Monday, 29 March 2021
দৌড়ে কচ্ছপ জিতেছে আমরা সবাই জানি – খরগোশের গল্পটি?
কার্যত পৃথিবীশুদ্ধ সবাই, কচ্ছপের উদাহরণ দিয়েই যায়, অবিচল থাকা আর নিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে বলেই যায়, স্থির কিন্তু ধীরে চলতে থাকলে প্রতিযোগিতা জেতা যায়।
আচ্ছা, কেউ কি কখনো খরশোসের কাছে তার নিজের গল্পটি জিজ্ঞেস করেছে? আমি আপনাকে গল্পটি বরং ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বলি…
আমি খরগোশের মনের কথা শোনার জন্যে একদিন তার সাথে বসেছিলাম
পরিচিত হওয়ার জন্যে গ্রীস্মের একটি বিকেল বেছে নেই আমরা, বলতে দ্বিধা নেই দুজন দুজনের সাথে চমৎকার সময় কাটিয়েছি।
বিশ্বাস করুন .. দুর্দান্ত একটি অভিজ্ঞতা ছিল,
“হ্যাঁ, আমিই সেই খরগোশ যে হেরে গেছি।
না, আমি অলস বা আত্মতুষ্ট হইনি।
আচ্ছা, বরং গল্পটি বলি,
আমি পাহাড়ের কাছাকাছি তৃণভূমিতে লাফিয়ে লাফিয়ে যাচ্ছিলাম, পেছনে ফিরে দেখছিলাম কচ্ছপটিকে কোথাও দেখা যায় কিনা।
নিজের ওপর আস্থা রেখে ভাবলাম,পুকুরের কাছের বিরাট বটগাছের ছায়ায় একটু জিরিয়ে নেই।
প্রতিযোগিতার ভাবনায় সারারাত ঘুমোতে পারিনি।
দিনের পর দিন, বুড়ো নির্বোধ খরগোশটি বিরতিহীন কয়েশ মাইল চলার ক্ষমতা নিয়ে গর্ব করেই যাচ্ছিলো।
জীবন হলো ম্যারাথনের মত সুস্থির হেঁটে চলা, প্রতিযোগিতার মত উর্ধ্বশ্বাসে দৌঁড়ে চলা নয়।
গাছের ছায়াটা ছিল ছাতার মতো।
আমি প্রায় ডিমের মত একটি পাথর খুঁজে পেয়ে তাকে ঘাস দিয়ে ঢেকে বালিশ বানিয়ে নিলাম।
শুয়ে শুয়ে আমি পাতার শন শন কাপুঁনির শব্দ আর মৌমাছির গুঞ্জন শুনছিলাম – মনে হচ্ছিলো তারা আমাকে ঘুম পারাতে শুধু সাহায্যই করছে না, ষড়যন্ত্রও করছে।
তাদের কৃতকার্য হতে বেশি সময়ও লাগেনি।
নিজেকে আমি সুন্দর জলের স্রোতের ধারার মধ্যে বয়ে যেতে দেখলাম।
যখন তীরে এসে পৌঁছলাম, তখন আমি একজন বৃদ্ধ মানুষকে দেখতে পেলাম যার বিস্তীৰ্ণ দাড়ি ভর্তি মুখ, ধ্যানের ভঙ্গিতে পাথরের ওপর বসে ছিলো। তিনি চোখ খুললেন, বিজ্ঞের হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন:
"তুমি কে?"
“আমি একটা খরগোশ। আমি একটি দৌড় প্রতিযোগিতায় আছি "
"কেন?"
"জঙ্গলের সমস্ত প্রাণীকে প্রমাণ করতে যে আমিই দ্রুততম।"
"কেন নিজেকে দ্রুততম প্রমাণ করতে চাও?"
“যেনো এমন একটি পদক পাই যা আমাকে সম্মান দেবে, টাকা দেবে, খাবার দেবে ..."
"চারপাশে ইতিমধ্যে অনেক খাবার আছে” তিনি দূর থেকে বনের দিকে ইশারা করলেন। "ফল এবং বাদামে ভরা সমস্ত গাছের দিকে তাকাও, দেখো গাছ ভর্তি করা শাক পাতা”
“কিন্তু আমি সম্মানও চাই। আমি এই মুহূর্তে বেঁচে থাকা দ্রুততম খরগোশ হিসাবে স্মরণীয় হতে চাই। "
"তুমি কি দ্রুততম হরিণ বা বৃহত্তম হাতি বা সবচেয়ে শক্তিশালী সিংহের নাম জানো যা তোমার আগে হাজার বছর বাস করেছিল?"
"না"
“আজ তোমাকে কচ্ছপ দিয়ে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।
কাল, দেবে সাপ দিয়ে।
পরশু হবে জেব্রা।
তুমি কি নিজেকে দ্রুততম প্রমাণের জন্যে সারা জীবন দৌড় চালিয়ে যাবে? "
“হু। আমি এটি ভাবিনি।
আমি সারা জীবন প্রতিযোগিতা করতে চাই না। "
"তুমি তবে কি চাও?"
পাতার কাঁপন আর মৌমাছির গুঞ্জনের মধ্যে একটি বটগাছের নীচে বালিশ বানিয়ে ঘুমিয়ে পরতে চাই।
আমি পাহাড়ের কাছাকাছি তৃণভূমির পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতার কাটতে চাই ”
“তুমি কিন্তু এই মুহূর্তে এই সমস্ত জিনিস করতে পা্রো।
প্রতিযোগিতা ভুলে যাও।
তুমি আজ আছো কিন্তু কাল থাকবে না।“
ঘুম ভেঙে গেলো।
পুকুরে ভেসে থাকা হাঁসগুলিকে খুব সুখী লাগছিল।
আমি এক মুহুর্তের জন্য তাদের চমকে দিয়ে পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়লাম।
তারা প্রশ্নবোধক চোখে আমার দিকে তাকিয়েছিল।
"তোমার না আজ কচ্ছপের সাথে দৌড় প্রতিযোগিতার কথা না?"
‘এটা অর্থহীন” ।
একটি নিরথর্ক চর্চা।
আমি এখানেই থাকতে চাই।
আশাকরি কোনদিন কেউ এই পৃথিবীকে আমার গল্প বলবে।
আমি প্রতিযোগিতা হেরেছি কিন্তু জীবন ফিরে পেয়েছি।
জীবন কে পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করতে হবে, আজ, কাল, প্রতিটি দিন।
এই ছুটে চলা, প্রতিযোগিতা, সব বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমার মনে হয় আমার জীবনকে আমার মানদণ্ডে যাপন করা উচিত, বিশ্বের মতো নয়।
মূলঃ অন্তর্জাল
ভাষান্তরঃ তানবীরা হোসেন
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment