Sunday, 19 January 2020

উইকএন্ড আড্ডা



প্রবাসে উইকএন্ড আড্ডা একটা খুব কমন প্র্যাক্টিস। সারা সপ্তাহের ব্যস্ততার পর, একটু আড্ডা, খাওয়া-দাওয়া, গান-বাজনা প্রায় সবারই আরাধ্য থাকে। প্রবাসীরা সাধারণতঃ নিজেদের কমিউনিটির সাথে আর অ-প্রবাসীরা নিজেদের পরিবার কিংবা বন্ধুদের সাথে। প্রবাসী আড্ডার বিষয়বস্তু লিঙ্গভেদে ছেলেদের আর মেয়েদের ভিন্ন হয় এই নিয়ে বন্ধু-ভাই লেখক বিভিন্নি মনোবিদের উদাহরণ সহ খুবই সুখপাঠ্য একটি লেখা লিখেছেন যার লিঙ্ক আমি মন্তব্যের ঘরে দিয়ে দেবো। আমি আমার স্বভাবনুযায়ী বলেছি, এ প্রসঙ্গ নিয়ে বিশদ আলোচনার অবকাশ আছে আর তাতে অনুরোধ এসেছে আমার দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি নিয়ে লিখতে, যাতে দুটো লেখা যোগ করে খানিকটা পরিপূর্ণ চিত্র উঠে আসে। প্রথমেই বলে রাখছি, এই লেখাটি সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ আর অভিজ্ঞতা থেকে যেহেতু লেখা হবে, এটা ইউনিক কিছু হবে না আর নেট ঘেঁটে বিভিন্ন তত্ত্ব তুলে আনতে গেলে, আলসেমীতে লেখাই হবে না, এটা নিতান্তই “অনুরোধের ঢেঁকি গেলা” টাইপ লেখা যেহেতু দ্বিমত পোষণ করেই ফেলেছি।

শুরুতেই খুব ছোটবেলার একটি ঘটনা শেয়ার করছি, আমরা সবে তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গনে পা রেখেছি, স্বপ্ন ছুঁয়ে ফেলার আনন্দে, প্রজাপতি পাখায় উড়ে বেড়াচ্ছি। ক্লাশ হোক আর না হোক আমরা মোস্ট অবিডিয়েন্ট স্টুডেন্টদের মত রোজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই, ফাঁকা ক্লাশরুমে বসে থাকি, ইলেক্ট্রিসিটি নেই, ফ্যান ঘোরে না আর ঘুরলেও বাতাস কই যায় আমরা তা জানি না। গরমে সেদ্ধ হতে হতে ক্লাশে আড্ডা, সেটা শেষ করে সামনের এক ফালি মাঠে আড্ডা, তারপর টিএসসির মাঠে আড্ডা, সোজা কথায়, দুপুর না গড়ালে বাসায় ফেরাফেরি নেই। কিন্তু মেয়েরা এক দল আর ছেলেরা আলাদা দল। ঝগড়া নেই আমাদের, সবাই সবার নাম টাম জানি, হাই-হ্যালো হয় কিন্তু আড্ডা দেই আলাদা। তার হয়ত কারণ ছিলো, সদ্য তারুণ্যে পা রাখা আমরা সবাই যারা অভিভাবকদের মুঠো থেকে বেরিয়ে সবেমাত্র স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছি, অনেক কিছুতেই আমরা তখন খানিক দিশেহারা। আমাদের গল্পসল্পও হয়ত খানিক বেপোরোয়া। যেহেতু কো-এড থেকে আমরা আসিনি, স্বাভাবিক সংকোচ কাটেনি আমাদের।

তো একদিন আমাদের এক আহ্লাদী বান্ধবী বললো, আচ্ছা ছেলেরা কি নিয়ে গল্প করে?
কিছুক্ষণ চুপ থেকে অন্য বান্ধবী বললো, আমরা যা নিয়ে গল্প করি ওরাও হয়ত তাই নিয়েই গল্প করে
আহ্লাদী বান্ধবী মুখ লাল করে বলে উঠল, ছিঃ ছেলেরা কি অসভ্য।

আমরা সবাই হো হো হেসেই ক্ষান্ত হই নি, অনেকদিন আমাদের মধ্যে এই বাক্যটি সাংকেতিক প্রবাদ-প্রবচণ হিসেবে কাজ করেছে।  

উইকএন্ড আড্ডায় সাধারণতঃ অনেক মেয়েরাই রান্না-বান্না, জামা-কাপড়, বাচ্চাদের নিয়ে আলোচনা করে, যেটা হয়ত অনেকের দৃষ্টিতেই তেমন প্রডাক্টিভ কিছু না। কিন্তু কেন?

