Tuesday, 30 November 2021

বিশ্ব বদলে দেওয়া যত ডাচ আবিষ্কার

https://bangla.bdnews24.com/kidz/article1977178.bdnews বিশ্ব বদলে দেয়া ডাচ আবিস্কারসমূহ বিশ্ব মানচিত্রে বলতে গেলে যার অবস্থান খুঁজে পাওয়া দুস্কর, মাত্র বেয়াল্লিশ হাজার ছয়শো উনাশি বর্গ কিলোমিটারের দেশ নেদারল্যান্ডস এবং জনসংখ্যা মাত্র এক কোটি সত্তর লক্ষ। কিন্তু তাদের আবিস্কারের ইতিহাস বিশাল। "God created the earth, but the Dutch created the Netherlands", সমুদ্র থেকে বাঁধ দিয়ে দেশকে রক্ষা করা, সমুদ্রের লোনা পানি বাঁধের ভেতরে এসে মিঠে পানিতে রুপান্তরিত হয়ে যাওয়ার গল্পতো এখন পুরনো। বাঁধের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশ সহ বহু দেশ অনেক উপকৃত হয়েছে এবং এখনো এই নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের কিছু কিছু আবিস্কার বিশ্ববাসীর জীবনকে কতভাবে বদলে দিয়েছে আজকে আমি সে গল্পটি লিখবো। ওয়াইফাইঃ ইন্টারনেট ছাড়া আধুনিক পৃথিবী অচল। একুশ শতাব্দীর মাইলফলক আবিস্কার। ইন্টারনেটকে ঘরে ঘরে সহজলভ্য, ব্যবহারপোযোগী ও সায়শ্রী মূল্য এনে দিয়েছে ওয়াইফাই (WIFI). চব্বিশ ঘন্টা অনলাইন, টিভি, ফোন, মোবাইল, ট্যাব একটা বাড়িতে কত ডিভাইস আর সবই চলছে ওয়াইফাইতে। উনিশো নব্বই সালে নেটওয়ার্ক বিজ্ঞানী ভিক্টর হেইস আর কেইস লিঙ্কস প্রথমে ওয়েভল্যানের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন যা পরে নিউখেইনে এসে ওয়াইফাইয়ে রুপান্তর হয়। বিজ্ঞানী ভিক্টর হেইসকে “ফাদার অফ ওয়াই-ফাই” উপাধি দেয়া হয় আর কেইস লিঙ্ককে বলা হয় “ইন্টারনেটের অগ্রদূত”। হাই ফিডেলিটি আর ওয়ারল্যাস শব্দ দুটো থেকে “ওয়াইফাই” নামটির উৎপত্তি। আজকে আমরা ওয়াইফাইয়ের যে রুপটি দেখছি সেটি এসেছে অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি সিএসআইআরও এর দ্বারা উনিশো সাতানব্বই সালে। এটি ইলেকট্রো ম্যগনেটিভ ওয়েভ বা রেডিও ওয়েভ ব্যবহার করে। এর নাম কিন্তু প্রথমে Wifi ছিলো না, এটি “কে 802.11” নামে পরিচিত ছিলো। একটি সুন্দর নামের জন্যে ব্র্যান্ড তৈরী করা সংস্থা ইন্টারব্র্যান্ডকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো যারা এই ওয়াইফাই নামটি নিয়ে এসেছিলো। উনিশো নিরানব্বই সালের আগষ্টে প্রথম ওয়াইফাই নামটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। সম্ভবত আমার এই লেখাটা আপনি এখন ওয়াইফাইয়ের সাহায্যেই পড়ছেন। ব্লু টুথঃ ওয়াইফাইয়ের পরে অন্তর্জালে মোটামুটি সবচেয়ে পরিচিত শব্দ ব্লু টুথ। ডাচ ইঞ্জিনিয়ার ডঃ ইয়াপ হার্টসেন উনিশো নব্বই সালে ডিভাইসের মধ্যে ওয়্যারলেস সংযোগের ধারণাটি প্রবর্তন করেন। তখন তিনি সুইডিশ টেলিকমুউনিকেশান কোম্পানী এরিকসনে কাজ করতেন। উনিশো নব্বই সালে ডঃ ইয়াপ হার্টসেন ইউরোপীয় পেটেন্ট অফিস কর্তৃক ইউরোপীয় আবিষ্কারক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। "ব্লুটুথ" নামটি ড্যানিশ রাজা হ্যারাল্ড ব্লোট্যান্ডের উপনামের একটি ইংরেজী ভাষান্তর। দশম শতাব্দীতে, ডেনমার্কের দ্বিতীয় রাজা ডেনমার্ক এবং নরওয়ের জনগণকে একত্রিত করার জন্য স্ক্যান্ডিনেভিয়ান প্রবাদে বিখ্যাত ছিলেন। ব্লুটুথ স্ট্যান্ডার্ড তৈরিতে, এরিকসন মোবাইল টেকনোলজি টিম বিশ্বাস করেছিলো যে তারা আসলে পিসি এবং মোবাইল শিল্পকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে অনুরূপ কিছু করছে। তাই এই নামটিই প্রাধান্য পেলো। লোগোটি একটি ভাইকিং শিলালিপি, যা বাইন্ড রুন নামে পরিচিত, যেটি রাজার দুটি আদ্যক্ষর একসাথে যোগ করেছে। ডঃ ইয়াপ হার্টসেনের নামে দুই শতাধিক পেটেন্ট রয়েছে, এমেরিকার “ন্যাশনাল ইনভেন্টরস হল অফ ফেমে” টমাস এডিসন, হেনরি ফোর্ড, রাইট ভাই এবং স্টিভ জবস সহ অন্যান্যদের সাথে তার নামও অন্তর্ভুক্ত। ব্যাক্তি জীবনে এতটাই সাধাসাধি ইয়াপ যে ড্রেন্টের মিডিয়ামার্কেটের ব্লু টুথ ডিপার্টমেন্টে দাঁড়িয়েও কেউ জানে না পাশেই এর জনক থাকেন। ডঃ ইয়াপ হার্টসেন ডাচ পত্রিকা আলখেমেইনে ডাগব্লাদকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, ব্লু টুথ আবিস্কার নিঃসন্দেহে আমার জীবনের মাইলফলক কিন্তু আমি নিজেকে টমাস আলভা এডিসনের সমকক্ষ মনে করি না। আর এই সাদাসাদি সাইকেলে চড়া জীবন আবার খুব প্রিয়, খ্যাত হয়ে বিড়ম্বনায় পরতে চাই না। স্লট ডিজিটাল কোডিং সিস্টেমঃ খ্রোনিংখেনে জন্ম নেয়া ডাচ ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার রোমকে ইয়ান বের্নহার্ড স্লট উনিশো পচানব্বই সালে একটি ডেটা শেয়ারিং টেকনিক আবিস্কার করেছেন যা দিয়ে একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল মুভি ফাইলকে পাঁচশো বারো কিলোবাইটে রুপান্তর করে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। ইয়ান স্লট যখন তার আবিস্কারকে জনসম্মুখে নিয়ে আসার জন্য বিনিয়োগকারী খুঁজে পেয়ে কন্ট্রাক্ট সাইন করবেন বলে সব ঠিক হয়েছে ঠিক তার একদিন আগে এগারোই জুলাই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। সম্পূর্ণ সোর্স কোডটি পুনরুদ্ধার করা হয়নি, প্রযুক্তি ও দাবীটিও আর পুনরুৎপাদন কিংবা যাচাই/পরীক্ষা করা হয়নি। এসডিসিএস ডিজিটাল স্টোরেজের জন্য একটি নতুন বর্ণমালা যা বাইনারি কোড ব্যবহার করে নি, কিন্তু অনেক বেশি কার্যকর পদ্ধতি। এসডিসিএস এর প্রযুক্তি খুব সহজ। একটি টেক্সট সীমিত সংখ্যক অক্ষর নিয়ে গঠিত, তেমনি একটি সিনেমাতে সীমিত পরিমাণে রং এবং শব্দ থাকে। সেই সমস্ত মৌলিক তথ্য পাঁচটি অ্যালগরিদমে পাঁচটি মেমরি স্টোরে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। চলচ্চিত্রের জন্য, প্রতিটি