Monday, 7 March 2022

বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন সেই মোতালেব

https://www.prothomalo.com/life/durporobash/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9C-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%87-%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%AC?fbclid=IwAR2h97ls-CSDV_djALetA-ZdGO5z95Fai2RbFCdhb1tSgotVwwxjMLce__8 যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে শুধু খিদের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন মোতালেব। সাত বছরের শিশু রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছিল; সেখান থেকে একটি এতিমখানায় আশ্রয় হয় তার। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের ওয়াইটার্স দম্পতি একটি শিশু দত্তক নেওয়ার জন্য ব্যাকুল ছিলেন। তাঁরা দত্তক নেন মোতালেবকে। সেই মোতালেব ওয়াইটার্সকে প্রিয়জনেরা এখন ‘মো’ বলেই ডাকেন। অতীতের দিকে তাকিয়ে মোতালেব বলেন, ‘নেদারল্যান্ডস আমার জন্য স্বর্গ ছিল।’ দ্রুতই তিনি ডাচ্‌ জীবনের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন। নেদারল্যান্ডসকেই নিজের দেশ ভাবতে থাকেন, স্কুলে যেতেন, সমবয়সীদের সঙ্গে ফুটবল খেলতেন, অন্য সবার মতো কাজ করতেন। পড়াশোনার পর ২০ বছর বয়সে তিনি একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার শিকড়ের সন্ধান করা প্রয়োজন মনে করি এবং ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসি। বাংলাদেশে এসে আমি আমার রক্তের বন্ধনকে খুঁজে পেয়েছি—চরম দারিদ্র্যের মধ্যে। বাংলাদেশের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান “ইত্যাদি” ও হানিফ সংকেত এ ব্যাপারে আমাকে দারুণ সমর্থন জোগান।’ পরিবারকে খুঁজে পাওয়া, তাদের অসহায়ত্ব আর দারিদ্র্য দেখে মো বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্তে নেন। একসময়ের পথশিশুটিই এখন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি অনেক মেয়ের জীবন বদলে দিয়েছেন। বাংলাদেশের নারীদের উন্নতির জন্য তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর এর জন্য আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন মোতালেব। মোতালেব বলেন, ‘১৯৯৫ সালে আমরা বাংলাদেশের পটুয়াখালীতে প্রচুর টিউবওয়েল ও শৌচাগার স্থাপন করেছি এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত শিক্ষার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বরগুনা ও দশমিনাতেও আমরা এসব প্রকল্প সম্প্রসারণ করেছি। এর মধ্যে ২০০০ সালে বাউফলে একটি এতিমখানা স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে এখন ৪০টির মতো শিশু আছে। ২০০১ সালে বাউফলে একটি মা-শিশু ক্লিনিক এবং ২০১৩ সালে একটি জরায়ু ক্যানসার পরীক্ষার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি মৃত স্ত্রীর স্মরণে ইনখ্রিড মেমোরিয়াল হসপিটাল নামে একটি হাসপাতাল তৈরি করেছি, সেখানে মেয়েদের প্রসবের সুব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার আছে। সেখানে ছোট–বড় সব ধরনের অপারেশন করা হয়। দরকার হলে শহর থেকে সার্জন নিয়ে আসা হয়। আমরা ইতিমধ্যে কয়েক হাজার নারীকে জরায়ুর ক্যানসার থেকে বাঁচিয়েছি। কেননা, মা ছাড়া বাচ্চাদের তো কোনো সুন্দর ভবিষ্যৎ হতে পারে না।’ মোতালেব আরও বলেন, ‘২০০৪ সালে শাকসবজি, মাছ ও মুরগির খামার শুরু করেছি। অল্প জায়গায় কোন পদ্ধতিতে কাজ করলে বেশি সুফল পাওয়া যায়, সাধারণত সেই কৌশলগুলো আমরা গ্রামবাসীকে শেখাই। ধরুন, একটি পুকুরের চারপাশে নানা ধরনের ফলের গাছ কিংবা সবজির গাছ লাগাতে পারেন, পুকুরে মাছের চাষ করতে পারেন আর পুকুরের ওপরেই মাচা বানিয়ে ঘর তুলে সেখানে মুরগি পালন করতে পারেন। মুরগির বর্জ্যই হবে মাছের খাবার। তিন হাজার পরিবার আমাদের এ প্রকল্পে এখন কাজ করছে। এ ছাড়া বাউফল, দশমিনা, বাকেরগঞ্জ, বরগুনাতে ছয় হাজার পরিবারকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হয়েছে।’ নারীদের অবস্থান ও কল্যাণে মোতালেবের প্রচেষ্টার জন্য গত ২২ নভেম্বর নেদারল্যান্ডসের উডেনের রোটারি ক্লাব মোতালেবকে সম্মানিত করে। এ সময় রোটারি ক্লাব উডেনের গভর্নর লেনি খুইয়ার ইয়ানসেন, মেয়র হেলেগারস এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ ও তাঁর স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। মোতালেব বলেন, ‘অবশ্যই স্বীকৃতিটি অসাধারণ। সংস্থাটি আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বব্যাপী সমস্ত রোটারি ক্লাবের কাছে একটি প্রকল্প জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে আর সেই হাজার হাজার প্রার্থীর মধ্য থেকে নির্বাচিত ছয়জনের মধ্যে আমি একজন।’ এ জন্য মোতালেব চলতি বছরেই যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে আনুষ্ঠানিক পুরস্কারও পাবেন। মোতালেবের স্ত্রী ইনখ্রিড ওয়াইটার্স ২০১৩ সালে স্তন ক্যানসারে মারা যান। তিনটি বাচ্চাকে লালনপালন করছেন তিনি। দুই মেয়ের বয়স যথাক্রমে ২০ ও ১৮, আর ছোট ছেলেটি ১৩ বছর বয়সের। নেদারল্যান্ডসের উডেন শহরে বসবাসরত মোতালেব পরিষ্কার বাংলায় কথা বলেন। বাচ্চাদের নিয়ে তিনি প্রায়ই দেশে আসেন। ঝাল কম দিয়ে প্রায়ই দেশি খাবার রান্না করেন। চীন থেকে নেদারল্যান্ডসে মোজাইক পণ্য আমদানির ব্যবসাসহ তিনটি ম্যাসাজ সেলুনের মালিক মোতালেব।

Monday, 10 January 2022

দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – আঠারোই ডিসেম্বর টুয়েন্টিটুয়েন্টি ওয়ান

দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – আঠারোই ডিসেম্বর টুয়েন্টিটুয়েন্টি ওয়ান প্রিমিয়ে রুতেঃ গত সংবাদ সম্মেলনের মাত্র চারদিন পরেই, শনিবার রাতে আবার সংবাদ সম্মেলন করার অর্থই হলো, আজকে খারাপ খবর আছে। এক লাইনে বলতে গেলে, কাল থেকে নেদারল্যান্ডস আরো একবারের জন্য পুরোপুরি বন্ধ হবে। আমরা করোনার পাঁচ নম্বর ঢেউয়ের মধ্যে আছি যার মধ্যে ওমিক্রণের নতুন ধরনটিও উল্লেখযোগ্য। দেখা যাচ্ছে অন্যান্য ধরনের চেয়ে ওমিক্রণ অনেক বেশি দ্রুত ছড়াচ্ছে। এই জটিল সংবাদটি নিয়ে আজকে আলোচনা হবে বলে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপরি ইয়ান ভান ডিজেলকে সাথে নিয়ে আসা হয়েছে। ইয়ান ভান ডিজেলঃ হাসপাতাল, জেনারেল ফিজিশিয়ান, কেয়ার হোমে যথেষ্ঠ ভীড় থাকা সত্বেও আমরা ভেবেছিলাম ডেল্টার ঢেউ আমরা সামলে উঠেছি, কিন্তু সেটার সংক্রমণের হার না কমতেই ওমিক্রণ ছড়িয়ে পড়ছে সব জায়গায়। আমর্স্টাডাম, লন্ডনের সংক্রমণের হার দেখে আমরা ধারনা করছি, ক্রিসমাস আর নিউ ইয়ারে ওমিক্রণ অনেক বেশি ছড়াবে যেহেতু এটির সংক্রমণের ক্ষমতা অনেক বেশি। ওমিক্রণ লীডিং থাকবে আর ডেল্টা হয়ত বিদায় নেবে। ওমিক্রণ দ্রুত ছড়ায় ছাড়া এটি নিয়ে আর অনেক বেশি কিছু এখনও জানা যায়নি। তবে ভয়ের কথা হলো, যখন ভ্যাক্সিন বানানো হয়েছিলো, তখন করোনার যেই রুপটি উপস্থিত ছিলো, ওমিক্রণের চরিত্র তার থেকে অনেক আলাদা। তাই ভ্যাক্সিন এটাকে পুরোপুরি প্রতিরোধ করতে হয়ত পারবে না। তারপরও বুস্টার নেয়া দরকার যাতে প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার থাকে, ওমিক্রনের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায়। আমরা যদি লন্ডনের সংক্রমণের হার ধরে আমাদের মডিউল হিসেব করি তাহলে দেখা যায়, এতো বেশি সংক্রমণ বাড়বে যে প্রথম ঢেউয়ের মত পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থা করোনা রোগী সামলাতেই ব্যস্ত থাকবে। হয়ত, এত খারাপ অবস্থা নাও হতে পারে কিন্তু অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা সময় থাকতে সাবধান হতে পারি। প্রিমিয়ে রুতেঃ নতুন লক ডাউন উনিশ তারিখ সকাল পাঁচটা থেকে শুরু হবে চৌদ্দই জানুয়ারী পর্যন্ত চলবে। বাসায় দুজনের বেশি মেহমান নয়। বাইরে হাঁটতেও দুজনের বেশী নয়। তবে ক্রিসমাসের দুদিন আর থার্টি ফাস্টে চারজন মেহমান আসতে পারে আর বাইরেও চারজন এক সাথে আড্ডা দিতে পারে। সমস্ত দোকানপাট বন্ধ থাকবে তবে ক্লিক এন্ড কালেক্ট চলতে পারে। সুপারমার্কেট আর ওষুধের দোকান সন্ধ্যা আটটা পর্যন্ত খোলা থাকতে পারে। গাড়ির ট্যাকিং, লাইব্রেরি ইত্যাদি খোলা থাকবে। প্রাইমারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সব বন্ধ থাকবে সাথে ডে-কেয়ার সেন্টার। তবে দশই জানুয়ারী থেকে অনলাইন ক্লাশ চলবে। যাদুঘর, কনসার্ট, সিনেমা, চিড়িয়াখানা, এমিউজমেন্ট পার্ক সব বন্ধ থাকবে। রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে বন্ধ থাকবে তবে টেকওয়ে চলতে পারে। বিয়ে আর শেষ কৃত্যানুষ্ঠান নিয়মের মধ্যে চলতে পারে। চুল, নখ, বিউটি সেলুন সব বন্ধ থাকবে। সবরকম খেলাধূলা আর প্রতিযোগিতা বন্ধ থাকবে। তবে মাঠে খেলাধূলা চলতে পারে, দুজনের মধ্যে, দেড় মিটার দূরত্ব মেনে। যারা যারা ছুটিতে যাবে, যে দেশে যাবে সেখানকার নিয়ম মেনে চলতে হবে। সাবসিডি যেমন চলছিলো চলতে থাকবে। হুগো দ্যা ইয়ংঃ সংক্রমণ ঠেকানোর সর্বোচ্চ ব্যবস্থা হিসেবে আমরা প্রতি সপ্তাহে দেড় মিলিয়ন মানুষকে বুস্টার দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। জানুয়ারীর মাঝামাঝির মধ্যে সবাইকে বুস্টার দিয়ে সুরক্ষা করাই আমাদের আপাতত লক্ষ্য। এরমধ্যে আমরা বেশী সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দেয়ার মত করে নিজেদের প্রস্তূত করছি। তিন মাস আগে যাদের করোনা ভ্যাক্সিনের শেষ ডোজ নেয়া হয়েছে তাদেরকে অবশ্যই অতি দ্রুত বুস্টার নেয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে, নইলে ওমিক্রন প্রতিরোধের জন্যে যথেষ্ঠ প্রস্তূত নয় বলেই দেয়া যাচ্ছে। সাংবাদিকঃ আপনারা কি বুস্টার শুরু করতে দেরী করে ফেলেছেন? ইয়ান ভান ডিজেলঃ দু’বছর ধরে কাজ করলে আপনি কিছুতেই বলতে পারেন না, আপনি কখনো ভুল করেন নি। তবে যেভাবে ভ্যাক্সিন নেয়া মানুষও এসে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে তাতে আমরা ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতা ও বুস্টার নিয়ে কিছুটা পর্যবেক্ষণের মধ্যে ছিলাম। বুস্টার দেয়ার জন্যে এখন আমরা এত মানুষ এপয়ন্ট করেছি, এভাবে পরিকল্পনা করেছি, আপনি দেখছেন এখন বুস্টার কার্যক্রম সময়ের আগে চলছে। সাংবাদিকঃ আজকের সার্ভে থেকে দেখা গেছে মাত্র ত্রিশ পার্সেন্ট মানুষ আপনার এই লকডাউন সমর্থণ করছে। হয়ত দেখা গেলো, ক্রিসমাসে তবুও মানুষ পরিবারের সাথে পার্টি করছে, তখন আপনি কি করবেন? প্রিমিয়ে রুতেঃ আজকের প্রেস কনফারেন্সে ইয়ান ভান ডিজেল পরিস্কার বলে দিয়েছে, কি কি ঝুঁকি আমাদের জন্যে অপেক্ষা করছে। আমি বিশ্বাস করি ও জানি যে ছয়/সাত মিলিয়ন মানুষ এখন এই প্রেস কনফারেন্স দেখছে, তারা এটি উপলব্ধি করবে এবং আপনি পরের সপ্তাহে এই সার্ভেটি আবার করলে, আমি নিশ্চিত অন্যরকম ফলাফল আসবে। সাংবাদিকঃ ভ্রমণের ব্যাপারটা যদি আরেকটু পরিস্কার করতেন, হুগো দ্যা ইয়ংঃ স্যাঙ্গেইনের সাতাশটি দেশের মধ্যে আমরা ভ্রমনের ব্যাপারটা একটি ফর্মে নিয়ে আসতে চাই। এতদিন শুধু ডিসিসি থাকলেই চলতো কিন্তু এখন থেকে টেস্ট ও বাধ্যতামূলক করতে চাই। ইউরোপের বাইরে থেকে এলে/গেলে সবাইকে টেস্ট কিংবা ডাবল টেস্ট করা সহ, যে দেশে যাবে তার নিয়মগুলোও মানতে হবে। এতদিন যাদের ভ্যাক্সিনের সার্টিফিকেট ছিলো তাদের কেয়ারন্টিন করতে হতো না। কিন্তু এখন থেকে ইউরোপের বাইরে থেকে এলেই কেয়ারন্টিন বাধ্যতামূলক করার করা ভাবা হচ্ছে। এমনকি যুক্তরাজ্য থেকে এলেও। সাংবাদিকঃ এত অল্প সময়ে সবাইকে বুস্টার দেয়ার মত যথেষ্ঠ ভ্যাক্সিনের মজুদ আছে কি? হুগো দ্যা ইয়ংঃ ভ্যাক্সিন যথেষ্ঠ আছে, মর্ডানা, ফাইজার দরকারে ইয়ানসেন কিন্তু দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা ভ্যাক্সিন পুশ করার মত মানুষ নেই। লোকবল যোগাড় করতে পারলে আরও দ্রুত সবাইকে বুস্টারের আওতায় আনা হবে। সাংবাদিকঃ দুই ডোজ ভ্যাক্সিন যেই ভাইরাস আটকাতে পারেনি তাকে একটি বুস্টার দিয়ে আটকে দেবেন, এমন ভাবনার কারণ কি? ইয়ান ভান ডিজেলঃ খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন যদিও আমি এর উত্তর জানি না। শুধু ভাবছি, বুস্টার ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করবে যা ভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
তানবীরা হোসেন ১১/০১/২০২২

Saturday, 1 January 2022

দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – চৌদ্দই ডিসেম্বর টুয়েন্টিটুয়েন্টি ওয়ান

প্রিমিয়ে রুতেঃ আজকের সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশ্য আমরা আমাদের এই নিয়মগুলো চৌদ্দই জানুয়ারী পর্যন্ত বহাল রাখবো। সামনেই ক্রীসমাস, আমি জানি এটা কারো জন্যেই আনন্দের কোন সংবাদ নয়, কিন্তু আশাকরছি, আপনারা বুঝবেন দুটো কারণে এটা এড়ানোর কোন উপায় নেই। প্রথমত, করোনা রোগী দিয়ে হাসপাতাল ভর্তি, অন্য সব চিকিৎসা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ওমিক্রন ঠেকাতে হবে। ক্রিসমাসের সময় সর্বোচ্চ চারজন মেহমান আসতে পারে। কোথায় বেড়াতে যাওয়ার আগে কিংবা বাসায় মেহমান আসার আগে নিজে করোনা পরীক্ষা করে নেবেন। কোন উপসর্গ না থাকলেও করে নেবেন। বাড়ির ভেতরেও দেড় মিটার দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করুন। জানাল খুলে রাখার চেষ্টা করুন। আর মেহমান চলে গেলে দরজা আর জানালা অন্তত পনের মিনিট একসাথে খুলে রেখে ঘরকে সতেজ করুন। আর একবার মনে করিয়ে দিচ্ছিঃ সুপারমার্কেট আর ওষুধের দোকান ছাড়া, সন্ধ্যা পাঁচটা থেকে সকাল পাঁচটা পর্যন্ত সব বন্ধ থাকবে। তেলের পাম্প খোলা থাকবে আর রেস্টুরেন্টে টেক ওয়ে খোলা থাকবে। খেলাধূলা প্রতিযোগিতায় কোন দর্শক থাকবে না। রেস্টুরেন্ট, সিনেমা হল, কনসার্ট, থিয়েটার, যাদুঘর, চিড়িয়াখানা সবা জায়গাতেই তের বছরের ওপরের সবাইকে করোনা সার্টিফিকেট এর সাথে আইডি কার্ডও দেখাতে হবে। যেখানে বসার জায়গা নির্দিষ্ট নেই সেখানে প্রতি পাঁচ বর্গমিটারে একজন দর্শনার্থী। পাব্লিক ট্রান্সপোর্ট, স্কুল, শপিং মল, চুল কাটার দোকান, ম্যাসাজ পার্লার কিংবা রেস্টুরেন্টে মাস্ক বাধ্যতামূলক। সর্বোচ্চ পচাত্তর জন ইউনিভার্সিটির একটি ক্লাশে আর থিয়েটার কিংবা কনসার্টে বারোশো পঞ্চাশ জন। যে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এ সকল কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাদের সাবসিডি কন্টিনিউ হবে। এরকম পরিস্থিতিতে এটি আমাদের দ্বিতীয় ক্রিসমাস। দুঃখ, ক্ষতি, বেদনা আমরা কমাতে পারবো না কিন্তু দুই হাজার বাইশের প্রথম কোয়ার্টার পর্যন্ত সাবসিডি অব্যহত রেখে ক্ষতি খানিকটা পুষিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবো। আর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের জন্য আমরা তৃতীয় কোয়ার্টার পর্যন্ত সাবসিডি দিয়ে যাবো তবে সেখানে নিজস্ব বীমা’র ভূমিকাও মূল্যায়ন করা হবে। সত্তরোর্ধ নানা নানীর সাথে বাচ্চাদের মেলামেশা কমাতে হবে তার সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন। যেসব বাচ্চারা টিকা নেয়নি, তাদের দিয়ে করোনা দ্রুত ছড়াচ্ছে। তারা নিজেরা ততো অসুস্থ হয় না কিন্তু অন্যদের মারাত্বক অসুস্থ করে দেয়। ওমিক্রনের ঝুঁকি এড়াতে আমরা বিশে ডিসেম্বর থেকে সমস্ত প্রাইমারি স্কুল আর ডে কেয়ার সেন্টার বন্ধ করে দিচ্ছি। অনলাইন ক্লাশেরও দরকার নেই। বাবামায়েদের বিশেষ অনুরোধ এসময় বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে কোন প্ল্যানিং না করে বাড়ির মধ্যেই সময় কাটাতে। আমি জানি খুবই কষ্টকর আর তাই আবারো বলছি, সবাইকে সশ্রদ্ধ ধন্যবাদ এ কঠিন সময়টিতে পরিপূর্ণ সাহায্য করার জন্যে। গত সপ্তাহের এক জরিপে উঠে এসেছে, এই সংকটের শুরুতে মানুষের যতটা আস্থা ছিলো এখন তা নেই, যৌক্তিক বটে, কারণ সবাই যথেষ্ঠ ভুগেছে এই নিয়ে। কিন্তু আমি এটিকে আমাদের প্রতি এক ধরনের ম্যাসেজ হিসেবে দেখছি যে আমাদেরকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে, আরও ভাল করার চেষ্টা করতে হবে। সেই একই জরিপে আবার উঠে এসেছে, মানুষ নিয়মনীতি মেনে চলতে প্রস্তূত, সেটি কিন্তু আবার আমাদের প্রতি এক রকমের বিশ্বাসও বটে। হুগো দ্যা ইয়ংঃ গত সপ্তাহে প্রতিদিন একুশ হাজার সংক্রমণ ছিলো এই সপ্তাহে সেটি সতের হাজার। প্রায় প্রতিদিন দুইশো আশি জন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। উনিশে নভেম্বর প্রথম ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে হল্যান্ডে, অন্যান্য দেশের পরিসংখ্যান দেখে আমরা ধারনা করছি হল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক শতাংশ মানুষ এখন ওমিক্রন দ্বারা সংক্রামিত। ইংল্যান্ডে প্রতি দুদিনে সংক্রমণ দ্বিগুন হচ্ছে। আমরা জানি না কিভাবে কি করতে হবে তবে বুঝতে পারছি আর একটি নতুন ঢেউ আসছে। যা করা সম্ভব করার চেষ্টা করছি। বুস্টার ডোজ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সবাই পাবে। ভ্যাক্সিন এখনও সংক্রমণ প্রতিরোধের সবচেয়ে শক্ত হাতিয়ার। আঠারোর্ধ্ব সবাই যারা তিন মাস আগে ভ্যাক্সিনের দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছে কিংবা করোনাক্রান্ত হয়েছে জানুয়ারীর দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে তারা বুস্টার পেয়ে যাবে। সাংবাদিকঃ সারাক্ষণ বললেন, শিক্ষায় হাত দেবেন না আর এখন বলছেন প্রাইমারি স্কুল বন্ধ, ব্যাপারটা কি? প্রিমিয়ে রুতেঃ এবার স্কুল ছুটি পড়েছে পঁচিশে ডিসেম্বর থেকে, শেষ স্কুল চব্বিশে ডিসেম্বর, বাচ্চাদের কোন ছুটিই সেভাবে নেই। সাথে আছে ওমিক্রন সংক্রমণ ছড়িয়ে দেয়ার উচ্চ ঝুঁকি তাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির পরামর্শনুযায়ী এক সপ্তাহ আগেই স্কুল ছুটি দেয়া হলো। সাংবাদিকঃ কিন্তু আপনাদের কাছে তো ওমিক্রনের কোন পরিসংখ্যান নেই আর সংক্রমণের হার তো কমেও আসছে প্রিমিয়ে রুতেঃ আমাদেরটা তৈরী হচ্ছে কিন্তু আশেপাশের অবস্থা থেকে আমাদের ধারনা নিতে হবে। ইংল্যান্ড, ডেনমার্ক, জার্মান, অস্ট্রিয়া এদের আপডেট প্রতিনিয়ত পাচ্ছি সাংবাদিকঃ ওখানে যা হচ্ছে এখানে তাই হবে, এমনতো কোন কথা নেই তাছাড়া, বাচ্চাদের স্কুল নেই, বাইরে যেতে মানা, সারাদিন ওরা বাসায় করবে কি? প্রিমিয়ে রুতেঃ আমি জানি এটি খুবই কষ্টকর একটি পরিস্থিতি কিন্তু যেহেতু আর কোন উপায় নেই, বাবামাকেই সন্তানকে সময় দিয়ে তাকে ব্যস্ত রাখার, আনন্দে রাখার চেষ্টা করতে হবে। সাংবাদিকঃ ওমিক্রন সংক্রমণের ঢেউটি কখন আশা করছেন? হুগো দ্যা ইয়ংঃ সেটা আমরা এখনও জানি না। তবে এটুকু জানি, তৃতীয় ডোজ বা বুস্টার একজন সুস্থ মানুষের শরীরে পচাত্তর শতাংশ রোগ প্রতিরোধ তৈরী করতে সক্ষম আর তাই আমরা এত দ্রুত সবাইকে বুস্টার দিচ্ছি। সাংবাদিকঃ মাত্র পনেরো শতাংশ মানুষ করোনা নিয়ে আপনার কার্যক্রমের ওপর আস্থা রাখছে? এটা কি করে সম্ভব হলো? প্রিমিয়ে রুতেঃ আমার কার্যক্রমে অনেক ঘাটতি ছিলো, মানুষকে যথেষ্ঠ আস্থা আমি দিতে পারিনি। আমি এখন আমার কাজের ধারা বদলে ফেলেছি। জানুয়ারী থেকে আমি চেষ্টা করবো অন্য পদ্ধতিতে কাজ করার। এখন থেকে আর অল্প সময়ের পরিকল্পনা নয়, করোনা প্রতিরোধ নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা হবে লম্বা সময়ের জন্যে। কিন্তু মানুষ আমার দেয়া প্রাথমিক নিয়মগুলো মানছে, তারা অন্তত এটি বুঝতে পারছে, আমরা সত্যি সত্যি ঝামেলায় আছি। আমাকে পছন্দ করা বা না করা জরুরী না, নিয়ম মানা জরুরী। সাংবাদিকঃ মানুষ আপনার ওপর আস্থা রাখছে না কিন্তু আপনার দেয়া নিয়মাবলীর ওপর আস্থা রাখছে, ব্যাপারটা একটু কেমন কেমন না? মাত্রই নতুন মন্ত্রীসভা তৈরি হলো, তার মধ্যে কি এর প্রভাব পরবে না? (প্রেস কনফারেন্সঃ চৌদ্দই ডিসেম্বর, পয়ত্রিশ মিনিট থেকে সাইত্রিশ মিনিট) সাংবাদিকঃ আপনি বলছেন, ইউরোপের মধ্যে নেদারল্যান্ডসই সর্বোচ্চ কঠোর প্রতিরোধ ব্যবস্থা, লকডাউন ইত্যাদি দিয়েছে তারপরও নেদারল্যান্ডসের করোনা এত খারাপ কি করে হলো? আইসিইউ’র স্বল্পতা? হুগো দ্যা ইয়ংঃ অনেকেরই এটি একটি ভুল ধারনা। আইসিইউ বেশি থাকলেই যেনো করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকতো। ব্যাপারটা সেরকম কিছু নয়। আইসিইউ মেইনটেইন করতে শিক্ষিত কর্মী লাগে সাথে অন্যান্য রোগের চিকিৎসাও তো চলতে হবে। অন্য রোগের রোগীদেরতো সবসময় অপেক্ষা করিয়ে রাখা যায় না, সেগুলোওতো সমান জরুরী। সাংবাদিকঃ বারবার আপনারা যুক্তরাজ্যের উদাহরণ টানছেন, এর মানে কি আপনারা ওদের ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন? প্রিমিয়ে রুতেঃ ব্যাপারটা সেরকম না, আমাদের বিশেষজ্ঞরা পৃথিবীশুদ্ধ সব বিশেষজ্ঞদের সাথে দিনরাত যোগাযোগ রাখছে ও তথ্য আদান প্রদান করছে। আমাদের মডুলিস্টরা, এপিলিওজিস্টরা পৃথিবীর সেরা হিসেবে স্বীকৃত। সাংবাদিকঃ আপনারা যে এত দ্রুত বুস্টার দিচ্ছেন সবাইকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সাথে এই ব্যাপারে আলোচনা করেছেন? হুগো দ্যা ইয়ংঃ না, আলোচনা করিনি। প্রথমে আমরা শুধু ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে পরিকল্পনা করেছিলাম এখন যেহেতু ওমিক্রণ এসে গেছে তাই আমাদের পরিকল্পনা বদলাতে হয়েছে এবং অসম্ভব দ্রুত গতিতে সবাইকে বুস্টার দিতে হচ্ছে। সাংবাদিকঃ আপনারাতো সেপ্টেমর থেকেই সব তথ্য জানতেন তাহলে পরিকল্পনা করতে এত দেরী হলো কেন? হুগো দ্যা ইয়ংঃ প্রথমে আমরা আইসিইউতে ভীড় কমিয়ে, সংক্রমণের হার কমিয়ে তারপর দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনায় হাত দিতে চাইছি। ফেব্রুয়ারীর শেষ থেকে আমরা পরের বছরের জন্যে পরিকল্পনা শুরু করবো। করোনা কোথাও যাবে না, আমাদেরকে করোনার সাথে বসবাসের পথ তৈরী করতে হবে। মার্চের শেষ থেকে আমরা পরের প্যান্ডামিক মোকাবেলা করার জন্যেও সব ধরনের পরিকল্পনা ও প্রস্তূতি গ্রহণ করছি। সাংবাদিকঃ ভাইরাস নিয়ে প্রায় দেড় বছরের ওপর হতে চললো। ক্যাবিনেট আর আপনার থেকেতো আমরা আরও একটু সময়মত সিদ্ধান্ত আশা করতে পারি? প্রিমিয়ে রুতেঃ মানুষ ভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার দায়িত্ব যেকোন পরিস্থিতিতে সবসময় সিদ্ধান্ত নেয়া। সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন কিছু না কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন। সাধারণ ব্যাপারে ক্যাবিনেট দশটা সিদ্ধান্ত নেয়, যদি দেখা যায়, আটটা সম্পূর্ণ সঠিক, একটা ভুল আর একটা আরো সংশোধন করতে হবে তাহলে সে খুবই যোগ্য প্রধানমন্ত্রী কিন্তু এটাতো সাধারণ পরিস্থিতি না, এখন আমরা আছি প্যান্ডামিক, এপিডেমির পরিস্থিতিতে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শমত, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমাকে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, যেখানে অসংখ্য ভুল ভ্রান্তি থাকছে, যেটা আমি বারবার অকপটে স্বীকার করছি। আমরা বিশ্ব জুড়ে মানব স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ব্যাপার নিয়ে কাজ করছি। সাংবাদিকঃ বিরোধী দলতো আগেই লকডাউনের কথা বলেছিলো। আগেই যদি লকডাউন দিতেন তাহলে প্রাইমারি স্কুল বন্ধ করা এড়ানো যেতো না? প্রিমিয়ে রুতেঃ জাস্ট কোন বিপদ অনুমান করে লকডাউন করা যায়? লকডাউন আসবে হিসেবের ওপর ভিত্তি করে। আগে থেকে লকডাউন দিলে তার প্রভাব কি অর্থনীতি, সামাজিক জীবন, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর পড়তো না? সাংবাদিকঃ চৌদ্দই জানুয়ারী কি সত্যিই স্কুল সব খুলবে? প্রিমিয়ে রুতেঃ সেটা আমি এখনই বলতে পারি না। ওমিক্রনের গতি প্রকৃতি দেখে বিশেষজ্ঞরা যা সিদ্ধান্ত দেবেন, সেই পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো। তানবীরা হোসেন ০১/০১/২০২২

Thursday, 23 December 2021

মেয়েদের কি কোনো নিজের পক্ষ আছে???

যেসব শিশুরা উনিশ অতিক্রম করেনি তারা খেললো মহিলা ফুটবল! তারপরও বলি, নামে কিবা আসে যায়। ভারতকে হারিয়ে আবারো সাফ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ। অভিনন্দন আমাদের বাঘিনীদের। আর সবার মত কৌতুহলবশতঃ আমিও তাদের নিয়ে লেখা খবরগুলো পড়ছি। বেশীরভাগ মেয়েদের পরিবারই প্রথমে ফুটবল খেলতে সম্মতি দেয়নি। মেয়ে আবার খেলাধূলা তাও পুতুল নয়, রান্নাবাটি নয়, ঠ্যাঙ দেখিয়ে ফুটবল!!!! মানসম্মান কই থাকে??? মেয়েরা কি তবে শুধু ফুটবলের বাঁধা অতিক্রম করেছে? না মেয়ে হওয়ার কারণে কিংবা বাংলাদেশের ভূখন্ডে জন্মানোর কারণে, প্রথমে পরিবার, তারপর সমাজ আর সবশেষে ফুটবলের যুদ্ধে জয়ী হয়েছে। বাচ্চা যদি স্কুলে ইনডিসিপ্লিনড থাকে, পড়াশোনায় অমনোযোগী থাকে, প্রথমেই তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করে, বাড়িতে সবাই কেমন আছে। অফিসে কাজে ভুল হলে, ডিপ্রেসড কিংবা মুড অফ যেকোন কারণেই জিজ্ঞেস করা হয়, বাসায় সব ঠিকাছে? এই যে ইউরোপ কিংবা পশ্চিম নিয়ে প্রাচ্যে মীথ প্রচলিত আছে, বাচ্চা আঠারো হলে বাবা-মা তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয় কিংবা বাবা-মা বুড়ো হলে বাচ্চারা তাদের ওল্ড হোমে পাঠিয়ে দেয়, মাদার্স ডে আর ফাদার্স ডে ছাড়া তাদের দেখতে যায় না, সেই ইউরোপে প্রত্যেক ইস্যুতেই প্রথমেই পরিবারকে খোঁজা হয়। যেকোন ইন্সটিটিউট পরিবারকে মূল ধরে তারপরে সামনে আগায়। আচ্ছা, মানুষ ঠিক কতটা সফল, শিক্ষিত, স্বাবলম্বী হলে তার পরিবার দরকার হয় না? কতটা পরিপূর্ণ হলে একটা ভাল গান শুনলে প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করতে ইচ্ছে করবে না? জ্বরে কঁকিয়ে উঠলে কাউকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করবে না? ফুলের গন্ধে মন উচাটন হবে না কিংবা আঙুল কাটলে রক্ত বের হবে না? কে বলতে পারেন? প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশে দু/চারটে “বউ” খুনের সংবাদ থাকবে। যেগুলো সংবাদপত্রের পাতায় ঠায় পায় আর কি। সবই কি আর ঠায় পায়? তবে আলোচনা আর প্রতিবাদ হয় শুধুমাত্র হাই প্রোফাইল খুন গুলো নিয়ে। এখানেও শুরু হয় ভিক্টিম ব্লেমিং, খুন হয়ে যাওয়া মেয়েগুলোকেও কেউ ছেড়ে দেয় না। ইউনিভার্সিটি পড়তো, ডাক্তার ছিলো, অতো টাকা বেতনে চাকুরী করতো তারপরও সব মেনে নিয়ে সংসারে কেন ছিলো? কি দরকার ছিলো ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। সিরিয়াসলি??? বাংলাদেশে একটা সিঙ্গেল মেয়েকে বাড়িওয়ালা বাড়ি ভাড়া দেয়? এছাড়া, প্রায় প্রতিনিয়ত কি এই খবরও আসে না, পুরো পরিবারশুদ্ধ বাড়ির ভেতরে গলা কেটে রেখে গেছে? প্রাইমমিনিস্টার কি বলেননি, বাড়ির ভেতরে তিনি নিরাপত্তা দিতে পারবেন না? ইউরোপ যে এত সিকিওর বলি, বন্ধুভাবাপন্ন পুলিশ আছে, সোশাল সার্ভিস আছে তারপরেও ক’টা মেয়ে পরিবারের সমর্থণ ছাড়া ডিভোর্সে আগায়? লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, যে মেয়েগুলো খুন হয়, তাদের বয়স সব ত্রিশের নীচে। নিতান্ত জীবন সম্বন্ধে অনভিজ্ঞ বাচ্চা। একা থাকার মত এত মানসিক চাপ নিতে পারে না। যারা একা থাকে তাদের বেশীর ভাগই ত্রিশের ওপরে। জীবনের তিক্ততা খেয়ে খানিকটা শক্ত হয়ে গেছে। জীবনের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে পরিবারের সমর্থণ আর পাশে থাকা জরুরী আর এরকম ভলনারেবল সিচুয়েশানেতো আরও বেশী জরুরী। ইলমা’র খুনের পরে একটা আলোচনা অনেকেই করছেন, মেয়ের পরিবার কোথায় ছিলো? মেয়ের প্রতি তাদের দায়িত্ব ছিলো না? আলোচনা অন্তত শুরু হয়েছে, ইলমার আত্মত্যাগের ইতিবাচক দিক, এই কথাটি অসংখ্যবার আমি বিভিন্ন খুনের সংবাদের নীচে মন্তব্যে লিখেছি, লিখে যাবো। এসব ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এগুলোর জন্য সামাজিক আন্দোলন দরকার। সমাজ পরিবর্তনশীল তাই সামাজিক দাবীগুলোও পরিবর্তিত হবে। ***বিয়েতে, মেয়েকে স্বামী/শ্বশুর বাড়ির হাতে তুলে দিলাম, এই সংলাপ/মানসিকতা পুরোপুরি বন্ধ হতে হবে। আপনার সন্তানকে আপনি যত ভালবাসবেন ততটা অন্যকেউ বাসবে না। তাই নাটক বন্ধ করেন। ***ডিভোর্স হলে শুধু কাবিনের টাকা দিয়ে মেয়ে বিদায় বন্ধ করুন, মেয়ের যতটুকু অধিকার আছে তা নিশ্চিত করুন। সংসার গড়ে তুলতে মেয়ের ভূমিকা, ত্যাগ কিছুই কম থাকে না। *** সম্পত্তিতে ছেলে-মেয়ের সমান অধিকার নিশ্চিত করুন। ভবিষ্যতে মেয়ে খুন হলে, টিভির সামনে যখন মেয়ের মা-বাবা কাঁদবে, আমার মেয়েকে এভাবে অত্যাচার করছে, ঐভাবে অত্যাচার করছে তখন মেয়ের বাবা-মা’কেও যদি খুনের মদতদাতা হিসেবে পুলিশ গ্রেফতার করে তাহলে খুনের রেট নিসন্দেহে কমবে। বাংলাদশে খুব কম খুনের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মেয়ের মা-বাবা জানতো না, মেয়ে অত্যাচারিত ও নিগৃহীত হচ্ছিলো এবং তারা কিছুই করে নাই। চট্রগ্রামে খুন হওয়া মিতুর পুলিশ বাবাও জানতো, মেয়ে বিপদে আছে। পরিশেষে, বাবা-মা’য়েদের প্রতি মিনতিঃ সন্তানের দায়িত্ব নিন,পাশে থাকুন। মেয়েকে মারলেই অত্যাচার হয় না, অত্যাচার আরও অনেক ধরনের হয়। সেগুলোও বোঝার চেষ্টা করুন। আর অত্যাচারই লাগবে কেন? মেয়ের যদি সংসারে/স্বামীর সাথে মন না লাগে, তালাকের জন্যে এই কারণটাই যথেষ্ঠ নয়? অসুখী হয়ে পুরোটা জীবন তাকে কাটাতে হবে? “মানুষ কি বলে তার থেকে ভাল থাকা জরুরী আর বিয়ে টিকিয়ে রাখার চেয়ে বেঁচে থাকা জরুরী”।

Friday, 10 December 2021

তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মুরাদ হাসানকে পদত্যাগ করতে বলায় যারা বগল বাজিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের একাউন্টে দশ পয়েন্ট যোগ হল বলে তাদের জন্যে পরদিনই দুঃসংবাদ। মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে বৃটেন, কানাডা আর এমেরিকা ছয় জন বাঘা বাঘা সিনিয়র খাস সরকারী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার তাদের দেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে। বিএনপি আর জাপা’র একাউন্টে আবার ছয় ইন্টু দশ ইক্যুয়ালটু ষাট পয়েন্ট যোগ হলো। কারণ তাদের শাসনামালে বাংলাদেশের কোন খাস সরকারী কর্মকর্তারা এরকম নিষেধাজ্ঞার কবলে পরে নাই। অবশ্য এটিকেও জাস্টিফাই করার জন্যে “কোয়াড”কে টানার চেষ্টা করে যাচ্ছেন কেউ কেউ। কিন্তু ক’দিন আগে বাইডেনের “ডেমোক্রেসি সাম্মিট” এও বাংলাদেশকে কেন ডাকা হয়নি তা নিয়ে এখনো জাস্টিফিকেশান আসেনি। যেকোন ইস্যুতে জাস্টিফায়েড লীগারদের একটাই যুক্তি থাকে, জাতীয় পার্টি আর বিএনপির তুলনায় যেহেতু আওয়ামী লীগ ভাল করছে, জনগনের এতেই তুষ্ট থাকা উচিৎ, এরচেয়ে ভাল কিছু আশা করা ঠিক না। কিন্তু ভোট চাওয়ার সময় তারা সেটা বলে না। তখন তারা ঢাকাকে লস এঞ্জেলস আর সিলেটকে ম্যানচেষ্টার বানিয়ে দেয়ার ওয়াদা দেয়। বারো বছর ক্ষমতায় থেকেও যখন তাদের ব্যারোমিটার বদলায় নাই তাহলে আমি সাজেস্ট করি, ক্রিকেট - ফুটবল খেলার প্লেয়ার, কোচ যেমন বিদেশ থেকে আনা হয়, তেমনি বিদেশ থেকে সৎ, দক্ষ পলিটিশিয়ানস এজ ট্রেনার বাংলাদেশে আনা হোক। তারা বাংলাদেশে এক্সপার্ট এন্ড ফেয়ার প্রশাসনের একজাম্পল সেট করুক। জনগনের চয়েস লিস্ট এলাবোরেট হওয়া এখন সময়ের দাবী, নতুন ব্যারোমিটার তৈরী হোক, লেবার পার্টি নাকি কনজার্ভেটিভ, পিভিডিএ না ভিভিডি। নইলে “রাজনীতি আর দুঃশাসনের দুষ্ট চক্র” থেকে এই দেশ, এই জাতি কখনো মুক্তি পাবে না। জেনারেশান বাই জেনারেশান আমরা এসব অসৎ রাজনীতিবিদদের অপশাসন আর তারপর সেটাকে জাস্টিফায়েড লীগ দিয়ে প্রমোট করার ভুক্তভোগী থেকেই যাবো। আর বস্তাপচা ডায়লগতো আছেই, “বিকল্প নেই”। বিকল্প না থাকলে দেশ আর জাতির অস্তিত্বের প্রয়োজনেই সুচিন্তিতভাবে সুস্থ বিকল্প তৈরী করা হোক। বিকল্প নাই বলে, অত্যাচারের বিরুদ্ধে দেশে প্রতিরোধ, প্রতিবাদ নেই আর এর ফল হলো, বিদেশীরা ধরে ধরে এখন সাইজ করে দেবে।

Thursday, 9 December 2021

দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – টুয়েন্টি সিক্সথ নভেম্বর টুয়েন্টিটুয়েন্টি ওয়ান

প্রিমিয়ে রুতেঃ চৌদ্দই ডিসেম্বর দুই হাজার বিশে প্রথমবারের মত নেদারল্যান্ডসে লকডাউন হয়েছিলো, এই বছরের সাথে গত বছরের পার্থক্য হলো, বেশীর ভাগ মানুষরেই এবছর ভ্যাক্সিন দেয়া। যার ভ্যাক্সিন দেয়া আছে তার করোনার কারণে ইনটেন্সিভ কেয়ারে আসার সম্ভাবনা শতকরা পঁচিশ ভাগ কম। আগামী তিন সপ্তাহের জন্যে এই নিয়মগুলো থাকবে তারপর অবস্থা বুঝে আবার বিবেচনা করা হবে। সামনের চৌদ্দই ডিসেম্বর আবার আপনাদের সাথে পর্ববর্তী করনীয় নিয়ে কথা হবে। বারোই নভেম্বর থেকে দেয়া সব নিয়মগুলো বলবৎ থাকবে আজকের গুলো তার ওপর দিয়ে প্রযোজ্য হবে। আটাশে নভেম্বর রোববার থেকে সামনের তিন সপ্তাহ, সন্ধ্যা পাঁচটা থেকে সকাল পাঁচটা পর্যন্ত সমস্ত কিছু বন্ধ থাকবে। সুপারমার্কেট, ওষুধের দোকান সন্ধ্যা আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে। গাড়ির তেলের দোকান আর চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো খোলা থাকবে তাদের স্বাভাবিক সময়সূচী অনুযায়ী। প্রফেশনাল টুর্নামেন্টগুলো চলবে তবে দর্শকবিহীন। ক্ষতিগ্রস্ত বিভাগগুলোকে সমস্ত রকম সহযোগিতা দেয়া হবে। আর বিশেষজ্ঞদের সাথে সব সম্ভাবনা দেখা হচ্ছে, ভবিষ্যতে এরকম বন্ধ করে দেয়ার পরিস্থিতি কি করে এড়ানো যায়। যেখানে যেখানে বসার স্থান নির্দিষ্ট করে দেয়া আছে সেখানেও, মাস্ক আর দেড় মিটারের সামাজিক দূরত্ব বাধ্যতামূলক করা হলো। নির্দিষ্ট ধারন ক্ষমতার এক তৃতীয়াংশ মানুষ আসতে পারবে। আর দোকানে কিংবা যেসব জায়গায় মানুষ চলাচল করে সেখানে প্রতি পাঁচ বর্গমিটারে একজন মানুষ থাকবে। যতদূর সম্ভব ভ্রমণ না করাই শ্রেয়। চারজনের বেশী কোথাও অতিথি না হওয়া, এক বাসায় আতিথেয়তা নেয়ার পর সেদিনই অন্য আর এক বাসায় না যাওয়া। অন্য বাসায় যাওয়ার আগে সেলফ টেস্ট করিয়ে নেয়া। কিংবা একদিনে দুইবার অতিথি আসার আগে হোস্ট আগে সেলফ টেস্ট করে নেয়া। অফিসে দেড় মিটারের সামাজিক দূরত্ব আবশ্যিক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। এমন নয় যে সেখান থেকে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে না, তবে স্কুল বন্ধ করে দিলে বাচ্চাদের মানসিক ও শারীরিক সমস্যা এত প্রবল আকার ধারণ করে এবং সামাজিক জীবনের এর প্রভাব এত মারাত্বক পরে যে যতদূর পারা যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে রাখার চেষ্টা করা হবে। হাঁটার সময় বাচ্চাদের মাস্ক পরতে হবে। গার্জেনদের বলছি, বাচ্চাদের পৌঁছে দেয়ার দরকার নেই, তারা একাই স্কুলে আসুক। প্রাইমারি স্কুলের গ্রুপ সিক্স থেকে শুরু করে প্রত্যেক ক্লাশের টিচার আর ছাত্রদের সপ্তাহে দু’দিন সেলফ টেস্ট করা বাধ্যতামূলক। শিক্ষার সাথে যুক্ত প্রত্যেকটি মানুষকে তাদের আন্তরিকতা আর সদয়তার জন্যে পুরো জাতির পক্ষ থেকে আবারও আমার আন্তরিক ধন্যবাদ রইলো। সর্ত্তোধ্ব মানুষদের সাথে বাচ্চাদের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বাচ্চাদের মাধ্যমে দাদা-দাদী, নানা-নানী অসুস্থ হচ্ছেন সেদিকটিতে তীব্র দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দেখা করার চেয়ে বেশি ভিডিওকল করার জন্যে অনুরোধ করছি। সিন্টারক্লাশ পালন করার আগেও প্রত্যেককে সেলফ টেস্ট করার অনুরোধ করছি। নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদে, গতকাল নেদারল্যান্ডসের অনেক বিল্ডিংই কমলা রঙে রাঙা হয়েছিলো। করোনার কারণে পারিবারিক সহিংসতা অনেক বেড়ে গেছে, নারীরা তার শিকার আর বাচ্চারা অনিরাপদ। তাদেরকে সাহায্য করো। অনেকেই একাকীত্বে ভুগছেন। একাকী বয়স্ক মানুষদের পাশে দাঁড়াও এবং তাদের সঙ্গ দেয়ার চেষ্টা করো। খুব কঠিন সময় যাচ্ছে আমরা জানি তারপরও পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা ধরে রাখতে হবে। হুগো দ্যা ইয়ংঃ আটাশি দশমিক পাঁচ ভাগ মানুষের ভ্যাক্সিন নেয়া হয়ে গেছে। তারপরও গত এক সপ্তাহ ধরে বাইশ হাজারেরও বেশী মানুষ প্রতিদিন সংক্রমিত হচ্ছে। ছাব্বিশো মানুষ করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে যাদের মধ্যে পাঁচশো আটাশ জন ইনটেনসিভ কেয়ারে। তবে হাসপাতালে আসা শতকরা পঞ্চাশ জন আর ইনটেন্সিভ কেয়ারে থাকা শতকরা সত্তর জন ভ্যাক্সিন না নেয়া মানুষ। যে এক দশমিক দুই মিলিয়ন মানুষ এখনো ভ্যাক্সিন নেয়নি এই শীতের শেষে তারাও করোনপ্রুফ হয়ে যাবে, হয় তারা ভ্যাক্সিন নেবে নয় করোনায় ভুগে। ভ্যাক্সিন দেয়ার পরও এত অল্প সময়ে এত মানুষ সংক্রমিত হবে এটা আমাদের কল্পনার বাইরে ছিলো। ভাইরাস বা করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা আগে থেকে আর আশাবাদী হতে চাই না, বারবারই সংক্রমনের গতি প্রকৃতি আমাদের নিরাশ করছে। আমরা যত চেষ্টাই করি না কেন দেখা যাচ্ছে এই শীতের পরেও ভাইরাস আমাদের মধ্যে থেকে যাবে, হয়ত অন্য কোন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে, পুরোপুরি চলে যাওয়ার সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। তানবীরা হোসেন ১২/০৯/২০২১

আসপিয়া

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম আর সামাজিক মাধ্যমে দেখছিলাম শৈশবে বাবা হারানো, গ্রামবাসীর বাড়িতে আশ্রিত থেকে বড় হওয়া আসপিয়া। পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় বরিশাল বিভাগে মেধা তালিকায় পঞ্চম হয়েছে। তারপর একে একে ডিঙিয়ে এসেছে পরীক্ষার বাকি সবকটি ধাপ। কিন্তু ভূমিহীন, অন্যের জমিতে আশ্রিত হওয়ায় তার চাকরি হচ্ছে না বলে জানিয়ে দিয়েছে কর্মকর্তারা। খবরটা বুকের মধ্যে বিরাট ধাক্কা দিলো। ছোটবেলায় দাদুর মুখে গল্প শুনেছি, অমুক-তমুক অনেক পড়াশোনা করেছে কিন্তু জায়গাজমি নাই তাই ইংরেজ/পাকিস্তান সরকার চাকুরী দিচ্ছিলো না। তখন স্থায়ী ঠিকানার জায়গায় অন্যের বাড়ির নাম, প্রয়োজনে অনুমতি সাপেক্ষে বাবার নামও বদলে চাকুরীর ফর্ম পূরণ করা হতো। বিজয়ের পঞ্চাশ বছরের প্রাক্কালে আমরা কি এখনো সেখানেই দাঁড়িয়ে আছি প্রিয় স্বদেশ? বারবার ইচ্ছে হচ্ছিলো মেয়েটিকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলি, আমারতো ঠিকানা আছে কিন্তু তোমার মত এত ধাপ পেরিয়ে এত দূর আসতে পারিনি। সম্ভব হলে আমার ঠিকানাই না হয় তুমি নিয়ে নাও। তবুও লড়াই চালিয়ে যাও, থেমে যেও না। আসপিয়ার জন্যে এক বুক ভালবাসা। আসপিয়া হারতে পারে না, আসপিয়া হারলে হেরে যাবে বাংলাদেশ। বিজয়ের মাসে আমি আসপিয়ার বিজয় দেখতে যাই। তাতে মুরাদের মত অপরাধীকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার নির্লজ্জ অন্যায় ভুলে যাবো। দশ মুরাদের চেয়ে এক আসপিয়া অনেক দামী একটি আনন্দ সংবাদের প্রত্যাশায়