রান্না-বান্না শুধু মেয়েরা করে বলেই কি এই অবজ্ঞার চিন্তা? শুধু বাঙালি কিংবা বাংলাদেশ সমাজ দিয়েই কি সব বিচার করা যায়? আর সেটাও যদি মেনে নেই, মানুষের মৌলিক যে প্রেষণা তারমধ্যে খাদ্য গ্রহণ প্রথম আর প্রধাণ। বাঙালি বাবুরা নিজেরা রান্না না করলেও, রান্না ঘরে সাহায্য না করলেও, ভাল-মন্দ খেতে তারা পেছান না এবং রান্না ভাল না হলে অসন্তুষ্টি জানান দিতেও ছাড়েন না। তাহলে এই নিয়ে আলোচনা কি করে অগুরুত্বপূর্ন হতে পারে! বিভিন্ন জেলার, বিভিন্ন মানুষ একসাথে হয়, অনেকেই অনেক কিছু আলাদা রকম ভাবে রেঁধে খায়, আবার অনেক কিছু যেমন এক পরিবারে খুব সাধারণ খাবার অন্য পরিবার সেটা জানেই না, নতুন কত কি জানা, শেখা হয়। অনেকেই আমরা দেশে থাকার সময় সেভাবে রান্নাবান্না করি নি, প্রবাসে এসেই শিখেছি তাদের জন্যে বড়দের কাছ থেকে কিংবা অন্যদের কাছ থেকে, নানা টেকনিক জানা তো আমার দৃষ্টিতে দারুণ সাহসের কাজ। খাবার ছাড়া যেকোন অনুষ্ঠান যেখানে অচল সেখানে এই নিয়ে আলোচনা উপহাসের বিষয় হতে পারে কি!

মেয়েরা শাড়ি-কাপড়, সাজগোজ নিয়ে মেতে থাকে। হ্যাল্লোওওও – কথায় আছে, প্রথমে দর্শনচারী তারপরে গুনবিচারী, লুক মানুষের খুবই একটা জরুরী ব্যাপার। এই সমাজের প্রত্যেক জায়গায় মানুষের সাজ-পোষাক দিয়ে তার সামাজিক, মানসিক, সাংস্কৃতিক কিছু কিছু ক্ষেত্রে ধার্মিক অবস্থান সম্পর্কেও একটা ধারনা করা হয়ে থাকে। এবং ধারনা খুব কমই ভুল প্রতীয়মান হয়। ইউরোপের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ড্রেস কোড দেয়া থাকে। অফিসের মীটিং, পার্টি, বিজনেস ট্যুরের মেইলে, ড্রেস কোড উল্লেখ থাকে। বলতে পারেন, ঘরোয়া আড্ডায় এটা নিয়ে আলোচনা করার কি আছে? অবশ্যই আছে, আলোচনা না হলে, একজন আর একজন থেকে শিখবে কিভাবে? বিশাল একটা ইন্ড্রাষ্ট্রি দুনিয়া জোড়া কাজ করছে, ব্যাপারটি কি এতই হেলাফেলার? কত ডিজাইনার, কত ইনভেসমেন্ট। আর এটা নিয়ে সমালোচনা না করে বরং এভাবে দেখা যেতে পারে, পুরুষরা নিজেরাও এ নিয়ে একটু সচেতন হোন, সুন্দর – সুবেশী মানুষ দেখতে সবারই ভাল লাগে, হোক সে নারী কিংবা পুরুষ।  

লেখক রিচার্ড ওয়াটার্স বলেছেন, “It Takes a Village to Raise a Child”. একটা বাচ্চার বিভিন্ন বয়সের সাথে তার মানসিক ও শারীরিক বিভিন্ন চাহিদা ও সমস্যা মোকাবেলা করে তাকে স্কুল, বাড়ি, বন্ধু বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সামলে বড় করে তোলা কি খুব সহজ ব্যাপার? বাচ্চাদের আচার আচরণ, খাদ্যভাস এগুলো নিয়ে পরিচিতদের মধ্যে আলোচনা, পরামর্শ নেয়া, আইডিয়ার আদান-প্রদান খুব স্বাভাবিক নয় কি? এখানে তো মা-শাশুড়ি কেউ পাশে নেই, বুদ্ধি পরামর্শ দেয়ার জন্যে। ছোট বাচ্চারা অনেক সময় অনেক কথা মুখ ফুটে বলতে পারে না, ডাক্তারের কাছে সব এক্সপ্লেইন করা কঠিন সেসব ক্ষেত্রে স্বজনদের ছোট পরামর্শ তো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। “বাচ্চা বড় করা” হেলাফেলার ব্যাপার কি এটা? এটা নিয়ে উন্নাসিকতা কিংবা তাচ্ছিল্য কি করে আসতে পারে? বেশীরভাগ ক্ষেত্রে মায়েরাই যেহেতু দায়িত্ব নেয়, সিনসিয়িয়ারলি ব্যাপারগুলো পর্যবেক্ষণ করেন, সন্তানের মংগল কামনায় তারা অস্থির হতে পারেন বইকি।

