Friday, 9 October 2020
দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – ৯ই (অক্টোবর)
পৃথিবীর মধ্যে এখন প্রতি বর্গমিটারে সবচেয়ে বেশি করোনাক্রান্ত মানুষ রয়েছে নেদারল্যান্ডসে। ফ্রান্স আর স্পেন সহ টপ থ্রিতে আছি আমরা। যদিও এ সপ্তাহে পাঁচ হাজার মানুষ আক্রান্ত হবে বলে ধারনা করা হয়েছিলো কিন্তু আসলে আক্রান্ত হয়েছে ছয় হাজার। হাসপাতাল আর আই-সি-ইউতে ভীড় বাড়ছে যেটি খুবই চিন্তার বিষয়। গত সপ্তাহে দেয়া বিধি নিষেধ কতটুকু কাজ করেছে, নতুন কোন বিধি নিষেধের দিকে যেতে হবে কিনা আমাদের সেটি বলার সময় এখনো আসে নি। আরও বাহাত্তর ঘন্টা অপেক্ষা করা হবে ফলাফল দেখার জন্যে। সামনের মঙ্গলবারে সংসদ থেকে করোনা নিয়ে নতুন বিধি নিষেধ আসবে। রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, স্পোর্টস, থিয়েটার ইত্যাদি নিয়ে নতুন বিধি নিষেধ আসবে। পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া এড়ানোর সর্বাত্বক চেষ্টা করা হবে। সবকিছু নির্ভর করছে এই সপ্তাহান্তে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার ওপর।
হাসপাতাল গুলোতে সবাই খুব পরিশ্রম করে চলেছে, প্রতিটি বিভাগে, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের থেকে শুরু করে নার্সিং সবাই। আবারও বলছি এভাবে চললে, প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্ট তছনছ হয়ে যাবে, হার্ট কিংবা ক্যান্সার অপারেশান করোনা থেকে কম জরুরী কিছু নয়। এটা নিয়ে আমরা সবাই খুব ভীত আছি।
যদিও দেখা যাচ্ছে, ওয়ার্ক ফ্রম হোম, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়ার মত নিয়মগুলো মানুষ মেনে চলছে। সামনের সপ্তায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মেলনে, ব্রেক্সিট, ইউরোপের জলবায়ু, ইউরোপ - আফ্রিকার সম্পর্ক ইত্যাদির সাথে করোনা ও আলোচনায় থাকবে।
মিনিস্টার প্রেসিডেন্ট বারবার আপনি বলেছেন, নেদারল্যান্ডস একটি গনতান্ত্রিক দেশ, এখন একটার পর একটা বিধি নিষেধ চাপিয়ে দিয়ে আপনি কি মানুষের অধিকার হরণ করছেন না? এখানে যেহেতু মানুষের জীবন মৃত্যুর প্রশ্ন, আমি নিয়ম নীতির বাইরে যেতে পারি না। আমার কোন চয়েজ নেই। আমাদের সতর্কতা আমাদের করোনা থেকে রক্ষা করবে, নিয়মনীতি নয়।
এই যে মানুষ আপনার কথা শুনছে না, আপনি কি মনে করেন না, ডাচেরা খুব একগুঁয়ে? আমি আমার দেশ আর জাতি নিয়ে অনেক গর্বিত, এখানেও আমার নিজস্ব চয়েজের কোন ব্যাপার নেই। মিনিস্টার প্রেসিডেন্ট মাস্ক ব্যবহার কেন আবশ্যিক করা হচ্ছে না? দেখুন, মাস্ক ব্যবহারে খানিকটা উপকার হয় বটে কিন্তু পুরোপুরি কোন কাজ হয় এটার প্রমাণ এখনও পাওয়া যায় নি তাই এটাকে বাধ্যতামূলক এখনো করা হয় নি।
একজন সাংবাদিক জিজ্ঞস করলেন, নেদারল্যান্ডস মোস্ট ইফেক্টেড দেশ এই ব্যাপারে আপনার অনুভূতি কি? প্রিমিয়ে হেসে বললেন, আমি চেষ্টা করছি, চেষ্টা করা ছাড়া আমার আর কোন বিকল্প নেই।
মানুষ ভয় পাচ্ছে, কমপক্ষে দেড় বছর করোনা নিয়ে ভুগতে হবে? জানি না, আমি সত্যিই জানি না। রোড ম্যাপ আঁকা হয়েছে, ফলো করতে হবে। আমি কিছুতেই জানি না কখন এটি পুরোপুরি ওভার হবে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment