সৃষ্টির আদিকাল থেকে মানুষ জীবিকার সন্ধানে এদিক সেদিক ছুটছেন যার যার সামর্থ্য আর যোগ্যতানুযায়ী। কেউ মুন্সীগঞ্জের লঞ্চে ওঠে সদরঘাট নামে আর কেউ কুর্মিটোলার প্লেনে ওঠে ভিন দেশে নামে। যার যার যোগ্যতানুযায়ী তাকে অনেক ধরনের ট্যারা ব্যাঁকা প্রশ্নের মাধ্যমে ঝাঝড়া হয়ে, তীক্ষন এক্সরে মার্কা দৃষ্টির সামনে ফালা ফালা হয়ে তার গন্তব্যের টেবলে পৌঁছতে হয়। এরমধ্যে অনেক প্রশ্নই থাকে নেহাত গৎবাঁধা আর বেহুদা। প্রশ্নকর্তাকে যেহেতু কোন একদিন ইন্টারভিউতে এপ্রশ্ন করা হয়েছিল, তাই তিনি আজ সেই প্রশ্ন প্রতিশোধমূলকভাবে তার অধঃস্তনকে ফিরিয়ে দিয়ে তার উশুল তুলবেন টাইপ ব্যাপার।যেমন ফালতু প্রশ্ন তেমন তেলানী উত্তর। যুগ যুগ ধরে এই মিথ্যের বেসাতী চলছে চলবে টাইপ অবস্থায় পৌঁছে গেছে।তার সামান্য একটু নমুনা আজ পেশ করছি।
প্রশ্নঃ এই কোম্পানীতে কেনো কাজ করতে চাও?
সত্যি উত্তর মনে মনেঃ এই কোম্পানীতে এই পোষ্টটা খালি আছে, অন্য কোম্পানীতে নাই তাই চাই, শালা। তাছাড়া এই কোম্পানীর বেতন - বোনাস ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ভালো।
মিথ্যে উত্তর সামনা সামনিঃ এই কোম্পানী অনেক স্বনামধন্য। অর্থনীতি, সমাজে অনেক অবদান রেখেছে। নিজেকে উন্নত করার এবং নিজের প্রতিভা দ্বারা কোম্পানীর ও কাজের মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখার সুযোগ পেতে চাই এন্ড সো অন সো অন
প্রশ্নঃ তোমার জব প্রোফাইলের কোন কাজটা তোমার কাছে আকর্ষনীয়?
সত্যি উত্তর মনে মনেঃ কোনটাই না শালা কুত্তা। কিন্তু এগুলার বাইরে কিছু জানি না, এইটা গুতাইয়া খাই তাই এই প্রোফাইলের জবের জন্য বাধ্য হয়ে এ্যাপ্লাই করেছি।
মিথ্যে উত্তর সামনা সামনিঃ আমি চিন্তা ভাবনা করতে ভালোবাসি। জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারলে অনাবিল আনন্দ লাভ করি। স্ট্রেস হ্যান্ডল করা কোন ব্যাপার না। খুব ঠান্ডা আমার মাথা ব্লা ব্লা ব্লা
প্রশ্নঃ কাজ করতে পছন্দ করো নাকি নটা পাঁচটার রুটিন চাও?
সত্যি উত্তর মনে মনেঃ শালা কাজ দেখলে পালাতে ইচ্ছে করে। সারাদিন শুয়ে শুয়ে বই পড়তে, রিমোট নিয়া চ্যনেল ঘুরাতে ইচ্ছে করে। ঠ্যাং এর ওপর ঠ্যাং দিয়া ফেসবুক, জিটক করতে ইচ্ছে করে। কাঁধে ক্যাম, মাথায় টুপি বেড়িয়ে পড়ো অজানায় সেই চিন্তা মনে ঘুরে
মিথ্যে উত্তর সামনা সামনিঃ কাজকে আমি সন্তানতুল্য জ্ঞান করি। যতোক্ষন ক্লায়েন্ট সন্তুষ্ট না হবে ততোক্ষন নটা – পাঁচটা কেনো, দশটায়ও বাড়ি যবো না। দ্বায়িত্ব নিয়া কোন ছেলেখেলা না ইত্যাদি ইত্যাদি
প্রশ্নঃ কোম্পানীকে কিভাবে কন্ট্রিবিউট করবে বলে ভাবছো?
সত্যি উত্তর মনে মনেঃ তুই যেমনে করতেছস আমিও ঠিক সেভাবেই করবো। টেবিলের ঐপারে বইসা ফুটানী ঝাড়স? আমাদের ট্যাক্সের টাকায় বুড়া বয়সের পেনশন খাবি আবার আমাদের সাথেই শাতিলি ঝাড়স?
মিথ্যে উত্তর সামনা সামনিঃ দিনরাত এক করে দিয়ে ভাববো কি করে র্যান্ডম প্রসেসকে আরো নির্ভুল, এফিসিয়েন্ট আর ক্লায়েন্টের মনমতো করা যায়। অতি দ্রুত অতি নির্ভুল সেবা প্রদানের জন্য সদা নিয়োজিত থাকিব।
মনে মনেঃ নইলে তার কয়দিন পরে আবার আমাদের চাকরী খাবার প্ল্যান করবি কি করে? আমাদের দিয়ে অর্গানাইজেশন ডিজাইন করাইয়া আমাদের চাকরী খাইয়া দিবি, এহসান ফারমোশ কুত্তে।
প্রশ্নঃ তোমার পজিটিভ দিকগুলো সম্বন্ধে বলো?
সত্যি উত্তর মনে মনেঃ আমার সত্যিকারের পজিটিভ দিক শুনলে তোর কোম্পানীর ফিট খাইতে লাগবো। মেজাজ খারাপ হইলে এমন জোরে চিল্লান দেই যে ১৭৬০ বর্গফুট কভার করি। মাথা গরম হইলে এমন ঝগড়া করি যে ভূ-ভারতে কেউ আমার সাথে জিততে পারবে না। রান্না করতে পারি, ঘর মুছতে পারি, ভালো ফুল সাজাতে পারি ইকেবোনা শিখা ছাড়াই, মজার ব্লগ লিখতে পারি কিন্তু সেইগুলা তোর জবের সাথে রিলেট করে না ব্যাটা।
মিথ্যে উত্তর সামনা সামনিঃ আমার মাথা ঠান্ডা, এ্যাডজাষ্টম্যান্ট পাওয়ার ভালো, সদা হাস্যময়ী, লাস্যময়ী এন্ড দিস এন্ড দ্যাট এন্ড দিস
প্রশ্নঃ তোমার নেগেটিভ দিকগুলো সম্বন্ধে বলো?
সত্যি উত্তর মনে মনেঃ আসল কথা কইলে আর তুমি জব দিছো।
মিথ্যে উত্তর সামনা সামনিঃ (বিণয়ে বিগলিত ভাব ধরে)ডাচ উচ্চারনটা ঠিক পার্ফেক্ট না অনেক সময় মনে হয় ভাষার পিছনে আর একটু সময় দেয়া দরকার
তানবীরা
২২।০২।১০
Monday, 22 February 2010
Friday, 19 February 2010
ট্র্যাডিশনাল বিয়ের কান্না
বিয়ের সময় কান্নাকাটি করা আমাদের দেশের মেয়েদের এবং মেয়ের মায়েদের যেনো একটি অবশ্যই করনীয় প্রথা। যেকোন পরিস্থিতিতে, যেভাবেই বিয়ে হোক না কেন, কান্নাকাটি যেনো বিয়ের একটি আবশ্যিক আচার। সমাজে শত শত বছর ধরে এ আচারটি বহমান, কিন্তু কেনো? সামাজিকভাবে মেয়েরা দুর্বল আছে এবং থাকবে সেটাকে টিকিয়ে রাখার জন্যই কি? একটি ছেলে হাসি মুখে গর্বিত ভঙ্গীতে বিয়ে করে একটি ক্রন্দনরতা মেয়েকে নিয়ে নিজের বাড়ি যায়। এই ব্যাপারটা সমাজে ক্ষমতাবান ছেলে আর দুর্বল মেয়েদের অবস্থানের একটা বাস্তব প্রতিফলন। মেয়েদেরকে হাস্যকরভাবে দুবর্ল প্রমান করার একটি চিরাচরিত ও সযত্নে লালিত কায়দা। নতুন জীবন শুরু করার আগেই কাঁদিয়ে মানসিক শক্তি ভেঙ্গে দেয়া হয় যাতে স্বামীর ঘরে আর নিজের দাবী প্রতিষ্ঠিত করতে না পারে। এমনকি অনেক সময় কোন মেয়ে কতোটুকু কাঁদল, কিভাবে কাঁদল সেটাও মার্ক করে তার ওপরে রেটিং করা হয়। মেয়েটার কলিজা কতোটুকু পাত্থর কিংবা কতোটুকু মায়াধরা তার একটা প্রাথমিক এসেস হয় এটা থেকে। সুতরাং কনে বেচারীর কান্নাকাটির বেষ্ট পার্ফমেন্স দেয়া ছাড়াতো উপায় নেই, মনে যাইই থাক না কেনো। আজকাল কনে সাজানোর বিউটি পার্লার গুলোও এ ব্যাপারে সর্তকতা অবলম্বন করে, ওয়াটার প্রুফ মাশকারা, আইলাইনার ইত্যাদি মেকআপ ইউজ করেন, কতোটুকু মেকাপ দেয়া হয়েছে, কতোটুকু কান্নাকাটি এ্যালাউড বলে দেন, যাতে পরবর্তীতে ভিডিওটা ঠিক ঠিক আসে, ভূতনী না দেখায়।
কোন মেয়ের হয়তো বহু দিন বিয়ে হচ্ছে না, বিয়ের জন্য অনেক চেষ্টা করছেন মা – বাবা, শাপ শাপান্ত করে অলক্ষী বলে গালি দিচ্ছেন, তারপর হয়তো অনেক সৃষ্ঠে বিয়ে ঠিক হলো, তারপর যেই না কাজী সাহেব খাতা খুলে বসলেন সাথে সাথেই বাবা – মায়ের যৌথ বিলাপের ধ্বনিতে পাড়া মুখরিত হবে। কেউ বা প্রেম করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার উপক্রম করছে, ধরে বেঁধে শেষ কালে মতান্তরে বিয়ে দিচ্ছে, এরমধ্যে কয়েক পশলা ঘরে আটকে রাখা, মারধোর হয়ে গেছে, কিন্তু আবার সেই একই নাটকের পুনরাবৃত্তি, কাজী সাহেব যখনি বলবেন বলো মা কবুল, আরম্ভ হবে মায়ে – ঝিয়ের যুগল বন্দী। এধরনের বহু ঘটনা হরহামেশাই ঘটে থাকে। কষ্টের জন্য কান্নার চেয়েও লৌকিকতার জন্য কাঁদা হয় বেশি। পাছে লোকে কি ভাবে সেই চিন্তায় ভারতীয় উপমহাদেশের লোকেরা ভীষন দুর্বল। আর সেই সুযোগই কাজে লাগান অন্যেরা। কেউ কেউ আবার বিয়ে ঠিক হলে আয়নার সামনে দাড়িয়ে প্র্যাক্টিস করে নেন কিভাবে কাঁদলে ভালো দেখাবে, সুইট লাগবে। অনেকে গর্বও করেন বিয়ে ঠিক হয়েছে পর থেকে বিয়ে হওয়া পর্যন্ত কেঁদেছি।
আগের দিনে কিশোরী বয়সে বিয়ে হতো, তারও আগে শিশু বয়সে। সে বয়সের বাচ্চা মেয়েরা অচেনা পরিবেশে অচেনা লোকের সাথে থাকতে হবে, কি ধরনের জীবন হবে তা নিয়ে ভয় পেতেন। বহুদিন বাবার বাড়ি আসতে পারবেন না, প্রিয় অনেক কিছুকে হারিয়ে ফেলবেন ভেবে হয়তো কাঁদতেন। কিন্তু আজকের পরিস্থিতিতো তার চেয়ে অনেক আলাদা। অনেক কিছুই বদলেছে দেশে। মেয়েরা পড়াশোনার জন্য প্রশান্ত-আটলান্টিক পাড়ি দিচ্ছেন একা। নিজের পছন্দমতো জীবনসঙ্গী বেছে নিচ্ছেন। অকারন অনেক কুসংস্কার, লৌকিকতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাচ্ছেন। পোষাক বদলেছেন, জীবন যাপনের পদ্ধতিও বদলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে স্বাবলম্বী ভূমিকা রাখছেন। দেশে সিনেমা হচ্ছে বাস্তবমুখী, গান হচ্ছে। তাই আজ আশা রাখা যায় মেয়েরাও লোক দেখানো ভড়ং থেকে বের হয়ে আসবেন, শুধু মাত্র অপ্রয়োজনে, সামাজিকতার জন্য নিজেকে বলি দেয়া বন্ধ করে, যা বাস্তব, শোভন তাই করবেন। যুগ যুগ ধরে চলে এসেছে বলে বিনা প্রয়োজনে অনেক কিছু আরো যুগ যুগ না টানাই ভালো।
বলছি আজ শোন মেয়েরা, নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে নিজেদেরকে লড়তে হবে। কেঁদে কেটে কিছু আদায় হয়নি এই পৃথিবীতে, হবেও না। সংগ্রামের মাধ্যমেই আগেও হয়েছে, ভবিষ্যতেও তাই হবে। তাই আর কেঁদে নিজেকে দুর্বল করো না বা কাউকে দুর্বল ভাবার সুযোগ দিও না। এগিয়ে যাও দৃঢ় পায়ে। নতুন জীবনের শুরু হোক শক্ত পায়ে, হাসি মুখে, হাতে হাত রেখে। অশ্রুসজল, ভীরু, কুন্ঠিত ভাবে আর নয়। পরিবর্তনের জন্য আমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে, সুন্দর আগামীর সূচনা হোক আমাদেরই দ্বারা। অধিকার বুঝে নিতে হয়, এটা এক ধরনের অনুশীলন, অধিকার কেউ কাউকে এগিয়ে এসে দিয়ে যায় না।
তানবীরা
মূল ভাবটি লেখা ছিল ০৬.১২.০৮
পরিশোধিত ১০.০২. ২০১০
কোন মেয়ের হয়তো বহু দিন বিয়ে হচ্ছে না, বিয়ের জন্য অনেক চেষ্টা করছেন মা – বাবা, শাপ শাপান্ত করে অলক্ষী বলে গালি দিচ্ছেন, তারপর হয়তো অনেক সৃষ্ঠে বিয়ে ঠিক হলো, তারপর যেই না কাজী সাহেব খাতা খুলে বসলেন সাথে সাথেই বাবা – মায়ের যৌথ বিলাপের ধ্বনিতে পাড়া মুখরিত হবে। কেউ বা প্রেম করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার উপক্রম করছে, ধরে বেঁধে শেষ কালে মতান্তরে বিয়ে দিচ্ছে, এরমধ্যে কয়েক পশলা ঘরে আটকে রাখা, মারধোর হয়ে গেছে, কিন্তু আবার সেই একই নাটকের পুনরাবৃত্তি, কাজী সাহেব যখনি বলবেন বলো মা কবুল, আরম্ভ হবে মায়ে – ঝিয়ের যুগল বন্দী। এধরনের বহু ঘটনা হরহামেশাই ঘটে থাকে। কষ্টের জন্য কান্নার চেয়েও লৌকিকতার জন্য কাঁদা হয় বেশি। পাছে লোকে কি ভাবে সেই চিন্তায় ভারতীয় উপমহাদেশের লোকেরা ভীষন দুর্বল। আর সেই সুযোগই কাজে লাগান অন্যেরা। কেউ কেউ আবার বিয়ে ঠিক হলে আয়নার সামনে দাড়িয়ে প্র্যাক্টিস করে নেন কিভাবে কাঁদলে ভালো দেখাবে, সুইট লাগবে। অনেকে গর্বও করেন বিয়ে ঠিক হয়েছে পর থেকে বিয়ে হওয়া পর্যন্ত কেঁদেছি।
আগের দিনে কিশোরী বয়সে বিয়ে হতো, তারও আগে শিশু বয়সে। সে বয়সের বাচ্চা মেয়েরা অচেনা পরিবেশে অচেনা লোকের সাথে থাকতে হবে, কি ধরনের জীবন হবে তা নিয়ে ভয় পেতেন। বহুদিন বাবার বাড়ি আসতে পারবেন না, প্রিয় অনেক কিছুকে হারিয়ে ফেলবেন ভেবে হয়তো কাঁদতেন। কিন্তু আজকের পরিস্থিতিতো তার চেয়ে অনেক আলাদা। অনেক কিছুই বদলেছে দেশে। মেয়েরা পড়াশোনার জন্য প্রশান্ত-আটলান্টিক পাড়ি দিচ্ছেন একা। নিজের পছন্দমতো জীবনসঙ্গী বেছে নিচ্ছেন। অকারন অনেক কুসংস্কার, লৌকিকতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাচ্ছেন। পোষাক বদলেছেন, জীবন যাপনের পদ্ধতিও বদলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে স্বাবলম্বী ভূমিকা রাখছেন। দেশে সিনেমা হচ্ছে বাস্তবমুখী, গান হচ্ছে। তাই আজ আশা রাখা যায় মেয়েরাও লোক দেখানো ভড়ং থেকে বের হয়ে আসবেন, শুধু মাত্র অপ্রয়োজনে, সামাজিকতার জন্য নিজেকে বলি দেয়া বন্ধ করে, যা বাস্তব, শোভন তাই করবেন। যুগ যুগ ধরে চলে এসেছে বলে বিনা প্রয়োজনে অনেক কিছু আরো যুগ যুগ না টানাই ভালো।
বলছি আজ শোন মেয়েরা, নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে নিজেদেরকে লড়তে হবে। কেঁদে কেটে কিছু আদায় হয়নি এই পৃথিবীতে, হবেও না। সংগ্রামের মাধ্যমেই আগেও হয়েছে, ভবিষ্যতেও তাই হবে। তাই আর কেঁদে নিজেকে দুর্বল করো না বা কাউকে দুর্বল ভাবার সুযোগ দিও না। এগিয়ে যাও দৃঢ় পায়ে। নতুন জীবনের শুরু হোক শক্ত পায়ে, হাসি মুখে, হাতে হাত রেখে। অশ্রুসজল, ভীরু, কুন্ঠিত ভাবে আর নয়। পরিবর্তনের জন্য আমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে, সুন্দর আগামীর সূচনা হোক আমাদেরই দ্বারা। অধিকার বুঝে নিতে হয়, এটা এক ধরনের অনুশীলন, অধিকার কেউ কাউকে এগিয়ে এসে দিয়ে যায় না।
তানবীরা
মূল ভাবটি লেখা ছিল ০৬.১২.০৮
পরিশোধিত ১০.০২. ২০১০
Friday, 5 February 2010
অস্কার বিজয়ী “আভাতার” ও ঢাকাই ঢিষ্টিং ঢিষ্টিং ফ্লিমের সাদৃশ্যসমূহ
অনেক কষ্টে পকেটের টাকা গুনিয়া দিয়া অত্যাধুনিক থিয়েটারে বসিয়া চোখে কালো চশমা পরিধান করিয়া তিন মাত্রায় বিস্তৃত (3D) অস্কার তথা সারা পৃথিবী বিজয়ী চলচিত্র “আভাতার” দেখিয়া আসিলাম। অনলাইনে ফ্রীতে দেখি নাই মজা নষ্ট হইয়া যাইবে বিধায়। সাধারন সিনেমার টিকিটের থেকে বেশি মূল্যে তিন মাত্রায় বিস্তৃত সিনেমার টিকিট কিনিয়া হলে বসিয়া বসিয়া আমি পাপিষ্ঠা ভাবিতেছিলাম ঢাকাই ফিলিমের সাথে এটার এতো মিল মিল লাগে ক্যান?
১. নায়ক পড়বিতো পর মালীর ঘাড়ের মতো, বিপদে পড়লতো টারজান মার্কা নায়িকাই আসলো বাঁচাতে। যদিও পরে জংগল ভর্তি বহু সাহসী মানুষকে দেখা গিয়েছিল কিন্তু সেই মূহুর্তে নায়িকা সহায়।
২. নায়কের “জাংগল লাইফের” শিক্ষা দীক্ষার সব ভার অবধারিতভাবে নায়িকার ওপরই বর্তাইলো।
৩. প্যানডোরা দেশের নায়িকা প্রথমে পৃথিবীর নায়ককে “ক্ষ্যাত – গাধা” ভাবলেও অবশেষে দুজনের মধ্যে প্রেমতো হলোই।
৪. ‘গ্রেস’ যখন অসুস্থ হলো, সবাই গান গেয়ে প্রার্থনা করলো। সাধারনতঃ এধরনের গানে প্রায় সবসময়ই ঢাকাই ছবিতে কাজ হয় কিন্তু এটাতে ‘গ্রেস’ মরে গেলেও গান গাওয়া হয়েছিল।
৫. নায়ক প্রথমে বুঝে না বুঝে যেই অভিসন্ধি নিয়েই মিশনে নেমেছিলেন, পরে দুঃস্থদের স্বার্থ রক্ষা করতে নিজের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়েই দিলেন।
৬. সমস্ত অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র , কৌশল, বোমা সব সাবেক কালের তীর ধনুক আর ছুরির কাছে ফেল মারলো।
৭. প্রথমে বিমানবাহিনী তারপরে সেনাবাহিনী যুদ্ধে ফেল মারলো। অবশেষে “আইওয়া” তাদের প্রার্থনা শুনলো এবং ঘোড়া, বানর ও আরো নাম না জানা নানা পশু মানে বনবাহিনী এসে যুদ্ধে অংশগ্রহন করে তাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করলো
৮. ভিন গ্রহের মানুষ হয়েও নায়িকা এবং তার পিতা মাতা মাঝে মাঝে ভিলেনরা পর্যন্ত শুদ্ধ এ্যমেরিকান ইংলিশ ও একসেন্টে কথা কইলো
৯. শেষ দৃশ্যে নায়কের শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়া মাত্র নায়িকা যে জীবনে চেয়ার টেবিলও চোখে দেখে নাই, সে অক্সিজেন মাস্ক টানিয়া আনিয়া নায়কের মুখে জায়গামতো পরাইয়া দিলো
১০. নায়িকাকে প্রানে রক্ষা করতে যাইয়াই নায়ক প্রচন্ড রকম আহত হইলো।
১১. নায়িকাকে ভালোবাসার কারনেই নায়ক নিজ গ্রুপের সাথে “বাগাওয়াত” করলো
১২. নায়িকাকে ভিলেন “পাইছি তোরে” ভাব নিয়া আটকে ফেলা মাত্র, নায়ক অন্য জায়গা থেকে উড়ে এসে নায়িকাকে রক্ষা করে ফেলল।
১৩. মুগাম্বোর মতো এখানেও “টরুক মাতুকা” আছেন তাদের ভগবান।
১৪. নায়ক তাদের ক্ষতি করতে এসেছিলো জেনে নায়িকা আর নায়কের মধ্যে ট্যান্ডাই ম্যান্ডাই হলেও পরে নায়িকার ভুল ভাঙ্গে যে নায়ক আসলে “লুক” ভালো।
১৫. নায়িকার কথিত হবু স্বামী প্রথম থেকেই নায়ককে অপছন্দ করতো, নায়ক নায়িকা দুজনে দুজনের হয়ে যাওয়াতে তিনি প্রচন্ড নাখোশ হন
১৬. ভিনগ্রহের লোকজনেরও প্রার্থনার জন্য বিশেষ জায়গা আছে।
১৭. নায়িকা ভিনগ্রহের রাজকন্যা পরে নায়ক গোত্রের কর্নধার হয়
১৮. শেষ দৃশ্যে বিজ্ঞানের বদলে শুধুমাত্র তন্ত্র মন্ত্রের দ্বারা তারা নায়কের আত্মা এবং শরীরকে অন্য মাত্রা দিতে সাফল্য অর্জন করেন।
তানবীরা
০৫.০২.২০১০
১. নায়ক পড়বিতো পর মালীর ঘাড়ের মতো, বিপদে পড়লতো টারজান মার্কা নায়িকাই আসলো বাঁচাতে। যদিও পরে জংগল ভর্তি বহু সাহসী মানুষকে দেখা গিয়েছিল কিন্তু সেই মূহুর্তে নায়িকা সহায়।
২. নায়কের “জাংগল লাইফের” শিক্ষা দীক্ষার সব ভার অবধারিতভাবে নায়িকার ওপরই বর্তাইলো।
৩. প্যানডোরা দেশের নায়িকা প্রথমে পৃথিবীর নায়ককে “ক্ষ্যাত – গাধা” ভাবলেও অবশেষে দুজনের মধ্যে প্রেমতো হলোই।
৪. ‘গ্রেস’ যখন অসুস্থ হলো, সবাই গান গেয়ে প্রার্থনা করলো। সাধারনতঃ এধরনের গানে প্রায় সবসময়ই ঢাকাই ছবিতে কাজ হয় কিন্তু এটাতে ‘গ্রেস’ মরে গেলেও গান গাওয়া হয়েছিল।
৫. নায়ক প্রথমে বুঝে না বুঝে যেই অভিসন্ধি নিয়েই মিশনে নেমেছিলেন, পরে দুঃস্থদের স্বার্থ রক্ষা করতে নিজের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়েই দিলেন।
৬. সমস্ত অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র , কৌশল, বোমা সব সাবেক কালের তীর ধনুক আর ছুরির কাছে ফেল মারলো।
৭. প্রথমে বিমানবাহিনী তারপরে সেনাবাহিনী যুদ্ধে ফেল মারলো। অবশেষে “আইওয়া” তাদের প্রার্থনা শুনলো এবং ঘোড়া, বানর ও আরো নাম না জানা নানা পশু মানে বনবাহিনী এসে যুদ্ধে অংশগ্রহন করে তাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করলো
৮. ভিন গ্রহের মানুষ হয়েও নায়িকা এবং তার পিতা মাতা মাঝে মাঝে ভিলেনরা পর্যন্ত শুদ্ধ এ্যমেরিকান ইংলিশ ও একসেন্টে কথা কইলো
৯. শেষ দৃশ্যে নায়কের শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়া মাত্র নায়িকা যে জীবনে চেয়ার টেবিলও চোখে দেখে নাই, সে অক্সিজেন মাস্ক টানিয়া আনিয়া নায়কের মুখে জায়গামতো পরাইয়া দিলো
১০. নায়িকাকে প্রানে রক্ষা করতে যাইয়াই নায়ক প্রচন্ড রকম আহত হইলো।
১১. নায়িকাকে ভালোবাসার কারনেই নায়ক নিজ গ্রুপের সাথে “বাগাওয়াত” করলো
১২. নায়িকাকে ভিলেন “পাইছি তোরে” ভাব নিয়া আটকে ফেলা মাত্র, নায়ক অন্য জায়গা থেকে উড়ে এসে নায়িকাকে রক্ষা করে ফেলল।
১৩. মুগাম্বোর মতো এখানেও “টরুক মাতুকা” আছেন তাদের ভগবান।
১৪. নায়ক তাদের ক্ষতি করতে এসেছিলো জেনে নায়িকা আর নায়কের মধ্যে ট্যান্ডাই ম্যান্ডাই হলেও পরে নায়িকার ভুল ভাঙ্গে যে নায়ক আসলে “লুক” ভালো।
১৫. নায়িকার কথিত হবু স্বামী প্রথম থেকেই নায়ককে অপছন্দ করতো, নায়ক নায়িকা দুজনে দুজনের হয়ে যাওয়াতে তিনি প্রচন্ড নাখোশ হন
১৬. ভিনগ্রহের লোকজনেরও প্রার্থনার জন্য বিশেষ জায়গা আছে।
১৭. নায়িকা ভিনগ্রহের রাজকন্যা পরে নায়ক গোত্রের কর্নধার হয়
১৮. শেষ দৃশ্যে বিজ্ঞানের বদলে শুধুমাত্র তন্ত্র মন্ত্রের দ্বারা তারা নায়কের আত্মা এবং শরীরকে অন্য মাত্রা দিতে সাফল্য অর্জন করেন।
তানবীরা
০৫.০২.২০১০
Thursday, 14 January 2010
ধর্ম ধর্ম আদতে ভাই ভাই
আমরা গরমের দেশের মানুষেরা সহজেই উত্তেজিত। রাজনীতি, মেয়েঘটিত, আর ধর্ম হলো চরম তরম উত্তেজিত হওয়ার মতো প্রিয় বিষয় আমাদের। আগাপাশ তলা না ভেবে হুঙ্কার ছেড়ে ঝাপিয়ে পরি যুদ্ধে। কোথায় কে একখান কার্টুন আঁকলো তাই নিয়ে মার মার কাট কাট, সালমান রুশদী কিংবা তাসলিমা কিছু লিখেছে, কল্লা কাটো। এরমধ্যে অন্ততকাল থেকে পাশাপাশি থাকার জন্য ও অর্থনৈতিক বৈষম্যতার কারনে এ উপমহাদেশে হিন্দু - মুসলিম বৈরীতা চার্টের টপ লিষ্টেড আইটেম যাকে বলে। কিন্তু আদতে ধর্মগুলোর মধ্যে অমিলের থেকে মিলই বেশি। হিন্দু মুসলমান গুতাগুতি কেনো করে সেই নিয়ে আজ একটু ধর্ম রংগ।
দুই দলের ধর্মান্ধরাই একে অন্যের বাড়িতে অন্ন গ্রহন করেন না। দুদলের একই সমস্যা, জাত যাবে। একদল হালাল ছাড়া খাবেন না আবার অন্যদল মুসলমানের ছোঁয়া বলে খাবেন না।
শুদ্ধ হওয়ার জন্য দুদলের লোকেরাই উপবাস করে থাকেন।
দুদলেরই পাপ মোচন করার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ও সময় আছে।
বিশুদ্ধ পানিও আছে। একদলের আছে জমজমের পানিতো অন্যদলের আছে গঙ্গাজল।
দু দলই তাদের পবিত্র কাজের সময় সেলাই করা বস্ত্র পরিধান করেন না। মুসলমানরা হজ্বের সময় আর হিন্দুরা পূজার সময়।
গরুর ভূমিকা এ উপমহাদেশের দুদলের কাছেই অপরিসীম। স্বরগে যাওয়ার জন্য দুদলই গরু উৎসর্গ করে থাকেন কিন্তু ভিন্ন পদ্ধতিতে। পদ্ধতি ভিন্ন হলেও বস্তু একই।
যদিও মুহম্মদ, রাম, কৃষ্ণ সবাই শান্তির বানী প্রচার করার দাবী করেছেন কিন্তু তারা শান্তির চেয়ে অশান্তি থুক্কু যুদ্ধই করেছেন বেশি।
এই তিনজনের জীবনেই নারীদের অপরিসীম ভূমিকা ছিল, বৈধ এবং অবৈধ পন্থায়।
দুই ধর্মেই পুরুষের নীচে মেয়েদের স্থান, স্বামী পরম গুরু।
দুদলই পাপমোচনের আশায় হুজুর কিংবা পূজারীকে অজস্ত্র দান ধ্যান করে থাকেন। তার বাইরে কেউ মসজিদ বানানতো কেউ মন্দির।
মৃত্যুর পর অন্তত সুখ, সাথে উর্বশী, হুর, আঙ্গুর বেদনার প্রতিশ্রুতি উভয়েই দেন আমাদেরকে।
দুদলেরই ধর্মানুভূতি অত্যন্ত প্রখর। ধর্মানুভূতিতে আঘাত করা আর শ্লীলতাহানি করা একই পর্যায়ের অপরাধের স্তরে পরে। কথার আগে তাদের ছুরি চলে। ভন্ড নাস্তিক আর আঁতেলে দল ভর্তি। সবারই রক্ত লাল আর মরে গেলে ফিরে আসার সম্ভাবনা অনেক কম জানা সত্বেওও তাদের ধর্মের নামে এই অপরিসীম যুদ্ধ চলছে এবং চলতেই থাকবে।
তানবীরা
১৪.০১.১০
দুই দলের ধর্মান্ধরাই একে অন্যের বাড়িতে অন্ন গ্রহন করেন না। দুদলের একই সমস্যা, জাত যাবে। একদল হালাল ছাড়া খাবেন না আবার অন্যদল মুসলমানের ছোঁয়া বলে খাবেন না।
শুদ্ধ হওয়ার জন্য দুদলের লোকেরাই উপবাস করে থাকেন।
দুদলেরই পাপ মোচন করার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ও সময় আছে।
বিশুদ্ধ পানিও আছে। একদলের আছে জমজমের পানিতো অন্যদলের আছে গঙ্গাজল।
দু দলই তাদের পবিত্র কাজের সময় সেলাই করা বস্ত্র পরিধান করেন না। মুসলমানরা হজ্বের সময় আর হিন্দুরা পূজার সময়।
গরুর ভূমিকা এ উপমহাদেশের দুদলের কাছেই অপরিসীম। স্বরগে যাওয়ার জন্য দুদলই গরু উৎসর্গ করে থাকেন কিন্তু ভিন্ন পদ্ধতিতে। পদ্ধতি ভিন্ন হলেও বস্তু একই।
যদিও মুহম্মদ, রাম, কৃষ্ণ সবাই শান্তির বানী প্রচার করার দাবী করেছেন কিন্তু তারা শান্তির চেয়ে অশান্তি থুক্কু যুদ্ধই করেছেন বেশি।
এই তিনজনের জীবনেই নারীদের অপরিসীম ভূমিকা ছিল, বৈধ এবং অবৈধ পন্থায়।
দুই ধর্মেই পুরুষের নীচে মেয়েদের স্থান, স্বামী পরম গুরু।
দুদলই পাপমোচনের আশায় হুজুর কিংবা পূজারীকে অজস্ত্র দান ধ্যান করে থাকেন। তার বাইরে কেউ মসজিদ বানানতো কেউ মন্দির।
মৃত্যুর পর অন্তত সুখ, সাথে উর্বশী, হুর, আঙ্গুর বেদনার প্রতিশ্রুতি উভয়েই দেন আমাদেরকে।
দুদলেরই ধর্মানুভূতি অত্যন্ত প্রখর। ধর্মানুভূতিতে আঘাত করা আর শ্লীলতাহানি করা একই পর্যায়ের অপরাধের স্তরে পরে। কথার আগে তাদের ছুরি চলে। ভন্ড নাস্তিক আর আঁতেলে দল ভর্তি। সবারই রক্ত লাল আর মরে গেলে ফিরে আসার সম্ভাবনা অনেক কম জানা সত্বেওও তাদের ধর্মের নামে এই অপরিসীম যুদ্ধ চলছে এবং চলতেই থাকবে।
তানবীরা
১৪.০১.১০
Sunday, 10 January 2010
যে দশটি জিনিস স্বামীদের কখনোই করতে নেই
যে দশটি জিনিস স্বামীদের কখনোই করতে নেই
মূলঃ ডায়ানে ওটিস
অনুবাদঃ তানবীরা
প্রিয়তম, তোমাকে আমি প্রানের চেয়ে ভালোবাসি, সত্যিই বাসিগো। কিন্তু তুমি এতোই একটা চমৎকার চীজ আর মাঝে মাঝে এমন সব ঘটনা ঘটাও যে ইচ্ছে করে, সবচেয়ে কাছে থাকা জানালাটা দিয়ে লাফিয়ে পরে নিজে মরি আর নাহলে তোমায় ধাক্কা মেরে নীচে ফেলে দিয়ে সব যন্ত্রনার অবসান করি। দয়া করে অন্তত দয়া করে হলেও নিজেকে শোধরাও এবার .........
১. নিজের সন্তানকে দেখাশোনা করাঃ যখন কারো ষোল বছর বয়সী প্রতিবেশী একাজটা করে, তখন এটাকে দেখাশোনা বলে। আর নিজের সন্তানকে বাবা মা লালন পালন করে। অন্তত আঠারো অব্ধিতো করেই, বুঝতে পারলে .........
২. অফিসের কাজ়ে বাড়ির কাজের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হয়ঃ সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করার পর হয়তো তোমার কান দিয়ে ধোয়া বেরোচ্ছে। কিন্তু তুমি যদি বাস্তব চোখে দেখো, সারাদিন তুমি তোমার ঘরে বসেই ছিলে। আমার কান দিয়েও কিন্তু সেই ধোয়াই বেরোচ্ছে। এই ধোয়া নিয়েই আমি বাড়ি পরিস্কার করেছি, সারাদিন বাচ্চাদের সামলেছি, সারা শহর ছুটোছুটি করে বাজার করে এনে, থলেটা পাশে রেখেছি। তাহলে যখন বলছি আমি ক্লান্ত, তখন তোমাকে বুঝতে হবে অবশ্যই আমি ক্লান্ত।
৩. ঘরে ব্যবহারের জিনিসকে উপহার হিসেবে দেয়া!ঃ আমায় মাফ করো সোনা যদি আমি ভুল বুঝে থাকি। কাপড় ধোঁয়ার মেশিন উপহার, সত্যি? তোমার গাড়ির জন্য কেনা বরফে চলার চাকাগুলোকে কি তাহলে আমি তোমাকে উপহার দিতে পারি?
৪. বেড়ালের গন্ধওয়ালা সুগন্ধি কেনো নিয়ে আসো?ঃ গোল গলার সোয়েটার নীচে থাকা আমার হৃদয়টাকে তোমার কাছে অবাধ্য শিয়ালীনির মতো মনে হলেও, আমি আসলে কিছুতেই সেরকম হতে চাই না ( যদিও তুমি ভালোই ঠকাতে চেয়েছিলে )
৫. গাড়ি চালানো নিয়ে সব সময় বড়াই করাঃ এটা আমাকে শোনানোর মানেই হলো, তুমি আমার চেয়ে অনেক ভালো গাড়ি চালাও। তুমি যদি আর একবার আমায় বলো, “১৯৭৮ থেকে তুমি দুর্ঘটনা মুক্ত স্ট্যাটাসে আছো”। তাহলে আমি নিজে যেয়ে তোমার গাড়ির চাকার স্ক্রু খুলে দিয়ে আসবো, যাতে গাড়ি একদিকে গড়িয়ে পরে তবু তোমার মুখ বন্ধ করব তবে ছাড়বো।
৬. অনেক সময় এবং যত্ন নিয়ে করা রান্না খাবার খাওয়ার সময় মুখ গোমড়া!!ঃ আমি জানি না আসলে এটা কার দোষ? (রেসিপি বইয়ে নাকি জুলি অথবা জুলিয়ার?) কিন্তু মাঝে মাঝেই আমি ভাবি, মজার একটা স্যুপ বানিয়ে আমি সারাদিন বোনাবুনি করবো। স্যুপ যদি ততো মজা নাও হয়, তাতেতো আর ভূমিকম্প হবে না, অন্তত সামান্য প্রশংসাতো করতেই পারো।
৭. না পরে কাপড় কেনা, মাগো ভাবাই যায় নাঃ আমি জানি যে মূহুর্তে তুমি কাপড়ের দোকানে পা রাখো, তোমার মাথা ঘোরাতে থাকে। কিন্তু, তুমিই বলো পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করে দেখে পরে নেয়াই কি ভালো না? না হলে পরে ফেরত দিতে আসার ঝামেলা কে পোহায় শুনি?
৮. লোকের সামনে সামলানোঃ ও সোনা, যখনি তুমি লোকের সামনে যেকোন ব্যাপারে ঝামেলায় পরো, আমি এগিয়ে এসে সব সামলে নেই। আমি জানি সে সময় অন্যেরা বিব্রত বোধ করতে থাকে।
৯. চুল কাঁটা নিয়ে দূর থেকে ঘ্যানঘ্যানানিঃ কখনো নতুন ধরনের চুল কাঁটায় আমাকে বেশ মানিয়ে যায় আবার কখনো নতুন স্টাইলটা ঠিক আমাকে মানায় না। সেটা আমিও বুঝতে পারি। তোমায় অস্থির হতে হবে না।
১০. ঘরে সামান্য একটু কূটো নেড়ে দ্বিগবিজয়ের ভাব ধরাঃ উউউহ, এটা তোমারো বাড়ি, বুঝলে? আজকের জন্য পেতলের মেডেলটাই রাখো। কোনদিন যদি সেরকম খাটো তাহলে সোনার মেডেলটা পেতে পারো।
১০.০১.১০
http://shine.yahoo.com/channel/sex/10-things-husbands-should-never-do-552285/
মূলঃ ডায়ানে ওটিস
অনুবাদঃ তানবীরা
প্রিয়তম, তোমাকে আমি প্রানের চেয়ে ভালোবাসি, সত্যিই বাসিগো। কিন্তু তুমি এতোই একটা চমৎকার চীজ আর মাঝে মাঝে এমন সব ঘটনা ঘটাও যে ইচ্ছে করে, সবচেয়ে কাছে থাকা জানালাটা দিয়ে লাফিয়ে পরে নিজে মরি আর নাহলে তোমায় ধাক্কা মেরে নীচে ফেলে দিয়ে সব যন্ত্রনার অবসান করি। দয়া করে অন্তত দয়া করে হলেও নিজেকে শোধরাও এবার .........
১. নিজের সন্তানকে দেখাশোনা করাঃ যখন কারো ষোল বছর বয়সী প্রতিবেশী একাজটা করে, তখন এটাকে দেখাশোনা বলে। আর নিজের সন্তানকে বাবা মা লালন পালন করে। অন্তত আঠারো অব্ধিতো করেই, বুঝতে পারলে .........
২. অফিসের কাজ়ে বাড়ির কাজের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হয়ঃ সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করার পর হয়তো তোমার কান দিয়ে ধোয়া বেরোচ্ছে। কিন্তু তুমি যদি বাস্তব চোখে দেখো, সারাদিন তুমি তোমার ঘরে বসেই ছিলে। আমার কান দিয়েও কিন্তু সেই ধোয়াই বেরোচ্ছে। এই ধোয়া নিয়েই আমি বাড়ি পরিস্কার করেছি, সারাদিন বাচ্চাদের সামলেছি, সারা শহর ছুটোছুটি করে বাজার করে এনে, থলেটা পাশে রেখেছি। তাহলে যখন বলছি আমি ক্লান্ত, তখন তোমাকে বুঝতে হবে অবশ্যই আমি ক্লান্ত।
৩. ঘরে ব্যবহারের জিনিসকে উপহার হিসেবে দেয়া!ঃ আমায় মাফ করো সোনা যদি আমি ভুল বুঝে থাকি। কাপড় ধোঁয়ার মেশিন উপহার, সত্যি? তোমার গাড়ির জন্য কেনা বরফে চলার চাকাগুলোকে কি তাহলে আমি তোমাকে উপহার দিতে পারি?
৪. বেড়ালের গন্ধওয়ালা সুগন্ধি কেনো নিয়ে আসো?ঃ গোল গলার সোয়েটার নীচে থাকা আমার হৃদয়টাকে তোমার কাছে অবাধ্য শিয়ালীনির মতো মনে হলেও, আমি আসলে কিছুতেই সেরকম হতে চাই না ( যদিও তুমি ভালোই ঠকাতে চেয়েছিলে )
৫. গাড়ি চালানো নিয়ে সব সময় বড়াই করাঃ এটা আমাকে শোনানোর মানেই হলো, তুমি আমার চেয়ে অনেক ভালো গাড়ি চালাও। তুমি যদি আর একবার আমায় বলো, “১৯৭৮ থেকে তুমি দুর্ঘটনা মুক্ত স্ট্যাটাসে আছো”। তাহলে আমি নিজে যেয়ে তোমার গাড়ির চাকার স্ক্রু খুলে দিয়ে আসবো, যাতে গাড়ি একদিকে গড়িয়ে পরে তবু তোমার মুখ বন্ধ করব তবে ছাড়বো।
৬. অনেক সময় এবং যত্ন নিয়ে করা রান্না খাবার খাওয়ার সময় মুখ গোমড়া!!ঃ আমি জানি না আসলে এটা কার দোষ? (রেসিপি বইয়ে নাকি জুলি অথবা জুলিয়ার?) কিন্তু মাঝে মাঝেই আমি ভাবি, মজার একটা স্যুপ বানিয়ে আমি সারাদিন বোনাবুনি করবো। স্যুপ যদি ততো মজা নাও হয়, তাতেতো আর ভূমিকম্প হবে না, অন্তত সামান্য প্রশংসাতো করতেই পারো।
৭. না পরে কাপড় কেনা, মাগো ভাবাই যায় নাঃ আমি জানি যে মূহুর্তে তুমি কাপড়ের দোকানে পা রাখো, তোমার মাথা ঘোরাতে থাকে। কিন্তু, তুমিই বলো পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করে দেখে পরে নেয়াই কি ভালো না? না হলে পরে ফেরত দিতে আসার ঝামেলা কে পোহায় শুনি?
৮. লোকের সামনে সামলানোঃ ও সোনা, যখনি তুমি লোকের সামনে যেকোন ব্যাপারে ঝামেলায় পরো, আমি এগিয়ে এসে সব সামলে নেই। আমি জানি সে সময় অন্যেরা বিব্রত বোধ করতে থাকে।
৯. চুল কাঁটা নিয়ে দূর থেকে ঘ্যানঘ্যানানিঃ কখনো নতুন ধরনের চুল কাঁটায় আমাকে বেশ মানিয়ে যায় আবার কখনো নতুন স্টাইলটা ঠিক আমাকে মানায় না। সেটা আমিও বুঝতে পারি। তোমায় অস্থির হতে হবে না।
১০. ঘরে সামান্য একটু কূটো নেড়ে দ্বিগবিজয়ের ভাব ধরাঃ উউউহ, এটা তোমারো বাড়ি, বুঝলে? আজকের জন্য পেতলের মেডেলটাই রাখো। কোনদিন যদি সেরকম খাটো তাহলে সোনার মেডেলটা পেতে পারো।
১০.০১.১০
http://shine.yahoo.com/channel/sex/10-things-husbands-should-never-do-552285/
Friday, 8 January 2010
প্রিয় বইমেলা
আবারো মিস করবো তোমাকে প্রিয় বইমেলাকিন্তু তুমি জেগে থেকো, অপেক্ষায় থেকো
কোন একদিন ফিরে আসবো
ফেব্রুয়ারীর শীত সন্ধ্যায় তোমার বুকে
তাজা বইয়ের মাতাল গন্ধ
মাইকে বেজে যাওয়া অহরহ
কবিতা গান কিংবা আলোচনা
যার কিছু শুনছি আবার কিছু না
বাইরে চটপটি ফুচকার হাঁকডাক
সদ্য গজানো তরুনীদের পরনে
নতুন তাঁতের শাড়ির মাড়ের ঘোচঘাচ
কাঁচের চুড়ির টুংটাং
বইমেলা তুমি ফিরে ফিরে এসো
এই ফেব্রুয়ারীতে, আমিও অপেক্ষায় থাকবো
আগুন ঝরা এই ফাগুনে
তোমার জন্যে শুধু তোমার জন্যে।
তানবীরা
০৮।০১।১০
Wednesday, 30 December 2009
টুকরো টাকরা গল্প ১
আমার মেয়ের মাঝে আমি অনেক সময় বিশাল দর্শন, জ্ঞান - বিজ্ঞানের সন্ধান পাই। অসংখ্য আপাতঃ ছোট খাটো ব্যাপারে ওনার মন্তব্য, ক্রিয়া - বিক্রিয়া দেখে বিশাল মজাও পাই। মা - বাবা আর উনি এ জীবন থেকে যখন আমরা বছরে একবার অনেক লোকজনের দেশ, বাংলাদেশে যাই, আত্মীয় স্বজনের ভিড়ে ওনি কনফিউজড থাকেন। অনেককেই প্রথম দেখে, আবার অনেকের কথা হয়তো মনে থাকে না কিংবা মনে রাখতে পারে না। কিন্তু বুদ্ধির চার্তুয্য খেলেন আমার কন্যা। শাড়ি, কাপড় চোপড় কিংবা চুলের রঙ দেখে ওনি তার সাথে সম্পর্ক ঠিক করেন। একবার আমার এক বেশ মর্ডান চাচী এসেছে আমাদের সাথে দেখা করতে। আমার মেয়ে ওনাকে “খালামনি” বলেছে। আমি তাড়াতাড়ি বল্লাম ওনি “দিদা”। আমার মেয়ে খুবই গম্ভীর গলায় বললো, “দিদা” কি করে হবে? ওতো সালোয়ার কামিজ পরেছে আর দেখোনা চুলটা কেমন কাটা? “দিদা”রাতো এভাবে চুল কাটে না আর এই ডিজাইনের সালোয়ার কামিজও পরে না।
!!!! ডিং ডং
আমার নানুর বয়স হয়েছে। তিনি আর আগের মতো চলাফেরা করতে পারেন না। তাই আমরাই গেলাম আমাদের নানুবাড়ি। আমি - কন্যা - কন্যার পিতা এক বাসায় থাকি এটাই তার কাছে স্বাভাবিক। বাংলাদেশে আসলে সে আমার সাথে বেশি নানার বাড়ি থাকে এটাও সে জানে। মায়ের বাবা মা আছে একটা কষ্টে সিষ্টে সে মেনেও নেয়। আব্বুরও আছে কি আর করা, যাক সেটাও সহ্য করলো। কিন্তু আমার মানে মায়েরও নানা বাড়ি আছে মানে “দিদার”ও মা বাবা আছে, আরো অন্য একটা বাড়ি আছে তাতে সে ভীষন কনফিউজড। “দিদা” থাকবে দিদার বাসায়, তার তিনকূলে কেউ থাকবে না এ হিসাবটাই সোজা আপাত দৃষ্টিতে। মা কখনো ছোট ছিল এটাইতো আজব ব্যাপার তার কাছে, মায়ের ছোট বেলার ছবি দেখলেই সে নানা প্রশ্ন করতে থাকে, “তুমি কেনো ছোট ছিলে”? তুমিতো আম্মি। আম্মি কি করে ছোট হবে? এখন যখন শুনে দিদাও কোন দিন ছোট ছিল, ফ্রক পরে, মাথায় রিবন লাগিয়ে এ বাড়ির ঘরে বাইরে উঠোনে দৌড়াদৌড়ি করেছে, সে তার স্বাভাবিক কল্পনায় তা মানতে পারে না।
আমি শয়তান কিসিমের মানুষ। মানুষকে খোঁচাইয়া বিশাল আনন্দ লাভ করি এটা সত্য কথা। মেয়েকেও না খোঁচাইয়া পারি না। মানুষ অভ্যাসের দাস, আমি তার ব্যতিক্রম না। মেয়েকে তার বাংলা ভাষা জ্ঞান আর উচ্চারনের বহর দিয়া বহুত খোঁচাই। সারা ডাচেরা আমাদের যতো বিরক্ত করেছে, মেয়েকে সে সমাজের প্রতিনিধি ভেবে তার ওপর সেগুলো ঢেলে দেই। মেয়ে যথেষ্ঠ বিরক্ত হয় আমার এহেন হি হি হাসিতে। বলতে থাকে রাগিত মুখে, দুষ্ট আম্মি, দুষ্ট আম্মি। কিন্তু চোরে না শুনে মেয়ের বকা। আমি তাকে আরো বিভ্রান্ত করার জন্য বলতে থাকি, আমার নানুরও আলাদা বাড়ি আছে, সেও ছোট ছিল, তারও বাবা মা আছে। আবার নানুর মায়েরও মা আছেন, তিনিও আবার অন্য বাড়িতে থাকতেন ... আমার মেয়ে টাশকি খেয়ে শূন্য দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। কিছুই বলতে পারে না। সৃষ্টির এই অসীমতায় তার বুদ্ধিলোপ পায়। সে সময় অন্যরা এসে মেয়েকে আমার কাছ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
অনেকদিন ধরে বাইরে আছি, অন্তর্জালেও বিচরন করি বেশ অনেককাল হয়ে গেলো। বিদেশে আসার পর প্রধান যে ব্যাপারটা নিয়ে সবার সাথে বিতর্ক বা আলোচনা হয় সেটা হলো “ধর্ম”। ব্লগগুলো শুরু হওয়ার আগে যখন ভিন্নমত, মুক্তমনা, সদালাপ, সাতরঙ, বাতিঘর কিংবা বাংলার ইসলাম ছিল ঘুরে ফিরে এই নিয়েই আলোচনা আর বিতর্ক হতো। ব্লগ হওয়াতে ভিন্ন ভিন্ন লেখার পড়ার সুযোগ হয়েছে। ব্লগ হোক কিংবা ওয়েবজিন হোক কিছু কিছু লোকের লেখা পড়লে, তাদেরকে আজকাল আমার মেয়ের মতো সাত বছরের শিশু মস্তিকের অধিকারী মনে হয়। যা তার জ্ঞান, কল্পনা কিংবা হিসাবের বাইরে তাইই অবাস্তব। যা তাদের চিন্তা ভাবনার বাইরে তাই অসম্ভব। চিন্তা ভাবনাকে ঐ এক ঘরে বন্দী করে ফেলেছে। কি ধর্ম, কি বিজ্ঞান, কি স্বাধীনতা কিংবা কবি আল মাহমুদ সবই একই বৃত্তে ঘুরে। বানরের থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে মানুষ এসেছে !!! তাই কি হয়? তাহলে হাতি কোইত্থেকে আইলো শুনি? আকাশ মানে শূন্য অসীম, কি করে হবে? মাথা তুলে তাকালেই নীল দেখা যায় না? অসীমতা কল্পনা করা কষ্ট তার চেয়ে সাত আসমানের ধারনাটাই বেশি কাছের। পাঞ্জাবী পায়জামা পরা মানেই খাঁটি মুসলমান, ভালো লোক। তাহলে বন্দুক হাতে নিক না নিক তিনিই মুক্তিযোদ্ধা।
ধন্যবাদ সবাইকে।
তানবীরা
৩০.১২.০৯
!!!! ডিং ডং
আমার নানুর বয়স হয়েছে। তিনি আর আগের মতো চলাফেরা করতে পারেন না। তাই আমরাই গেলাম আমাদের নানুবাড়ি। আমি - কন্যা - কন্যার পিতা এক বাসায় থাকি এটাই তার কাছে স্বাভাবিক। বাংলাদেশে আসলে সে আমার সাথে বেশি নানার বাড়ি থাকে এটাও সে জানে। মায়ের বাবা মা আছে একটা কষ্টে সিষ্টে সে মেনেও নেয়। আব্বুরও আছে কি আর করা, যাক সেটাও সহ্য করলো। কিন্তু আমার মানে মায়েরও নানা বাড়ি আছে মানে “দিদার”ও মা বাবা আছে, আরো অন্য একটা বাড়ি আছে তাতে সে ভীষন কনফিউজড। “দিদা” থাকবে দিদার বাসায়, তার তিনকূলে কেউ থাকবে না এ হিসাবটাই সোজা আপাত দৃষ্টিতে। মা কখনো ছোট ছিল এটাইতো আজব ব্যাপার তার কাছে, মায়ের ছোট বেলার ছবি দেখলেই সে নানা প্রশ্ন করতে থাকে, “তুমি কেনো ছোট ছিলে”? তুমিতো আম্মি। আম্মি কি করে ছোট হবে? এখন যখন শুনে দিদাও কোন দিন ছোট ছিল, ফ্রক পরে, মাথায় রিবন লাগিয়ে এ বাড়ির ঘরে বাইরে উঠোনে দৌড়াদৌড়ি করেছে, সে তার স্বাভাবিক কল্পনায় তা মানতে পারে না।
আমি শয়তান কিসিমের মানুষ। মানুষকে খোঁচাইয়া বিশাল আনন্দ লাভ করি এটা সত্য কথা। মেয়েকেও না খোঁচাইয়া পারি না। মানুষ অভ্যাসের দাস, আমি তার ব্যতিক্রম না। মেয়েকে তার বাংলা ভাষা জ্ঞান আর উচ্চারনের বহর দিয়া বহুত খোঁচাই। সারা ডাচেরা আমাদের যতো বিরক্ত করেছে, মেয়েকে সে সমাজের প্রতিনিধি ভেবে তার ওপর সেগুলো ঢেলে দেই। মেয়ে যথেষ্ঠ বিরক্ত হয় আমার এহেন হি হি হাসিতে। বলতে থাকে রাগিত মুখে, দুষ্ট আম্মি, দুষ্ট আম্মি। কিন্তু চোরে না শুনে মেয়ের বকা। আমি তাকে আরো বিভ্রান্ত করার জন্য বলতে থাকি, আমার নানুরও আলাদা বাড়ি আছে, সেও ছোট ছিল, তারও বাবা মা আছে। আবার নানুর মায়েরও মা আছেন, তিনিও আবার অন্য বাড়িতে থাকতেন ... আমার মেয়ে টাশকি খেয়ে শূন্য দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। কিছুই বলতে পারে না। সৃষ্টির এই অসীমতায় তার বুদ্ধিলোপ পায়। সে সময় অন্যরা এসে মেয়েকে আমার কাছ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
অনেকদিন ধরে বাইরে আছি, অন্তর্জালেও বিচরন করি বেশ অনেককাল হয়ে গেলো। বিদেশে আসার পর প্রধান যে ব্যাপারটা নিয়ে সবার সাথে বিতর্ক বা আলোচনা হয় সেটা হলো “ধর্ম”। ব্লগগুলো শুরু হওয়ার আগে যখন ভিন্নমত, মুক্তমনা, সদালাপ, সাতরঙ, বাতিঘর কিংবা বাংলার ইসলাম ছিল ঘুরে ফিরে এই নিয়েই আলোচনা আর বিতর্ক হতো। ব্লগ হওয়াতে ভিন্ন ভিন্ন লেখার পড়ার সুযোগ হয়েছে। ব্লগ হোক কিংবা ওয়েবজিন হোক কিছু কিছু লোকের লেখা পড়লে, তাদেরকে আজকাল আমার মেয়ের মতো সাত বছরের শিশু মস্তিকের অধিকারী মনে হয়। যা তার জ্ঞান, কল্পনা কিংবা হিসাবের বাইরে তাইই অবাস্তব। যা তাদের চিন্তা ভাবনার বাইরে তাই অসম্ভব। চিন্তা ভাবনাকে ঐ এক ঘরে বন্দী করে ফেলেছে। কি ধর্ম, কি বিজ্ঞান, কি স্বাধীনতা কিংবা কবি আল মাহমুদ সবই একই বৃত্তে ঘুরে। বানরের থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে মানুষ এসেছে !!! তাই কি হয়? তাহলে হাতি কোইত্থেকে আইলো শুনি? আকাশ মানে শূন্য অসীম, কি করে হবে? মাথা তুলে তাকালেই নীল দেখা যায় না? অসীমতা কল্পনা করা কষ্ট তার চেয়ে সাত আসমানের ধারনাটাই বেশি কাছের। পাঞ্জাবী পায়জামা পরা মানেই খাঁটি মুসলমান, ভালো লোক। তাহলে বন্দুক হাতে নিক না নিক তিনিই মুক্তিযোদ্ধা।
ধন্যবাদ সবাইকে।
তানবীরা
৩০.১২.০৯
Subscribe to:
Posts (Atom)