Sunday, 30 July 2023
এক মন্দ বউয়ের উপাখ্যান
এক মন্দ বউয়ের উপাখ্যান
https://epaper.protidinerbangladesh.com/second-edition/2023-07-28/8/6130?fbclid=IwAR3GUPGteLqC4wxiN3NSpOJRcj0WgLL5q0OJTk7rMODVdRa-I-_WPco0fbo
নিশি খুব রেগে আছে, সজীবও। একজনের মুখ লাল আর অন্যজনের কালো। ঘরে এসির খানিকটা ধাতব শব্দ আর ল্যাপটপে ইতস্তত টাইপের মৃদ্যু শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দ নেই। দুজনেই ঘরের দুই কোনায় দুজনের ল্যাপটপ নিয়ে বসে অফিসের কাজ করছে, যদিও দুজনের কারোই এখন অফিসের কাজের কোন পরোয়া নেই। না এখন কাজ নিয়ে ভাবার এতটুকু আগ্রহ আছে তাদের। সজীব নিশির দিকে আবার তাকালো। ভাবছে, এত স্বার্থপর, নিষ্ঠুর কেমন করে হতে পারে নিশি। তার জানা মতে তার আশেপাশে নিশিই ছিলো সবচেয়ে নরম, কোমল, মায়াবতী মেয়ে কিন্তু দেখা যাচ্ছে তার জানায় ভুল ছিলো। সকালের আলোচনায় নিশির এক কথার জবাবই যথেষ্ঠ ছিলো নিশির নির্মম আসল চেহারাটা দেখার জন্যে। যদিও সজীবের তরফ থেকে এটি এমন কোন আলোচনাই ছিলো না যেখানে নিশি এক কথায় একটা জবাব দিতে পারে। সজীব এখনো বিশ্বাস করে উঠতে পারছে না যে নিশি সত্যিই এটা বলেছে।
ঘটনার সূত্রপাত অবশ্য কয়েকদিন আগে। অপরিচিত একজন নিশিকে ফোন করে জানালো, নিশি’র বাবামা রিকশা থেকে পরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে। আঘাত সেরকম মারাত্বক না হলেও গভীর। ডাক্তার তাদেরকে মাসখানেকের জন্যে নিয়মিত চিকিৎসা ও বিশ্রামের উপদেশ দিলেন। বয়সের কথা ভেবে ডাক্তার তাদের সেবা যত্নের দিকে প্রখর দৃষ্টি রাখার কথা জানালেন। নিশি তার বাবামায়ের একমাত্র সন্তান। যে মুহূর্তে নিশি বাবামায়ের দুর্ঘটনার কথা জেনেছে সেই মুহূর্তে সে অফিস থেকে অর্নিদিষ্টকালের ছুটি নিয়ে নিয়েছে। সজীবকে বলেছে, টুকটুকির খেয়াল রাখতে, বাড়ি সামলাতে, যেটা সজীব খুশী মন নিয়েই করেছে। নিশি দিনরাত এক করে বাবামায়ের সেবা করেছে, ডাক্তার, নার্স, বাজার, ঔষধ, ফিজিওথেরাপি সব। বাবামা কি খাবে সেই রান্না, বাড়ি এখন কিভাবে চলবে সেসব বন্দোবস্ত, সাহায্যের লোক ঠিক করা, জামাকাপড় কাঁচা কি নয়। স্বাভাবিকভাবেই, ঢাকার এই জ্যাম ঠ্যাঙ্গিয়ে সে এই কয়দিন এ বাড়ি আসেনি। তাই নিয়ে সজীবের কোন আপত্তিও ছিলো না। বরং সজীব খুশী হয়েছিলো এই দেখে, কিভাবে একা তার বউ এত কিছু সামলাতে পারে। কি সুন্দর করে নিশি তার বাবামায়ের সেবাযত্ন করছে। সবচেয়ে বেশি যেটা ভাল লেগেছে, ছোট বাচ্চাদের মত করে বাবামায়ের যত্ন করছে যেনো ওরাই নিশির সন্তান।
এরই মধ্যে নিশি তার বাবামাকে আস্তে আস্তে রাজি করালো, তাদের বাসার কাছাকাছি বাসা নিয়ে চলে আসতে। প্রথমে তারা স্বাভাবিকভাবে প্রচন্ড আপত্তি করেছিলো, নিজের বাড়ি ছেড়ে এই বয়সে তারা কোথাও যাবে না, ভাড়া বাড়িতো নয়ই। একদিনতো রেগে বলে দিলো তোকে এসে আর আমাদের দেখাশোনাও করতে হবে না। বাসা বদলানোর পরও, এই অসুবিধা, সেই অসুবিধা দেখিয়ে নিশিকে প্রায়ই বকাঝকা করতো। তারপর একদিন পৃথিবীর নিয়মেই আস্তে আস্তে সবাই মানিয়ে নিতে লাগলো, জীবন স্বাভাবিক ছন্দে ফিরলো। আজ সজীব আর নিশি সকালে নাস্তা করছিলো।
সজীব জিজ্ঞেস করলো, কিছু মনে না করো যদি, তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করতে চাই।
তুমি যেভাবে বলছো তাতে তো মনে হচ্ছে এতে মনে করার কিছু আছে, যাহোক, বলে ফেলো তো।
যেভাবে নিজের বাবামায়ের সেবা করেছো তুমি, দেখাশোনা করছো তাদের, আমার বাবামায়ের জন্যেও কি তুমি তাই করবে? তাদের সাথে থেকে তাদেরকে নিজ সন্তানের আদর দেবে? পছন্দের খাবার রান্না করে খাওয়াবে তাদের? পাশে থাকবে তাদের তুমি? আমি জানি আমরা এখন তাদের থেকে আলাদা থাকছি কিন্তু আমার মনে হচ্ছে যখন ওদের কোন বিপদ হবে, তুমি তাদেরকে কিছুতেই ফেলে দেবে না। পাশে থাকবেতো তাদের, নিশি?
অবিশ্বাসের চোখে নিশি সজীবের দিকে তাকিয়ে রইলো। সত্যিই কি সজীব তাকে এই কথা জিজ্ঞেস করছে? মুহূর্তের ভগ্নাংশের মধ্যে নিশি জ্বলে উঠলো, শান্ত গলায় বললো, না, কখনোই না, আমার বাবামাকে আমি যেভাবে দেখাশোনা করেছি, সেভাবে আমি কখনোই তোমার বাবামায়ের দেখাশোনা করবো না সজীব।
বলেই নিশি সজীবকে আর একটি কথা বলার কোন সুযোগ না দিয়ে অফিসে চলে গেলো। আর এখন, সারাদিন পর অফিস থেকে এসে নিজের ল্যাপটপ খুলে বসে পরেছে। সজীব, ভাবছিলো, সকালের রুক্ষন ব্যবহারের জন্যে সে অনুতপ্ত হবে, সেটা নিয়ে কথা বলবে কিন্তু তার তো কোন লক্ষনই নেই। এভাবে তো ছাড়া যায় না সিদ্ধান্ত নিয়ে সজীব নিজেই জিজ্ঞেস করলো,
নিশি, সকালে ওভাবে কথা বললে কেন ? তুমি কি সত্যি সত্যিই বলছো যে তুমি আমার বাবামায়ের দেখাশোনা করবে না?
আমার বাবামায়ের জন্যে আমি যেভাবে করেছি, তোমার বাবামায়ের জন্যে আমি সেভাবে করবো না।
দ্বিগুন রাগে অংগার হয়ে গেলো সজীব। অনেক কষ্টে নিজেকে সংযত করে বললো, দয়া করে একটু খুলে বলবে, তোমার সমস্যাটা কি? তুমি এখন পক্ষপাত করছো না? এই যে সারাক্ষণ সাম্যতার কথা বলো, তোমার নিজের বাবামায়ের সাথে ব্যবহার আর আমার বাবামায়ের সাথে ব্যবহারের সাম্যতা এখন কোথায়, শুনি?
সজীবের দিকে নিশি কিছুক্ষণ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো, তারপর বললো, “পক্ষপাত? পক্ষপাত নিয়ে তুমি কথা বলছো? তোমার প্রশ্নটাই কি পক্ষপাতিত্বমূলক ছিলো না? তোমার বাবামায়ের যত্ন নেয়া বলতে তুমি কি বোঝাতে চাইছো, রান্না করা, ইত্যাদি ইত্যাদি আর সব? এরমধ্যে তুমি সমতা চাও? ঠিকাছে চলো, সমান সমান করি। যখন আমার বাবামায়ের দুর্ঘটনা ঘটলো, ওদের সাথে হাসপাতালে আমি ছিলাম, তুমি কোথায় ছিলে? তোমার মেয়ে নিয়ে বাসায়। ঠিকাছে আমিও তাই করবো, মেয়ে নিয়ে বাসায় থাকবো আর তুমি তাদের সাথে হাসপাতালে থাকবে। বাবামায়ের বাসায় যখন ছিলাম তাদের জন্যে রান্নাবান্না করেছি আর তুমি নিজের মেয়ের যত্নআত্তি করেছো। তুমিও যাও, তাদের জন্যে রান্নাবান্না করো, আমিও বাসায় থেকে আমাদের মেয়ের খেয়াল রাখবো। ছোট বাচ্চাদের মত তাদের দেখাশোনা করে, বাড়ির সব কিছু গুছিয়ে দিয়ে আমি বাবামায়ের প্রতি আমার দায়িত্ব পালন করেছি আর সেসময় তুমি নিজের মেয়ের খেয়াল রেখে আমাকে সাহায্য করেছো। তুমিও তাদের সব কাজকর্ম সারো, গোছাও আমি আমাদের ঘর সংসার আর মেয়ের খেয়াল রেখে তোমাকে সাহায্য করে যাবো।
বাবামায়ের দুর্ঘটনার পর থেকে সবাই আশা করে বসে আছে আমি আমার শ্বশুর শাশুড়ির জন্যেও একই দায়িত্ব করবো। না, আমি করবো না। আমি আমার বাবামায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব পালন করেছি, তোমার বাবামায়ের সন্তান তো তুমি, তাদের প্রতি দায়িত্ব তোমার, পালনও করবে তুমি। আর এটাই তো সমতা, নাকি? তোমার বাবামায়ের জন্যে রান্না তুমি করবে, ঘরদোর তুমি পরিস্কার করবে, জামাকাপড় তুমি ইস্ত্রি করবে, আমি না। আর তুমি যদি ভাবো, তুমি “পুরুষ মানুষ” এগুলো করলে লোকে কি ভাববে, সেটার জন্যে তুমি আমাকে অন্তত অসমতায় আসতে বাধ্য করো না।
আর শেষবারের মত শুনে রাখো সজীব, দরকারে নিজের বাবামায়ের যত্ন নিজে না নিয়ে, বউ তোমার বাবামায়ের যত্ন করবে এই ভাবনাটা ছাড়ো। তুমি নিজে তোমার বাবামায়ের জন্যে কিছু না করে আশা করে আছো পরের বাড়ির মেয়ে সেটা করে দেবে। ওরা তোমার বাবামা, তুমি ওদের যত্ন করবে, আমি তোমাকে সাহায্য করবো যেমন তুমি আমায় করেছিলে। আশাকরছি, যথেষ্ঠ খুলে বলেছি, এর থেকে বেশি খুলে বলার কিছু আর নেই।
সজীব চুপচাপ শুনে যাচ্ছিলো আর ভাবছিলো। নিজের ভুলটা সে নিজেই বুঝতে পারলো। অবাক হলো ভেবে, কতোটা স্বার্থপর সে, নিশির ওপর সে দুইজনের বাবামায়ের সেবাযত্নের ভার চাপিয়ে দিচ্ছিলো আর তার নিজের যে দায়িত্ব আছে সে কথা সে ভাবেইনি। ছোটবেলা থেকে সমাজের বিভিন্ন জায়গায় এই দেখে দেখে বড় হয়েছে সে বলে অনুভবই করেনি পুরুষেরা কতটা অলস আসলে। এখন সময় হয়েছে তার, নিশির কাছে ক্ষমা চাওয়ার।
ভারতীয় লেখক আল্লাম ভাবানার লেখা থেকে ইষৎ পরিমার্জিত ভাষান্তর।
তানবীরা হোসেন
০২/০৮/২০২৩
https://www.momspresso.com/parenting/ginger-thoughts/article/should-a-daughter-in-law-take-care-of-her-parents-in-law-an-honest-answer?fbclid=IwAR3mfyROMsZ2z8VS3EV9IF-DBqQ5b7FgrvIwoL2fBpBLnJwhiUZ2MCD8hzQ
ঐ রঙধনু থেকে কিছু কিছু রঙ এনে দাও না
