Wednesday, 3 February 2021
দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – দুই ফেব্রুয়ারী
প্রিমিয়ে মার্ক রুতে
আমরা যতই চেষ্টা করি না কেন শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার কোন রাস্তা এখনও পাইনি। আমাদের অনিশ্চয়তা, কি করা যাবে আর করা যাবে না, স্বাভাবিক জীবনের দিকে কিভাবে কতটুকু পৌঁছতে পারবো তাই নিয়ে আজ আপনাদের সাথে কথা বলবো। অনেক বেশি মানুষ ভ্যাক্সিন নিলে, নিজেদের পরীক্ষা করালে এবং নিয়ম মেনে চললে কি কি হতে পারে সেটাই বলছি এখন।
সংক্রমনের হার কমেছে, হাসপাতালে করোনা রোগীর ভীড়ও কিছু কমেছে। কিন্তু তৃতীয় ঢেউ এড়ানোর কোন উপায় নেই কারণ বৃটিশ করোনা ভাইরাস। এই মূর্হুতে যত নতুন রোগী আছে তাদের দুই তৃতীয়াংশ ব্রিটিশ করোনায় আক্রান্ত। বিজ্ঞানীদের মতে পুরনো ক্ল্যাসিক ভাইরাসের চেয়ে ব্রিটিশ ভাইরাস দেড়গুন বেশি সংক্রমণের ক্ষমতা রাখে। পুরনো ভাইরাসের সংক্রমণ কমলেও ব্রিটিশ ভাইরাসের সংক্রমণের হার প্রতি সপ্তাহে দুই গুন বেড়েছে। সব পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা সবাই সম্মত হয়েছি, লকডাউন দুসরা মার্চ পর্যন্ত আপাতত চলবে। তেইশে ফেব্রুয়ারি আবার সংবাদ সম্মেলন করে তখনকার অবস্থা জানানো হবে। তবে কিছু জিনিস আমরা পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
বাচ্চাদের থেকে করোনা ছড়ানোর কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে আটই ফেব্রুয়ারি থেকে প্রাইমারি স্কুল আর ডে-কেয়ার খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেড় মিলিয়ন শিশু প্রাইমারি স্কুলে যায় আর চারশো পঞ্চাশ হাজার বাচ্চা ডে কেয়ারে যাচ্ছে। তবে যদি কোন বাচ্চার কোভিড ধরা পরে, ক্লাশের সব বাচ্চা, টিচারসহ সবাই কেয়ারন্টিনে থাকবে। পাঁচ দিন পর সবাইকে পরীক্ষা করাতে হবে। জরুরী দরকার ছাড়া বাচ্চাদের আপাতত ডে-কেয়ারে পাঠানোর অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। মাধ্যমিক স্কুল পহেলা মার্চের আগে খোলা হবে না।
“ক্লিক এন্ড কালেক্ট” পদ্ধতিতে দোকান খোলার অনুমতি দেয়া হয়েছে। দশই ফেব্রুয়ারি থেকে সব দোকান থেকেই অনলাইন বা টেলিফোনে পন্য অর্ডার করে নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত পিকাপ পয়েন্ট থেকে নিয়ে আসা যাবে। অর্ডার আর পিকাপের মধ্যে মিনিমাম চার ঘন্টা সময়ের ব্যবধান থাকতে হবে, যাতে শপিং ফো ফান না হয় আর পিকাপ করতে একজনই শুধু যেতে পারবে। দোকান বন্ধ থাকবে। যে দোকান এই নিয়মের ব্যাতায় করবে সে দোকান বন্ধ করে দেয়া হবে।
দশই ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে চারটায় কার্ফিউ শেষ হবে।
সাংবাদিকঃ আপনি বলছেন ব্রিটিশ করোনা দেড়গুন দ্রুত ছড়ায় তার ওপর আবার নিয়ম শিথিল করছেন, এভাবে তৃতীয় ঢেউ ঠেকানো সম্ভব?
প্রিমিয়ে রুতেঃ আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি, সপ্তাহান্তের সব স্ট্যাটাস্টিক্স নিয়ে আবার সামনের সপ্তাহে আলোচনা হবে। নিয়মনীতি দরকার হলে আবার পরিবর্তন হতে পারে, হওয়াটাই স্বাভাবিক।
আরো কঠিন হবে?
সেটা এখন জানি না, যা প্রয়োজন তাই করতে হবে।
সাংবাদিক ভ্যাক্সিন দেয়ার হিসেব নিয়ে যে ভুল হলো? তার দায় কার?
ভাইস প্রেসিডেন্ট হুগো দ্যা ইয়ংঃ যেহেতু আমি সব কিছুর দায়িত্বে আছি, তাহলে ভুল আমার।
তারপরেও কি আপনি ভাবছেন এই পদের জন্যে আপনি সঠিক মানুষ?
হ্যাঁ, এখনো এই দায়িত্বের জন্যে আমিই সঠিক মানুষ।
পরিস্থিতি বিবেচনায় বোঝা যাচ্ছে রেস্টুরেন্ট, বার, ক্যাফে, নাইট ক্লাব এগুলো সহসা খোলা হবে না?
গত বছরের গরমের ছুটির থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি। আমরা খুব তাড়াহুড়া করেছিলাম, তাড়াতাড়ি করা ঠিক হয়নি।
প্রিমিয়ে রুতে আপনি কি ভাবছেন এই বছরের মধ্যে সবাইকে ভ্যাক্সিন দেয়া শেষ করতে পারবেন?
আশা করছি।
নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না?
কি করে পারবো? সব কি আমাদের হাতে? ভ্যাক্সিনের ফ্যাক্টরীতে কিংবা গুদামে দুর্ঘটনা ঘটলে, কিংবা পরিবহনের সময় দুর্ঘটনা ঘটলে সেগুলো কি করে নিশ্চিত করবো?
দশই ফেব্রুয়ারী কার্ফিউ তুলে নেয়ার কথা ছিলো, আটই ফেব্রুয়ারী সিদ্ধান্ত নেয়া হলো তেসরা মার্চ পর্যন্ত কার্ফিউ থাকবে।
02/02/2021
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment