Wednesday, 25 November 2020

বরুণবাবুর বন্ধু

তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম তুমি রবে নীরবে নিবিড়, নিভৃত, পূর্ণিমা নিশীথিনী-সম আ হার্টফেল্ট ট্রিবিউট টু এন আনপ্যারালাল এক্টরঃ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বরুণবাবুরা আজ আছেন শুধু সিনেমায়, বইয়ে আর ইতিহাসের পাতায়। এরকম ত্যাগী নেতাদের কথা বইয়ে পড়েছি, পরীক্ষায় লিখেছি, নম্বর পেয়ে পাশ করে নিজেরা দুনম্বর তৈরী হয়েছি। তবুও এদেশের লোকেরা জানুক, পরবর্তী প্রজন্ম জানুক এরকম নির্লোভ, নীতি-আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষ এই ভারতবর্ষে, এই বাংলায় সত্যিই ছিলো। এথিক্স তারা নিজেদের জীবনেই পালন করেছেন শুধু ফেসবুকে লেখেননি। আর সৌমিত্রের চেয়ে এই চরিত্রে কাকে বেশি মানাতো! ভারতজুড়ে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও গণপিটুনি বন্ধের দাবি করে এবং ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি তুলে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক বার্তা ছড়ানোর প্রতিবাদ করে প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে লেখা চিঠির উনপঞ্চাশজনের তিনিও একজন যাকে পরে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযুক্ত হতে হয়েছিলো। অনীক দত্ত পরিচালিত 'বরুণবাবুর বন্ধু' দেখানো হয়েছে ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভাল অফ সিনসিনাটিতে। গত বছর কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়েছিল এই ছবি। মুম্বইয়ের থার্ড আই এশিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়েছে। মূল চিত্রনাট্য অনীক দত্ত আর উৎসব মূখোপাধ্যায়। তিন প্রজন্মের গল্পে সব জেনারেশনের প্রকৃতিই তুলে ধরা হয়েছে। যদিও গল্পটি কোলকাতার এক পরিবারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে, তবে বাংলাদেশের জন্যেও গল্পটি প্রতি মুহূর্তে মুহূর্তে সত্য। রাষ্ট্রপতি প্রনব মূর্খাজি’র কাল্পনিক উপস্থিতি সিনেমাটিকে জীবন্ত করে রেখেছিলো। এই বয়সেও সৌমিত্রের মত অভিনেতাকে পয়সার জন্যে অভিনয় করতে হয়েছে তার ভাষ্যমতে। ব্যাপারটা আমার গোলমেলে ঠেকে। "বেলাশেষে, প্রাক্তন, বসু পরিবার" এর মত ছবিতে তাকে যুক্ত হতে দেখে যারপর নাই ব্যথা অনুভব করেছি কিন্তু “বরুণবাবুর বন্ধু” সেই দুঃখ মুছিয়ে দিয়েছে। সমালোচকদের মতে তার অভিনীত সেরা পাঁচের মধ্যে আছে এই ছবি, আমি দর্শক হয়ে বলছি, আরও একটি "সৌমিত্র" ছবি। তবে পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও সৌমিত্রের সাথে পাল্লা দিয়েছেন, অপূর্ব। শান্ত আবারো ভালবাসা রইলো।

No comments:

Post a Comment