলো খোলা থাকবে। আগে থেকে রিজার্ভ করতে হবে, চেকিং ও রেজিস্ট্রেশান বাধ্যতামূলক, প্রতিটি ক্যাফেতে পঞ্চাশ জন ম্যাক্সিমাম। এক পরিবারের বাইরের হলে দুজনের বেশি এক টেবলে বসতে পারবে না আর দেড় মিটারের দূরত্ব মেইনটেইন করতে হবে। চারঃ বুধবার থেকে নট এসেনসিয়াল প্রোডাক্টের দোকানে যেতে আগে থেকে আর এপয়ন্টমেন্ট নিতে হবে না তবে ছোট দোকানে ম্যাক্সিমাম দুইজন আর বড় দোকানে প্রতি পঁচিশ বর্গমিটারে একজন। মাস্ক বাধ্যতামূলক। পাঁচঃ বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের স্টুডেন্টরা সপ্তাহে অন্তত একদিন সশীরে ক্লাশে যেতে পারবে। ছয়ঃ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ম্যাক্সিমাম একশোজন যোগ দিতে পারবেন আর ড্রাইভিং এর থিওরি এক্সাম আবার শুরু হবে বুধবার থেকে। যেসব ক্যাফের রাস্তায় খুব ভীড় হবে, শপিং এর ওখানে ভীড় হবে বন্ধ করে দেয়া হবে। আমি জানি চিড়িয়াখানা, জিম, সিনেমা হল ইত্যাদির সবাই ভাবছে, তাহলে আমরা কেন বাদ? গত সামার থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি, পুরো দেশের সবকিছু একবারে খুলে দেয়া যাবে না। তাই স্টেপ বাই স্টেপ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুগো দ্যা ইয়ং ইউরোপীয়ান মেডিক্যাল বোর্ডের মতে, ইয়ানসেন (জনসন) ভ্যাক্সিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা খুব সামান্য আর তাই কাল থেকে হাসপাতাল, জিজিজেড সব জায়গায় প্ল্যাননুযায়ী ইয়ানসেন পুশ করা হবে। আশাকরছি ভ্যাক্সিনেশানের কার্যক্রম পরিকল্পনা মতই এগিয়ে যাবে। সাংবাদিকঃ আপনি গত সপ্তাহে বলেছেন, সংক্রমণের হারের উর্ধ্বগতির কারণে নিয়ম শিথিল করছেন না, এই সপ্তাহে সংক্রমণের হার অপরিবর্তিত থাকা সত্বেও এত নিয়ম শিথিল হচ্ছে, আপনি কি অনেক বেশি ঝুঁকি নিচ্ছেন না? প্রিমিয়ে রুতেঃ আমি গ্রহণযোগ্য ঝুঁকি নিচ্ছি। সাংবাদিকঃ আপনারা শিথিলতার দিকে যাচ্ছেন যেখানে এখন জানুয়ারীর চেয়েও বেশী সংক্রমণ আর রোগী হাসপাতালে ভর্তি? বিজ্ঞানের ওপর ভর করে এই সিদ্ধান্ত নাকি সামাজিক চাপ? প্রিমিয়ে রুতে আর মন্ত্রী হুগোঃ প্রতি মিনিটে দেড়শো জনকে ভ্যাক্সিন দেয়া হচ্ছে, চার মিলিয়ন মানুষ করোনাউ ভুগে এন্টিবডি তৈরী করে নিয়েছে সেসব হিসেব মাথায় রেখেই আমরা শিথিলতার দিকে আগাচ্ছি। সাংবাদিকঃ আজকে আপনারা শিথিলতার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অথচ আজকেই ক্যাবিনেটে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, স্বাস্থ্যকর্মীদের আর কোন বোনাস দেয়া হবে না, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি এটি কি খুব রুঢ় আচরণ নয়? তাদেরতো এখনো সেই আগের মতই কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। প্রিমিয়েঃ এক দশমিক তিন মিলিয়ন স্বাস্থ্যকর্মী আছে কিন্তু তাদের সবাই করোনা নিয়ে কাজ করে না, টাকাটা লিমিটেড, আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সবাইকে অল্প বোনাস দেবো নাকি শুধু করোনা নিয়ে যারা কাজ করছে তাদের অনেক বেশী দেবো, আলোচনা এখনো চলছে। দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির উপদেশকে বাইপাস করে, হাসপাতাল, সংক্রমণ, আইসিইউর অপ্রতুলতাকে এড়িয়ে গিয়ে শিথিলতার এই সিদ্ধান্ত কতখানি আত্মঘাতী হতে পারে তা নিয়ে সাংবাদিকরা এক ঘন্টা ধরে নানা প্রশ্ন করে গেছে কিন্তু প্রিমিয়ে আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশাবাদী। যদিও ডাক্তাররা এরপর লাল জোন থেকে কালো জোনে যাওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। লেটস সি।

Sunday, 18 April 2021

এল।আই।জি চিত্র নায়িকা কবরী

বাবু সারোয়ারকে বিয়ে করে কবরী তখন নারায়নগঞ্জে থাকেন, আব্বুর সাথে বিয়ে হয়ে আম্মিও তখন নারায়নগঞ্জে কাছাকাছি ভাড়া বাসায় সংসার পেতেছেন। আব্বুর সাথে আম্মির প্রথম দেখা সিনেমা “নীল আকাশে নীচে” নায়িকা কবরী। আত্মীয় না হয়েও কত শত মানুষের সুখ-দুঃখের স্মৃতিতে তারকারা জড়িয়ে থাকেন। সুচন্দা, শাবানা, ববিতা, শাহনাজ রহমতুল্লাহ, এদের মত তিনি নিজের কাজ নিয়ে, জীবন দর্শন নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন না। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত নিজের কাজকে ভালবেসেছেন, কাজ করেছেন, ব্যক্তিত্ব ধরে রেখেছেন, নায়িকার মত সেজেছেন, জীবনকে উপভোগ করেছেন, অন্যদের উপভোগ করতে সাহায্য করেছেন। শী ওয়াজ সো স্টিক টু লাইফ এন্ড লাইভ। দুই হাজার নয় সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয় সংসদ নির্বাচন করেছেন এবং এম।পিও হয়েছেন। সেসময় আমি দেশে ছিলাম। নির্বাচনের দিন মেজ মামীর সাথে ফোনে কথা হচ্ছিলো, ফোন ছাড়ার সময় মামী বললো, “যাই, কবরীকে ভোটটা দিয়ে আসি”। পুরুষভোটারদের দু-চারটে ভোট যদি অন্য প্রার্থী পেয়েও থাকেন, নারী ভোটারদের ভোট একচেটিয়া কবরী পেয়েছিলেন। কিন্তু নারায়নগঞ্জবাসীদের সেই ভালবাসা তিনি ধরে রাখতে পারেননি। তাদের ভাষায়, রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি ছিলেন নিতান্ত অসৎ, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ এবং অধনস্তদের সাথে প্রচন্ড তার দুর্ব্যবহার। দুই-তিন বছর আগে প্রথম আলোতে যখন তার সাক্ষাৎকার ছাপা হয় “আমি একেবারে একলা মানুষ” আমার বুকের মধ্যে গিয়ে লেগেছিলো তার কথাগুলো। এই একাকীত্ব আমার বড্ড চেনা। আমি আমার চেনা বেশ কয়েকজনকে এই সাক্ষাৎকার লিঙ্কটি দিয়েছিলাম। যাদের নিয়ে হাজারো মানুষ স্বপ্ন দেখে, যাদের ছবি কতজনের ঘরে শোভা পায় তারা এক কাপ চা হাতে মন খুলে গল্প করার জন্যে একজন মনের মত সাথী হাতড়ে বেড়ায়। এদিক দিয়ে অনেকেই আছেন, ববিতা, রেখা, হেমা মালিনী, আফসানা মিমি আরো অনেকে। একাকী মানুষের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই যাচ্ছে। নিঃসঙ্গ মানুষ বাঁচার জন্যে কাজকে আঁকড়ে ধরে, কাজ করতে ভালবাসে, কাজের মধ্যেই তাদের বসবাস, কবরীও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। সিনেমাতেই নিজেকে সমর্পণ করেছিলেন। কবরী, ববিতা, সুবর্না মুস্তফা, আফজাল, আসাদ, আসাদুজ্জামান নূর, ফেরদৌসী মজুমদার, তারিক আনাম এদের সাথে আমাদের পুরো জীবন কেটেছে। কেউ না হয়েও তারা আমাদের। তাদের মৃত্যু, তাদেরকে হারানোর ব্যথা আমাদেরকে শোকাতুর করে নিতান্ত আপনজন হারানোর মতই। ভালবাসা কবরী আপনাকে।

Friday, 16 April 2021

দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – তেরোই এপ্রিল ---- ইজ দেয়ার এনি লাইট ইন দ্যা টানেল?

প্রিমিয়ে মার্ক রুতে জীবন এখন দুটি ভাগে বিভক্ত। একদল যারা সমানে অভিযোগ করেই যাচ্ছে, রেস্টুরেন্টে যেতে পারছে না, কনসার্টে যেতে পারছে না, পার্টি করতে পারছে না। আর একদল যারা হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে। এখন প্রায় আড়াই হাজার করোনা রোগী হাসপাতালে, যাদের মধ্যে আটশোকে ইনটেন্সিভ কেয়ার দিতে হচ্ছে, এবং যারা মারা যাচ্ছে তাদের অনেকেরই বয়স ষাটের নীচে। একশো ষাট হাজার সংক্রমিত রোগী নিয়ে গত বছরের এপ্রিল মাসের মতই আমরা এখনও সংক্রমণের শীর্ষে আছি। অন্যসব চিকিৎসা এখন স্থগিত করা হয়েছে। এই মুহূর্তে স্বাস্থ্যখাত সবচেয়ে ব্যয়বহুল খাত আর স্বাস্থ্যকর্মীরা পাগলের মত ব্যস্ত রয়েছেন। কিন্তু জীবন থেমে থাকছে না। ভ্রমণ, শিক্ষা, নিঃসংগতা, বিনোদন, খেলাধূলা, রেস্টুরেন্ট সব জায়গায় সমস্যা বেড়েই চলছে। আঠাশে এপ্রিল থেকে শিথিলতার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। বিশে এপ্রিল সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। আপাতত একটি পরিবর্তন আসছে, উনিশে এপ্রিল থেকে ডে কেয়ার পুরোপুরি খুলে দেয়া হবে। হুগো দ্যা ইয়ং যদি সংক্রমণের তীব্রতা কমে আসে তবে আঠাশে এপ্রিল থেকে কার্ফিউ তুলে দিয়ে, দুজন মেহমান বাসায় ডাকার পার্মিশান দেয়া হবে। স্টেপ বাই স্টেপ আগানো হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দুই সপ্তাহ পর, চিড়িয়াখান, সুইংমিংপুল, বাইরে খেলার মাঠ এসব খুলে দেয়া যায় কিনা দেখা হবে। এভাবে ধীরে ধীরে গরমের ছুটির মধ্যে আর কি কি খুলে দেয়া যায় ভাবা হচ্ছে। চার মিলিয়ন মানুষকে ইতিমধ্যে ভ্যাক্সিন দেয়া হয়েছে, মধ্যে মে’র মধ্যে ষাটোর্ধ্ব সবাইকে ভ্যাক্সিন দেয়া হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। জুলাইয়ের প্রথম দিকের মধ্যে সবাইকে অন্তত একটি ডোজ দেয়া হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। উনিশো একান্ন সালের আগে যাদের জন্ম তারা ইচ্ছে করলে ভ্যাক্সিনের জন্যে এপয়ন্টমেন্ট নিতে পারে। ভ্যাক্সিন দেয়ার জন্যে একশোতম টিকা কেন্দ্র খোলা হয়েছে আর এই উইকএন্ডে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ টিকা নেয়ার জন্যে নিজেদের নাম রেজিস্ট্রেশান করেছে। বারবার স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে, এস্ট্রোজেনিকা ভ্যাক্সিন ষাটোর্ধ্ব মানুষের জন্যে নিরাপদ, ষাটের কম বয়সীদেরকে অন্য কোম্পানীর ভ্যাক্সিন দিতে হবে। সাংবাদিকঃ আইসিইউ নিয়ে এত সমস্যা, তারপরও কেন এতদিনে আইসিইউর সংখ্যা বাড়ানো হলো না? প্রিমিয়ে রুতেঃ দুটো পন্থা আছে, অন্য রোগী সরিয়ে করোনা রোগীকে আইসিইউ দিয়ে দেয়া, তাহলে আবার অন্য ডিপার্টমেন্টের পরিকল্পনা ইত্যাদিতে চাপ পড়ে। দুই, হাসপাতালের রিকনস্ট্রাকশান করে আইসিইউর সংখ্যা বৃদ্ধি করা, সেটা করতে গেলে বছরের পর বছরের সময় দরকার, মানুষকে ট্রেনিং দেয়া দরকার, ইকুইপমেন্টস দরকার যদিও আমাদের পরবর্তী পরিকল্পনায় এই জিনিসগুলো আছে (সত্যিই মিনিস্টার প্রেসিডেন্ট!!!!!) সাংবাদিকঃ এতদিনে পরিস্থিতির তেমন কিছু পরিবর্তন হয়নি, আঠাশে এপ্রিলের আছে আর দু সপ্তাহ, তারমধ্যে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি আশা করাটা কি খানিকটা অবাস্তব নয়? প্রিমিয়ে রুতেঃ আমরা প্রতি সপ্তাহে পরিস্থিতির পর্যালোচনা করবো, আঠাশে এপ্রিল সম্ভব না হলে আরো দুই সপ্তাহ বেশী দেখবো নইলে আরো দুই/তিন সপ্তাহ, অন্য কোন উপায় এই মুহূর্তে আমাদের হাতে নেই। সাংবাদিকঃ আঠারোর নীচে যাদের বয়স, তাদের টিকা দেয়ার কথা কি ভাবা হয়েছে? স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুগোঃ যাদের স্বাস্থ্য সমস্যা আছে তাদেরকে প্রায়োরাটাইজ ক্যাটাগরীতে টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। বয়সানুযায়ী বাকীদের টিকা দেয়া হয়ে গেলে, ষোল থেকে আঠারোদেরও টিকা দেয়া হবে। তার নীচের বয়সীদের ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উপদেশ চাওয়া হয়েছে, এখনো তারা কিছু জানাননি। যারা যারা এস্ট্রোজোনিকার টিকা নিচ্ছেন না তাদের জন্যে সুখবর হলো, তাদের দ্বিতীয় ডোজ অনেক তাড়াতাড়ি সম্পন্ন হবে স্টক এভেইলেবিটির কারণে। সাংবাদিকঃ এক্সেস/প্রবেশ পরীক্ষা করার জন্যে আপনাদের যে এক বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করার কথা ছিলো, বিশেষজ্ঞদের মতে আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ার কারনে সেটি নাকি পুরোটাই ভুল দিকে গেছে? হুগো দ্যা ইয়ংঃ আমি পুরোটা ঠিক জানি না, এটি শুরু করার জন্যে প্রথম ধাপে আমরা পাঁচ মিলিয়ন ইউরো খরচ করেছি, আমরা এখন দ্বিতীয় ধাপে আছি, এটি পরিচালনার জন্যে আমাদের মিলিয়ন মিলিয়ন ইউরোর দরকার কিন্তু এখন পাইলট প্রজেক্টে ইউরো যাচ্ছে, বস্তা বস্তা ইউরোতো কোথাও রাখা নেই। তবে সামনের ধাপের জন্যে নাম লেখানো শুরু হয়েছে, সামনের ধাপ থেকে এই প্রজেক্টে বিনিয়োগ করা হবে। “ওপেন নেদারল্যান্ডস” একটি অলাভজনক অর্গানাইজেশান যারা যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পে অংশ গ্রহণ করতে চায় তাদেরকে বিনিয়োগ করতে বলেছে। মাসে কত টেস্টের দরকার হতে পারে সেটি নিয়েও গবেষণা চলছে। ইউরোপীয়ান মেডিসিন এক্ট বাইপাস করেই এগুলো করা হচ্ছে, কারণ বেশীর ভাগ সময়ই তারা খুব বেশি সময় নেয়। বারবার করে প্রিমিয়ে রুতে আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুগো বলেছেন, কখন কি কতটুকু খোলা হবে তার কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। একটি পদক্ষেপ নেয়ার পর দুই তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করে তার ফলাফল দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। এখনের সম্ভাব্য পরিকল্পনা পুরোই পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। রোড ম্যাপ পরিকল্পনামত এগোলে এগারোই মে থেকে ফিটনেস সেন্টার খোলা হবে আন্ডার রেস্ট্রিকশান। তারপরও ফিটনেস থেকে মেইল চলে এসেছে তারা রেডী দুবাহু বাড়িয়ে “ওয়ার্ম ওয়েলকাম” জানাতে। সবকিছুর পরেও জীবনের দিকে ধাবমান এই জগৎ।

Monday, 29 March 2021

দৌড়ে কচ্ছপ জিতেছে আমরা সবাই জানি – খরগোশের গল্পটি?

কার্যত পৃথিবীশুদ্ধ সবাই, কচ্ছপের উদাহরণ দিয়েই যায়, অবিচল থাকা আর নিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে বলেই যায়, স্থির কিন্তু ধীরে চলতে থাকলে প্রতিযোগিতা জেতা যায়। আচ্ছা, কেউ কি কখনো খরশোসের কাছে তার নিজের গল্পটি জিজ্ঞেস করেছে? আমি আপনাকে গল্পটি বরং ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বলি… আমি খরগোশের মনের কথা শোনার জন্যে একদিন তার সাথে বসেছিলাম পরিচিত হওয়ার জন্যে গ্রীস্মের একটি বিকেল বেছে নেই আমরা, বলতে দ্বিধা নেই দুজন দুজনের সাথে চমৎকার সময় কাটিয়েছি। বিশ্বাস করুন .. দুর্দান্ত একটি অভিজ্ঞতা ছিল, “হ্যাঁ, আমিই সেই খরগোশ যে হেরে গেছি। না, আমি অলস বা আত্মতুষ্ট হইনি। আচ্ছা, বরং গল্পটি বলি, আমি পাহাড়ের কাছাকাছি তৃণভূমিতে লাফিয়ে লাফিয়ে যাচ্ছিলাম, পেছনে ফিরে দেখছিলাম কচ্ছপটিকে কোথাও দেখা যায় কিনা। নিজের ওপর আস্থা রেখে ভাবলাম,পুকুরের কাছের বিরাট বটগাছের ছায়ায় একটু জিরিয়ে নেই। প্রতিযোগিতার ভাবনায় সারারাত ঘুমোতে পারিনি। দিনের পর দিন, বুড়ো নির্বোধ খরগোশটি বিরতিহীন কয়েশ মাইল চলার ক্ষমতা নিয়ে গর্ব করেই যাচ্ছিলো। জীবন হলো ম্যারাথনের মত সুস্থির হেঁটে চলা, প্রতিযোগিতার মত উর্ধ্বশ্বাসে দৌঁড়ে চলা নয়। গাছের ছায়াটা ছিল ছাতার মতো। আমি প্রায় ডিমের মত একটি পাথর খুঁজে পেয়ে তাকে ঘাস দিয়ে ঢেকে বালিশ বানিয়ে নিলাম। শুয়ে শুয়ে আমি পাতার শন শন কাপুঁনির শব্দ আর মৌমাছির গুঞ্জন শুনছিলাম – মনে হচ্ছিলো তারা আমাকে ঘুম পারাতে শুধু সাহায্যই করছে না, ষড়যন্ত্রও করছে। তাদের কৃতকার্য হতে বেশি সময়ও লাগেনি। নিজেকে আমি সুন্দর জলের স্রোতের ধারার মধ্যে বয়ে যেতে দেখলাম। যখন তীরে এসে পৌঁছলাম, তখন আমি একজন বৃদ্ধ মানুষকে দেখতে পেলাম যার বিস্তীৰ্ণ দাড়ি ভর্তি মুখ, ধ্যানের ভঙ্গিতে পাথরের ওপর বসে ছিলো। তিনি চোখ খুললেন, বিজ্ঞের হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কে?" “আমি একটা খরগোশ। আমি একটি দৌড় প্রতিযোগিতায় আছি " "কেন?" "জঙ্গলের সমস্ত প্রাণীকে প্রমাণ করতে যে আমিই দ্রুততম।" "কেন নিজেকে দ্রুততম প্রমাণ করতে চাও?" “যেনো এমন একটি পদক পাই যা আমাকে সম্মান দেবে, টাকা দেবে, খাবার দেবে ..." "চারপাশে ইতিমধ্যে অনেক খাবার আছে” তিনি দূর থেকে বনের দিকে ইশারা করলেন। "ফল এবং বাদামে ভরা সমস্ত গাছের দিকে তাকাও, দেখো গাছ ভর্তি করা শাক পাতা” “কিন্তু আমি সম্মানও চাই। আমি এই মুহূর্তে বেঁচে থাকা দ্রুততম খরগোশ হিসাবে স্মরণীয় হতে চাই। " "তুমি কি দ্রুততম হরিণ বা বৃহত্তম হাতি বা সবচেয়ে শক্তিশালী সিংহের নাম জানো যা তোমার আগে হাজার বছর বাস করেছিল?" "না" “আজ তোমাকে কচ্ছপ দিয়ে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। কাল, দেবে সাপ দিয়ে। পরশু হবে জেব্রা। তুমি কি নিজেকে দ্রুততম প্রমাণের জন্যে সারা জীবন দৌড় চালিয়ে যাবে? " “হু। আমি এটি ভাবিনি। আমি সারা জীবন প্রতিযোগিতা করতে চাই না। " "তুমি তবে কি চাও?" পাতার কাঁপন আর মৌমাছির গুঞ্জনের মধ্যে একটি বটগাছের নীচে বালিশ বানিয়ে ঘুমিয়ে পরতে চাই। আমি পাহাড়ের কাছাকাছি তৃণভূমির পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতার কাটতে চাই ” “তুমি কিন্তু এই মুহূর্তে এই সমস্ত জিনিস করতে পা্রো। প্রতিযোগিতা ভুলে যাও। তুমি আজ আছো কিন্তু কাল থাকবে না।“ ঘুম ভেঙে গেলো। পুকুরে ভেসে থাকা হাঁসগুলিকে খুব সুখী লাগছিল। আমি এক মুহুর্তের জন্য তাদের চমকে দিয়ে পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়লাম। তারা প্রশ্নবোধক চোখে আমার দিকে তাকিয়েছিল। "তোমার না আজ কচ্ছপের সাথে দৌড় প্রতিযোগিতার কথা না?" ‘এটা অর্থহীন” । একটি নিরথর্ক চর্চা। আমি এখানেই থাকতে চাই। আশাকরি কোনদিন কেউ এই পৃথিবীকে আমার গল্প বলবে। আমি প্রতিযোগিতা হেরেছি কিন্তু জীবন ফিরে পেয়েছি। জীবন কে পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করতে হবে, আজ, কাল, প্রতিটি দিন। এই ছুটে চলা, প্রতিযোগিতা, সব বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমার মনে হয় আমার জীবনকে আমার মানদণ্ডে যাপন করা উচিত, বিশ্বের মতো নয়। মূলঃ অন্তর্জাল ভাষান্তরঃ তানবীরা হোসেন