Friday, 9 October 2020
জন্ম_হোক_যথা_তথা – পর্ব দুই (স্পটলাইট – বেগমগঞ্জ)
“রোজী” স্বামী পরিত্যাক্তা ভদ্রমহিলা, বাবার আশ্রিত, দুটো ছেলে-মেয়ে নিয়ে কোন রকম মানবেতর জীবন যাপন। প্রায় ভাঙা একটি ঘরে থাকতো যেখানে সহজেই দুস্কৃতিকারী প্রবেশ করতে পারে।
ধর্মীয় দৃষ্টিতে, স্বামীর কথা শোনে নাই, গুনাহগার বান্দা, আল্লাহ কঠিন শাস্তি দিয়েছে।
সামাজিক দৃষ্টিতে, মিডিয়ার আগ্রহ আর জনগনের প্রতিবাদ শেষ হওয়ার পথে, এখন শুরু হবে সামাজিক বয়কট। কোথাও এদের কেউ ডাকবে না, সবাই এড়িয়ে যাবে। খারাপ বাড়ি, খারাপ পরিবার। মেয়ের বিয়ে হওয়াও কঠিন হবে, হয়ত তিন জেনারেশান এই ঘটনা টানবে। আশপাশ দিয়ে যে যাবে, দেখাবে ঐ যে ঐ বাড়ি, ঐ মেয়ের মা ইত্যাদি ইত্যাদি। ছেলে হয়ত খানিকটা রেহাই পেতে পারে ।
একটা মানুষ কত ভীত ছিলো, বছর ধরে অত্যাচারিত হওয়ার পরও, নাগরিক টিভির সাথে কথা বলার সময় বার বার প্রধান আসামী দেলোয়ারের নাম এড়িয়ে গেছে। নাগরিক টিভির অসুস্থ সাংবাদিক, সস্তা রিকি লেক শো’য়ের মত বারবার জিজ্ঞেস করছে, শুধু এইই করেছে, আর কিছু করে নাই আপনার সাথে? খারাপ কিছু? এর চেয়ে খারাপ আর কি হতে পারে কে জানে? সাংবাদিকের ত্বরিত মানসিক চিকিৎসার দাবী জানিয়ে রাখছি।
ফেড্রিকস্টাড
আচ্ছা ফেড্রিক্সটাডে যদি এই বয়সী “রোজী” থাকতো দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে তাহলে কেমন হতো? সোশ্যাল ওয়েলফেয়ারের মানিতে চলতো, একটা সরকারী ফ্ল্যাটে থাকতো, বসার ঘর, খাবার ঘর, তিনটে শোবার ঘর, ব্যালকনি আর সামনে একটু সবুজ মাঠ, মিনিমাম রিকোয়ারমেন্ট টু লিভ। লিডল কিংবা আলডিতে বাজার করতো, ফ্ল্যাট স্ক্রীণ টিভিতে নেটফ্লিক্স, বছরে দু’বার ভ্যাকেশান যেতো, টাকা কম তাই হয়ত ইউরোপের মধ্যেই ভ্যাকেশান করতো। চিকিৎসা প্রায় ফ্রী আর বাকি সব কিছুতে সাবসিডি। মাসের শেষে কিছু হাতে জমেও যেতো বৈকি।
কান্দাহার
যদি কান্দাহারে থাকতো “রোজী” তাহলে এতক্ষণে দোররা মেরে কিংবা পাথর মেরে তার ভবলীলা সাঙ্গ করে দেয়া হতো। দোষ-গুন, বিচার-আচার মানে সময় নষ্ট। সাথে রোজী’র মেয়েকেও হয়ত পুতে ফেলতো, কে জানে। "দ্যা স্টোনিং অফ সুরাইয়া এম" সিনেমাটা যারা দেখেছেন কিংবা বইটা যারা পড়েছেন, সবাই এই বাস্তবটা জানেন।
কলেজ জীবনে শংকরের বই খুব পড়তাম। একটা বই ছিলো, “মুক্তির স্বাদ”। এমেরিকা প্রবাসীদের নিয়ে, বড় একটা অংশ ছিলো বাংলাদেশি প্রবাসীরা। শংকর লিখেছিলেন, অনেক পরিবারই এমেরিকা পাড়ি দিয়েছিলো, বাংলাদেশের ভাল পজিশান ছেড়ে, এমেরিকা যেয়ে ট্যাক্সি ড্রাইভারী, দোকানে কাজ ইত্যাদি প্রভৃতি কারণে আবার দেশে ফেরত চলে আসতে চাইতো। স্বামীরা আসতে চাইলেও কোন স্ত্রীই আসতে চাইতো না। হাজার কষ্ট করেও এমেরিকাই পরে থাকতে চাইতো, সামাজিক মুক্তির কারণে। (স্মৃতি থেকে লিখছি) তখন সেই বয়সে না ছিলো প্রবাসের অভিজ্ঞতা আর না ছিলো কিছু নিয়ে ভাবার ক্ষমতা। আজ জানি, “মুক্তির স্বাদ” কি জিনিস।
তাই আবারো বললাম, জন্ম যথা তথা হলেই ভাগ্য কাজ করবে নারে পাগলা, জীবন নিয়ন্ত্রণ করে নির্দিষ্ট ভূখন্ড, নাগরিকত্ব কিংবা পাসপোর্ট।
এই যে বসনিয়া হয়ে লোকে ইউরোপ পাড়ি দিচ্ছে, তাদের দোষ দেই না বরং বলি, আজ জীবন খুঁজে পাবি, ছুটে ছুটে আয় ------- দেশে থেকে ইতরামি করার চেয়ে প্রবাসে এসে কাজ করা অনেক সম্মানের
নারী
ডিভোর্সডঃ স্বামী’র মন জুগিয়ে চলতে পারেনি।
রেপডঃ কি জামাকাপড় পরা ছিলো?
সন্তানহীন দম্পত্তিঃ সমস্যা মেয়েটিরই হবে।
পুত্রসন্তানের জন্ম হয় নিঃ মায়ের গর্ভের দোষ, ছেলে জন্ম দিতে পারেনি।
আত্মনির্ভর মেয়েঃ বেশ্যা।
কুসন্তানঃ মায়ের দোষ, আদর দিয়ে নষ্ট করেছে।
খেলাধূলায় আগ্রহঃ মেয়েদের আবার খেলাধূলা কি! ভবিষ্যতের কথা ভাবো।
অবিবাহিত মেয়ে আবার গাড়ি চালায়ঃ পুরুষ চড়িয়ে বেড়ায়।
নিজস্ব মতামত দেয়ঃ কি কর্তৃত্বপরায়ণ
চল্লিশ অব্ধি বিয়ে করেনি? ঃ বেপরোয়া না দায়িত্ব নিতে অক্ষম?
বিবাহিতঃ স্বামী যেভাবে খুশি হয় সেভাবেই চলো।
স্বামীর পরকীয়া? বউয়ের দোষ, ঘরে শান্তি না পেলে পুরুষ কি করবে!
বিধবাঃ সম্পত্তির লোভে স্বামীকে খুন করেছে।
পুনঃবিবাহঃ স্বামী মরে গেছে কোন শোকই নেই দেখি!
পারিবারিক নির্যাতনঃ মেয়েটা কি করে? শুধু শুধু কি আর হাত ওঠে গায়ে?
সময় পেলে ভেবো, ভাবো ------------------এই পৃথিবীতে মেয়ে হওয়া কি এত সোজা! মেয়েদের নয় মানুষ হিসেবে মানুষকে সম্মান করো।
সূত্রঃ ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত, ভাষান্তর এবং ইষ্যৎ পরিমার্জিত (তানবীরা)।
দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – ৯ই (অক্টোবর)
পৃথিবীর মধ্যে এখন প্রতি বর্গমিটারে সবচেয়ে বেশি করোনাক্রান্ত মানুষ রয়েছে নেদারল্যান্ডসে। ফ্রান্স আর স্পেন সহ টপ থ্রিতে আছি আমরা। যদিও এ সপ্তাহে পাঁচ হাজার মানুষ আক্রান্ত হবে বলে ধারনা করা হয়েছিলো কিন্তু আসলে আক্রান্ত হয়েছে ছয় হাজার। হাসপাতাল আর আই-সি-ইউতে ভীড় বাড়ছে যেটি খুবই চিন্তার বিষয়। গত সপ্তাহে দেয়া বিধি নিষেধ কতটুকু কাজ করেছে, নতুন কোন বিধি নিষেধের দিকে যেতে হবে কিনা আমাদের সেটি বলার সময় এখনো আসে নি। আরও বাহাত্তর ঘন্টা অপেক্ষা করা হবে ফলাফল দেখার জন্যে। সামনের মঙ্গলবারে সংসদ থেকে করোনা নিয়ে নতুন বিধি নিষেধ আসবে। রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, স্পোর্টস, থিয়েটার ইত্যাদি নিয়ে নতুন বিধি নিষেধ আসবে। পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া এড়ানোর সর্বাত্বক চেষ্টা করা হবে। সবকিছু নির্ভর করছে এই সপ্তাহান্তে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার ওপর।
হাসপাতাল গুলোতে সবাই খুব পরিশ্রম করে চলেছে, প্রতিটি বিভাগে, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের থেকে শুরু করে নার্সিং সবাই। আবারও বলছি এভাবে চললে, প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্ট তছনছ হয়ে যাবে, হার্ট কিংবা ক্যান্সার অপারেশান করোনা থেকে কম জরুরী কিছু নয়। এটা নিয়ে আমরা সবাই খুব ভীত আছি।
যদিও দেখা যাচ্ছে, ওয়ার্ক ফ্রম হোম, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়ার মত নিয়মগুলো মানুষ মেনে চলছে। সামনের সপ্তায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মেলনে, ব্রেক্সিট, ইউরোপের জলবায়ু, ইউরোপ - আফ্রিকার সম্পর্ক ইত্যাদির সাথে করোনা ও আলোচনায় থাকবে।
মিনিস্টার প্রেসিডেন্ট বারবার আপনি বলেছেন, নেদারল্যান্ডস একটি গনতান্ত্রিক দেশ, এখন একটার পর একটা বিধি নিষেধ চাপিয়ে দিয়ে আপনি কি মানুষের অধিকার হরণ করছেন না? এখানে যেহেতু মানুষের জীবন মৃত্যুর প্রশ্ন, আমি নিয়ম নীতির বাইরে যেতে পারি না। আমার কোন চয়েজ নেই। আমাদের সতর্কতা আমাদের করোনা থেকে রক্ষা করবে, নিয়মনীতি নয়।
এই যে মানুষ আপনার কথা শুনছে না, আপনি কি মনে করেন না, ডাচেরা খুব একগুঁয়ে? আমি আমার দেশ আর জাতি নিয়ে অনেক গর্বিত, এখানেও আমার নিজস্ব চয়েজের কোন ব্যাপার নেই। মিনিস্টার প্রেসিডেন্ট মাস্ক ব্যবহার কেন আবশ্যিক করা হচ্ছে না? দেখুন, মাস্ক ব্যবহারে খানিকটা উপকার হয় বটে কিন্তু পুরোপুরি কোন কাজ হয় এটার প্রমাণ এখনও পাওয়া যায় নি তাই এটাকে বাধ্যতামূলক এখনো করা হয় নি।
একজন সাংবাদিক জিজ্ঞস করলেন, নেদারল্যান্ডস মোস্ট ইফেক্টেড দেশ এই ব্যাপারে আপনার অনুভূতি কি? প্রিমিয়ে হেসে বললেন, আমি চেষ্টা করছি, চেষ্টা করা ছাড়া আমার আর কোন বিকল্প নেই।
মানুষ ভয় পাচ্ছে, কমপক্ষে দেড় বছর করোনা নিয়ে ভুগতে হবে? জানি না, আমি সত্যিই জানি না। রোড ম্যাপ আঁকা হয়েছে, ফলো করতে হবে। আমি কিছুতেই জানি না কখন এটি পুরোপুরি ওভার হবে।
Friday, 2 October 2020
দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – ২৮শে (সেপ্টেম্বর) সামনের তিন সপ্তাহের জন্যে পরীক্ষামূলক কড়া নিয়মনীতি
ওয়ার্ক ফ্রম হোম আর ঐচ্ছিক নয় এখন থেকে নিয়ম, রেস্টুরেন্ট - ক্যাফে সব দশটায় বন্ধ আর সব খেলাধূলা চলবে মাঠে দর্শকদের অনুপস্থিতিতে
উইকএন্ডের আগে ভাবা হয়েছিলো শুধুমাত্র বড় শহরগুলোকে কড়া শৃংখলার মধ্যে আনা হবে, এখন গড়ে প্রতিদিন তিন হজার মানুষ করোনাক্রান্ত হচ্ছে, আজকের এই নিয়ম নীতির পরও ধারনা করা হচ্ছে আগামী সপ্তাহ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার লোক করোনাক্রান্ত হবে। তাই উনত্রিশে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পুরো দেশকেই এই নিয়মের আওতায় আনা হচ্ছে। আমরা ক্রমাগত ভাইরাসের পেছনে পরে যাচ্ছি, আমাদের উদ্দেশ্য ভাইরাসকে পেছনে ফেলে দেয়া।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানালেন, আজকের ডাটা অনুযায়ী প্রায় একশো হাজারের ওপর করোনাক্রান্ত রোগী, আরও সঠিক ভাবে বললে, প্রতি একশো সত্তর জনে একজন করোনাক্রান্ত। মানুষ নিয়মনীতি মেনে চলছে না, এই সংখ্যা শুধু তারই উদাহরণ মাত্র। এখন হয়ত গুরুতর মনে হচ্ছে না কিন্তু একমাস পর সেটা ঝড়ের মত মনে হতে পারে। গত সপ্তাহে গড়ে পঁচাশি জন আইসিইউতে ছিলো, এই সপ্তাহে আছে একশো বিয়াল্লিশ জন। আজকে যে নিয়মগুলো দেয়া হবে তারপরও আমরা জানি, মধ্য অক্টোবরে আইসিইউতে গুলোতে প্রায় চারশো রোগী থাকবে। আমি শুধু সংখ্যা বলছি আর সংখ্যার কোন চেহারা নেই কিন্তু এই সংখ্যার কারণেই অন্যান্য রোগের চিকিৎসা আটকে যাবে। চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পরলে সবাই সমস্যায় পরবো। নতুন নিয়মগুলো দিয়ে আমাদের লক্ষ্য, সংক্রমণ এক দশমিক চার থেকে একের নীচে নামিয়ে আনা। আজ থেকে যে পদক্ষেপটা শুরু হবে তার কার্যকারিতা জানার জন্যে আমাদের এক থেকে দেড় সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।
সাংবাদিক জানতে চাইলেন তাহলে আপনি কি সিদ্ধান্ত নিতে দেরী করে ফেলেন নি? স্বাস্থ্যমন্ত্রী দ্যা হুগো জানালেন, না, বরং সংক্রমণ ঠেকানোর জন্যে অগ্রীম পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
জার্মানী সহ অনেক দেশেই বলা হচ্ছে, ভেন্টিলেশান সংক্রমণ রোধে সাহায্য করে, এই নিয়ে আপনারা কি ভাবছেন? স্কুল, বৃদ্ধাশ্রম, নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র সব জায়গার ভেন্টিলেশান সিস্টেম পরীক্ষা করা হচ্ছে, কি করে আরও ভাল করা যায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হোম অফিস ম্যান্ডেটরি, তারপরও যদি অফিস করা হয় এবং অফিস থেকে সংক্রমণ হয় তাহলে সে অফিস চৌদ্দ দিনের জন্যে বন্ধ করে দেয়া হবে। চল্লিশ জনের বেশি বাইরে জমায়েত হওয়া যাবে না, ত্রিশজনের বেশি ভেতরে জমা হওয়া যাবে না। চার জনের বেশি একসাথে হয়ে আড্ডা দেয়া যাবে না, সেটা বাইরে চল্লিশ জনের পার্টিই হোক আর ভেতরে ত্রিশ জনের পার্টিই হোক। বাসায় তের বছরের বড় তিন জনের বেশি মেহমান ডাকা যাবে না। ব্যতিক্রম, ছাত্রছাত্রীরা, উপসনালয়, ডেমোনস্ট্রেশান আর সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের ব্যাপারে শহরের মেয়র সিদ্ধান্ত নেবেন ব্যতিক্রম হবে কি হবে না। যাদুঘর, এমিউজমেন্ট পার্ক এসব জায়গায় দেড় মিটার দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন কতজন ঢুকতে পারবে তবে সেটা আগে থেকে রিজার্ভ করতে হবে। দোকানের ব্যাপারে তাদের নিজেদের দেখতে হবে মানুষ যেনো দেড় মিটার দূরত্বের মধ্যে চলাচল করতে পারে। আপাতত অতিরিক্ত সংক্রমনের কারণে আমস্টার্ডাম, রোটারডাম আর ডেনহাগে দোকানে থাকার সময় মাস্ক বাধ্যতামূলক। কাস্টমাররা মাস্ক না পরলে দোকানদার ইচ্ছে করলে তার দোকানে নাও ঢুকতে দিতে পারে। এওটি এর কাছে মাস্কের ব্যাপারে আরও তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। সুপারমার্কেটদেরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে দিনের মধ্যে দুবার আলাদা সময় নির্ধারণ করতে যখন শুধু বয়স্ক, অসুস্থ-দুর্বল স্বাস্থ্যের মানুষেরা বাজার সারবে, আমরা বুঝতে পারছি এটা কালকেই হয়ত সম্ভব নয় কিন্তু এটা করতে হবে, এটা দরকার।
এবার ক্যাটারিং, আমি বলছি না তারা কিছু নিয়ম মানছে না বা ভুল করছে তারপরও এক-দেড়শো মানুষের সমাগম থেকে সংক্রমন হচ্ছে। কাল থেকে সব রেস্টুরেন্টে রাত ন'টার পর গেস্ট আসা বন্ধ আর দশটার মধ্যে সব বন্ধ করে দিতে হবে। রেস্টুরেন্টের থেকে এটা বেশি এলকোহলের জন্যে দরকার। খেলাধূলার জায়গায় ক্যান্টিন বন্ধ থাকবে এবং সমস্ত খেলাধূলায় বাইরের লোকের সমাগম বন্ধ থাকবে। আর রেস্টুরেন্টের মত, বডি ম্যাসাজ বা হেয়ার ড্রেসারের কাছে গেলেও এখন থেকে সব ডিটেলস লিখিত দিতে হবে। আমরা দেখছি এটি মিউনিসিপ্যালটির জন্যেও দরকার কিনা। আমরা জানি, এটি অনেকের জন্যেই খুব কঠিন একটি পরিস্থিতি, কিন্তু আপাতত এটিই বাস্তবতা, আমরা ব্যবসায়ী ও চাকুরীজীবিদের সাথে কথা বলবো, অর্থনৈতিক ভাবে কি করে ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়। নিয়মনীতি নিজ থেকে কাজ করবে না যদি আমরা এটি পালন না করি। ব্যবসায়ীদের যেমন দায়িত্ব থাকবে, ভোক্তাদেরও দায়িত্ব থাকবে নিয়ম মানার। এর অন্যথা হলে পুলিশ, মেয়র ব্যবসা বন্ধ করে দিতে পারে কিন্তু আমরা এত চাই না এত দূর কিছু আসুক।
এই নিয়মগুলো সামনের তিন সপ্তাহের জন্যে প্রযোজ্য হবে। এটি একটি পরীক্ষামূলক মেয়াদ তারপর আবার নতুন নিয়ম আসবে। যদি পরীক্ষার ফলাফল ইতিবাচক নয় তাহলে জাতীয় নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে আঞ্চলিক নিষেধাজ্ঞায় যাওয়া হবে আর ফলাফল নেতিবাচক হলে ইন্টিলিজেন্ট লক ডাউনের কাছাকাছি প্রসিডিউরে ফিরে যেতে হবে। মোদ্দা কথা, আমরা সবাই ভাল করছি কিন্তু ভাইরাস আমাদের চেয়েও ভাল করছে তাই আমাদের পন্থা পরিবর্তন করতে হবে।
Wednesday, 30 September 2020
সতের কোটি ভেড়ার পালের, হে মুগ্ধ জননী বাই জো! যাই করে রেখেছো, মানুষ কর নি।
ফেবুতে এক আপা আছেন যিনি ইউরোপের শান, আপু নিজেই বলেন এই কথা, তো তিনি ভিডিও ব্লগ করেন, আজকাল ভিডিও ব্লগ বেশ জনপ্রিয়, বেশির ভাগই তিনি রান্না-বান্নার ভিডিও আপ্লোড দেন। তার ভিডিও মানেই অন এন এভারেজ বিশ হাজার লাইক আর দেড় হাজার কমেন্টের ছড়াছড়ি, সেটা ল্যাটকা খিচুড়ি থেকে মাংসের স্টেক কিংবা আপা বেড়াইতে বের হইছেন কিংবা দাওয়াতে গেছেন, বিষয় যাই হোক না কেন। আপা নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন, সম্ভবত এটিও তার জনপ্রিয়তার একটি কারণ। আপা বেশ সুন্দর করে সেজেগুজে পরিপাটি হয়েই ভিডিও করেন। সীমের বিচি দিয়ে আইর মাছ রান্নার ভিডিওর নীচে, সে সময় সেই পোস্টে নয়শ বাহাত্তরটা মন্তব্য ছিলো, বাঙালি এই রান্নার মধ্যে কি কি খুঁজে পেলো আর পেলো না সেই কৌতুহলবশত “নেই কাজ তো খই ভাজ” করে ভিডিওর নীচে কমেন্টগুলো পড়তে গেছি, মন্তব্য পড়ার পর হায় আমার দৃষ্টি নতুন দিশা খুঁজে পেলো।
সাধারণভাবে মন্তব্যগুলোকে ছয় ভাগে ভাগ করা যায়ঃ
সহমত মন্তব্যঃ রান্না ভাল হয়েছে আপু, পরের ভিডিও কবে দেবেন, আগের দিনে করলাটা মজার ছিলো, চিংড়ি দিয়ে ভিন্ডি রান্নাটা কবে দিবেন আপু, আপনাকে খুব ভাল লাগে আপু, চালিয়ে যান আপু, আমরা আছি আপনার পাশে ইত্যাদি ইত্যাদি।
অনুভুতিমূলক মন্তব্যঃ এই যে বেপর্দা হইয়া রান্না’র ব্লক করতেছেন, পুরুষদেরকে নিজের চেহারা দেখাইতেছেন, হাশরের মাঠের কথা ভাইবেন আপু, এই দুনিয়াই দুনিয়া না। এসব যে ভিডিও করেন, আল্লাহ’র কাছে কি জবাব দিবেন?
উপদেশমূলক মন্তব্যঃ ভাইয়াকে ভাল পাইয়া এসব কইরা যাইতেছেন, আপনার কথা শুনে আপ্নার জামাই তাই ইচ্ছামত নাচাইতেছেন তারে, এসব বাদ দিয়ে মন দিয়ে সংসার করেন আপু। আপু আপনাদের বেবি নাই? কতদিন হইছে বিয়ে হইছে আপু? বেবি কবে নিবেন? এসব ভিডিও দিয়ে কি করবেন, আসল কোন কাজ খুঁজেন, কাজ করেন।
গঠনমূলক সমালোচনা মন্তব্যঃ আপু আমি সিলেটের, নোয়াখালীর ভাষা বুঝি না, নেক্সট ভিডিও সিলেটি ভাষায় করবেন প্লিজ। আর ভিডিও করার সময় ভাইয়াকে বলবেন আর একটু পাশ থেকে ক্যামেরাটা ধরতে তাহলে ঐপাশের ওটা আমরা ভাল দেখতে পাবো ইত্যাদি ইত্যাদি।
অপমানজনক মন্তব্যঃ আপু খাওয়া একটু কমান, স্বাস্থ্যের অবস্থা দেখছেন নিজের, ভুটকি কুনহানকার। রান্নাবান্না নিয়ে ব্লক করতে চাইলে সুন্দর রান্নাঘর লাগে আপু, আগে বাসা বদলান, সুন্দর রান্নাঘর হইলে তারপর ভিডিও দিয়েন। আপু জবাব দিয়েছেন, সুন্দর বাসা খুঁজতেছি কিন্তু এখনও পাই নি, আই মাস্ট সে, আপু ইজ রিয়েল জেনারাস। আপু এসব হাড়ি পাতিল দিয়ে কি ব্লক চলবে? ভাল হাড়ি পাতিল কিনেন। আপনি তো আপু দেখি কেকা আন্টিকে ফেইল করিয়ে দিবেন। যদিও আপু নিজেও কেকা ফেরদৌসিকে নিয়ে সমানে ভ্যাংচাভ্যাংচি করেন তার ভিডিওতে। সবসময়তো দেখি মাইনষের বাসায় দাওয়াত খান, নিজের বাসায় তো ডাকতে দেখি না কখনো।
খোঁজ-খবরমূলক মন্তব্যঃ কোন দেশে থাকেন আপু? কতদিন আছেন? পাসপোর্ট আছে? কাজ করেন? ভাইয়া কি করে?
যেগুলো উল্লেখ করার মত সেগুলোই করলাম, ছাপার অযোগ্য মন্তব্যও আছে। বলাবাহুল্য এসব মন্তব্যের বেশির ভাগই পুরুষের ছবি ও নামওয়ালা আইডি থেকে করা। বাংলাদেশের ছেলেদের রান্নাবান্নার প্রতি এত আগ্রহ কবে থেকে জন্মালো! দেশতো তাহলে আসলেই বদলেছে! আপু যেহেতু আমার লেখার বিষয় না তাই সঙ্গত কারণেই তার নাম উল্লেখ করলাম না। অভিজিত ভাই খুন হওয়ার পর মাঝে মধ্যে মুক্তমনাদের লেখা বিডিনিউজে আসতো, তখন থেকে লেখার নীচে মাঝে মাঝে মন্তব্য পড়ার শুরু। লেখাটা নয় তার নীচের মন্তব্যগুলোই আমি ভাবি আসল বাংলাদেশ। এন্ড আই মাস্ট সে,
সতের কোটি ভেড়ার পালের, হে মুগ্ধ জননী
বাই জো! যাই করে রেখেছো, মানুষ কর নি।
Saturday, 26 September 2020
দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – ২৫শে (সেপ্টেম্বর)
দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – ২৫শে (সেপ্টেম্বর)
"করোনা ভাইরাসের কারণে জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত, আজকে এ সময় আমার ইউরোপীয় ইউনিয়নের মীটিং এ থাকার কথা ছিলো কিন্তু চেয়ারম্যান শ্যারেন মিশেল বেলজিয়ামের নিয়ম অনুযায়ী কেয়ারন্টিনে থাকায় এক সপ্তাহের জন্যে মীটিং পোস্টপোন্ড" জানালেন মিনিস্টার প্রেসিডেন্ট মার্ক রুতে। একশো হাজারের ওপর মানুষ এই মুহূর্তে নেদারল্যান্ডসে করোনায় আক্রান্ত, আজ সাতাশ শো সাতাত্তর জন আজকে পজিটিভ হয়েছে যেখানে গত সপ্তাহে উনিশ শো সাতাত্তর জন পজিটিভ ছিলো। ইনটেনসিভ কেয়ার, হাসপাতাল সব জায়গায় ভীড় বাড়ছে। করোনা রোগীদের ভীড় বাড়ায় তাদেরকে হাসপাতালের আলাদা জায়গায় শিফট করা হয়েছে যেখানে আলাদা করোনা টীম করে তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে, এতে অন্য রোগের রোগীদের করোনা সংক্রমণ, চিকিৎসা টীম আর করোনা রোগীদের থেকে সর্বতো ভাবে এড়ানো যাবে বলে আশা করা যায়।
গত সপ্তাহে সংক্রমনের ঝুঁকির ভিত্তিতে ছয়টি শহরকে দ্বিতীয় মারাত্বক মাত্রায় ফেলা হয়েছিলো, এ সপ্তাহে আরো আটটি শহরের নাম সেখানে যুক্ত হয়েছে, শহরগুলো হলো খ্রোনিংগেন, নর্থ ব্র্যাবান্ড, সাউথ ওয়েস্ট ব্র্যাবান্ড, হিলভারসাম, ফ্লেভোল্যান্ড, আলমেইরে, খেল্ডারল্যান্ড ও নাইমেইখেন। রোববার সন্ধ্যা ছটা থেকে এই শহর গুলোতেও ঝুঁকিপূর্ন শহরের আইন প্রযোজ্য হবে। আমস্টার্ডাম, রোটারডাম আর ডেনহাগে যেহেতু সংক্রমণ প্রচন্ড মাত্রায়, এই শহরের মেয়রদের সাথে সামনের সোমবার দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হবে, সংক্রমণ ঠেকাতে আর কি কি ব্যবস্থা নেয়া যায় এই নিয়ে। সংসদ, যোগাযোগ, প্রেস কনফারেন্স ইত্যাদি নিয়েও আমরা আবার একটা স্বাভাবিক রুটিনে ফিরে যেতে চাই, প্রাথমিক ভাবে দ্বিপাক্ষিক রুটিনকে ভাবা হচ্ছে, যদিও ভাইরাস আমাদের প্ল্যানের কিংবা রুটিনের তোয়াক্কা করছে না তাই প্রয়োজনে রুটিনের বাইরে যেতে হবে।
আবারও বলছি, নিয়মনীতি হয় আমাদের দায়িত্বশীলতা এখানে মূখ্য, সতের মিলিয়ন মানুষের আচরণবিধি করোনাকে ঠেকাবে নিয়ম নয়।
সাংবাদিক প্রশ্ন করলেন, এ সপ্তাহে টিলবার্গে ফুটবল খেলায় হাজার মানুষের জমায়েতকে রুতে কি চোখে দেখছেন? সেখানের প্রশাসনের কাছে কি জবাবদিহিতা চাওয়া হয়েছে? প্রিমেই রুতে জনালেন, প্রথমে তিনি মানুষদের দায়িত্বহীন আচরণের কথা ভাবছেন, রোজ যেখানে হাজার মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে সেখানে কি করে মানুষ এত বড় জনসমাগমে যাওয়ার কথা নিজে ভাবতে পারে? তারপর অবশ্য সমাবেশের ব্যাপারে টিলবার্গ প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার কথা স্বীকার করেন তিনি এবং প্রশাসন সেটি দেখবে। টিলবার্গের মেয়র নিজেও এ ব্যাপারে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, এমন ভুল আর কখনো হবে না, ভুল থেকেই সবাই শিখতে পারে।
লকডাউনের সম্ভাবনা কতদূর? রুতে জানালেন, আমরা একটার পর একটা পদক্ষেপ নিচ্ছি এবং তার ফলাফল পর্যালোচনা করছি, এর বাইরে আমি কোন মন্তব্য করবো না।
শহরভিত্তিক বিধিনিষেধ কাজ করছে না, পুরো দেশকে বিধি নিষেধের মধ্যে নিয়ে আসার সময় নয় এখন? সেটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে বিবেচনা করবো, যেসব শহরে সংক্রমনের হার কম সেখানে বিধিনিষেধ দিয়ে তাদেরকে আটকে রেখে লাভ কি? আর প্রতিটি পদক্ষেপের অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া থাকে, সেটিকেও বিবেচনা করতে হবে আর তারপরও প্রয়োজন হলে সেদিকে হয়ত এগোতে হবে কিন্তু ততদূর এখনো এগোয়নি।
সংক্রমণ বাড়ছে আর ঐদিকে জরিমানা আর শাস্তির পরিমান কমিয়ে আনা হয়েছে, এটা কি অযৌক্তিক নয়? রুতে জানালেন, না, তিনি এটাকে অযৌক্তিক ভাবছেন না। ক্রমাগত শাস্তি দেয়া কিংবা বাড়ানোর মধ্যে কোন কৃতিত্ব নেই।
সব দায়িত্ব আপনি নাগরিকদের আচরণবিধির ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন? তারচেয়ে খেলাধূলা কিছুদিন বন্ধ রাখাই কি বেশি দায়িত্বের পরিচয় ছিলো না? খেলাধূলা সব বন্ধ রাখাও স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর জানালেন প্রিমেই রুতে। মার্চ থেকে যখন সব বন্ধ রেখেছিলেন, তখন অনেক মানুষ অন্যভাবে অসুস্থ হয়েছে। খেলাধূলা শুধু মানুষের শারীরিক নয় মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যেও দরকার।
