Sunday, 22 August 2021
Skater Girl
ছবিটির ট্রেলার প্রকাশ হওয়ার পর, উল্রিক রাইনহার্ড এবং ভারতের শীর্ষ স্কেটবোর্ডার আশা গন্ডের উত্থানের গল্পের সাথে নেটিজেনরা ছবিটির মিল খুঁজে পান। জার্মান নাগরিক উল্রিক রাইনহার্ড নিজেও বলেছেন এই সিনেমা তার জীবনকে ভিত্তি করে বানানো হয়েছে এবং স্কাইপ কলে এবং সামনাসামনি মাকিজানি বোনদের সাথে তার আলোচনাও হয়েছে। তাদের মধ্যে চুক্তি সম্পাদনের অঙ্গীকারও হয়েছিলো। মধ্য প্রদেশের জানবার প্রদেশের আশা গন্ড বলছেন এই ছবি বানানোর জন্যে তার কোন অনুমতি নেয়া হয়নি যদিও তারা তার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। পরিচালক মাকিজানি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, "চলচ্চিত্রটি কারো বায়োপিক বা প্রামাণ্যচিত্র নয়। এটি গন্ড বা রাইনহার্ডের গল্প নয়, এটি আমাদের গবেষণার সময় ভারত জুড়ে শত শত মেয়ে এবং স্কেটারের গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছে। স্কেটবোর্ডারদের সাথে প্রযোজকদের এই নিয়ে এখনো বিতর্ক চলছে।
দুই হাজার বিশ সালের প্রথমদিকে শুটিং শেষ হলেও মানজারি মাকিজানির পরিচালনায় এগারোই জুন দুই হাজার একুশে মুক্তি পেয়েছে “Skater Girl”, এর চিত্রনাট্য লিখেছেন ভিনাতি আর মানজারি মাকিজানি দুইবোন। সারা ভারতে স্কেটবোর্ডিংয়ের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির গল্পটি তারা সামনে আনতে চেয়েছেন এবং তার সাথে খেলাধুলায় অংশগ্রহণকারী মেয়েদেরকে পারিবারিকভাবে প্রতিরোধের বিষয়টি, সংস্কৃতির সংঘাত ইত্যাদি খুব নির্দিষ্ট বিষয়গুলিও স্পর্শ করেছেন। প্রতিরোধ, পরিবর্তন এবং সম্ভাবনা, তিনটি বিষয়ই সিনেমাটি উঠে আসলেও মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, মেয়েদের ওপর সামাজিক চাপটিকে, বিশেষ করে সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র প্রেরনার মতো দরিদ্র মেয়েদের পরিস্থিতিকে। সিনেমায় দেখা স্কেটপার্কটি "স্কেটার গার্ল" সিনেমার জন্য নির্মিত হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে পাঁচ মাসে চৌদ্দ হাজার পাঁচশো স্কয়ার ফুটের এই পার্কটি নির্মাণ করা হয় এবং এটি এখনও আছে, এটি ভারতের অন্যতম বড় স্কেট পার্ক, ক্ষেমপুর, রাজস্থানের প্রথম স্কেটপার্ক। এলাকার শিশুরা, পেশাদার স্কেটাররা অনুশীলন এবং প্রতিযোগিতার জন্য এটি ব্যবহার করে। "স্কেটার গার্ল" শুধু স্কেটবোর্ডিংয়ের জন্য একটি আবেগীয় গল্প নয়, স্কেটবোর্ডিংকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বাস্তবেও এটি সক্রিয়ভাবে সাহায্য করেছে।
দেশ, কাল, স্থান, পাত্র ভেদ করলেও কিভাবে যেনো মায়েদের যুদ্ধগুলো খানিকটা একই হয়। কোন কোন সৌভাগ্যবতী মা সেই যুদ্ধে জয়ী হয় আর বাকিরা জীবনভর যুদ্ধ করেই চলে। মেয়ে স্কেটিং করলে পরিবারের অসম্মান হবে তাই বাবা স্কুলে পড়ুয়া মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেবে। পড়াশোনার দরকার নেই, মেয়ের চাওয়া-পাওয়ার কোন মূল্য নেই, যারা একবেলা খেতে দেবে না, সেই মানুষদের কাছে তার ঠুনকো পাগড়ীর মূল্য মেয়ের আনন্দের চেয়ে বেশী। মেয়ের চাওয়ার কাছে মা হার