অ্যালগরিদমের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য চুয়াত্তর এমবি। এটি মোট তিনশো সত্তর এমবি। প্রযুক্তিটি শুরু করার জন্য, শুধুমাত্র একটি সঠিক ভিত্তির প্রয়োজন ছিল। একটি বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠার জন্য, একটি চলচ্চিত্রের প্রতিটি ছবির জন্য, স্লট একটি একক কোড গণনা করে। এই কোডগুলির সংযোজন আবার একটি একক কোডে পরিণত হবে। সিনেমার দৈর্ঘ্য বা বইয়ের আকার নির্বিশেষে চূড়ান্ত কোডটির ভিত্তি দৈর্ঘ্যে এক কিলোবাইট হবে। কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক রুল পাইপার এ ধরনের উচ্চ পর্যায়ের সংকোচনের সম্ভাবনা নিয়ে মানুষের সংশয়ের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “প্রত্যেকেই এটি সম্পর্কে ভুল ধারনা করে। এটি সংকোচনের বিষয় নয়। প্রযুক্তিটিকে অ্যাডোব-পোস্টস্ক্রিপ্টের ধারণার সাথে তুলনা করা যেতে পারে, যেখানে প্রেরক এবং প্রাপক জানেন যে কোন ধরণের ডেটা রেসিপি স্থানান্তর করা যেতে পারে, প্রকৃতপক্ষে ডেটা নিজেই প্রেরণ না করে।" ক্যাসেট-সিডি-লেজার ডিস্ক-ডিভিডিঃ শুধু মিউজিক সিস্টেম বানিয়ে ফিলিপ্স হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি, মিউজিক সিস্টেম ব্যবহার করার জন্যে যা যা আনুষাঙ্গিক জিনিস প্রয়োজন তাও বানিয়েছে ফিলিপ্স। লু ওটেন্স আর তার টিমের দ্বারা উনিশো তেষট্টি সালে বেলজিয়ামের হ্যাসেল্টে শুরু হয়েছিলো ক্যাসেটের উৎপাদন। এমেরিকান পদার্থবিদ জেমস রাসেল উনিশো পয়ষট্টি সালে মার্কিন শক্তি বিভাগের ব্যাটেল মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউট দ্বারা পরিচালিত প্যাসিফিক নর্থওয়েস্ট ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে কাজ করার সময় এটি নিয়ে চিন্তা করেছিলেন। অপটিক্যাল ডিজিটাল রেকর্ডিং (ওডিআর) নামে পরিচিত তার ধারণা ছিল রেকর্ডিং এবং প্লেব্যাক করার জন্য লেজার ব্যবহার করে আলোক সংবেদনশীল ফিল্মে তথ্য সংরক্ষণ করা। উনিশো চুয়াত্তর সালে, ওডিআর তার কাজের জন্য, রাসেলকে আএর এন্ড ডি হানড্রেড পুরস্কারে সম্মানিত করে। উনিশো আশি সালের মধ্যে তিনি প্রথম ডিস্ক প্লেয়ার তৈরি করেছিলেন। উনিশো বিরাশি সালের অক্টোবরে ফিলিপ্স প্রথম অডিও সিডি রিলিজ করে। এই যুগান্তকারী উদ্ভাবনের জন্যে দুই হাজার নয় সালে ফিলিপস IEEE মাইলফলক পুরস্কার পেয়েছিল। দুই হাজার পনের সালের জানুয়ারিতে, সিডি ফিলিপ্সের সবচেয়ে মূল্যবান আবিস্কার হিসাবে পুরস্কৃত হয়েছিল, যা আইন্ডভেনস ডাগব্ল্যাডের পাঠক এবং ওমরুপ ব্রাবান্টের শ্রোতাদের পাশাপাশি ফিলিপস রিসার্চ কর্মীদের ভোট দ্বারা নির্বাচিত হয়েছিলো। জনগণ এবং রিসার্চ ফেলো উভয়ই বিজয়ী হিসাবে সিডিকে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বসম্মত ছিলেন। প্রতিফলনের নীতি অনুসরণ করে ফিলিপ্স একটি ভিডিওডিস্ক তৈরি করেছিলো, উনিশো বাহাত্তর সালে এমসিএ’র সাথে মিলিত হয়ে তাদের প্রযুক্তিটিকে একত্রিত করে তারা এটি বাজারে আনে। ভিসিআর চালু হওয়ার দুই বছর পর, উনিশো আটাত্তর সালে এগারোই ডিসেম্বর জর্জিয়ার আটলান্টা বাজারে লেজারডিস্ক প্রথম পাওয়া যায়। সিডি’র উন্নত বিবর্তিত প্রক্রিয়া হলো ডিভিডি। এটা আসলে কোনো একক ব্যক্তির অবদান নয়, বরং অনেক মানুষ এবং অনেক কোম্পানির অবদান। এটির দুটি গঠন প্রক্রিয়া ছিলো। এমএমসিডি ফর্ম্যাটটি ফিলিপ্স ও সনি দ্বারা প্রবর্তিত হয়েছিল। এত গবেষণা-আলোচনা যে নাটল্যাবে হয়েছে সেখানে গেছি কতবার, কত ট্রেনিং এ। ছোটবেলায় ক্যাসেট তারপর সিডি। আমাদের ঘরে ঘরে যেসব ব্যবহার করেছি তার জন্ম হয়েছিলো এই স্থানে। কত মানুষের জীবন গড়ে দিয়েছে, আনন্দ-বেদনার কাব্য রচিত হয়েছে এই ঘরগুলোতে হাঁটতে হাঁটতে যখন ভাবতাম গা কেমন শিরশির করে উঠতো। দ্যা আই টেস্টঃ যারা যারা চোখের ডাক্তারের কাছে গিয়েছি চোখ পরীক্ষার জন্যে, ছোট অক্ষর – বড় অক্ষর সব পড়তে হয়েছে। আর এভাবে চোখ পরীক্ষার এই পদ্ধতিটি আবিস্কার করেছেন ডাচ চক্ষু বিশেষজ্ঞ হ্যারমান স্ন্যালেন। আঠারশো বাষট্টি সালে “ভিজ্যুয়াল একুইটি” নির্ধারন করার জন্যে যে চার্টটি তিনি প্রণয়ন করেন তাকে “স্ন্যালেন চার্ট”ও বলা হয়, যা খুব দ্রুত সারা বিশ্বে ছড়িয়ে যায় এবং চোখ পরীক্ষার সাবর্জনীন মানদন্ডে পরিনত হয়। এই আবিস্কারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি যাকে স্ন্যালেন “অপটোটাইপস” বলেছিলেন, বিশেষভাবে ডিজাইন করা পাঁচ বাই পাঁচের অক্ষরগুলো। স্ট্যান্ডার্ড ফন্ট ব্যবহার না করে এগুলো ব্যবহার করলে অনেকটা নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা যায়। সাধারণ দৃষ্টিশক্তিকে অপটোটাইপ অক্ষরের একটি লাইন সঠিকভাবে পড়তে ব্যবহার করা হয়েছিলো যাতে পাঁচ মিনিটের চাপ যুক্ত করা হয়েছিলো এবং এক মিনিটের চাপ আলাদা করা হয়েছিলো (D); V= d/D.। স্ন্যালেন চার্ট আবিস্কারের পর অন্য যেকোনো পোস্টারের থেকে সবচেয়ে বেশি কপি খোদ যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হয়েছে। একুশ শতাব্দীতেও বিশ্বব্যাপী চিকিৎসাক্ষেত্রে মানদন্ড হিসাবে রয়ে গেছে। অনেক অনেক ভারী ভারী তত্ত্ব নিয়ে এতক্ষণ আলোচনা হলো, এবার অন্যকিছুঃ গাজরঃ গাজরের রঙ কেন কমলা? এর সাথে কি নেদারল্যান্ডসের রাজ পরিবার যাদের “হাউজ অফ অরানিয়া” কিংবা “কমলা বাড়ি” বলা হয় তাদের কোন যোগাযোগ আছে? চিরকালই কি গাজর কমলা রঙের ছিলো? জবাব হলো, না, গাজর আসলে কমলা রঙের ছিলো না। এমেরিকার মত জায়ান্ট দেশের পরই কৃষিকাজে পৃথিবীতে দ্বিতীয় স্থানে আছে নেদারল্যান্ডসের মত আয়তনে পুঁচকে একটি দেশ। কথিত আছে, সতেরশো সালের দিকে যখন ডাচল্যান্ড স্প্যানিশ কলোনী ছিলো তখন কমলা রাজপুত্র উইলিয়াম ফ্রেডেরিক, যে কিনা নেদারল্যান্ডসকে উদ্ধার করে, সংগঠিত করার জন্যে ডাচ বিদ্রোহের নায়কও ছিলো, তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ডাচ কৃষকেরা সাদা, বেগুনী গাজরের পরিবর্তে কমলা গাজরের পরীক্ষামূলক চাষাবাদ শুরু করে। কমলা গাজর স্বাদ ও পুষ্টিগুনে পৃথিবীব্যাপী দারুণ সমাদৃত হয় এবং ডাচ রাজ পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় এর ব্যাপক চাষাবাদ শুরু হয়। যদিও জনপ্রিয় এই গল্পটি জেনেটিসিস্টদের দ্বারা মূলত বাতিল হয়ে গেছে। গবেষকরা প্রথমবারের মতো গাজরের জিনোম সম্পূর্ণরূপে ম্যাপ করে দেখেন যে, মিউটেশনের ফলে রোমান সাম্রাজ্যের দিনগুলিতে কমলা গাজর প্রথম দেখা দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে গাজর প্রকৃতপক্ষে তাদের কমলা রঙের জন্য ডাচ কৃষকদের দ্বারা চাষাবাদ করা হয়েছিল, কিন্তু পরিবেশবিদ ক্লাস ভ্রিডলিং ভক্সক্রান্টকে বলেছিলেন যে 'কমলা গাজর আগেও ছিল তার ভাল প্রমাণ রয়েছে।' যারা জানেন না তারা জেনে নিন, গাজর অনেক অনেক রঙে এসেছে - লাল, বেগুনি, সাদা এবং কালো। তবে কমলা গাজরের সাথে কমলা রাজপরিবারের যে ক্ষীণ একটা সম্পর্ক আছে সেটা ইতিহাসে জাজ্বল্যমান। সাবমেরিনঃ যুদ্ধ কিংবা সীমান্ত পাহারায় সাবমেরিন আজ একটি অতি পরিচিত নাম। ডাচ বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশলী কর্নেলিস ইয়াকোবসজন ড্রেবল ষোলশ কুড়ি সালে পানির নীচে চলার উপযোগী ও কার্যকারী সাবমেরিন প্রথম ডিজাইন করেছিলেন। তিনি তখন বৃটিশ রাজকীয় নৌবাহিনীতে কাজ করছিলেন, তিনি চামড়া ঢাকা কাঠের ফ্রেমের চলাচল যোগ্য সাবমেরিন তৈরি করেছিলেন। এর প্রথম পরীক্ষামূলক ভ্রমণ টেমস নদীতে হয়েছিলো। ষোলশ বিশ থেকে ষোলশ চব্বিশের মধ্যে ড্রেবেল আরও দুটি সাবমেরিন সফলভাবে তৈরি ও পরীক্ষা করে, প্রতিটি আগেরটির চেয়ে বড়। চূড়ান্ত (তৃতীয়) মডেলটিতে ছয়টি ওয়ার ছিল এবং ষোল জন যাত্রী বহন করতে পারে। এই মডেলটি রাজা প্রথম জেমস এবং কয়েক হাজার লন্ডনবাসীর কাছে প্রদর্শিত হয়েছিল। সাবমেরিনটি তিন ঘন্টার জন্য পানিতে নিমজ্জিত ছিল এবং ওয়েস্টমিনস্টার থেকে গ্রিনউইচ যেতে ও আসতে পারতো, বারো থেকে পনের ফুট (চার থেকে পাঁচ মিটার) গভীরতায় ভ্রমণ করতে পারে। ড্রেবেল এমনকি রাজা জেমসকেও এই সাবমেরিনে টেমসের তলদেশে একটি পরীক্ষামূলক ডাইভে নিয়ে যান, যার ফলে রাজা জেমস হলো প্রথম রাজা যিনি পানির নিচে ভ্রমণ করেন। এই সাবমেরিনটি টেমস-এ বহুবার পরীক্ষা করা হয়েছিল কিন্তু নৌপ্রধানকে এটি যথেষ্ট আকৃষ্ট করতে পারেনি আর তাই এটি কখনও যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়নি। দ্যা স্টক মার্কেটঃ বিশ্বব্যাপী কিপ্টে হিসেবে বেনিয়া ডাচদের খানিকটা নাম আছে। এরমধ্যে প্রচলিত ও জনপ্রিয় হলো “গোয়িং ডাচ”, যার মানে, একসাথে সবাই খেতে গেলেও যার যার খরচ সে নিজে পরিশোধ করবে। এই কিপ্টে ডাচেরাই স্টক মার্কেট চালু করে পৃথিবীশুদ্ধ বানিজ্যের ধারনা পরিবর্তন করে দিলো। আধুনিক বিশ্বে এর মাধ্যমে এখন হাজার হাজার মানুষের ভাগ্য বদলে যায়। ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দীর্ঘ বাণিজ্য-ভিত্তিক সমুদ্রযাত্রার অর্থায়নের উপায় হিসাবে, ডাচ আইনপ্রণেতা এবং ব্যবসায়ীরা ষোলশ দুই সালে প্রথম শেয়ার বাজার উদ্ভাবন করেছিলেন। সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রত্যেককে সমুদ্রযাত্রায় বিনিয়োগের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। মূলধন বাড়াতে কোম্পানিটি স্টক বিক্রি করার এবং বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারপর ষোলশ এগারো সালে, আমস্টারডাম স্টক এক্সচেঞ্জ তৈরি করা হয়েছিল। বহু বছর ধরে, ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা করা এক্সচেঞ্জে একমাত্র ব্যবসায়িক কার্যকলাপ ছিল। স্টক মার্কেটের ব্যাপক প্রসার ষোলশ দশকের নেদারল্যান্ডসের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করেছিল। শুধু স্টক মার্কেট নয়, উনিশো আটাশি সালে “ফেয়ার ট্রেড লেবেল”ও বাজারে নিয়ে আসে দুইজন ডাচ। এই সার্টিফিকেট পাওয়া পন্যগুলো বাইরের বাজারে সব ভোক্তাদের কাছে ন্যায্য দামে পৌঁছাতে পারে। এটি গ্রাহক ও উৎপাদক উভয়ের মাঝেই এই বিশ্বাস ও সাম্যতার প্রতীক। দ্যা অলিম্পিক ফ্লেইমঃ উনিশো আটাইশ সালে, স্থপতি ইয়ান উইলস আমস্টারডামের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে কাজ করছিলেন। তিনি একটি লম্বা টাওয়ারের নকশা করেছিলেন যেটি থেকে ধোঁয়া বের হয়েছিল। উইলস আগুনের শিখার চেয়ে ধোঁয়ার প্রতি বেশি মনোযোগী ছিলেন কারণ এটি দিনের বেলা আরও দৃশ্যমান হবে। তারপর থেকে, আগুন অলিম্পিকের একটি ঐতিহ্যগত অংশ হয়ে ওঠে, যদিও উনিশো ছত্রিশ সাল বার্লিন গেমস পর্যন্ত ক্রীড়াবিদরা এই ফ্লেইমটি বহন করেন নি। বহুল আলোচিত ডাচ আবিস্কারের মধ্যে আরো আছে মাইক্রোস্কোপ, টেলিস্কোপ, ম্যান মেইড আইল্যান্ড, ফায়ার হোস, স্পীড ক্যামেরা ইত্যাদি। অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং নিয়ম মানা ডাচ জাতি খুব বেড়াতে ভালবাসে। আড়ম্বরহীন স্বভাবের ডাচদের পৃথিবীর খুব কম কোনা আছে যেখানে খুঁজে পাওয়া যাবে না। সামান্য সুযোগ পেলেই পিঠে ব্যাকপ্যাক কিংবা ক্যারাভান নিয়ে বেড়িয়ে পরেছে। দুই হাজার আঠারো সালে ওইসিডি প্রকাশিত “উন্নততর জীবন সূচক” ক্যাটাগরিতে নেদারল্যান্ডস “ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্সে” বিশ্বে প্রথম স্থান অধিকারী রাষ্ট্র। কাজের আর বিশ্রামের এরকম সমন্বয় পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া ভার। তানবীরা হোসেন ০১/১১/২০২১