জীবন মানেই জি-বাংলা, সমস্যা, ঝামেলা, দু:খ, আক্ষেপ, হতাশা, আনন্দ, হাসি নিয়েই আমাদের এইসব দিনরাত্রি।
আসলে সুখী, পরিতৃপ্ত, শান্তির জীবন মানে কি? হতাশা, অনিশ্চয়তা,ব্যথা,দুঃখ-কষ্ট ছাড়া জীবনযাপন? আমরা অনেকেই ভাবি, এই ঝামেলাটুকু কাটিয়ে উঠলেই, “লিভিং হ্যাপিলি এভার আফটার”। আসলেই তাই হয়? একটি পূর্ণ জীবন যাপন করলে তবেই এই অভিজ্ঞতা আর উপলব্ধি আসে, “লাইফ ইজ নট আ বেড অফ রোজেজ”। হতাশা, গ্লানি, অবসাদ সব পরিপূর্ণ জীবনেরই অংগ। শারীরিক কিংবা মানসিক ব্যথা এড়িয়ে জীবন যাপন করার চেষ্টা খানিকটা অর্ধেক জীবনযাপন করারই শামিল। আমিও আর সবার মত জীবনের বিভিন্ন রঙ/স্তর দিয়ে যাবো এই চিন্তাটা না থাকলে বরং এটি মানসিক যন্ত্রণাকে বাড়িয়েই তোলে।
তাহলে পরিপূর্ণ,সুখী জীবনের মূলমন্ত্র বা সূত্র কি? “এক্সেপটেন্স” খুব সাধারণস্য সাধারণ বাংলায় যাকে বলি আমরা “মানিয়ে নেয়া বা মেনে নেয়া”। জীবনে দুঃখ-কষ্ট, হতাশা, বেদনা আসবে, “পার্ট অফ লিভিং” ভেবে এর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করাই পরিপূর্ণ জীবনের যাদুমন্ত্র। সেদিন আলিয়া ভাটের একটা রিল দেখছিলাম, আলিয়া বলছে, “জীবন হচ্ছে, বেশিটা কষ্টের, হতাশার, হাহাকারের, দুঃখের আর অল্প কিছু সুখের মুহূর্তের সমষ্টি। আমরা সবাই আমাদের গভীর গোপনে, গহনে সেসব লুকিয়ে রেখে সারাদিন হাসিমুখে ঘুরি।“ ছোট বয়সেই মেয়েটার কি গভীর জীবনবোধ।
নিজস্ব মূল্যবোধ, মেনে ও মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা, নমনীয়তা, শান্তিতে থাকার পথ প্রশস্ত করে। এটি আসলে প্রতিদিন অনুশীলণ করার মতো। অনুশীলণ করে করে নিজের মধ্যে অভ্যাস করে নিতে হবে, তবেই বেঁচে থাকার আনন্দ, স্বাধীনতা, “কোয়ালিটি অফ লাইফ” অনেক বেশি উপভোগ করতে পারা যাবে।
(কিছুটা নিজের আর কিছুটা বইয়ের)
Thursday, 25 May 2023
বেহুলার ভাসান - ৩ ইন্দুবালা-মৃনালিনী
কল্লোল লাহিড়ী'র লেখা "ইন্দুবালা ভাতের হোটেল" এর ইন্দুবালা কোন ঐতিহাসিক বাস্তব চরিত্র নয় বটে কিন্তু হাজার হাজার বাস্তব চরিত্রের প্রতিনিধি "ইন্দুবালা"। ইউরোপের লন্ডন শহরেই অনেক "সিলেটি কন্যা" পাওয়া যাবে যারা বিয়ে করে লন্ডনে এসেছে আর কখনো সিলেট ফেরত যায়নি বা যেতে পারেনি। লন্ডনে এরকম অনেক ভারতীয় মেয়েও আছে বলে শুনেছি। স্বপ্ননগরী নিউইয়র্কেও সেই হাল। "ইন্দুবালা" মানে শুধু দেশভাগ নয়, "ইন্দুবালা" মানে শুধু হিন্দু-মুসলিম নয়, "ইন্দুবালা" মানে শুধু বাঙাল আর ঘটি নয়, "ইন্দুবালা" মানে শৈশব-কৈশোর হারানো, ভাষা হারানো, স্মৃতি হারানো, নিঃস্ব হওয়া, রিক্ত হওয়া পৃথিবী জোড়া হাজার হাজার মানুষ।
বাড়িঘর সরেজমিনে না দেখে, ছেলে সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ খবর না নিয়ে, এমনকি পরিবারের মেজাজ মর্জি জানাও গুরুত্বপূর্ন ভাবেনি ইন্দুবালার বাবা। তাঁর কাছে প্রাধান্য পেয়েছে, কোলকাতার শহর, ছেলের দালান বাড়ি কোঠা, মাস গেলে ক'টা টাকার মাইনের নিরাপত্তা। অচেনাপুরী দৈত্যপুরীতে মেয়েকে রেখে এসেছেন আর কখনো কোনদিন চোখের দেখাও দেখতে পাননি। তবে ইন্দুবালা সৌভাগ্যবতী আর সাহসী, তিনি সব প্রতিকূলতার মাঝেও বেঁচে ছিলেন, আত্মহত্যার কথা ভেবেছিলেন এবং প্রবল সম্ভাবনা থাকা সত্বেও খুন হয়ে যান নি।
বহু ইন্দুবালাই আছেন দেশ জুড়ে, বিদেশ জুড়ে, পৃথিবী জুড়ে, বাবার বাড়ি বা তার নিজের কৈশোরের বাড়ি আর কখনো চোখে দেখেনি, এমনকি বাবা শ্বশুরবাড়ি এলে বাবাকেও দেখতে পায়নি। কোলকাতার বিখ্যাত "ঠাকুরবাড়ি"র কথা ধরা যাক। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী ভবতারিণী কিংবা মৃণালিনী দেবী আর কখনো ফিরে বাপের বাড়ি যায়নি এমনকি তার বাবা তাকে দু'একবার দেখতে এলেও সেটিকে ঠাকুরবাড়িতে বিশেষ প্রীতির চোখে দেখা হতো না (ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলঃ চিত্রা দেব)। তো ভবতারিণী'র কি কখনো যশোরের সেই গ্রামের জন্যে মন কেমন করেনি? মা'কে দেখতে, ঠাকুমা দেখতে প্রাণ উথালপাথাল হয়নি? ভবতাতিনী কি ইন্দুবালা নন? নিজের নামটি পর্যন্ত তাঁর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিলো।
হুমায়ূন আহমেদ তাঁর নাটক "অয়োময়"তে দেখিয়েছেন, জমিদার বাড়ির বউদের বাপের বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার নিয়ম নেই, সে যতোই জমিদার কন্যা হোক না কেন। বড় ঘর, বড় বংশ, টাকা পয়সা, মার্সিডিজ, ক্যাডিলাকের চটকে মেয়ের বাবা'রা মেয়ের মুখটা হারিয়ে ফেলেন। মেয়ের সুখ নিশ্চিত করতে গিয়ে মেয়ের জীবন বিপন্ন করে ফেলেন। সামাজিক প্রতিপত্তির কাছে হারিয়ে যায় মেয়ের নিরাপত্তা, মেয়ের আনন্দ।
ভারতবর্ষের ইতিহাস কন্যা বিসর্জনের ইতিহাস। ভারতবর্ষের ইতিহাস কন্যা ত্যাগের ইতিহাস। ভারতবর্ষের ইতিহাস কন্যা খুনের ইতিহাস। যুগে যুগেই বিভিন্ন রীতিতে, বিভিন্ন কায়দায়।
Thursday, 18 May 2023
বেহুলার ভাসান - ২
মনির আর রীমা
১৯৮৯ সাল, আমাদের পড়ন্ত কৈশোরের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিলো, “শারমিন রীমা” হত্যাকান্ড। ৯ই এপ্রিল খুন হয় রীমা। সেসময়ের ঢাকা শহরে বিখ্যাত যেকজন গাইনী ডাক্তার ছিলেন তার মধ্যে ডাঃ মেহেরুন্নিসা ছিলেন অন্যতম আর ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ আবুল কাশেমের একমাত্র ছেলে মনির হোসেন। সর্বদিক থেকে হাই প্রোফাইল কেইস ছিলো, কি নেই এতে? পারিবারিক পরিচয়, বেশুমার টাকা, গ্ল্যামারাস নারী, প্রায় বলিউড মুভির ঘটনার মতোই। রোজ সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় তিন কলাম জুড়ে নানা ছবি সহ সংবাদ। সাধারণ পরিবারের মেয়ে বা বউ হলে হয়তো বড় জোর ভেতরের পাতায় ছবি ছাড়া একদিনের এক কলামের সংবাদ হতো “রাজধানীতে গৃহবধূ খুন”। তবে অনেক টাকা আর ক্ষমতা সত্বেও ছেলের মা পাবলিক অপিনিয়নের কাছে পরাজিত হয়ে বলেছিলেন, “আমার ছেলে যদি দোষী হয়, তবে তার ফাঁসি হোক”। বিচারে অবশ্য মনিরের ফাঁসিই হয়েছিলো। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সমাজ, সংসার, আদালতে শুধু একপক্ষকে টানা হ্যাঁচড়া করা হয় অন্যপক্ষকে ছেড়ে দেয়া হয় সিনেমার শেষ দৃশ্যর মত “কান্নাকাটি” করার জন্যে। বাস্তবতা হলো, সব ঘটনায় দুইটা পক্ষ থাকে, শুধু যে ছুরি মারে সেই দায়ী? ছুরি মারার ক্ষেত্র যারা প্রস্তুত করে তাদের কেন কোন জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে না?
রীমার পরিবারের কাছে সমাজের প্রশ্নঃ
১। মেয়েপক্ষ ছেলের পড়াশোনা যাচাই বাছাই করার কোন চেষ্টা করেনি। “এমেরিকা থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে এসেছে” ছেলে পক্ষের এই কথায় ঈমান রেখেছে। সার্টিফিকেট কিংবা ইউনিভার্সিটি কোনটাই নেড়েচেড়ে দেখতে যায় নি। ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া মেয়ের বিয়ে দিয়েছে নন ম্যাট্রিক ছেলের সাথে।
২। মনিরের বন্ধু সার্কেল, লাইফ স্টাইল সম্পর্কে কোন খোঁজ নেয়নি। সেটা করলেও পড়াশোনা কিংবা স্বভাবচরিত্রের ব্যাপারটা উঠে আসতো।
৩। ছেলের নিজের ক্যারিয়ার চাকুরী-ব্যবসা নিয়েও তারা মাথা ঘামায় নি। সম্ভবতঃ ছেলের মা-বাবার ক্যারিয়ারই মেয়েপক্ষের জন্যে যথেষ্ট ছিলো।
৪। ছেলের অন্য সম্পর্ক, প্রেম ভালোবাসা ইত্যাদি নিয়েও খোঁজ নেয়া বাহুল্য মনে করেছে।
৫। বিয়ের তিন মাসের মাথায় ছেলেমেয়ের মধ্যে ঝগড়া হচ্ছে, তাও যে সে ঝগড়া না, ছেলে, মেয়ের গায়ে হাত তুলেছে তারপরও, ছেলে আর “করবে না” বলাতে তারা ছেলেকে বিশ্বাস করে মেয়েকে ছেলের সাথে দিয়ে দিয়েছে।
৬। মেয়েকে ছেলের গার্জেনের সাথে ছেলের বাড়িতে দেয় নি, এই ঝগড়াঝাটির উত্তাল মুহূর্তে একা বেড়াতে নিয়ে যেতে দিয়ে দিয়েছে। মনির বুদ্ধিমান হলে সমুদ্রে ডুবিয়ে দিয়েই “রীমা”কে শেষ করতে পারতো। আলাদা খুনের প্রয়োজন ছিলো না।
৭। যে ছেলে এতো ছোট বয়স থেকে বিভিন্ন নারীতে আসক্ত, বিয়ের তিন মাসের মধ্যে নতুন বউ রেখে পুরান বান্ধবী/বান্ধবীদের কাছে ছোটে, সে “আর যাবে না” বলাতে রীমার পরিবার সেটাও বিশ্বাস করেছে। কি করে এটা সম্ভব? তিন মাস যে এক বউতে কাটাতে পারে নাই, সে সারা জীবন কাটাবে কি করে?
এই ঘটনার সবচেয়ে ট্র্যাজিক পয়েন্ট আমার কাছে যেটা লাগে, “রীমাকে তার মায়ের বাড়ি থেকে, মায়ের কাছ থেকে নিয়ে গিয়ে দুই দিনের মধ্যে মেরে ফেলেছে”।
শারমিন রীমার বাবা ছিলেন সাংবাদিক নিজামউদ্দিন আহমেদ যিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। যে ভদ্রলোক একটি স্বাধীন দেশ, স্বাধীন পতাকা, স্বাধীন জাতি সত্ত্বার স্বপ্ন দেখার মত দূরদৃষ্টি রাখতেন তাঁর পরিবার এতোটা অদূরদর্শী হয় কি করে! মেয়েকে মরার জন্যে ঠেলে দিয়ে, মারা যাওয়ার পর পুরো পরিবার নিয়ে সবাই কাঁদতে বসে আর আইনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবী করে যেনো আর কোন মায়ের বুক খালি না হয়। কেমনে? সব মায়েরা একই কাজ করে ভিন্ন ফলাফল আশা করে কোন মিরাকলের ভরসায়?
মনিরের থেকে প্রায় দেড় গুন বয়সী বড় তিন সন্তানের জননী খুকুকে বিয়ে করে মনির যদি ডাঃ মেহেরুন্নিসার সম্মানের হানি করে ফেলে তাই তিনি তার “সোশ্যাল অনার” বাঁচাতে “মধ্যবিত্তের মেয়ে রীমা”কে বলির পাঁঠা বানিয়েছেন। “সোশ্যাল অনারে”র স্বীকার এখানে মনির আর রীমা’র দুটো জীবন।
***প্রায় পুরো লেখাটা স্মৃতি থেকে লিখছি, কিছু তথ্যের ভুল ভ্রান্তি হয়তো থাকতে পারে।***
Sunday, 7 May 2023
জন লেনন ভাবান্তরঃ তানবীরা
পাঁচ বছর বয়স থেকে মায়ের কাছে শুনে আসছি, “সুখী” হওয়াটাই জীবনের মূল কথা।
যখন স্কুলে গেলাম, আমাকে জিজ্ঞেস করলো, বড় হয়ে তুমি কি হতে চাও?
আমি বললাম, “সুখী”
স্কুল আমাকে বললো, তুমি আমাদের প্রশ্নটা বোঝনি।
আর আমি বললাম, তোমরা জীবন বোঝনি।
“When I was 5 years old, my mother always told me that happiness was the key to life. When I went to school, they asked me what I wanted to be when I grew up.
I wrote down ‘happy’. They told me I didn’t understand the assignment, and I told them they didn’t understand life.”
(দ্যা ওয়ার উইল এন্ড) --- মূলঃ মাহমুদ দারবিশ ভাষান্তরঃ তানবীরা হোসেন
তারপর একদিন যুদ্ধ থেমে যাবে।
নেতারা নিজেদের মধ্যে হাত মেলাবেন।
বৃদ্ধা মা তার মৃত ছেলের পথ চেয়ে অপেক্ষায় বসে রইবেন।
প্রেমময় স্বামীর প্রতীক্ষায় রাত জাগবে মায়াবতী স্ত্রী।
বীর বাবার পদধ্বনির জন্যে প্রহর গুনবে তাঁর সন্তানরা।
কে বিক্রি করেছে আমার মাতৃভূমি, জানি না আমি
কিন্তু কারা এর মূল্য দিয়েছে, সেটা দেখেছি।
বেহুলার ভাসান - ১
আমের রাজ্যের রাজকুমারী হীরাকুমারী, যিনি “হীরাবাই” নামেও পরিচিত, রাজস্থানের রাজপুত ঘরানার রাজা ভারমালের জ্যেষ্ঠ কন্যা। এটি পড়লে কেউ তাকে চিনতে পারবেন কিনা সন্দেহ আছে। যদি বলি মোগল সম্রাট আকবরের স্ত্রী “যোধাবাই” তাহলে অনেকেই চিনবেন কিন্তু সত্যিই তিনি “যোধাবাই” নামে পরিচিত ছিলেন কিনা তা নিয়ে খোদ ঐতিহাসিকদেরই সন্দেহ আছে। ষোলশ শতাব্দীতে রাজনৈতিক সমঝোতার অঙ্গ হিসেবে হিন্দু রাজপুত রাজকন্যা যোধার সাথে মুসলমান মোঘল সম্রাট আকবরের বিয়ে হয়। বলা বাহুল্য, যোধার চরম আপত্তি ও অমতেই এই বিয়ে হয়।
মহান সম্রাট আকবর সম্পর্কে ভিনসেন্ট স্মিথের মত আকবেরর উচ্চ প্রংশসাকারী যিনি “ Akbar- the great Mughal” রচনা করেছেন, তিনি কি লিখেছেন পড়ি, “ আকবর উচ্চতায় ছিলেন গড়পড়তা এবং বাম পায়ের কারনে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতেন। তার মাথা ডান কাঁধের উপর ঝুঁকে থাকত। তার নাক ছিল ছোট ও সামনের হাড় ছিল মোটা। তার নাসিকা গহ্বর দেখলে মনে হত তিনি রেগে আছেন। অর্ধেক মটর দানার সাইজের সমান একটি আঁচিল ছিল যা ঠোঁট ও নাসিকা গহ্বরের সাথে যুক্ত। সে দেখতে কালো ছিল।”
জাহাঙ্গীর লিখেছেন, “আকবর নেশাগ্রস্ত অথবা সর্তকাবস্থায় তাকে শেখ বলে ডাকতেন।“ এতে এটাই প্রমাণিত হয় যে আঁকবর একজন নেশাগ্রস্থ ছিলেন।
আকবরের সহচর ইয়াকুবা লিখেছেন, আকবর এতই মদ পান করতেন যে মাঝে মাঝে অভ্যাগত অতিথিদের সাথে কথা বলতে বলতে তিনি ঘুমিয়ে পড়তেন। তিনি মাঝে মাঝে তাড়ি (তালের রস দিয়ে তৈরী নেশা জাতীয় পানিয়) পান করতেন। যখন তিনি অতিরিক্ত পান করতেন তখন তিনি উম্মাদের মত আচরণ করতেন।
“মহান আকবরের শিক্ষাগত যোগ্যতা” জাহাঙ্গীর লিখেছেন আকবর মাঝে মাঝে বিদ্বানদের মত আচরণ করতেন কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তিনি ছিলেন অক্ষর জ্ঞানহীন।
আবুল ফজল আইন-ই- আকবরে লিখেছেনঃ ” শাহেন শাহ্ আকবরের ঘরের সামনেই একটা শুঁড়িখানা স্থাপন করা হয়। সেখানে অসংখ্য বণিতা জড়ো হত যা গণনা করা কঠিন হয়ে পড়ত। সভাসদগন মাঝে মাঝে নর্তকীদের বাড়ীতে নিয়ে যেতেন। কিন্তু যদি কেউ কোন কুমারীকে তার বাড়ীতে নিয়ে যেতে চাইতেন তাহলে তাকে অবশ্যই আকবরে কাছ থেকে অনুমতি নিতে হত। কখনো কখনো যুবকদের মাঝে হাতাহাতি শুরু হয়ে যেত। একবার আকবর নিজেই কয়েকজন বনিতাকে ডাকলেন এবং তাদের জিজ্ঞাসা করলেন তোমাদের মধ্যে কে কুমারিত্ব ছেদন করতে চাও।”
এখন কথা হচ্ছে, কীভাবে এতগুলো বণিতা একই সময়ে জড়ো হবে? অবশ্যই সেসকল ভাগ্যহীন নারীরা ছিল হিন্দু পরিবারের যারা যুদ্ধাবন্দী অথবা তাদের পরিবারের পুরুষ সদস্যদের হত্যা করে সহায় সম্পত্তি লুট করা হয়েছে এবং আশ্র্য়হীন তাদের বন্দী করা হয়েছে। কারন ধারণা করা হয় মুসলিম রমণীদের পর্দার আড়ালে রাখা হতো এবং আকবর তার গৌরবজ্বল শাসনামলে সারাজীবন অসংখ্য হত্যা ও নারী অপহরণ করে ছিলেন।
আকবরের শাসনামলে মিনা বাজার খুবই জনপ্রিয় ছিল যেখানে প্রতি নববর্ষ রাতে বিভিন্ন পরিবারের নারীদের হয় ফুসলিয়ে, প্রতারনা করে অথবা জোরপূর্বক জাঁহাপনার সম্মুখে হাজির করা হতো বেছে বেছে নেওয়ার জন্য।
এ সমস্ত রেফারেন্স তুলে ধরা হয়েছে, আকবরের পয়সা খাওয়া তার পছন্দের পরগাছা ইতিহাসবিদের লেখা থেকে, কোন নিন্দুকের লেখা মিথ্যা অপবাদ নয় এগুলো।
আবুল ফজল আকবরের হেরেম সম্পর্কে বর্ননা করেছেন, “সেখানে ৫০০০ নারী ছিল এবং প্রতিটি নারীর আলাদা থাকার ঘর ছিল” এছাড়াও আকবরের ৩৬ জনেরও বেশী স্ত্রী ছিল। তবে তার স্ত্রীদের মধ্যে সবচাইতে আলোচিত হলেন যোধাবাঈ। সম্রাট আকবরকে নিয়ে অনেক লেখাজোকা থাকলেও রাজকন্যা এবং মুঘল সম্রাজ্ঞী হীরাবাঈ মতান্তরে যোধাবাঈকে নিয়ে তথ্য পাবেন খুব সামান্য। তবে জানা যায়, নয়নকাড়া সুশ্রী হীরাবাঈ নিরামিষভোজী ছিলেন, রাজবাড়ির রাজ রঁসুই ঘরের খাবার তিনি খেতেন না, তাঁর রসুইঘর ছিলো আলাদা। রাজপ্রাসাদেই তাঁর আলাদা পূজা ঘর ছিলো। তিনি পড়াশোনা জানতেন, গানের তালিম ছিলো, নিখুঁতভাবে তলোয়ার চালানো, ঘোড়া চালানো জানতেন। মানসিকভাবে দু’জন প্রায় ভিনগ্রহের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও মদ্যপ, লুটেরা, চরিত্রহীন আকবর বাদশাহের কাছে রাজা ভাগলব তার মেয়ের বিয়ে দিতে কুন্ঠা করেননি।
এটাকে কি বলা যায়? সতীদাহ না অনার কিলিং? লর্ড কর্নওয়ালিস, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায় লর্ড বেন্টিকের সাথে মিলে সরাসরি আগুনে “পুড়িয়ে মারা” বন্ধ করতে পেরেছেন কিন্তু “বাঁচিয়ে রেখে মেরে ফেলা”র প্রতিকার কে করতে পেরেছে? খুব নির্মোহ চোখে দেখলে “যোধা”র কি জীবনের ঝুঁকি ছিলো না এই বিয়েতে? বাবা কি মেয়েকে জীবনের ঝুঁকিতে ফেলে দেননি? ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন জীবনাচার, ভিন্ন খাদ্যভাসে মানিয়ে নেয়া এতোই সহজ? রাজনীতির কূটকৌশল না থাকলে প্রাণে বাঁচতেন যোধাবাঈ?
যুগ যুগ ধরে পুরো ভারতবর্ষ জুড়ে ঘটে চলা এই “অনার কিলিং” এর কাহিনী লিখতে শুরু করলে, কত সহস্র আরব্য রজনী লেখা যাবে?
তানবীরা হোসেন
০৪/০৩/২০২৩
Subscribe to:
Posts (Atom)