মানেন, বারবার। সিনেমা দেখতে দেখতে বারবার ভাবছিলাম, তালিবান কি শুধু আফগানিস্তানেই থাকে? মুখে দাঁড়ি আর মাথায় পাগড়ি থাকলেই কি তালিবান? এই সমাজে হাজার হাজার তালিবান আছে যারা ভাবে, মেয়েরা বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে যাওয়া মানে উচ্ছৃঙ্খলতা, স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্বাবলম্বী মেয়ের তার স্বোপার্জিত আয় খরচ করা অনুচিৎ। স্বামী বেকার হোক কিংবা জুয়ারী, সংসারের সমস্ত অশান্তিতে স্ত্রীকেই স্বামীর মন বুঝে চলতে হয়। স্ত্রী-সন্তানের ওপর স্বামী যত অত্যাচারই করুক, তারপরও পরিবারই বলবে, একহাতে তালি বাজে না। সিনেমায় দেখতে পাই, “মেয়ের সাফল্যে আনন্দে হাততালি দিতে গিয়ে মা, বাবার দিকে চোখ পড়তেই থেমে যায়”। আসলে তালিবান ভারতবর্ষের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে আছে, চিন্তায়, চেতনায় আর মননে।
চলচ্চিত্র নির্মাতারা গবেষণা, লেখালেখি এবং রাজস্থানের কিশোর -কিশোরীদের সাক্ষাৎ করে প্রেরণা এবং অঙ্কুশের চরিত্রগুলি যথাসম্ভব বাস্তবভাবে লেখার জন্য এক বছরেরও বেশি সময় ব্যয় করেছেন। ক্ষেমপুরের চৌত্রিশজন স্কেটারসহ পুরো ভারতের পঞ্চান্নজন স্কেটার এই চলচিত্রটিতে অভিনয় করেছেন যদিও তিন হাজারের বেশি বাচ্চার অডিশন নেয়া হয়েছিলো। স্কেট পার্কটি নির্মাণের সময় উৎসুক স্থানীয় বাচ্চারা ভীড় জমাতো সেটি দেখতে তাদেরকে তখনই স্কেটবোর্ডের ট্রেনিং দেয়া শুরু হয় এবং পরবর্তীতে অভিনয়েরও সুযোগ দেয়া হয়। র্যাচেল সঞ্চিতা গুপ্ত প্রেরণার চরিত্রে আর সাফিন প্যাটেল অঙ্কুশের চরিত্রে অভিনয় করেছে, পনের বছর বয়সী র্যাচেল এর আগে আঘাতিত নামে একটি শর্ট ফিল্মে অভিনয় করেছে কিন্তু সাফিনের এটিই প্রথম ছবি। রজার এবার্ট, টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ফার্স্ট পোস্ট, মেটাক্রিটিক, গার্ডিয়ানসহ বহু নামী মিডিয়া এই সিনেমার পজিটিভ রিভিউ প্রকাশ করেছে। অর্ধেক পৃথিবী জুড়ে গরমের ছুটি চলছে, খুব আহামরি না হলেও সুন্দর, পরিচ্ছন্ন, টাইম আউট মুভি হিসেবে এটি দেখে নেয়া যেতেই পারে। সময় নষ্ট মনে হবে না তার নিশ্চয়তা দিতেই পারি।
তানবীরা হোসেন
২২/০৮/২০২১
Friday, 20 August 2021
বিপ্লবের একাল – সেকাল
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায়, কেশবচন্দ্র সেন, বেগম রোকেয়া যারই জীবনী পড়ি না কেন, দেখা যায় তারা নিজ থেকে সমাজের কোন একটি সংস্কার বা কুসংস্কারের সাথে একাত্ম হতে পারেননি, মেনে নিতে পারেননি প্রচলিত রীতিনীতি। সেই নির্দিষ্ট প্রথাটি ভাঙার, নিয়ম বদলানোর জন্যে চেষ্টা করে গেছেন। পাশে কাউকে পেয়েছেন কি পাননি তা নিয়েও ভাবেননি। নিবিষ্ট মনে নিজের বিবেকের দায় থেকে নিজের অবস্থান থেকে লড়ে গেছেন। জনমত তৈরীর চেষ্টা করেছেন, নিজেরা উদাহরণ তৈরীর চেষ্টা করেছেন, আইনের শরনাপন্ন হয়েছেন, কত কিছু। তাদের বিদ্যা, টাকা-পয়সা, শ্রম, ধ্যান একটি জায়গায় নিবিষ্ট ছিলো। শুধু কি ভারতবর্ষে? নিজের আগ্রহ থেকে মার্দারসে, উইমেন্স ডে, ওল্ডহোম ইত্যাদি নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে জেনেছি গোটা একটা জীবন তারা তাদের একটি ভাবনা, আদর্শের জন্যে উৎসর্গ করে গেছেন।
আজকাল বিপ্লবীরা সবাই অপেক্ষা করে বসে থাকেন, কোথায় কখন কি অঘটন ঘটবে, তারা কী-বোর্ডে বিপ্লবের ঝড় তুলে ফেলবেন। নিত্য নতুন অঘটন আর নিত্য নতুন বিপ্লব। তবে এরমধ্যে ভিক্টিমের সাথে যোগাযোগ, তাকে সাহায্য, ঘটনার ফলোআপ, আইনের দরজায় যাওয়া কিছুই অন্তর্ভুক্ত নয়। সাংবাদিকরাই কোন ঘটনার ফলোআপ করেন না তো আর ডিজিট্যাল বিপ্লবীরা।
নতুন সামাজিক স্ট্যাটাস হয়েছে, আমি “এক্টিভিস্ট”, “এক্টিভিজম” করি। অবশ্য এন-জি-ও’র থেকে পাওয়া গুড়ো দুধ, ঔষধপত্র, স্যালাইন,
স্যানিটারি প্যাড মানুষের মাঝে বিলানোর মধ্য দিয়ে যদি “এক্টিভিজম” করা যায় তাহলে, হোয়াই নট! খুব জানতে ইচ্ছে করে, কোন ইস্যু নিয়ে এক্টিভিজম করছেন, কি কি গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করেছেন, দেশে বিদেশে এর ওপরে আর কেউ কোন কাজ করেছে কিনা, করছে কিনা তার খোঁজ খবর নিয়েছেন? যোগাযোগ করেছেন? এক্টিভিজমের লক্ষ্য কি? কি পরিবর্তন আনতে চান? কি অর্জন করতে চান? এজন্যে কি কি ত্যাগ স্বীকার করতে রাজি আপনি? নানাকিছু ভেবে পরে আর জিজ্ঞেস করি না, যাক টিকটক না করে কিছুতো তবুও করছে।
Tuesday, 17 August 2021
আফগান প্রসঙ্গ
পনেরই আগষ্ট আগে শুধু বাঙালি জাতির জন্যে কলঙ্কজনক দিন ছিলো, এবার ইতিহাসে যোগ হলো আরও একটি নাম "আফগান"। সোশ্যাল মিডিয়ায় আফগান বিমানবন্দরের ছবি ও ভিডিও যখন প্রথম দেখলাম, বিশ্বাস করিনি, ভেবেছি, একদলতো ফেক ম্যাটেরিয়াল নিয়ে থাকেই রেডি, যেকোন কিছু নিয়ে মজা করার জন্যে। বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের সীমারেখা ভেঙে মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় দেখলাম, যারা প্লেনে জায়গা পায়নি তারা প্রাণের মায়া তুচ্ছ করে প্লেনের ডানা আর পাখায় চড়ে সেই প্রাণখানা বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ছুটছে। এবং কেউ কেউ নিহত হয়েছে।
এরপর আছে আমাদের সভ্য মানবিক বিশ্ব। কাবুলের মানুষের বিমানের চাকা ধরে পালানোর চেষ্টার ভিডিওতে আটচল্লিশ হাজার রিএকশনের মধ্যে তিন দশমিক আট হাজার “হাহাহা” রিয়েকশন পরেছে। একটা মানুষ কতটা ডেসপারেট হলে এমন ঝুঁকি নিতে পারে আর বিমান থেকে টপাটপ মানুষ পরছে সেটা দেখে লোকজন “হাহাহা” দিচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশী আইডিও কম না… এই স্যাডিস্ট জনগোষ্ঠী কিসে না আনন্দিত হয়। মানুষের অস্বাভাবিক মৃত্যু, কি পাশবিক আনন্দের বিষয়! অনেকেই একে ইসলামের বিজয় আর কাফেরের পতন হিসেবে দেখছে, ফেয়ার ইনাফ, যে মানুষগুলো মারা যাচ্ছে, প্রাণ ভয়ে ভীত, দেশ ছেড়ে পালাতে চাচ্ছে তারা কারা? এমেরিকান, খ্রিষ্টান?
একদল আবার তারচেয়ে এক কদম এগিয়ে, যারা পালিয়ে যাচ্ছে কিংবা প্রাণ ভয়ে ভীত তাদের বলছে, রাজাকার আর তালিবানরা মুক্তিযোদ্ধা!!! বাড়িতে ঢুকে বারো বছরের মেয়েদের জোর করে বিয়ে করে ফেলা কিংবা বিয়ে দিয়ে দেয়ার নাম স্বাধীনতা? পোষাক পরতে হবে তাদের ইচ্ছায়, স্কুলে যাওয়া- আসা হবে তাদের মর্জিতে, এই হলো স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিকের জীবন? বাচ্চা ছেলেরা স্কুলে না যেয়ে যাবে বোমা বানানো শিখতে?
"তালিবান" যদি স্বাধীনতার নাম হয় তাহলে "স্বাধীনতা"র সংজ্ঞা নিয়ে পৃথিবীকে আবার নতুন করে ভাবতে হবে। নির্ভয়ে যারা নি:শ্বাস নিতে চান, পালানো ছাড়া আর কি উপায় আছে?
অন্যদের মতো, আমি আর বললাম না, পরাধীন এমেরিকা আর স্বাধীন আফগানিস্তান দুটোতেই বসবাস করার সুযোগ পেলে কোনটায় যাবেন? কারণ উত্তরটা আমাদের সবার জানা।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, তালেবানের আহ্বানে
আফগানিস্তান যাওয়া কেউ ফিরলেই সাথে সাথে গ্রেফতার। নির্দ্বিধায় বলতে পারি, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সরকারের সবচেয়ে সময়োপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত এটি। আফগানিস্তানের জন্য নিরন্তর ভালবাসা ও সহানুভূতি। আশা রাখছি জীবদ্দশায় অন্তত দেশটির স্থিরতা দেখে যেতে পারবো। হাসিখুশী আফগান মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার যে সাদাকালো ছবিটি মিডিয়ায় প্রায়ই দেখা যায়, কোন প্রভাতে আফগানিস্তানে আবার সেদিনের সূচনা হবে।
Thursday, 5 August 2021
ঝিকে মেরে ওকে শেখানো
দুবাই মার্কেটে কেনাকাটা করতে গেলেই রাস্তার পাশে টুকরিতে রাখা খালি বোতলগুলোর দিকে চোখ যায় উর্মির। বিভিন্ন ডিজাইনের কি সুন্দর সুন্দর শেপ একেকটার। প্রায়ই ভাবে কিনবে, দরদাম করে আজ কিনেই ফেললো কয়েকটা। সাথে কিছু তাজা ফল। বাসায় ফিরে গরম পানি ফুটিয়ে বোতলগুলো পরিস্কার করলো। ফলগুলো রস করে তাতে নানা স্বাদের সিরাপ মিশিয়ে বোতলে ঢেলে ফ্রিজে রাখলো। পুদিনা পাতা কিচেন টাওয়ালে র্যাপ করলো যাতে তাজা থাকে। কাল সামি ফিরবে ট্যুর থেকে, মোহিতোর মধ্যে মেশাবে, এই গরমে বেশ একটা সারপ্রাইজ দেয়া যাবে।
এত কাজ করে ঘেমে ভিজে একসা উর্মি। গোসল সেরে এসিটা অন করে, টিভির রিমোট নিয়ে বিছানায় মাত্র গা এলিয়েছে, নিউজ দেখে আবার লাফিয়ে উঠে বসলো। ফোন করে ড্রাইভারকে আধ ঘন্টার মধ্যে আসতে বললো। বোতলগুলো বের করে সব জুস সিঙ্কে ফেলে একটি ব্যাগে সব ভরলো।
জরুরী তলবে অবাক ড্রাইভার, তার দিকে বাড়িয়ে দেয়া ব্যাগটি খুলে রঙিন বোতল দেখেই মুহুর্তের জন্য ঝিলিক দিয়ে উঠলো চোখ। নাকি উর্মির দেখার ভুল? বোতলগুলো খালি বুঝতে পেরেই আবার স্বাভাবিক হলো চোখজোড়া। ঘটনা বুঝতে পেরে হেসে বললো, ম্যাডাম, আপনারাতো নাটক-সিনেমার জগতের না, আপনাদেরতো সমস্যা নেই।
উর্মি বললো, স্কুলে থাকতে এনুয়াল প্রোগ্রামে আমরা নাটক করেছি। কলেজে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তাছাড়া নাটক-সিনেমা-মডেলিং জগতের লোক হতে সত্যি সত্যি নাটক-সিনেমা- মডেলিং করতে হয় নাকি? নিজে বললেই, কিংবা অন্যে বললেই হয়ে যায়। হাজারটা চ্যানেল - লোকে তাই অবিশ্বাসও করতে পারে না।
একটু থেমে তারপর বললো, দ্রুত ফেলে দিয়ে এসো জলিল, কোন জগৎ’র গড় কোন জগৎ’র ওপর যাচ্ছে তার খবর কে জানে।
ব্যাগ নিয়ে নীচে নামতে নামতে জলিল বললো, আরে না ম্যাডাম, লকডাউনে পুলিশ-র্যাব সবাইকে একটু এন্টারটেইন করছে, টেনশান নিয়েন না।
Thursday, 22 July 2021
দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – নয় জুলাই টুয়েন্টিটুয়েন্টি ওয়ান
দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – নয় জুলাই টুয়েন্টিটুয়েন্টি ওয়ান
প্রতিটি দেশে মন্ত্রী হতে হলে চোখের পাতা না ফেলে মিথ্যে বলার কোয়ালিটি থাকতে হয়। ছাব্বিশে জুন নেদারল্যান্ডসে প্রায় সবকিছু খুলে দেয়া হলো। দুই সপ্তাহে ইনফেকশানের হার বেড়ে সাত হাজারে পৌঁছে গেলো। সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলো প্রধানমন্ত্রীকে, দ্রুত সবকিছু খুলে দেয়া একটি দায়িত্বহীন সিদ্ধান্ত ছিলো কি না? প্রধানমন্ত্রী সাথে সাথে জবাব দিয়েছে, দায়িত্বহীন ছিলো না। যদি তাই হবে তাহলে দু’সপ্তাহের মধ্যে আবার সংবাদ সম্মেলন করে ডিস্কো, নাইট ক্লাব বন্ধ করা হচ্ছে কেন, কড়াকড়ি করা হচ্ছে কেন?
প্রিমিয়ে মার্ক রুতেঃ
ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট দ্বারা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা হু হু করে বেড়ে চলেছে। সংক্রমণ ঠেকাতে আজ আমরা কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর এই সিদ্ধান্তগুলো দশই জুলাই সকাল ছয়টা থেকে কার্যকর হবে তেরই আগস্টের রাত পর্যন্ত। তেরই আগস্ট আবার আমরা সামনের করনীয় জানিয়ে দেবো। বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জানা গেছে, বাড়িতে পার্টি করা, ডিস্কোতে ড্যান্স করা, ইত্যাদি থেকে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে তাই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, ভ্যাক্সিন নেয়া থাকলেও প্রতিটি রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, বারে, দেড় মিটারের সামাজিক দূরত্ব বাধ্যতামূলক থাকবে এবং প্রত্যেককে তার জন্যে নির্দিষ্ট করে দেয়া জায়গায় বসতে হবে, সেটা ভেতরে হোক কিংবা বাইরে।
রাত বারোটা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত সকল রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে বন্ধ থাকবে। লাইভ মিউজিক, টিভিতে খেলা দেখা ইত্যাদি সব বন্ধ থাকবে।
নাচের অনুষ্ঠান, কনসার্ট ইত্যাদি আপাতত বন্ধ। যেখানে দুই-তিন ধরে অনুষ্ঠান হচ্ছিলো সেগুলোও আপাতত চৌদ্দই আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। বাকি যে অনুষ্ঠানগুলো চলবে, সেটা হলের ভেতরে হোক কিংবা ওপেন এয়ার, দেড় মিটারের সামাজিক দূরত্ব বাধ্যতামূলক থাকবে। ডিজিটাল করোনা সার্টিফিকেট থাকলেও নির্দিষ্ট বসার জায়গা ছাড়া অনুষ্ঠান সব বাতিল ঘোষণা করা হলো। যেকোন হলেরই শুধু এক তৃতীয়াংশ ব্যবহার করা যাবে।
করোনা সার্টিফিকেটের মাধ্যমে, নির্দিষ্ট জায়গায় বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করা যাবে আর সেক্ষেত্রে হলের দুই তৃতীয়াংশ ব্যবহার করা যাবে।
সামনের মংগলবার থেকে এন্ট্রি টেস্ট আর চল্লিশ ঘন্টার জন্যে ভ্যালিড হবে না, চব্বিশ ঘন্টার জন্যে ভ্যালিড হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুগো দ্যা ইয়ংঃ
মোট জনসংখ্যার শতকরা আশিভাগ অন্তত ভ্যাক্সিনের একটি ডোজ পেয়েছে। অর্ধেক জনসংখ্যা পুরোপুরি ভ্যাক্সিন পেয়ে গেছে। তাহলে এখন কেন আবার কড়াকড়ি? আবার কেন সর্তকতা? দুই সপ্তাহ আগে আমাদের সব সবুজ ছিলো, সংক্রমণের হার অনেক কম ছিলো। কিন্তু যে গতিতে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সমস্ত নেদারল্যান্ডস তথা ইউরোপ জুড়ে ছড়াচ্ছে তাতে একে রোধ করতে আবার সতর্কতার কোন বিকল্প নেই। যত মানুষে মানুষে যোগাযোগ বাড়বে ততটাই দ্রুত গতিতে সংক্রমণ বাড়বে। শুধু আজকেই সাত হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। যদিও আঠারো থেকে পঁচিশ বয়সীদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি কিন্তু ভাইরাস এখানেই থেমে থাকবে না। এটি প্রত্যেক বয়সী মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং যেসব মানুষের ভ্যাক্সিন কম কাজ করছে তাদের আক্রান্ত করবে। গরমের ছুটিতে যারা বাইরে যাচ্ছে তাদের খুব সর্তকতার সাথে যাওয়া এবং আসার সময় ওয়েবসাইট চেক করতে হবে। ছুটি থেকে ফেরত এসে সাতাশ বছর পর্যন্ত সবাইকে বাধ্যতামূলক পরীক্ষা করাতে হবে। বাকিরা যাদের সিমটম দেখা যাবে তাদের সবাইকে পরীক্ষা করানোর জন্যে অনুরোধ করা হচ্ছে।
সাংবাদিকঃ প্রিমিয়ে রুতে, এই নিয়মগুলোর মধ্যে দিয়ে কি অর্জন করতে চান আপনি?
প্রিমিয়ে রুতেঃ সবসময় যা চেয়েছি। দুর্বল স্বাস্থ্যের আর স্বাস্থ্যখাতে কাজ করা মানুষদের রক্ষা করতে।
সাংবাদিকঃ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এক নিদারুণ বিশৃঙ্খলা চলছে, আপনি এর দায়িত্বে আছেন, আপনার কি মনে হয় আপনার আর এই দায়িত্বে থাকা উচিৎ?
স্বাস্থ্যমন্ত্রী হেসেঃ আমার মনে হয় থাকা উচিৎ, অনেক কাজ জমা হয়ে গেছে, সেগুলোতো করতে হবে।
সাংবাদিকঃ এত সব কিছু হওয়ার পর আপনার কেন মনে হয় আপনার এই পদে থাকা উচিৎ? আপনার যুক্তিগুলো শুনি?
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আবারো হেসেঃ আপনি হয়ত আগের কথা বলছেন, কেন নিয়মগুলো ছাব্বিশ তারিখ থেকে শিথিল করা হলো? আমাদের কাছে সংক্রমণ, টিকা ব্যবস্থা, হাসপাতালের রোগীর ভীড় ইত্যাদি নিয়ে যেই তথ্যগুলো ছিলো তাতে তখন শিথিল না করার কোন কারণ ছিলো না। আর আমরা যেহেতু অনেক বড় ঝুঁকির মধ্যে আর পড়তে চাই না তাই আগে থেকে এখন প্রতিরোধের চেষ্টা করছি। আমরা প্রতিবারই তাৎক্ষনিক পারিপ্বার্শিক অবস্থা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।
সাংবাদিকঃ অন্যদের ওপর দোষ চাপিয়ে নিজেদের দায়িত্বহীনতা এড়াতে চাইছেন?
প্রিমিয়ে রুতেঃ এখানে দায়িত্বহীনতার কিছু হয়নি, আমরা পরিস্থিতি বিবেচনা করে বারবার সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। প্রতি বৃহস্প্রতিবারে ইউরোপের সব দেশের করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রতি দেশের রঙ নির্বাচন করা হয়।
প্রিমিয়ে রুতেঃ আপনি তিনবার করে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগের কথা জিজ্ঞেস করলেন
সাংবাদিকঃ কিন্তু তিনি একবারও জবাব দিচ্ছেন না, কবে পদত্যাগ করছেন।
বারোই জুলাই প্রিমিয়ে রুতে তাঁর ভুল অনুমানের জন্যে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। “ডান্সেন মেত ইয়ানসেন” ক্যাম্পেনের ভুল প্রচার ও অনুমানের জন্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুগো দ্যা ইয়ং জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করেছেন।
এতে করেও শেষ রক্ষা হয়নি, পনেরই জুলাই ইউরোপীয়ান কমিশনের করোনা রিপোর্টে নেদারল্যান্ডস আবারও অরেঞ্জ থেকে রেড কোডে গেছে, পনেরই জুলাই সংক্রমণ দশ হাজারে পৌঁছেছিলো।
বাইশে জুলাই ইউরোপীয়ান কমিশন প্রায় পুরো নেদারল্যান্ডসকে গাঢ় লাল রঙের কোড দিয়েছে। যদিও সংক্রমণ কমেছে, প্রতিদিন গড়ে নয় হাজার চারশো ষাট জন। তেইশে জুলাই জার্মানী নেদারল্যান্ডসকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
Saturday, 17 July 2021
প্রেম - অপ্রেম
প্রেমঃ
চেনা সুরে মোবাইলটা গেয়ে উঠতেই চমকে উঠলো নন্দিনী, এত রাতে! তাড়াতাড়ি ফোন তুলে বললো,
কিরে, ঘুমোসনি এখনও!
আহ্লাদী গলায় বললো শুভংকর, সারাটাদিন এত ব্যস্ততায় গেলো, কিন্তু তোর গলা না শুনলে কি ঘুম আসবে?
অপ্রেমঃ
আজ চারদিন হতে চললো, ঠিক করে কথাই হয়নি শুভংকরের সাথে। অস্থির লাগছে, নন্দিনী আর থাকতে না পেরে ফোন দিয়ে বললো, কিরে কই ছিলি সারাদিন?
কেজো গলায় শুভংকরের জবাব, আর বলিস না, অনেক ব্যস্তরে, সময়ই পাই না।
Monday, 21 June 2021
দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – আঠারোই জুন টুয়েন্টিটুয়েন্টি ওয়ান
দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – আঠারোই জুন টুয়েন্টিটুয়েন্টি ওয়ান
প্রিমিয়ে রুতেঃ
আমি আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুগো দ্যা ইয়ং বহুবার এখানে দাঁড়িয়ে তোমাদেরকে সুন্দর একটা গরমের ছুটি উপহার দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলাম। এটি এখন বাস্তব, অবশেষে এক বছর কঠোর পরিশ্রমের পর স্বাস্থ্যকর্মীরা খানিকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছে। অন্যান্য রোগের চিকিৎসা, অপারেশনের সুযোগ মিলছে আর তাই এক সপ্তাহ আগেই আমরা আমাদের চতুর্থ ধাপের দিকে পা বাড়াচ্ছি।
ছাব্বিশে জুন থেকে দেড় মিটার সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বাড়ির ভেতরে বা বাইরে যেকোন ধরনের অনুষ্ঠান করা যাবে। এলকোহল, অনুষ্ঠান করার নির্দিষ্ট সময় বা অতিথির সংখ্যার বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না। বাসায় যতজন ইচ্ছে অতিথি নিমন্ত্রণ করা যাবে। দোকানে যাওয়া যাবে। দেড় মিটারের দূরত্ব বজায় রাখলে মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা নেই।
দেড় মিটারের দূরত্ব বজায় রাখা না গেলে মাস্ক পরতে হবে, যেমন পাব্লিক ট্রান্সপোর্ট।
কোন অনুষ্ঠান করতে দেড় মিটারের দূরত্ব বজায় রাখা না গেলে সেটার জন্যে ভিন্ন/বিশেষ নিয়মাবলী প্রযোজ্য।
অফিসে বা কর্মক্ষেত্রে দেড় মিটারের দূরত্ব বজায় রাখার সুবিধার্থে শতকরা পঞ্চাশ ভাগ সময় বাড়ি থেকে কাজ করার উপদেশ রইলো।
দেড় মিটারের দূরত্বে রেস্টুরেন্ট আর ক্যাফে পুরোপুরি চালু করা যেতে পারে।
ওপেন এয়ার রেস্টুরেন্টগুলোতে পর্দা থাকলে দেড় মিটারের সামাজিক দূরত্বের বাধ্যবাধকতা নেই।
সিনেমা, থিয়েটার, কনসার্ট সব কিছুতেই চেকিং এবং রেজিস্ট্রেশানের পর দেড় মিটারের দূরত্বে যত জন ইচ্ছে অতিথি নিতে পারে।
চিড়িয়াখানা, যাদুঘর, মেলা, দোকানের জন্যে প্রতি পাঁচ বর্গমিটারে একজন মানুষ।
শনিবার থেকে সমস্ত খেলাধূলা পরিপূর্ণভাবে চালু হতে পারে, দর্শক মাঠে, স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখতে পারেন, সমস্ত প্রতিযোগিতা, টুর্নামেন্ট, দল বেঁধে অনুশীলনের আর বাঁধা নেই।
ইভেন্টগুলো ত্রিশে জুন থেকে শুরু হবে।
ম্যাসাজ, হেয়ার ড্রেসার, বিউটি পার্লারে দেড় মিটারের দূরত্ব মানা সম্ভব না হলেও মাস্ক পরতে হবে না কারণ এখানে চেকিং ও রেজিস্ট্রেশান চলবে।
সামার ভ্যাকেশান পর্যন্ত স্কুলগুলোতে মাস্ক বাধ্যতামূলক।
চল্লিশ ঘন্টার মধ্যে যাদের করোনা টেস্ট নেগেটিভ এসেছে কিংবা পরিপূর্ণ ভ্যাক্সিন নেয়া মানুষ অথবা ছয় মাসের মধ্যে যাদের করোনা হয়েছে তারা দেড় মিটারের সামাজিক দূরত্ব পালন না করেও পার্টি, ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
ডিস্কোথেক আর নাইট ক্লাবও অবশেষে চালু করা হচ্ছে। করোনা এপের মাধ্যমে পরীক্ষা করে তারপর ঢুকতে দেয়া হবে।
তবে সবাইকে সবসময় সর্তক থাকতে হবে, ইন্ডিয়ান ভেরিয়েন্ট যেটাকে আমরা ডেল্টা ভেরিয়েন্ট বলছি যুক্তরাজ্যে খুব দ্রুত ছড়িয়েছে, যুক্তরাজ্যকে আবার সবকিছুতে ব্রেক কষতে হয়েছে, গত গরমের ছুটির পরও নেদারল্যান্ডসকে অনেক কিছুর মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। আমরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবো এবং আপডেট দেবো তবে সবার সহযোগিতা কাম্য।
হুগো দ্যা ইয়ংঃ
এই মূহুর্তে প্রতি ঘন্টায় প্রায় আঠারো হাজার মানুষকে ভ্যাক্সিন দেয়া হচ্ছে। উনিশ তারিখ থেকে সব আঠারো বছর বয়সীদের জন্যে রেজিস্ট্রেশান ওপেন করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মধ্য আগস্টের মধ্যে সবাইকে ভ্যাক্সিন দেয়া হয়ে যাবে। ছুটিতে যেতে কোন দেশে যাবে তার করোনা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সব দেশগুলোকে সবুজ, হলুদ, কমলা আর লাল রঙে ভাগ করে রাখা হয়েছে। নেদারল্যান্ডস নিজে এখনও বিপদমুক্ত নয় পৃথিবীর অনেক দেশের কাছেই তাই তারা করোনামুক্ত সার্টিফিকেট চাইতে পারে। পহেলা জুলাই থেকে ডিজিটাল করোনা সার্টিফিকেট (ডিসিসি) পাওয়ার ব্যবস্থা আছে। প্রথম জুলাই থেকে আগষ্টের শেষ পর্যন্ত ভ্রমণের জন্যে ফ্রী করোনা পরীক্ষা করানো যাবে। যতদিন যাবে সংক্রমণের পরিমান ইউরোপে কমে আসবে আর ভ্রমণ ততই সহজ হয়ে উঠবে। বিদেশ থেকে ফিরে অসুস্থ বোধ করলে জিজিডিতে যেয়ে পরীক্ষা করবে আর অসুস্থ বোধ না করলে বাড়িতে নিজে পরীক্ষা করবে। বাইশে জুন থেকে এটা প্রত্যেকের জন্যেই বাধ্যতামূলক। তেরই আগষ্ট শুক্রবার আমরা জানাবো দেড় মিটার সামাজিক দূরত্বের বাধ্যবাধকতা আর থাকবে কিনা। সেজন্যে আমরা কলেজ আর ইউনিভার্সিটিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছি দুইভাবেই যেনো তারা নতুন শিক্ষা বছরের জন্যে প্রস্তূত থাকে। হেমন্ত কেমন হবে আমরা জানি না তবে চতুর্থ ধাক্কা সামাল দেয়ার জন্যে আমাদের প্রস্তূত থাকতে হবে। ভাইরাস প্রতি নিয়ত তার ধরন বদলাচ্ছে। ছুটির পর স্কুল শুরু হলে তাই সব ছাত্র ছাত্রীদেরকে আমরা প্রতি সপ্তাহে দুবার পরীক্ষা করতে বলেছি। ভাইরাস যদি তার রুপ বদলায়ও তাহলে যেনো সহজেই আমরা ধরতে পারি। এর মধ্যে বারো থেকে আঠারো বছরের সবাইকেও ভ্যাক্সিন দিয়ে দেয়া হবে, আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের নির্দেশের অপেক্ষায় আছি।
Subscribe to:
Posts (Atom)