আপনার কি মনে হয় না মানুষজন আপনার কথা শুনছে না? আমার দায়িত্ব মানুষকে বলা আর সচেতন করা। মানুষের দায়িত্ব তার আচরণবিধি মেনে চলা, সেটা তার নিজ দায়িত্বে থাকাই ভাল। আমার কথা শোনার চেয়ে তার নিজের দায়িত্ব পালনটুকু অনেক বেশি জরুরী। সেটাই গনতন্ত্র।
আমার অবাক লাগে প্রথম ওয়েভের এই ভয়াবহতার পর কি করে আমরা সেকেন্ড ওয়েভের জন্যে ভালভাবে প্রস্তূতি নেই নি? আসলে ভালভাবে প্রস্তূতি নেয়ার কিছু এখানে নেই, যতদিন ভ্যাক্সিন না আসবে ওয়েভের পর ওয়েভ আসতে থাকবে আর আমাদেরকে সেটি মোকাবেলা করে যেতে হবে।
কাল রাতে টিভিতে টিলবার্গের ফুটবল দেখে আপনি প্রথমে কি শব্দ করেছিলেন প্রিমিয়ে রুতে? প্রত্যেকটি মানুষের অভিব্যক্তি প্রকাশের ভঙ্গী আলাদা, কি বলেছিলেম সেটা এখন আর আমার মনে নেই।
টিলবার্গের মেয়রের সাথে এই নিয়ে কথা বলেছেন আপনি? কি বলেছেন তাকে আপনি? সেটি নিয়ে আমি এখানে কথা বলবো না।
জুনের প্রেস কনফারেন্সে জানিয়েছিলেন, করোনা এপ, করোনা প্যাকেজ ইত্যাদি চালু করে করোনাকে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসবেন, সেসবের কি হলো মাননীয় মিনিস্টার প্রেসিডেন্ট? এখনও সেসব তৈরী নয়? এগুলো কি জরুরী ভাবছেন না তবে? এগুলো অবশ্যই জরুরী, সাধ্যমত কাজ চলছে তবে আবারো বলছি করোনা নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে নেই ওটা জনগনের হাতে। নিয়ম মেনে চললেই করোনা নিয়ন্ত্রণে আসবে অন্য কিছুতে নয়।
Friday, 25 September 2020
প্রেম-প্রতিশোধ
প্রস্তর বা সত্য যুগঃ (প্রচুর কান্নাকাটি সহকারে) আমার ভালবাসার যখন তুমি মর্যাদা দিলে না, অন্য কাউকে নিয়ে তুমি সুখী হয়ো (বাঁশ খেও, বলতো না ভদ্রতায়) আমাকে ভুলে যেও, তোমার চলার পথে আমি আর কখনো বাঁধা হয়ে দাঁড়াবো না। তোমাকে আমি ক্ষমা করে দিলাম। আল্লাহ দেখবেন, আপোষের সুযোগ রেখে লম্বা ডায়লগ। শ্রেষ্ঠাংশেঃ রাজ্জাক-শাবানা।
মধ্য বা ত্রেতা যুগঃ (খানিক একশান) আমার না হলে তোমাকে আমি আর কারো হতে দেবো না, আমাকে যে চিঠি লিখেছো বা আমাদের যুগল ছবি আছে, আমি তোমার হবু পার্টনারকে পৌঁছে দেবো। বিয়ের আসর থেকে গুন্ডা দিয়ে তোমাকে আমি তুলে নিয়ে যাবো সুন্দরী, বলো রাজি নাকি এসিড? দুটো চড় চাপরের ব্যাপার থাকতে পারে, নিজেদের মধ্যে বিচার। চরিত্রায়নেঃ ওয়াসিম-অঞ্জু।
আধুনিক বা কলি যুগঃ (টাচস্ক্রিন মোবাইলে নিঃশব্দে আঙুল চলছে, নো কথা) আমাকে ডিচ করেছিস? পৃথিবীসুদ্ধ সবার কাছে তোর মুখোশ উন্মোচন করে দেবো শয়তান, এজ ইফ পৃথিবীর সবাই এই নিয়ে কনসার্ন ছিলো, এর জন্যে অপেক্ষা করে বসে ছিলো। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা, টিভি চ্যানেলের টকশোতে ছেলে নিয়ে দরবার, সোশ্যাল মিডিয়ায় সমস্ত অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও, ছবি, টেক্সট, বাজারের রিসিট, হোটেলের বিল, বিমানের টিকিট আপ্লোড। জনতার আদালতে নালিশ। অভিনয়ে: শাকিব-অপু।
মাইরি, নিউটনের থার্ড ল বোধহয় একেই বলে!
Subscribe to:
Posts (Atom)