Thursday, 25 November 2021

বুক রিভিউ – প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ

সেমিটিক ধর্মের ধারনা আর সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নিয়ে পাঠা মৌলবাদী আরিফের সাথে কথাকথিত যুক্তিবাদী সাজিদের তর্ক হয়। কথাকথিত যুক্তিবাদী সাজিদ সারারাত আরিফের যুক্তিগুলো ভাবে। বইআনুসারে এত অকাট্য সব যুক্তি ছিলো যে তাতে মানসিকভাবে পরাস্ত সাজিদ সকালেই শক্ত ভাবে ঈমান আনে, এবং আর কোনদিন পথচ্যুত হয় না। বইয়ের শুরুটি হয় এভাবে। সৃষ্টিকর্তার সন্ধান পেতে বা তার কাছাকাছি যেতে মুনী, ঋষি, দরবেশ, আউলিয়ার কথাতো বাদ, স্বয়ং নবী মুহাম্মদ (সাঃ)কে পনের বছর হেরা পর্বতের গুহায় সাধনা করতে হয়েছিল। আর সাজিদ তার সন্ধান পেয়ে যায় মাত্র এক সন্ধ্যায়, ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং না? হ্যাতেরে খানিকটা মুফাসসিল ইসলামের মত লাগে না? সুবিধামত এদিকে আর ওদিকে। লেখক তার বইয়ে আনন্দাশ্রু গোপন করেন নাই, তিনি লিখেছেন, “ জানিস, এক সময় যুবকেরা হিমু হতে চাইতো। হলুদ পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে, মরুভূমিতে গর্ত খুঁড়ে জ্যোস্না দেখার স্বপ্ন দেখতো। দেখিস, এমন একদিন আসবে, যেদিন যুবকেরা সাজিদ হতে চাইবে। ঠিক তোর মত।“ কথা বিফলে যায় নাই, পাঠা থেকে রাম পাঠায় পুরো উপমহাদেশ সয়লাব। আসেন বই থেকে এবার দুইটা জ্ঞানের কথা শুনি ---- স্রষ্টা কেন মন্দ কাজের দায় নেবেন না? আল্লাহতায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। মানুষকে হাত-পা-চোখ-নাক, কান, মুখ, মস্তিস্ক এসব দিয়ে দিয়েছেন। সাথে দিয়েছেন একটি স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি। এখন এসব ব্যবহার করে সে যদি কোন ভাল কাজ করে, তবে তার ক্রেডিট স্রষ্টাও পাবেন কারণ যন্ত্রগুলো আল্টিমেটলি তার দান। আর এসব ব্যবহার করে মানুষ যদি কোন খারাপ কাজ করে তার দায় সম্পূর্নই মানুষের, জিনিস আল্লাহর দান হলেও এখন আর তিনি দায়ভার নেবেন না। কারণ তারে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়েছিলো ভাল কাজ করতে, করে নাই সেটার দায় তার। এবার আসি একটি সাম্প্রদায়িক আয়াত এবং আয়াতটি হলোঃ “হে বিশ্বাসীরা! তোমরা মুমিন ব্যতীত অন্য কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না।“ লেখকের মতে এর আসল মানে হলো, “ হে বিশ্বাসীরা! তোমরা অমুসলিমদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করো না।“ কারণ একজন অভিভাবক হলো সে-ই, যে আমাদের যাবতীয় গোপন খবর জানবে, আমাদের শক্তি, আমাদের কৌশল, আমাদের দুর্বলতা জানবে। অমুসলিমরা আমাদের সিক্রেট জানলে হিতে বিপরীত হতে পারে। যেমন, এমেরিকা, রাশিয়া বা চীনের কাছে তার সামরিক শক্তির কথা ফাঁস করে না। তো, কনক্লশান টানলে বোঝা যায়, অমুসলিমদের সাথে মুসলিমদের বন্ধুত্ব হবে এমেরিকার সাথে চীনের মত। হুম, উদাহরণ তো আছেই সামনে, সুজলা সুফলা "সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি"র বাংলাদেশ। স্রষ্টা যদি দয়ালুই হবেন তাহলে জাহান্নাম কেন? বাঁচার উপকরণ, অর্থ্যাৎ লাইফ জ্যাকেট তোমার দিকে বাড়িয়ে দিয়েছি। এখন তুমি তোমার স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগ করে জ্যাকেটটি গ্রহণ করে প্রাণে বাঁচবে নাকি ডিনাই করে মৃত্যুকে বরণ করবে সেটা সম্পূর্ণ তোমার ব্যাপার। আমি ধরে নিচ্ছি পাঠা এখানে পবিত্র কোরানকে লাইফ জ্যাকেটের সাথে তুলনা করছে। আরজ আলী মাতুব্বরের মত আমি এখনো বুঝছি না, আমি সব কথা পালন করলে, স্রষ্টার দয়ালু হওয়ার অপশান কোথায়? আর কথা না শুনলে যদি শাস্তিই দেন তাহলে তিনি মানুষের চেয়ে উর্ধ্বে এই ধারনায় কি করে আসেন? রক্ত মাংসের মানুষের মতই তার অনুভূতি আর আচরণ, নয় কি? হুমায়ূন আজাদ, আরজ আলী মাতুব্বর, অভিজিৎ রায় এদের সাথে বাস্তবে পাঠাটার আই মিন লেখকের দেখা হইলে খাইতো দুইটা থাবড়া তাই সেদিক দিয়ে সে হাঁটে নাই। বাংলা সিনেমার আদলে স্বপ্ন দৃশ্য তৈরী কইরা সেই জ্যাম্বস গ্রুপের স্টাইলে ফাইট দিছে তাদের সাথে। তবে বাস্তবে তাদের সংস্পর্শে আসতে পারলে হয়ত এই বই অন্যভাবে লেখা হতো কিংবা আদৌ হতো না, অবশ্য তারা এই পাঠাকে তাদের সাথে কথা বলার যোগ্য ভাবতেন কিনা সেটা আলাদা তর্ক। পুরো বইটা পড়ে অবশ্য আমি একটা লাইনও খুঁজে পাইনি যেখানে পাঠাটা নতুন কিছু বলছে যেটা শুক্রবার শুক্রবার মসজিদের খুতবায় হুজুররা আগে বলে নাই যাহোক পরিশেষে বলি, এদের জ্ঞান দাও প্রভু এদের পাঠা আই মিন ক্ষমা করো।

Tuesday, 16 November 2021

“রেহানা মরিয়ম নূর”

“রেহানা মরিয়ম নূর” অনেকে বলছেন “ওভাররেটেড” আবার অনেকে বলছেন “মাস্টারপিস”। আমি বলবো, খুবই বাস্তবধর্মী একটি স্ক্রিপ্ট এবং অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানের। মেকিং খানিকটা ইরানী ছবিগুলোর সমতূল্য। বাংলাদেশে পড়াশোনা করা অনেক মেয়েই শিক্ষক বা হুজুরদের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যারা ফিজিক্যালি হয়নি তারাও ভারবাল এবিউজের স্বীকার হয়েছে। এধরনের বাস্তব সমস্যাগুলো এড়িয়ে চলচিত্র নির্মাতারা নিরাপদ স্ক্রিপ্টে কাজ করেন। সেদিক দিকে সাদের এই চেষ্টা সাহসী ও প্রশংসনীয়। সেট, সংলাপ, পোশাক সময়টিকে প্রচন্ডভাবে উপস্থাপন করে, কিছুই আরোপিত লাগেনি। রেহানা সারাক্ষণ মাথায় কাপড় দেয়া, বোরকা টাইপ পরা, যেটা অধুনা বাংলাদেশকেই উপস্থাপন করেছে। দু’একটা জিনিস না লিখলেই নয়, এনি যখন জিজ্ঞেস করলো, “ম্যাম আপনার সাথেতো কিছু হয় নাই, আপনি কেন এমন করতেছেন।“ এই কথাটি জিজ্ঞেস করলো ঘরের ভেতর, পরের দৃশ্য বারান্দায় এনিকে জড়িয়ে রেখেছে রেহানা। সম্ভবত প্রশ্ন করেছে রাতে আর জড়িয়ে ধরা দিনে। খাপছাড়া। পুরো সিনেমাটায় একটা ব্লু ফিল্টার দেয়া। এ দিয়ে পরিচালক বা চিত্রগ্রাহক কি বোঝাতে চেয়েছেন তারাই জানেন। দিন না রাত, আশেপাশে রঙ, ড্রেসের রঙ কিছুই ঠিক করে বোঝা যায়নি যেটি সিনেমাটার মান কমিয়েছে। আর ক্যামেরার কোন লং শট নেই বললেই চলে, টিভি নাটকের মত অভিনেতা অভিনেত্রীদের মুখে মুখে সেটে সেটে ক্যাম ধরা, সিনেমার ওয়াইড এংগেল ব্যাপারটা খানিকটা মিসিং। কাহিনী নিয়ে অনেকেই লিখেছেন আমি আর সেগুলোতে গেলাম না। একটা জিনিস খুবই চোখে লাগার মত, “রেহানা” চরিত্রটিকে যথেষ্ঠ সাহসী, আপোষহীন আর জেদী দেখানো হয়েছে। বাস্তবে এ ধরনের মানুষ খুব ঠান্ডা মাথার হয়, রেহানা চরিত্রটিকে এখানে কোথাও কুল দেখানো হয়নি। সিনেমার শেষ দৃশ্যটি, নিজের মেয়ের সাথে যা ব্যবহার দেখানো হলো, তাও একজন ডাক্তার, প্রফেশনাল মা চরিত্রের কাছ থেকে, এটি পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। ইউরোপে হলে, চাইল্ড এবিউজের চার্জ লাগতো গায়ে। এর বাইরেও, বাচ্চা মেয়েটির কষ্ট মা বুঝলো না, তাকে কিভাবে সান্ত্বনা দিতে হবে, মা জানে না, জানবে না! হইচইতে সৃজিতের সিরিজ “রেক্কা”তে বাঁধনের অভিনয় দেখেছিলাম আগে। নায়িকা হিসেবে সুন্দর সুন্দর ছবিতো দেখেছিই। এই সিনেমার গল্প আর ডিরেকশান দুটোই ভাল, বাঁধন শক্তিশালী অভিনেত্রী আর অভিনয়ও করেছে ভাল। এর বাইরে ব্যক্তি বাঁধনকেও আমার খুব পছন্দ। বাংলাদেশে বসবাসকারী মিডিয়াকর্মী হিসেবে তিনি যথেষ্ঠ বোল্ড। নুসরাত ফারিয়া টাইপ অভিনেত্রীরা যেখানে শুক্রবারে এক ঢং অন্যবারে অন্য ঢং করে সেখানে তিনি বেশ নিজের মত করে গুছিয়ে, ভনিতা ছাড়া নিজের জীবন যাপন করছেন। অনেকেই অবশ্য পরে বদলে গেছেন, আশাকরছি বাঁধন এরকমই থাকবেন, বদলাবেন না। নিজের কাজটাকে ভালবাসবেন, বিশ্বাস করবেন, সস্তা জনপ্রিয়তার লোভে জনগনের সাথে প্রতারণা করবেন না।
তানবীরা হোসেন ১৬/১১/২০২১

চোখবন্ধ অন্ধ সময়

ঝরঝরে বাংলায় লেখা বন্ধু লেখক শামীর রুনার প্রথম উপন্যাস “চোখবন্ধ অন্ধ সময়” পড়লাম। রুনার লেখার সাথে কমবেশি আমরা সবাই পরিচিত। মাঝে মাঝেই টাইমলাইনে এঁকে দেয় স্মৃতি জাগানিয়া, ব্যথা জাগানিয়া কিছু তুলি রেখা যা পড়লে ফেলে আসা শৈশব কৈশোরের জন্য মন উথালপাথাল করে। উপন্যাসটি আজকের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটকে তুলে ধরেছে। সামাজিক পরিস্থিতি, মানুষের মানসিকতা, রাজনীতি, দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপোড়েন, সমকামিতা সবই উঠে এসেছে এই উপন্যাসে। দুই প্রান্তের দুই নারীর জীবন সংগ্রাম এই উপন্যাসের উপজীব্য। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অঞ্জলি যে বিয়ের পরে হয়ে যায় রেহানা। সাথে আসে হিজাব। তারপর স্বামীর অনুমতিতে চাকুরী, সংসারের বাইরে যাতে যেতে না পারে সেজন্য চাই বাচ্চা। পরিচিত লাগছে না? দ্যা স্টোরি নেক্সট ডোর। সেখানেই কি থামে? না, কখনোই না, বউ কার সাথে কথা বলবে, কার সাথে বন্ধুত্ব করবে, কোন আত্মীয়ের বাসায় কতটুকু বেড়াতে যাবে সব ঠিক করে দেয় শাশুড়ি আর বর। এ পর্যন্ত ঠিক ছিলো। কিন্তু উপন্যাসে অঞ্জলি যখন শিকল ভাঙতে চাইলো, তখন অঞ্জলির মা এগিয়ে এলো যেটা আমার কাছে খুব বাস্তব লাগেনি। বেশির ভাগ মেয়েই পরিবারের সমর্থন পায় না, মানিয়ে নে, কি করবি, এটাই জীবন, এরকমই সব, এসব কথার মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে খুন পর্যন্ত হয়ে যায়। এছাড়াও, বন্ধু সুমন সাহায্য করতে এগিয়ে আসে যে কিনা সমকামী, সেটাও আমার কাছে খানিকটা লেখকের “ইজি এস্কেপ” মনে হয়েছে। সমকামী না হয়ে, বিপদে বন্ধুর সাথে আগের দিনের হৃদ্যতা ফিরে আসতে পারতো কিংবা ধরা যাক প্রেম হতে পারতো। তবে লেখক যেহেতু একটা নির্দিষ্ট সময়কে ফ্রেমবন্দী করতে চেয়েছেন, মুক্তচিন্তার মানুষদের ওপর হামলা ও হত্যাকে সাহিত্যের পাতায় স্থান দিয়েছেন তাই হয়ত পটভূমিটি এভাবে সাজিয়েছে। উপন্যাসের দ্বিতীয় চরিত্র মনীষাকে আমার কাছে অঞ্জলির চেয়েও শক্তিশালী মনে হয়েছে। দরিদ্র সনাতন ধর্মালম্বী নিতান্ত কিশোরী মেয়েটিকে, দূর গ্রামের এক মতলবী পাত্রের সাথে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। পণ নেবে না কিন্তু তাদের ধান্ধা অন্য। যে ধরনের সামাজিক পরিস্থিতি থেকে, ধর্মীয় চাপ অগ্রাহ্য করে, নিতান্ত শঙ্কা শঙ্কূল অজানার পথে পা বাড়িয়েছে সে, সেখানে ইতিবাচক পরিস্থিতি খুব কমই হয়, লেখককে ধন্যবাদ মনীষাকে আলোর দিকে ধরে রাখার জন্যে। ধর্মের নামে এই পীড়ন আর কতদিন? শেকল ভেঙে মনীষারা বাইরে আসুক, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে, নিজের অস্তিত্ব নিজে তৈরি করুক। নারীরা শিক্ষায়, কর্মে যতদূর এগিয়েছে, তাদেরকে সেভাবে গ্রহণ করার মানসিকতায় পুরুষেরা সেভাবে আগায়নি। সমাজও স্বাধীন মতামতের মেয়েদের গ্রহণ করতে এখনো প্রস্তূত হয়নি। বাড়ি থেকে মেয়েকে অফিস করতে যেতে দেয়, এইতো অনেক স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে, পুরুষের পাশে বসে কাজ করে মানেই অনেক আধুনিক। স্বাধীনতার এই সংঘর্ষ এক সময় অনিবার্য। ভেঙেচুরেই প্যাটার্ন তৈরি হয় আর হবে। অঞ্জলি আর মনীষাদের প্রতি অনুরোধ এই প্রতিবাদ যেনো তারা থামিয়ে না দেয়, তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আমরা যদি না লড়ি মা কেমনে সমাজ বদলাবে তোমার মেয়েরা লড়লেই মা গো রাত পোহাবে তবে। লেখার শুরুতে বলেছিলাম, রুনার কাব্যিক গদ্যের কথা, বই থেকে দুটো লাইন তুলে না দিয়ে পারছি না, “ মুহূর্তে বাঁচি আর সেসব মুহূর্ত জড়ো করে একটি জীবন গড়ি। পরের দিন আচমকা সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। মুহূর্তের বাঁচার জীবন মুহূর্তে থেমে যেতে পারে বৈকি!” কিছু মুদ্রন প্রমাদ আছে, সামনের সংস্করণে আশা করি শুধরে যাবে। চৈতন্য থেকে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি যারা পড়তে আগ্রহী (প্রবাসীরা) শুদ্ধস্বরের সাইটে গিয়েও পড়তে পারেন। সেখানেও ধারাবাহিকভাবে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে। আমি সেখানেই প্রথম পড়তে শুরু করি। একবার শুরু করলে গল্পই আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে, আপনাকে কষ্ট করতে হবে না।
তানবীরা হোসেন ১১/০২/২০২১

Monday, 15 November 2021

দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – সেকেন্ড নভেম্বর টুয়েন্টিটুয়েন্টি ওয়ান

প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুতেঃ আমি জানি ইতিমধ্যে সবাই জেনে গেছে, আজকের এই সংবাদ সম্মেলন খুব আনন্দের কিছু নয়। প্রতিদিন যারা নিউজ ফলো করছে তারা ইতিমধ্যে জানে, সংক্রমণ এবং হাসপাতালে ভর্তি দুটোর হারই অনেক বেড়েছে, দুঃখিত এ সময়ে আমাদেরকেও আরও কিছু সাবধানতা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। দুঃখজনক যে করোনার সাথে সম্পর্কিত সবকিছুই পরস্পরের মধ্যে বাদানুবাদে চলে যাচ্ছে। আজকের দিনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে সমাজে দুটো প্রতিপক্ষ তৈরী না হয়। বাস্তবতা হলো, কিছু কিছু মানুষ আছে যারা সব সময়ই সব নিয়মের বিরোধিতা করে। সাবধানী মানুষরা চায় কড়া নিয়মকানুন আর বেশীরভাগ মানুষ মাঝামাঝি কিছু একটা যায়। আসলে প্রত্যেকে নিজের অবস্থান থেকে সবকিছু বিবেচনা করে, সেটা অবশ্য যৌক্তিক। সব কিছুই আপেক্ষিক, তুমি কি বুড়ো না যুবক, বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ আছে কি নেই, শহরে ফ্ল্যাটে থাকো না গ্রামে বাড়িতে, পার্মানেন্ট চাকরি না ব্যবসা, ছাত্র না কর্মজীবি, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জটিলতা আছে কি নেই এবং করোনার টিকা নিয়েছো কি নাও নি। অন্যান্য দেশের মত আমরাও এই কারণগুলো নিয়ে যুদ্ধ করছি। বাস্তবতা হলো, যত দিন যাচ্ছে তত নতুন ভাবে এই ঢেউয়ের মোকাবেলা করতে হচ্ছে। সমস্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবার মন্ত্রীসভায় আমাদের একটি নতুন পরিকল্পনা বের করতে হয়। সত্যি কথা বলতে, এটিও একটি যুদ্ধ। আমরা এমন একটি দেশে বাস করি যেখানে প্রত্যেকে নিজের মতামত দিতে পারে, নিজের পছন্দে চলতে পারে, কাউকে বাদ দেয়া সম্ভব না। অন্যদিকে করোনা এমন একটি বিষয় যেটা শুধুমাত্র একতাবদ্ধ হয়েই মোকাবেলা করা যায়। সেখানে, স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়, অর্থমন্ত্রণালয়, পরিকল্পনামন্ত্রণালয়, সমাজসেবামন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিমন্ত্রণালয়, শহরের মেয়র প্রত্যেকের মতামতকে সমন্বয় করতে হয়। প্রত্যেকটি বিভাগই সমান গুরুত্বপূর্ণ আর কাউকে পূর্ণ অগ্রাধিকার দেয়া যায় না। এখন নতুন নিয়মগুলো নিয়ে কথা বলছি, যেসব নিয়ম চালু আছে সেগুলো থাকবে আর তার সাথে যোগ হবে, ভ্যাক্সিন নেয়া থাকলেও যদি সিমটম দেখা দেয় তবে পরীক্ষা করবে। পজিটিভ হলে বাড়িতে থাকবে এবং জিজিডির এডভাইস মেনে চলবে। ছয়ই নভেম্বর থেকে সবাইকে রেস্টুরেন্ট, জিম, ক্যান্টিন, স্টেডিয়াম, কনফারেন্স, সিনেমা, থিয়েটার, যাদুঘর, কালচারাল ক্লাব আর উৎসবগুলোতে করোনা/ভ্যাক্সিনের প্রমাণ দেখাতে হবে। ছয় তারিখ থেকে স্টেশান, এয়ারপোর্ট, সরকারী অফিস, হাসপাতাল, লাইব্রেরী, দোকান, নার্সিং হোম, কেয়ার হোম সব জায়গাতেই মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলোতেও হাঁটাহাঁটি করার সময়, ক্যান্টিনে বসে গল্প করার সময় মাস্ক পরতে হবে। বিউটিশিয়ান, মাসাজ, ফিজিওথেরাপিস্ট সবার জন্যে মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হলো। যৌনকর্মীরা শুধু এর বাইরে থাকবে। যেখানে যেখানে করোনা/ভ্যাক্সিনের প্রমাণ দেখাতে হবে, সেখানে মাস্ক পরতে হবে না। সব নিয়ম মানা হচ্ছে কিনা সেটা দেখার দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানের, জরিমানা বা শাস্তি দেয়া সবচেয়ে শেষ পদক্ষেপ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুগো দ্যা ইয়ংঃ ভ্যাক্সিন নিয়ে কথা বলতে গেলে আজকাল কেউ কেউ হুমকিও দিচ্ছে কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখনই এই সংক্রমণের গতি থামানো না গেলে ডিসেম্বরে এখনের চেয়ে ডবল মানুষ আইসিইউতে শয্যাশয়ী থাকবে। কিন্তু আমরা চাই করোনা রোগী ছাড়াও অন্য রোগীদেরও সমান স্বাস্থ্য সেবা দিতে। তাই সর্তক হয়ে পা ফেলতে হবে। রেস্টুরেন্ট, ক্যাফের মালিকরা তাদের কর্মচারীদের কাছে করোনা/ভ্যাক্সিন সার্টিফিকেট চাইতে পারে। অন্যান্য কর্মস্থলে এটি আসতে পারে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও আমরা এটি চালু করার কথা ভাবছি। যেসব শহর আর গ্রামে ভ্যাক্সিন নেয়ার পার্সেন্টেজ কম আর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা বেশি সেখানে এটিকে বাধ্যতামূলক করা না হলেও তার কাছাকাছি করা হবে যাতে বেশি মানুষ ভ্যাক্সিন নেয় এবং সংক্রমণ কমে আসে। হাসপাতালে এখন যারা ভর্তি আছে তাদের প্রায় সবাই ভ্যাক্সিন না নেয়া মানুষেরা। বারোই নভেম্বরে ক্যাবিনেটে এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ডিসেম্বর থেকে আশির বেশি বয়স, অসুস্থ আর দুর্বল স্বাস্থ্যের মানুষদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বুস্টার ডোজ দেয়া হবে। তারপর সত্তর, ষাট, স্বাস্থ্যকর্মীরা পাবে। এদের সবার হয়ে গেলে অন্যরাও নিতে পারবে। যারা যারা এখনো ভ্যাক্সিন নিতে ভয় পাচ্ছেন, তারা যেকোন প্রশ্নের উত্তরের জন্যে জিজিডি অফিসের ভেতরে চলে যেতে পারেন, ওয়েবসাইটে তথ্য আছে পড়ে দেখতে পারেন। যারা ভাবছেন, ভ্যাক্সিন নিলে তাদের প্রজননশীলতা নষ্ট হতে পারে তাদেরকে বলছি, এটি মোটেও সত্য নয়, এসব অসত্য ধারনার মধ্যে নিজেকে আর আটকে রাখবেন না, আরও ভাবুন। অন্যদের জন্যে নয়, নিজের জন্যে, সমাজের জন্য ভাবুন। সময় এখনো পেরিয়ে যায় নি। সাংবাদিকঃ ক্যাবিনেটে প্রথমে আলোচনা হয়েছিলো, যারা এখনো ভ্যাক্সিন নেয়নি শুধুমাত্র তাদের জন্যে আলাদা বিধি নিষেধ আসবে কিন্তু এখন আপনি সবার জন্যেই বিধি নিষেধ নিয়ে এসেছেন, ব্যাপারটা কি ঠিক হলো? প্রিমিয়ে রুতেঃ যারা ভ্যাক্সিন নিয়েছে তাদের শুধু কিউ আর কোড দেখালেই হবে আর যারা ভ্যাক্সিন নেয়নি তাদের প্রতিবার পরীক্ষা করিয়ে রেজাল্ট দেখাতে হবে, সুতরাং তাদের ব্যাপারটা কঠিনই থাকবে। সামনের দিনগুলোতে আইসিইউ’র অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে নিয়মের ধরন হয়ত আবারো বদলে দেয়া হতে পারে। সাংবাদিকঃ কিউ আর কোড সবসময় সঠিক নিশ্চয়তা দিতে পারে না। ভ্যাক্সিন নেয়া মানুষেরওতো করোনা হচ্ছে। হুগো দ্যা ইয়ংঃ সেটা সত্যি। তবে ইউরোপে যেহেতু কিউ আর কোড সেন্ট্রাল, তাই কেউ কোভিড পজিটিভ হলেই আমরা তার কিউ আর কোড ফিরিয়ে নিতে পারি না। সাংবাদিকঃ আপনি চান মানুষেরা শরীরচর্চা করুক আবার জিমে যেতে প্রত্যেকবার করোনা টেস্ট করতে হবে বলছেন, অনেক ঝামেলা না? হুগো দ্যা ইয়ংঃ সামান্য একটু ঝামেলার বিনিময়ে সব শরীরচর্চার সুযোগ খোলা রাখা হয়েছে। আর হাসপাতালের আইসিইউতে যাওয়ার চেয়ে অনেক কম ঝামেলাতো এটা বটেই। সাংবাদিকঃ অন্যভাবে মানুষকে ভ্যাক্সিন নিতে বাধ্য করছেন, এইতো? হুগো দ্যা ইয়ংঃ ইটালী-ফ্রান্সে যেমন মানুষকে চাকুরী থেকে বিদায় করে দিচ্ছে আমরা সেরকম কোন কিছুই করছি না।
তানবীরা হোসেন ১৬/১১/২০২১

Sunday, 14 November 2021

দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – বারোই নভেম্বর টুয়েন্টিটুয়েন্টি ওয়ান

প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুতেঃ ষোল হাজার তিনশো চৌষট্টি নতুন সংক্রমণ এই মুহূর্তে, করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে নেদারল্যান্ডসের সর্বোচ্চ সংক্রমণ রেকর্ড। তাও যারা শুধু টেস্ট করিয়েছেন, সবাই টেস্ট করায় না, তাই ধরে নেয়া যায়, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। ভাগ্যিস বেশির ভাগ মানুষই ভ্যাক্সিন নেয়া তারপরও হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর ভিড়ে আবারও হার্ট, হাঁটু ইত্যাদি অপারেশানগুলো দ্বিতীয়বার তৃতীয়বারের মত পেছাতে হচ্ছে। সামনের তিন সপ্তাহের জন্যে আমরা পার্শিয়াল লক ডাউনে যাবো, এই নিয়মগুলো সবার জন্যে প্রযোজ্য হবে, ভ্যাক্সিন নেয়া কিংবা না নেয়া সবাই এর আওতায় পরবে। কারণ ভ্যাক্সিন কখনোই শতভাগ প্রতিরক্ষা দিতে পারে না। ক্যাবিনেট থ্রিজি করোনা নেগেটিভ টেস্ট, ভ্যাক্সিন সার্টিফিকেট এবং করোনা থেকে সুস্থ হওয়া মানুষজন থেকে টুজিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাতে শুধু ভ্যাক্সিন সার্টিফিকেট এবং করোনা থেকে সুস্থ হওয়া মানুষজন বাইরের ইভেন্টগুলোতে আসতে পারবে। কাল থেকে বাসায় তের বছরের বেশি চারজনের বেশি মেহমান ডাকা যাবে না। হোম অফিস। যেখানে করোনা সার্টিফিকেট আবশ্যিক নয়, দেড় মিটারের সামাজিক দূরত্ব বাধ্যতামূলক। স্পোর্টসক্লাব, পাব্লিক ট্রান্সপোর্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর আওতায় পরবে না। এসেনশিয়াল দোকান আর রেস্টুরেন্ট ছাড়া সবকিছু ছয়টায় বন্ধ করে দিতে হবে। এসেনশিয়াল দোকান আর রেস্টুরেন্ট আটটায় বন্ধ করে দিতে হবে। তবে রেস্টুরেন্টে টেকওয়ে চলতে পারে। থিয়েটার, সিনেমা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যেখানে বসার জায়গা নির্দিষ্ট করে দেয়া আছে সেখানে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সকাল ছয়টা বন্ধের নিয়ম প্রযোজ্য নয়। তবে বারোশো পঞ্চাশ জনের বেশি মানুষ এক জায়গায় বসতে পারবে না। খেলাধূলা সব চলতে পারে তবে দর্শকবিহীন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতি ক্লাশে পচাত্তর জনের বেশি বসতে পারবে না। তবে এই নিয়ম পরীক্ষা জন্যে না। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাই সাবসিডি খুব শীঘ্রই আবার শুরু করা হবে। ডিসেম্বরের তিন তারিখে আবার কথা হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুগো দ্যা ইয়ংঃ নট এসেনশিয়াল দোকানগুলোতে করোনা সার্টিফিকেট দেখানোর কথা ভাবা হচ্ছে। কর্ম প্রতিষ্ঠানেও করোনা সার্টিফিকেট দেখানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এতে করে যারা ভ্যাক্সিন নেয়নি তারা হয়তো ভ্যাক্সিন নেবে আর তাতে সুরক্ষা শক্তিশালী হবে। যদি অবস্থা অনেক খারাপ হয় যে অনলাইন স্কুলিং শুরু করতে হয় তাহলে হাইস্কুলেও হয়ত করোনা সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হবে। যেসব অনুষ্ঠান আর জায়গায় মানুষ খুব কাছাকাছি আসে সেখানে আমরা টুজি বাস্তবায়ন করবো। যারা টুজির বাইরে তাদের হাসপাতালে যাওয়ার সম্ভাবনা সাইত্রিশ ভাগ আর আইসিইউতে যাওয়ার সম্ভাবনা তেত্রিশ ভাগ। তবে নির্দিষ্ট বসার জায়গা থাকলে কর্ম প্রতিষ্ঠান করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ সার্টিফিকেটে দেখানোর মাধ্যমে মানুষকে কাজে আসার সুযোগ দিতে পারে। সাংবাদিকঃ সংক্রমণ ঠিক কত টুকু নীচে নামলে পার্শিয়াল লক ডাউন তুলে নেয়া হবে? প্রিমিয়ে রুতেঃ এটা ঠিক একটা নির্দিষ্ট সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। এই মূহুর্তে পুনঃ সংক্রমণ (রিপ্রডাকশান) হার শতকরা বিশ ভাগ। এটি এবং অন্যান্য পরিসস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার ওপর আমরা সিদ্ধান্ত নেবো। সাংবাদিকঃ এক কোটি আঠারো লক্ষ মানুষের জন্যে তিনশো চল্লিশটি আইসিইউ খুব সামান্য নয়? দেড় বছরেও কেন চিকিৎসাক্ষেত্র প্রসারিত হলো না? হুগো দ্যা ইয়ংঃ আসলে চিকিৎসাক্ষেত্র অনেকটাই প্রসারিত করা হয়েছে। এখন সমস্যা হলো, কোভিডের পাশাপাশি অন্য চিকিৎসাগুলোও চলতে হবে, সেখানেও মানুষ দরকার আর সমস্যা হচ্ছে সে জায়গাটায়। সাংবাদিকঃ আপনারা বারবার ভাইরাসকে বাধা দেয়ার কথা বলছেন, সেটা কখন আর কিভাবে? হুগো দ্যা ইয়ংঃ বড় বড় গ্রুপ থেকে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়াবে, বেশি মেলামেশা থেকে সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়ে, এটিকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আমরা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছি, এটাকেই বাধা দেয়া মনে করছি। সেজন্যে টুজি স্ট্যান্ডার্ড প্রয়োগ করছি। সাংবাদিকঃ প্রিমিয়ে রুতে আপনি বলছেন, কর্ম প্রতিষ্ঠানে টুজি বাধ্যতামূলক করা হবে, আপনি নেদারল্যান্ডসের সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সবচেয়ে বড় কর্মকর্তা, তার মানে কি সব সরকারী কর্মচারীদের টুজির আওতায় আনা হবে? প্রিমিয়ে রুতেঃ এ নিয়ে আলোচনা চলছে, আলোচনা হবে তবে আমি এর পক্ষে, খুবই পক্ষে। সাংবাদিকঃ যদি তারা এতে রাজী না হয়? প্রিমিয়ে রুতেঃ তাহলে তাকে বাসা থেকে কাজ করতে বলা হতে পারে, কিংবা অত্যন্ত প্রয়োজন না থাকলে অফিসে আসতে নিষেধ করা হতে পারে। সাংবাদিকঃ অনেককেই চাকুরী থেকে বিদায় জানানো হচ্ছে, এটি কি সে ধরনের কিছু পরিকল্পনা? প্রিমিয়ে রুতেঃ না, অবশ্যই না, চাকুরী থেকে বিদায় জানানোর কিছু নেই এর মধ্যে, কিছুতেই না। সাংবাদিকঃ গত বছর শুনেছিলাম ভ্যাক্সিন এলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, এবছর আবার বলছেন, ভ্যাক্সিনই সব সমাধান নয়। এর শেষ কোথায় তবে? হুগো দ্যা ইয়ংঃ গত বছরের সাথে এবছরের পার্থক্য হলো, আজ বারোই নভেম্বরে যতজন পেশেন্ট আইসিইউতে আছে, গত বছর বারোই নভেম্বরেও ঠিক ততজন পেশেন্টই আইসিইউতে ছিলো। তবে গত বছর আর সব চিকিৎসা বন্ধ ছিলো, এ বছর সে চিকিৎসাগুলো হচ্ছে। আর একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হলো, গত বছর এসময় কড়া লকডাউন চলছিলো, এ বছর অনেক নিয়ম খুব শিথিল। সংক্রমণ সামনের বছরও থাকবে তবে এবারের চেয়ে কম। আমাদের লক্ষ্য প্রতিবছর সংক্রমণ কমিয়ে আনা। দেড় মিলিয়ন মানুষ যারা আজও ভ্যাক্সিন নেয়নি তারা নিজেদের জন্যে এবং অন্যদের ঝুঁকি বহন করছে। সাংবাদিকঃ চুল কাটার দোকান কিংবা রেস্টুরেন্ট এগুলো সন্ধ্যা বেলায় খোলা থাকলে কি সমস্যা? ভাইরাসের জন্যে সকাল সন্ধ্যা কতটা জরুরী? প্রিমিয়ে রুতেঃ যোগাযোগ খানিকটা নিয়ন্ত্রণের জন্যে এটি করা। আশাকরি মানুষ বুঝবে। সবাই যদি প্রাথমিক নিয়মগুলো মেনে চলতো তাহলেতো এটিরও দরকার পড়তো না। সাংবাদিকঃ ফাইজারের টিকা শিশুদের জন্য অনুমোদন পেয়েছে, নেদারল্যান্ডস এই নিয়ে কি ভাবছে? হুগো দ্যা ইয়ংঃ বারো বছরের নীচে দুর্বল স্বাস্থ্যের শিশু যারা তাদের ভ্যাক্সিনের কি করা যায় আলোচনা চলছে। আমি বারো বছরের নীচের শিশুদের ভ্যাক্সিন দেয়ার পক্ষে নই যদিও এই পরিস্থিতিতে কিচুই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। সাংবাদিকঃ করোনা সহসা আমাদের থেকে যাবে না, এই সত্যটা বলে দেয়াই কি সততা নয়? হুগো দ্যা ইয়ংঃ আমি কখনো বলিনি শীতের পর করোনা চলে যাবে। আমাদের প্রতিদিন করোনার সাথে কি করে ভাল করে থাকা যাবে সেটা শিখতে হচ্ছে। প্রতি শীতেই করোনা কি রূপে আমাদের কাছে ফিরে আসবে সেটাও আমরা জানি না। আমাদের সেটার জন্যে প্রস্তূতি নিতে হবে। সাংবাদিকঃ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি যেসব উপদেশ দেয় আর আপনারা এখানে এসে যেগুলো আমাদের বলেন দুটোর মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকে কিন্তু। হুগো দ্যা ইয়ংঃ অবশ্যই। আমাদেরকে শুধু দুর্যোগ ব্যবস্থপনা কমিটি উপদেশ দেয় না, উপদেশ আমরা অন্য জায়গা থেকেও পাই, সমস্ত উপদেশের ওপর ভিত্তি করে ক্যাবিনেটে যে সিদ্ধান্ত হয় সেটাই আমরা এখানে এসে সবাইকে জানাই। সাংবাদিকঃ এসব নিয়মগুলো যারা ভ্যাক্সিন নিয়েছে তাদের প্রতি অন্যায় নয়? হুগো দ্যা ইয়ংঃ দেখো, অসুস্থ মানুষ হাসপাতালে এলে তাকে চিকিৎসা দিতে হবে, ভ্যাক্সিন দিয়েছে কি দেয়নি তার ওপর সেটা নির্ভর করবে না।
https://www.prothomalo.com/world/europe/%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A8-%E0%A6%B2%E0%A6%95%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A7%81%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A6%B8-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%B6-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A7%8B%E0%A6%AD%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%98%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B7-- তানবীরা হোসেন ১৫/১১/২০২১

Friday, 12 November 2021

পূর্ব পশ্চিম

পূর্বে যদি কোন মানুষের “সিজোফ্রেনিয়া” র লক্ষণ দেখা দেয় তাকে বলবে “জ্বীনের আছড় হইছে” । ওঝা’র কাছে নেবে, হুজুর আনবে, ঝাড়াবে, পেটাবে, বেঁধে রাখবে কিন্তু কখনো “মন বৈকল্য” হয়েছে ভেবে ডাক্তার দেখাবে না। পশ্চিমে “সিজোফ্রেনিয়া” র লক্ষণ দেখা দিলে তাকে ডাক্তার দেখাবে, দরকারে কড়া ডোজের ওষুধ দিয়ে হাসপাতালের কেয়ারে রাখবে। বিনা অনুমতিতে কোন “জ্বীন” এখানে কাউকে ধরে না, মজার কথা হলো আরব দেশগুলোতেও “জ্বীন আছড়” করে না। কারো যদি “এপিলেপসি” থাকে তাহলে তাকে পাড়াময় নাম দেবে “মৃগী রোগী” বলে। খিঁচুনি হলে নাকে “জুতো” ধরে রাখবে। অথচ এটি স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতাজনিত একটি রোগ। দূর্ভাগ্যজনক ভাবে এই রোগটি বিশেষভাবে চোখে পড়ে, নিম্ন আয়ের দেশে। তবে পশ্চিমে বিরল হলেও এটি আছে। এখানে অ্যান্টি-এপিলেপটিক ওষুধ ব্যবহার করে রোগ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করে, প্রয়োজনে অপারেশান করে। অনেক সময় রোগীকে ড্রাইভিং, সুইমিং ইত্যাদিতে বারন করে দেয়া হয়। যতদিন সম্পূর্ন সুস্থ না হয় ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করে না। “ইন্টারসেক্স” জটিলতা নিয়ে বাচ্চারা জন্ম নিলে তাদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা করে ঠিক করা হয় না। বাবা-মায়ের নিয়তি বলে তুলে দেয় হাতে, নাম হয় “তৃতীয় লিংগ” । বাবা-মায়েরা তাদের রাস্তায় ফেলে দিয়ে নিজেদের নাক-কান রক্ষা করে, শুরু হয় মানব সন্তানদের মানবেতর জীবন যাপন। অথচ পশ্চিমে সাথে সাথে ‘normalising’ সার্জারি করে সেটি ঠিক করে বাবা মায়ের হাতে দেয়া হয়। তারপরও দরকারে হরমোন চিকিৎসা ইত্যাদি দেয়া হয়। পূর্বে বাচ্চারা মিথ্যে কথা বললে, খেলতে গিয়ে অন্যের জিনিস নিয়ে এলে যাকে বলে চুরি করলে, এরোগেন্ট আচরন করলে, বাচ্চাকে বখা কিংবা খারাপ বাচ্চা কনক্লুশেন টেনে মাইর দিয়ে সোজা করে ফেলা হয়। পরিবারময়, পাড়াময় মানসিক নির্যাতন করে জনমের মত অপরাধী বানিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। পশ্চিমে এগুলোকে অস্বাভাবিক আচরণ বলে ডায়গোনসিস করা হয় এবং ছোট থেকে ছোট বয়সেই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সিমটমগুলোকে এডিডি, এডিএইচডি ইত্যাদি ভাগে বিভক্ত করে এর চিকিৎসা/কাউন্সেলিং করা হয়। পশ্চিমের ডাক্তারের মতে, শিশু নিরাপদ বোধ করছে না তাই মিথ্যে বলছে। বাচ্চার মিথ্যে বলার জন্য বাচ্চা নয় দায়ী বাচ্চার বাবা-মা কিংবা পরিবেশ। পিতামাতার কাজের প্রতিক্রিয়া হলো বাচ্চার আচরণ। সম্প্রতি বহুল আলোচিত সিনেমা “রেহানা মরিয়ম নূর” নিয়ে অনেক রিভিউ পড়লাম। আমি মনে করতে পারছি না, কোন রিভিউতে “চাইল্ড এবিউজ” ব্যাপারটি উঠে এসেছিলো কিনা। সবাই প্রতিবাদী রেহানা নিয়ে কথা বলছে, কিন্তু এটা দ্যা সেইম টাইম, সে নিজের বাচ্চার প্রতি এবিউজিভ আচরণ করছে যেটা নিয়ে কেউ কথা বলছে না। বিশেষ করে, সিনেমার শেষ দৃশ্যটি একদম অগ্রহণযোগ্য। আমার দৃষ্টিতে তার কারণ, সম্ভবত, এ ধরনের আচরণকে আমাদের দেশে খুব সাধারণ হিসেবে ধরা হয়, দেখা হয়, এবিউজ ভাবাই হয় না। তাই সাদ এটি সানন্দে তার ওয়ার্ল্ড ক্লাশ সিনেমায় ঢুকিয়েছেন আর দর্শকরা সেটি স্বাভাবিক ধরে নিয়ে দেখছেন। পশ্চিমারা বাহাবা দিচ্ছে। তাই বলছিলাম কি, মনোবিজ্ঞান একটি পরিপূর্ণ বিজ্ঞান আর মানসিক স্বাস্থ্য শারীরিক স্বাস্থ্যর মতই সমান গুরুত্বপূর্ণ। এটিকে স্বীকার করুন, সহমর্মিতা গড়ে তুলুন। ডাক্তারের পরামর্শ নিন। সুস্থতা নিজের জন্যে দরকার, সমাজের জন্যেও দরকার। আজকের বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে আরও অনেক বেশী দরকার।
তানবীরা হোসেন ১২/১১/২০২১