Tuesday, 28 March 2017

Happy Birthday Bhaiya

আই মিস দ্যাট চাইল্ড হুড, দুপুরে মা ঘুমিয়ে গেলে, আমরা চার্লিস এঞ্জেলস, সিক্স মিলিয়ন ডলার ম্যান খেলতাম। দোতলার ক্যান্টিলের ওপর থেকে রাস্তার পাশে বাড়ি বানানোর জন্যে জমিয়ে রাখা, ইট বালুর ওপর লাফ দিয়ে দিয়ে পরা। সমস্ত অমূল্য মধুর স্মৃতির আনন্দ ধারা এন্ড ইউ আর দ্যা হিরো

আমি মিস দোজ নাইটস, ইউনিভার্সিটিতে পড়ার লির্বাটির কারণে বাইরে থেকে শিঙ্গারা, সমুচা, ঝালমুড়ি, ফুচকা সব খেয়ে আসতাম। শরীর নিতে পারতো না। প্রচন্ড ব্যথায় মধ্য রাতে উঠে, কারো ঘুম না ভাঙিয়ে নিঃশব্দে বেসিনে বমি করার সময়, অসীম মমতায় দুটো হাত আমাকে ধরে রাখতো। বমির দমকে আমার সারা শরীর ভেঙে চুরে আসতো, মনে হত বেসিন ভেঙে নিয়ে পরবো আমি, তখন সেই মমতার দুই হাত আমাকে শক্ত করে ধরে রাখতো। সব কিছু নিজে পরিস্কার করে, আমাকে বিছানায় ঘুমোতে পাঠাতো। দুজনের মধ্যে একটা শব্দ বিনিময় হতো না বটে কিন্তু আমি জানতাম, মায়ের বকুনি খানিকটা পিটুনির হাত থেকে ও আমাকে আনকন্ডিশনালি রক্ষা করা হলো।

আই মিস আমাদের পুরনো সাদা টয়োটা করলা। আমরা চার বোন আর তুমি আমাদের হিরো, সব এক সাথে বের হতাম, ঢাকার অন্যদের ভয় দেখাতে (আমাদের ভাষায়)। ফুল ভলিউমে, মায়া লাগাইছে পিরিতি শিখাইছে চালিয়ে দিয়ে, সাভার, আশুলিয়া, গুলশান কিংবা সংসদ ভবন। আমাদের খিক খিক এর কারণে, রাস্তার পুলিশরা আমাদের ধরে অকারণে, নিয়ম নীতি শেখানোর চেষ্টা করতো, ভদ্র আচার ব্যবহার শেখানোর ব্যর্থ চেষ্টা বাবা মায়ের পর তারাও করতো

And I miss u terribly when I’m somber and helpless – every tough moment of my life – I wish u were here to hold me like before.  Again and again I realize – I should have listened to you.

He says, we r unmissable parts of his body. We say, you are the “heart” of us. 
Happy Birthday Bhaiya – You are the “best” thing ever happened to us.
All the RED tomatoes of the whole world are only for you.
The most unbeatable coolest guy on the earth --- The ever green hero – have a blast today

মানুষ আশায় বাঁচে, আমরাও তোমার দেয়া আশার ওপর ভরসা করে আছি পেনশান লাইফে সংসারের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি নিয়ে তোমার প্ল্যান মত আবার সবাই একসাথে থাকবো আমাদের বুড়ো বেলায় আবার আমরা ছোট হয়ে যাবো তোমার জন্মদিনে তোমার পাশে দাঁড়িয়ে কেক কাটার নানা পোজের ছবি তুলবো




Tuesday, 14 March 2017

তোলা থাক কিছুটা সময় ..... ওসব উচিৎ অনুচিৎ..

কে তুমি?
ভয়াবহ শুদ্ধ সুন্দরেররূপ ধরে!
বরং এক চিলতে নেমে এসো অল্পকরে
অবান্তর আনন্দের অশোভনতায়
যেমন মাঝেমধ্যে শীতে গরম নেমে আসে
আর গ্রীষ্মে নেমে আসে শীত.......
তোলা থাক কিছুটা সময়
ওসব উচিৎ অনুচিৎ.......

১৫/০৩/২০১৭ 

Friday, 10 March 2017

আমার সৌমিত্র

“জীবনে কি পাব না ভুলেছি সে ভাবনা সামনে যা দেখি, জানি না সেকি আসল কি নকল সোনা” মান্নাদের এই গানটা ছোটবেলা থেকে অনেক বার শোনা, ক্যাসেটের বদৌলতে। ছোটবেলায় চটুল গানে আকর্ষিত হতাম এমনিতেই বেশি। তার অনেক পরে বাড়িতে যখন ভিসিআর এলো তখন দেখলাম সাদা কালো পর্দায় ছিপছিপে স্মার্ট অত্যন্ত সুর্দশন এক ছেলে টুইস্ট নাচছে এই গানের সাথে। হয়ত সে সময়ের বাংলা সিনেমার এই একমাত্র নায়ক সে টুইস্ট নেচেছেন। তাকে দেখা মাত্র প্রেম, মানে হাবুডুবু প্রেম, যাকে বলে “লাভ এট ফার্স্ট সাইট”। “তিন ভুবনের পারে” ছবিতে তনুজা’র ওপর তো রীতিমত রাগই হচ্ছিলো, এই মারাত্বক “হ্যান্ডশাম” বরকে এতো কষ্ট দিচ্ছে বলে। সারা বাংলা যখন উত্তম – সুচিত্রায় মগ্ন, আমি তখন মগ্ন “সৌমিত্র – অপর্ণা”তে। সত্যজিতের “অপুর সংসার” ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখি। সেখানে অবশ্য নায়িকা কিশোরী শর্মিলা ঠাকুর। তারপর হীরক রাজার দেশে। আস্তে আস্তে সাত পাঁকে বাঁধা, তিন কন্যার সমাপ্তি, চারুলতা, পরিণীতা ইত্যাদি। সৌমিত্রকে দেখার জন্যেই এতো সত্যজিত দেখা হয়ে গেলো এক সময়।

আমি কিশোরী থেকে তরুনী হয়েছি, তিনি যুবকেই থেকে গেলেন আজীবন, চির সবুজ। আজও বেলা শেষে বা প্রাক্তনে তাকে দেখে ভাল লাগে। সিনেমা’র বক্তব্যের সাথে একমত না হলেও তার উপস্থিতির কারণে মুগ্ধতা অস্বীকার করতে পারি না। সত্যজিত ছাড়া বাংলা সিনেমার আর এক দিকপাল মৃণাল সেনের সাথে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন, তপন সিংহ, অজয় করের মত পরিচালকদের সাথেও। তার নাটক দেখার সৌভাগ্য হয় নি কিন্তু মুগ্ধ হয়েছি তার আবৃত্তি শুনে, বার বার। এতোটা ভরাট কন্ঠ শুধু আবৃত্তি’র জন্যেই বোধ হয় তৈরী হয়। অরন্যের দিনরাত্রি, অশনি সংকেত, ফিফটিন পার্ক এভিনিউ, আবার অরন্যে, শাখাপ্রশাখা, গনশত্রু, মনিহার, আকাশ কুসুম কোথায় ভাল লাগে নি তাকে। বোধ হয় তার প্রতি বেশি আকর্ষন কাজ করেছে, তিনি ছকের বাঁধাধরা নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন নি বলে, সেরকম মেকাপ গেটাপ নেয়ার চেষ্টা করেন নি বলে। তিনি যা তিনি তাই ছিলেন, অন্য ভাষায় বলতে গেলে একদম “ছাঁটকাট” সৌমিত্র। সত্যজিত কে এ জন্যে ভাল লাগে, তিনি নায়িকা অনেক বদলেছেন, কিন্তু নায়ক ততো নন। সৌমিত্র কে ছাড়া ফেলুদা কল্পনা করতে পারি না।

বহুমুখী প্রতিভা তাঁর। নিজে নাটক লেখেন, পরিচালনাও করেন, ছবি আঁকেন, কবিতা লেখেন। তার প্রথম কাব্য গ্রন্থের নাম “জলপ্রপাতের ধারে দাঁড়াবো বলে”, ৮১৩ পাতার বই (২০১৪)। যদিও আনন্দ পাবলিশার্সের ইচ্ছে ছিলো প্রথমে তার নাট্যসংগ্রহ বের করার। অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে যতোটা আড়াল করেন, কবিতার মধ্যে দিয়ে নিজেকে ততোটাই প্রকাশ করেন তিনি। আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “আঠারো বছর বয়স কি দুঃসহ, সেই আমিকে প্রকাশ করতেই প্রথমে কবিতা লিখি। কবিতায় আমি মুক্ত। কবিতা সমগ্রের ভূমিকাতে আমি লিখেছি, আমি কবিতা লিখতে শুরু করেছিলাম কৈশোরের নতুন জন্মানো প্রেম আকাঙ্ক্ষার আন্দোলনে। পরবর্তীকালে অবশ্য একটু একটু করে প্রকৃতি, সমাজ, বেঁচে থাকার অপরিহার্য অভিজ্ঞতাও কবিতার মধ্যে ফুটে উঠতে আরম্ভ হলো। কোন বড় ভাব বা আদর্শের প্রভাবে আমার লেখা শুরু হয়নি।“ স্ত্রী দীপাকে চিঠির বদলে কবিতা লিখতেন তিনি। কখনও বা চিঠির ফর্মে না দিয়ে আমার অনুভূতিগুলো কবিতার আকারে আমি ওকে পড়ে শুনিয়েছি। দীপা বরাবরই আমার কবিতার বড় শ্রোতা।“

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সম্মান 'Officier des Arts et Metiers' পেয়েছেন । সত্তরের দশকে তিনি পদ্মশ্রী পান কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি । পরবর্তী কালে তিনি পদ্মভূষণ পুরস্কার লাভ করেন। ২০১২ সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র পুরস্কার দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার লাভ করেছেন।

ভাল লাগে ভাবতে, উই আর গ্রোয়িং ওল্ড টুগেদার। যতো বড় হয়েছি, ততোই মুগ্ধতা বেড়েছে, প্রেম দীর্ঘস্থায়ী থেকে চিরস্থায়ী হয়েছে।

টাক পড়ুক আর নাই পড়ুক তিনি সৌমিত্র,
সে জানুক আর নাই জানুক, প্রেম তার সাথেই দিবা রাত্র।

Image may contain: 1 person, smoking, outdoor and close-up

“জীবনে কি পাব না ভুলেছি সে ভাবনা সামনে যা দেখি, জানি না সেকি আসল কি নকল সোনা” মান্নাদের এই গানটা ছোটবেলা থেকে অনেক বার শোনা, ক্যাসেটের বদৌলতে। ছোটবেলায় চটুল গানে আকর্ষিত হতাম এমনিতেই বেশি। তার অনেক পরে বাড়িতে যখন ভিসিআর এলো তখন দেখলাম সাদা কালো পর্দায় ছিপছিপে স্মার্ট অত্যন্ত সুর্দশন এক ছেলে টুইস্ট নাচছে এই গানের সাথে। হয়ত সে সময়ের বাংলা সিনেমার এই একমাত্র নায়ক সে টুইস্ট নেচেছেন। তাকে দেখা মাত্র প্রেম, মানে হাবুডুবু প্রেম, যাকে বলে “লাভ এট ফার্স্ট সাইট”। “তিন ভুবনের পারে” ছবিতে তনুজা’র ওপর তো রীতিমত রাগই হচ্ছিলো, এই মারাত্বক “হ্যান্ডশাম” বরকে এতো কষ্ট দিচ্ছে বলে। সারা বাংলা যখন উত্তম – সুচিত্রায় মগ্ন, আমি তখন মগ্ন “সৌমিত্র – অপর্ণা”তে। সত্যজিতের “অপুর সংসার” ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখি। সেখানে অবশ্য নায়িকা কিশোরী শর্মিলা ঠাকুর। তারপর হীরক রাজার দেশে। আস্তে আস্তে সাত পাঁকে বাঁধা, তিন কন্যার সমাপ্তি, চারুলতা, পরিণীতা ইত্যাদি। সৌমিত্রকে দেখার জন্যেই এতো সত্যজিত দেখা হয়ে গেলো এক সময়।
আমি কিশোরী থেকে তরুনী হয়েছি, তিনি যুবকেই থেকে গেলেন আজীবন, চির সবুজ। আজও বেলা শেষে বা প্রাক্তনে তাকে দেখে ভাল লাগে। সিনেমা’র বক্তব্যের সাথে একমত না হলেও তার উপস্থিতির কারণে মুগ্ধতা অস্বীকার করতে পারি না। সত্যজিত ছাড়া বাংলা সিনেমার আর এক দিকপাল মৃণাল সেনের সাথে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন, তপন সিংহ, অজয় করের মত পরিচালকদের সাথেও। তার নাটক দেখার সৌভাগ্য হয় নি কিন্তু মুগ্ধ হয়েছি তার আবৃত্তি শুনে, বার বার। এতোটা ভরাট কন্ঠ শুধু আবৃত্তি’র জন্যেই বোধ হয় তৈরী হয়। অরন্যের দিনরাত্রি, অশনি সংকেত, ফিফটিন পার্ক এভিনিউ, আবার অরন্যে, শাখাপ্রশাখা, গনশত্রু, মনিহার, আকাশ কুসুম কোথায় ভাল লাগে নি তাকে। বোধ হয় তার প্রতি বেশি আকর্ষন কাজ করেছে, তিনি ছকের বাঁধাধরা নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন নি বলে, সেরকম মেকাপ গেটাপ নেয়ার চেষ্টা করেন নি বলে। তিনি যা তিনি তাই ছিলেন, অন্য ভাষায় বলতে গেলে একদম “ছাঁটকাট” সৌমিত্র। সত্যজিত কে এ জন্যে ভাল লাগে, তিনি নায়িকা অনেক বদলেছেন, কিন্তু নায়ক ততো নন। সৌমিত্র কে ছাড়া ফেলুদা কল্পনা করতে পারি না।
বহুমুখী প্রতিভা তাঁর। নিজে নাটক লেখেন, পরিচালনাও করেন, ছবি আঁকেন, কবিতা লেখেন। তার প্রথম কাব্য গ্রন্থের নাম “জলপ্রপাতের ধারে দাঁড়াবো বলে”, ৮১৩ পাতার বই (২০১৪)। যদিও আনন্দ পাবলিশার্সের ইচ্ছে ছিলো প্রথমে তার নাট্যসংগ্রহ বের করার। অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে যতোটা আড়াল করেন, কবিতার মধ্যে দিয়ে নিজেকে ততোটাই প্রকাশ করেন তিনি। আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “আঠারো বছর বয়স কি দুঃসহ, সেই আমিকে প্রকাশ করতেই প্রথমে কবিতা লিখি। কবিতায় আমি মুক্ত। কবিতা সমগ্রের ভূমিকাতে আমি লিখেছি, আমি কবিতা লিখতে শুরু করেছিলাম কৈশোরের নতুন জন্মানো প্রেম আকাঙ্ক্ষার আন্দোলনে। পরবর্তীকালে অবশ্য একটু একটু করে প্রকৃতি, সমাজ, বেঁচে থাকার অপরিহার্য অভিজ্ঞতাও কবিতার মধ্যে ফুটে উঠতে আরম্ভ হলো। কোন বড় ভাব বা আদর্শের প্রভাবে আমার লেখা শুরু হয়নি।“ স্ত্রী দীপাকে চিঠির বদলে কবিতা লিখতেন তিনি। কখনও বা চিঠির ফর্মে না দিয়ে আমার অনুভূতিগুলো কবিতার আকারে আমি ওকে পড়ে শুনিয়েছি। দীপা বরাবরই আমার কবিতার বড় শ্রোতা।“

Wednesday, 8 March 2017

আকাশ আর মেঘ

মেঘের খুব অভিমান হয়েছে
জেনে ও আকাশ, দূরে সরে রয়েছে
মেঘ ভেঙে পরেছে
অবিরাম ঝরে যাচ্ছে
আহত আকাশ অনেক রেগে গেছে
গর্জে উঠেছে, বর্ষে যাচ্ছে
স্টক এক্সচেঞ্জে কি শেয়ার দর পড়েছে
ডোনাল্ড ট্রাম্প কি তার ইস্যু থেকে নড়েছে
দুজনের অভিমানের খেলায়
আমাদের ভিজিয়েই যাচ্ছো
শোন বোকা, তোমার কান্নায় এই পৃথিবীর আহ্নিক গতির
কোন পরিবর্তন হবে না,
কোন ফুল পাপড়ি মেলা বন্ধ করবে না
কান্না থামাও মেঘ
আমাদের দোহাই লাগে,
আকাশের সাথে বোঝাপড়া নিভৃতে হোক
ভালবাসায়ায় মিলুক ঐ দু চোখ
ভিজিয়ে ভিজিয়ে সারাবেলা
কষ্ট দিও না আর ম্যালা

০৭/০৩/২০১৭

আকাশ, তুমি কি তোমার হারিয়ে ফেলা প্রেমিকার জন্যে
আজ কেঁদেই যাবে?
সকাল দুপুরে গড়াবে আর দুপুর বিকেলে
জানো না বুঝি, যা হারিয়ে যায়
তা হারিয়ে যায়, মহাকালের গর্ভে
হারানো জিনিস আর ফেরে না
তোমার হাজার কান্নায় তোমার প্রেম
ফিরবে না আকাশ, জেনে রেখো।

২৬/০৮/১৬

Friday, 3 March 2017

নরম রোদের উদাস দুপুর - হাত ছানি দেয় কোন সে নুপূর

হাঁটছিল পিয়া আলতো পায়ে কাঁধে বইয়ের ব্যাগ আর তাতে শেষ না হওয়া এসাইনমেন্টের বোঝা কিন্তু মন উড়ছে কোথাও, কোন সে দূরে হঠাৎ ভাবলো, কি হবে এসব সারাক্ষণ ভেবে, ঢাকার যানজটের মতই কখনো সমাধান হবে না, সমস্যা হলো পড়াশোনা এসাইনমেন্ট শেষ হলো সেটা ডি, এই এক্সাম শেষ হলো তো অন্যটা মাথার ওপর, পাশের ফ্ল্যাটের বেরসিক রমনীর নেড়ে দেয়া পেটিকোটের মত ঝুলছে তার চেয়ে বরং কফি খাই এক কাপ

নির্জনতা চাইছে মন খুব করে কোলাহল ছাড়িয়ে কোনের দিকের নিরিবিলি টেবলটাই সে বেছে নিলো কি খাবে? একটু অন্যরকম কিছু, যা রোজ খায় না। মেনু কার্ড দেখে অর্ডার করলো, লাটে মাকিয়াতো, অনেকটা দুধ দেয়, কাপুচিনোর মডার্ন ভার্সণ, খেতে বেশ লাগে। আজকে নিজেকেই নিজে ট্রিট দিচ্ছে সে। মাঝে মাঝে নিজের সাথে নিজের এই ডেট, নিজেকে যত্ন করতে, ভালবাসতে আজকাল বেশ লাগে।

রোদ উঠেছে, শীতের এই রোদে কোন তাপ নেই, আছে সর্বাংগ জড়িয়ে থাকা প্রেমিকের মিষ্টি ওম। পিঠে রোদের নরম সেই ছোঁয়া পিয়া’র মনকে অন্য কোন দিকে টানতে চাইছে। ভার্সিটির এই করিডোর টা অসাধারণ। ভিক্টোরিয়ান মোজাইকের এই ডিজাইন গুলোর দিকে সারাবেলা তাকিয়ে থাকলেও কোন ক্লান্তি আসে না। আজ তার ওপর বাড়তি পাওয়া এই আলো আধারি’র খেলা।

এ সময় ক্যাফেটারিয়াটা খুব ব্যস্ত থাকে। তার লাটে মাকিয়াতো আসতে বেশ সময় নিচ্ছে। নিজের ভেতর ডুবে যাওয়ার এর চেয়ে ভাল সময় আর হয় না। বড় একটা নিঃশ্বাস নিয়ে চোখ বন্ধ করলো, কোথাও কোন ছবি ভাসে কি? এক মিনিট, দু মিনিট, তিন মিনিট – পাঁচ মিনিট --- না কোথাও কোন ছবি নেই। মন এখন স্থির, কোন চঞ্চলতা নেই এখানে। এতোটা পথ পেরিয়ে আসতে তাকে অনেক নির্ঘুম রাত, অনেক চোখের জল ত্যাগ দিতে হয়েছে। সেসব ভুলে যেতে চায়। কথা হলো, পেরেছে, মন কে স্থির করতে, এটাই সত্যি আর বাকি সব মিথ্যে।


এলো লাটে মাকিয়াতো, চিনি মেশাবে নাকি মেশাবে না, ভাবতে কিছুটা সময় নিলো। তারপর তাতে অল্প চিনি মেশাতে গিয়ে নিজের অজান্তেই হেসে ফেললো, কেন এতো শাসন করে সারাবেলা নিজেকে সে? নিজের প্রতি কেন এতো কাঠিন্য? সে তো তার নিজের কাছে কিছু ট্রিট পাওনা আছে। অনেকটা চিনি মিশিয়ে নিয়ে গরম লাটে মাকিয়াতো’র কাপে আলতো ঠোঁট ছুঁয়ে, ব্যাগ থেকে সদ্য কেনা, দাউদ হায়দারের “ভালবাসার কবিতা” বইটি বের করে তাতে চোখ বোলাতে লাগলো। মনটা ঝরঝরে, ফুরফুরে – ফিসফিস করে নিজেকে বললো, চিয়ার্স পিয়া
 

Tuesday, 7 February 2017

যাপিত জীবনের গল্প ২

রাতে খাবার টেবিলে গল্প হচ্ছে, গরমের ছুটিতে কোথায় কোথায় যাওয়া যায়, কি কি করা যায়, ইত্যাদি নিয়ে। আর সব ইউরোপবাসীদের মত আমরাও সারা বছর গরমের ছুটির পানেই তাকিয়ে থাকি। মেয়ে আহ্লাদে গলে বাবা কে বলছে,
আমি দু সপ্তাহ এমেরিকায় যেতে চাই আর দু সপ্তাহ বাংলাদেশ। আমি তো তোমার একমাত্র বাচ্চা। হ্যাঁ না বাবা।
বাবা স্বভাব সুলভ গলায় বললো, একমাত্র বাচ্চা দেখে তুমি এতো সব বেশি পাচ্ছো।
ঝেঁঝেঁ মেয়ে জবাব দিলো, কোথায় সব বেশি পাচ্ছি বলো? কোথায়? কাল ও চিকেন খেয়েছি এখন ও চিকেন খাচ্ছি। আমি কি রোজ লবস্টার আর গলদা চিংড়ি খাই?


বাবা বললো, তোমাকে কিছু বললে, তুমি কথা শোন না, তুমি ভাবো বাবা – মা বোকা, তাই না? তোমার বয়সে আমরাও তাই ভেবেছি। এখন জানি, বাবা মায়ের কথা যদি শুনতাম, তাহলে আরো ভাল থাকতাম।

মেয়ে ফট করে বলে বসলো, তুমি বেশি বোকা না, মা বেশি বোকা।

মা ঘুরে তাকাতেই মুখে তাড়াতাড়ি কূটনীতির হাসি এনে বলে, মজা করছিলাম।

মা সিরিয়াস গলায় বললো, তুমি মোটেই মজা করছিলে না।

ধরা পরা হাসি দিয়ে বলে, তুমি আসলে মাঝে মাঝে ভীষন বেশি বোকা, অঙ্ক, ফিজিক্স, কেমেস্ট্রি, বায়োলজি কিছুতেই তো আমাকে হেল্প করতে পারো না।

মা বললো, তাই! বাসায় তাহলে বেশি জ্ঞানী কে?

গর্বের সাথে বললো, আমি তারপর বাবা, তারপর তুমি।

মা বললো, মাঝে মাঝে এক্সামে তুমি রেড পাও, তাহলে তুমি কি করে হবে!

বিজ্ঞের গলায় বললো, যেগুলো আমি প্রথমে রেড পাই, সেগুলো পরে আমি পেরে যাই, জানো না। কিন্তু মাঝে মাঝে তো আব্বুও কিছু কিছু জিনিস পারে না, বলে স্কুলে টিচারের কাছে দেখে নিও। তাই, বুঝেছো?


07-02-2017


রাজপথে একটা মিছিল নেই, পথ আটকে সভা নেই, নেই কোন গগন বিদারী, রক্তে তুফান তোলা শ্লোগান অমুক ভাই নেইতমুক ভাই নেই, খোলা জীপে গলায় মালা পরে হাত নেড়ে চলে যাওয়ামজনু ভাইকে আপেল মার্কায় ভোট দিনমার্কা কোন নেতা নেই কেন্দ্র দখলের মারামারির উত্তেজনা নেই, হাতের আঙুলে কালির দাগ নেই, নেই কোন সরকারী ছুটি কিংবা টিভিতে নির্বাচনের বিশেষ অনুষ্ঠান মালা
এর নাম ইলেকশান? টান টান উত্তেজনা কোথায় এখানে!
যাহোক, ইলেকশান নামের কলঙ্ক এরা কিছুই শিখলো না আমাদের কাছ থেকে সেটা মেনে নিয়েই নাগরিক দায়িত্ব পালন করেভুটিয়ে এলাম আজকে নেদারল্যান্ডসের সাঁইত্রিশতম সংসদ নির্বাচন হয়ে গেলো। সরকারীভাবে ২১শে মার্চ ফলাফল ঘোষনার কথা বললেও, মিডিয়া “মার্ক রুত” আর “উইল্ডেনবার্গকে” নিয়ে টানাটানি করেই যাচ্ছে। অনলাইনে ফলাফল সম্পর্কে ধারনা দেয়া হচ্ছে। যদিও আটাশটা দল নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেছে কিন্তু সবার দৃষ্টি আর আগ্রহ এই দুই দলকে কেন্দ্র করেই আর্বতিত হচ্ছে, নরমপন্থী বনাম চরমপন্থী।
১৮৮৮ সাল থেকে সংসদ নির্বাচন হয়ে যাচ্ছে, প্রথমে হতো তিন বছর পর পর, তারপর চার বছর পর পর, আর এখন সব ঠিক থাকলে পাঁচ বছর পর পর নইলে মধ্যবর্তী নির্বাচন আছে।
ক্ষমতায় যেই আসুক তাতে প্রাত্যহিক জীবন যাত্রায় কোন ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ তারপরও বলবো,
সবার মঙ্গল হোক সেদিকেই দু’চোখ


15/03/2017


কনগ্রেচুলেশান্স ডাচ – ডাচল্যান্ড – ওয়ান্স এগেইন।

ডাচ সংসদ নির্বাচনের বেসরকারী ফলাফল মোটামুটি এখন সবার জানা। প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুত (VVD) তৃতীয় বারের মত তার দল নিয়ে জয়ী হলেন, যদিও আগের বারের তুলনায় এবার আটটি আসন হারিয়েছেন (21.3%)33। ওয়াইল্ডবার্গ (PVV) ডাচ ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন যেটা আদতে ডাচল্যান্ড এর জন্যে বিরাট অশনি সংকেত (13.1%)20 আর স্মরণ কালের মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থানে আছে, এক সময়ের জনপ্রিয় দেশকে নেতৃত্ব দেয়া দল PVDA (5.7%)9।


তারপরও বলবো, যে দেশের প্রয়াত রাজা বিদেশী, যে দেশের বর্তমান রানী বিদেশিনী, রাজ পরিবারের বেশীর ভাগ সদস্য বিভিন্ন দেশের থেকে তাদের জীবন সঙ্গী খুঁজে নিয়েছেন, সে দেশের জনগনের কাছে এই ফলাফল অপ্রত্যাশিত নয়। ডাচল্যান্ড, সর্বদাই ধর্ম আর বর্ণ এ দুটো জিনিস কে উপেক্ষা করে গেছে বলেই আজকের এই অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। এ দেশের বর্তমান রাজা অবলীলায় তার ছুটির দিনে কর্পোরেশানের বাচ্চাদের পার্ক পরিস্কার করতে যান, রাজমাতা জীন্স পরে সিকিউরিটি ফাঁকি দিয়ে ফসল কাটা মাঠে সাইকেল চালান, প্রতিবেশীর গাড়িতে ধাক্কা লাগার কারণে রাজবধূকে কোর্টে ডেকে জরিমানা আদায় করা হয়, সেখানে ধর্ম আর বর্ণের বাড়াবাড়ি না থাকলেও চলে, কর্মেই তাদের পরিচয়।



সব বর্ণ, ধর্ম আর ধর্মহীন মানুষকে নিয়ে যে সংস্কৃতি দ্যাট মেকস ডাচ – রয়্যাল ডাচ, সো ফার ইউরোপ – ইউরোপ আর ডোনাল্ড ট্রাম্প মেকস এমেরিকা – এমেরিকা --- প্রাউড টু বি আ পার্ট অফ ডাচ সোসাইটি  

16/03/2017


Sunday, 29 January 2017

ডাচ শিক্ষা ব্যবস্থায় গ্রেডিং

ডাচ শিক্ষা ব্যবস্থায়, প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় ব্যাপার গুলো নেই। আছে শুধু পাশ ফেইল। সেটা ও লেখে অত্যন্ত পরিশালীত ভাষায়। “ভাল” “যথেষ্ঠ” “যথেষ্ঠ নয়”। রেজাল্ট কার্ড হাতে নিয়ে পিতা মাতাদের একজনের সাথে আর একজনের তুলনা দেয়ার ব্যবস্থাটাও কম। রেজাল্ট হয় দু- তিন ধরে, প্রতিটি গার্জিয়ানের সাথে আলাদা এপয়ন্টমেন্টের মাধ্যেমে আলোচনা করে রেজাল্ট হাতে দেয়া হয়, তাই একজন গার্জিয়ানের সাথে আর একজন গার্জিয়ানের দেখা হওয়ারও সুযোগ হয় না। তার চেয়েও বড় হলো, বাচ্চারা সবাই ইউনিক, একজনের সাথে একজনের তুলনা হয় না, প্রত্যেকের মধ্যেই ভাল কিছু আছে সেটা সে বয়সেই তাদের শিখিয়ে দেয়া হয়। মেঘ কে কিছু বলতে গেলেই গলার রগ ফুলিয়ে বলবে, তুমি আমার সাথে অন্যের তুলনা করছো, জানো এটা কতো খারাপ?
প্রতিযোগিতাকে এখানে অসুস্থ মনে করা হয় বিধায় এটাকে অনুৎসাহী করা হয়।
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটাই পাশ-ফেইল, বেশি নম্বরকম নম্বর, বই গেলানো নির্ভর এ  নিয়ে আমাদের সংস্কৃতির সাথে ওদের সংস্কৃতির যুদ্ধ ও হয়ে যায়।  
একবার মেঘলার ক্লাশে একজন ভারতীয় বাচ্চা পরীক্ষায় নম্বর একটু কম পাওয়াতে কাঁদছিলো। সাধারনতঃ বরাবর সে বেশ ভাল নম্বর পায়।
টিচার অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছে, তুমি কাঁদছো কেন?
মেয়েটি বললো, আমি অন্যের চেয়ে নম্বর কম পেয়েছি, মা জানলে অনেক রাগ করবে।
টিচার আরো অবাক হয়ে বললো, কেন? কেন বকবে তোমাকে? কোন কোন বিষয় কি থাকতে পারে না যা তুমি অন্যদের থেকে কম জানতে পারো? সব যদি জানবেই তবে স্কুলে আসবে কেন? স্কুলে তো শিখতেই আসো, নাকি?
এমনও হয়েছে, এক ভারতীয় অভিভাবক স্কুলের টিচারকে বলেছে, তোমার ক্লাশে যা পড়ানো হয় সে সব তো আমার বাচ্চা সব জানে। তুমি ওকে ওপরের ক্লাশে দিয়ে দাও।
টিচার বিনয়ের সাথে বলেছে, তোমার বাচ্চা অনেক জানে বটে কিন্তু সব তো এখনও জানে না। তুমি ওকে আরামে আমার কাছে ছেড়ে দাও। ও কি জানে আর কি জানে না, সেটা আমি দেখে নেবো, সে জন্যে আমি আছি।
হাসতে হাসতে খেলতে খেলতে প্রাথমিক শিক্ষা বলতে যার গল্প ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি তার চাক্ষুস কিছুটা রুপ এখানে দেখতে পেয়েছি। একশ তিন জ্বর নিয়েও বাচ্চারা স্কুলে যেতে পাগল থাকে। নিজের মেয়েকেও ঔষধ সুদ্ধ স্কুলে দিয়ে এসেছি, টিচার বলেছে, বেশি খারাপ হলে আমি তোমাকে ফোন করে দেবো, এসে নিয়ে যেও।
স্পেন থেকে বেড়িয়ে এসেছি একবার, প্লেন থেকে নেমে বাড়ি এসেই মেঘ বললো, মা, এখন তো টিফিন পিরিয়ড, আমি স্কুলে চলে যাই?
সেই দিনটা ওর ছুটি নেয়া ছিলো স্কুল থেকে। ও বাড়ি থাকতে চাইলো না, আমি দুপুরে স্কুলে দিয়ে এলাম।
মেঘের ক্লাশে তিনটে গ্রুপ ছিলো। সবুজ, বেগুনি আর কমলা। আমরা আমাদের দেশীয় কায়দায় এগুলোকে মেধাবী, মাঝারি আর দুর্বল হিসেবে দেখার চেষ্টা করলে মেঘ আমাকে বললো, এরকম কোন ব্যাপার নয় মা।
সবুজ যারা তারা তাদের পড়া শেষ হয়ে গেলে, বেগুনিদের সাহায্য করবে। আর বেগুনি যারা তারা তাদের হাতের কাজ শেষ করে কমলা গ্রুপকে সাহায্য করবে। সবাই ভাল ক্লাশে, সবাই এক সাথে পড়বে, কিন্তু সবাই সবাইকে সাহায্য করবে। সবুজ যারা তারা তাদের পড়ার বাইরেও টিচার থেকে অন্য পড়া পাবে। ব্যাপারটা আদতে তাই, দুর্বল গ্রুপকে সবল গ্রুপ সাহায্য করবে কিন্তু ছোট বেলাতেই বাচ্চার ব্রেইনকে সুপারলেটিভ কিছু ঢুকিয়ে দিয়ে ওয়াশ করে দেয়া হয় নি। সবাইকে সমান সমান রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। যার যার ক্লাশ ওয়ার্ক আগে শেষ হয়ে যাবে সে এক্সর্টা পড়া পাবে মানে সবুজ গ্রুপ তাদের মেধানুযায়ী কিছুটা বেশিই পড়বে। অনেকটা স্বীকৃত মনটেসরি (Montessori) পদ্ধতি। কিন্তু সবুজ মানেই মেধাবী এই চিন্তাটা বাচ্চাদের মাথা থেকে সযতনে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রাইমারি স্কুলে বাচ্চাদের কোন বই খাতা থাকে না বাড়ি থেকে ছোট একটা স্কুল ব্যাগে ওয়াটার বোটল, জুসের প্যাকেট, আর টিফিন বক্স নিয়ে যায়, নিয়ে আসে পড়ার উপাদান (Material) স্কুলেই থাকে, সেখানেই পড়ে, লিখে, সেখানেই জমা দিয়ে আসে ছোট ক্লাশে বেশীর ভাগই পাজল মেলানো, লেগো দিয়ে কিছু বানানো, ডুপ্লো, ছবি আঁকা, প্লে ডো দিয়ে বিভিন্ন কিছু তৈরী, রঙ করা, আপেলের সাথে আপেল দিয়ে, পিয়ারের সাথে পিয়ার দিয়ে গুনতে শেখানো, সারি শেখানো হয় টিচাররা বলে এ দিয়ে সূক্ষ্ণ ভাবে অঙ্ক শেখানো শুরু হয় প্রচুর পরিমানে রঙিন কাগজ সাথে কেঁচি, আঠা দিয়ে বাচ্চাদের দেয়া হয় ক্লাশে, এসো নিজে বানাই, যেটাকে কারু শিল্প বলি আমরা। প্রতি ক্লাশে বিশ থেকে পঁচিশটা বাচ্চা থাকে, আর দুজন টিচার। একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত আর একজন শিক্ষানবীশ, যে তার পড়াশোনার ব্যবহারিক পর্বটি তখন করছে। পাশ করে গেলে হয়ত এখানেই চাকরি হয়ে যেতে পারে।

কারু শিল্প ক্লাশের জন্যে মাঝে মাঝে পুরো দুপুরের পরিকল্পনা রাখা হয়। অনেক সময় বাবা মায়েদের কারু শিল্প দুপুরে সাহায্য করতে বলা হয়। বাচ্চারা আনন্দের সাথে দু হাতে, গায়ের এপ্রনে রঙ মেখে, আঠা মেখে পাখি, মুরগী, প্লেন, ফুল বানাতে থাকে। কোন বাচ্চার হাতের কাজ কতোটা পরিস্কার, সে কি ভাবছে, কোন দিকে ঝোঁক, কি দিয়ে খেলতে ভালবাসছে তা খুব গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করে টিচাররা তা লিখে রাখে। এখানে বাচ্চাদের রিপোর্টের তিনটে ভাগ হয়, সামাজিক উন্নয়ন, মানসিক উন্নয়ন আর পড়াশোনা। ডাচ এডুকেশানে একজন মানুষের জন্যে এই তিনটা ভাগই অত্যন্ত জরুরীসামাজিক উন্নয়ন ভাগে থাকে বন্ধুদের প্রতি আচরণ, ক্লাশের অন্যদের সাহায্য ইত্যাদি, স্কুলের অন্যদের প্রতি ব্যবহার, মানসিক উন্নয়ন বিভাগে দেখে, বাচ্চার নিজের ভাল লাগা, মন্দ লাগা তার বয়সানুযায়ী হচ্ছে নাকি, তার হাসি, কান্না, রাগ আবেগ তার বয়সের সাথে তাল মিলিয়ে উঠানামা করছে কি না, শারীরিক গঠন, উন্নয়ন সব দেখা হয় আর পড়াশোনাতে দেখা হয় তার মেধানু্যায়ী সে আশানুরূপ ফলাফল করছে কি না। সবুজ গ্রুপের সাথে কমলা গ্রুপের তুলনা নয়, কমলার মধ্যে তার কর্মক্ষমতা কেমন। এই বয়স থেকেই কোন বাচ্চা ভবিষ্যতে কি ধরনের পড়াশোনা, পেশায় যেতে পারে, সাফল্য আসবে কোন দিকে সেই দিকটি নির্নয় করা হয় বা দিক নির্দেশনা দেয়া বা ধরা হয়ে থাকে।

যদিও প্রাইমারী স্কুল শেষ হওয়ার আগে সরকারী ভাবে সারা দেশ জুড়ে একটি মেধা নির্নয় পরীক্ষা নেয়া হয়। সেই পরীক্ষার ফলাফল আর ক্লাশের পরীক্ষার ফলাফল দুটোকে তুলনা করে সেকেন্ডারী স্কুলের গ্রেড নির্নয় করা হয়। কেউ যদি কোন কারণে সরকারী পরীক্ষা রেজাল্ট খারাপ করেও ফেলে তাহলে স্কুলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে, সরকারী পরীক্ষার মার্কস নয় আবার উল্টোও হতে পারে। সেকেন্ডারী স্কুলে মেধাবী, মাঝারী, কম মেধাবী হিসেবেই ক্লাশ করানো হয়। তবে সেটা যে কোন সময় পরিবর্তন হতে পারে। মেধাবী হিসেবে কেউ গ্রেড পেয়ে লাগাতার পরীক্ষা খারাপ করলো তবে তাকে মাঝারী’তে নামিয়ে দিতে পারে। আবার মাঝারিতে ভাল রেজাল্ট করলে মেধাবীতে তুলে দিতে পারে। সব সময় বাচ্চার ক্যাপাবলিটাকেই দেখা হয়। এটা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্তই আসলে চলতে থাকে। পারছো না জায়গা ছেড়ে দাও, তুমিও কমর্ফোটেবল থাকো, অন্যেও সুযোগ পাক। হতাশা দিয়ে, বিষাদ দিয়ে জীবন গড়ো না। পড়াশোনায় হচ্ছে না, টেকনিক্যাল লাইনে দেখো, কিংবা আরো অন্য কিছু। এতো বড় জীবনটাকে, বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ করে দিও না।  

প্রাইমারীতে বাচ্চাদের স্কুল ব্যাগ এর একটি নমুনাঃ