জীবনের এই মৌলিক-পারিবারিক ব্যাপার গুলোই তো বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। ঘর-পরিবার হলো প্রতিটি মানুষের ভিত্তি। ভিত্তি নড়বড় করলে বাকি কাজ চলবে কি করে? সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বরং বলতে হয়, পেট পুরে খাওয়ার পর আড্ডায় বসে, বিশ্বরাজনীতির এই আলোচনা ট্রাম্প আর পুতিন, হাসিনা-খালেদা, শফি হুজুর কিংবা ক্রিকেট খানিকটা মুখে মুখে রাজা-উজির মারা অথবা গুলতানি করার মতই নয় কি? (নো অফেন্স মেন্ট টু এনিওয়ান) পৃথিবীর কোন প্রান্তের লিভিং রুমে বসে ভরপেট খেয়ে পিয়ে কারা কি নিয়ে আলোচনা করছে তাতে কোন দেশের রাজনীতি কবে বদলেছে নাকি বদলায়? কিংবা ফেসবুকে লিখলামই খুব জ্বালাময়ী কিছু আর তাতে? আনপ্রোডাক্টিভ ইস্যু কোন গুলো সেগুলো এখন বিশ্লেষণ করা সময়ের দাবী নয় কি? রকবাজি আর কদিন!

আমার দৃষ্টিতে আড্ডা ব্যাপারটার “বিষয়বস্তু” নির্ভর করে অনেকটাই জীবনের কোন পর্যায়ে আছি আর কোন পরিস্থিতিতে আছি তার ওপর। যারা নতুন আসে, সেটেলিং ডাউন পজিশনে থাকে তাদের আড্ডার বিষয় থাকে বেশির ভাগ, বাড়ি কেনা, কোন কোম্পানীতে সেকেন্ডারি বেনেফিট কি কি আছে তার খোঁজ আর হিসেব-নিকেশ করা, নেদারল্যান্ডসে যেহেতু বেশিরভাগ এক্সপার্ট ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষকেই বেতনের বায়ান্ন শতাংশ কর দিতে হয়, তার থেকে কি কি সুবিধা পাওয়া যেতে পারে, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির আলোচনা, বাংলাদেশি মাছ কোথায় পাওয়া যাবে, হালাল মাংসের দোকান, মসজিদ, কোথায় রোজকার দিন যাপনের জিনিসগুলো একটু সস্তায় পাওয়া যাবে (বাংলাদেশ থেকে নেদারল্যান্ডসে আসামাত্র এক ইউরো=প্রায় নব্বই থেকে একশো টাকার পার্থক্য) ভাষা শিক্ষা কিংবা ভাষা সমস্যা ইত্যাদি। একসময় কাগজপত্র ছাড়া ইউরোপে এসে কাগজ বানানোর একটা স্ট্রাগল ছিলো, সে ব্যাপারটা এখন অনেকটাই কমে গেছে তাই সে প্রসঙ্গ বাদ।

বয়স আর একটু বাড়লে এরপরের ধাপে থাকে, কেনা বাড়িতে কি কি ধরনের কাজ করানো হবে, সেই কাজের জন্যে কোথায় কাকে পাওয়া যাবে সেসব নিয়ে আলোচনা, এর মধ্যে ট্যাক্স দিতে দিতে যেহেতু অভ্যস্ত হয়ে যায়, সেই ব্যথা কিছু তখন কমে আসে, জিনিসপত্রের দামের সাথেও এডজাস্ট করে ফেলে নিজেকে সেই প্রসঙ্গ ও আর আর্কষনীয় নয়, বরং দেশীয় খাবার দাবার মিস করাটা বেড়ে যায়। বাচ্চাদের প্রি-স্কুল, স্কুল ইত্যাদি নিয়ে কিছু তত্ত্ব ও তথ্যের আদান প্রদান। আগে সস্তায় দেশে ফোন করা, বাবা-মাকে বেড়াতে নিয়ে আসার ভিসা প্রসিডিউর, বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর সহজ ও সস্তা উপায়, সুপারমার্কেটে কোন জিনিসটা কি নামে পাওয়া যাবে এসবও আলোচনায় আসতো। এখন ওয়েব সাইট আর গুগল ট্রান্সলেশনের কারণে এই আলোচনাটা কমে এসেছে।

অনেক বড় অনুষ্ঠান হলে আলাদা কথা কিন্তু ছোট ঘরোয়া আড্ডায় ছেলেরা- মেয়েরা সবাই এক সাথেই বসি, আজকাল অনেক ছেলেই নতুন নতুন রেসিপি ট্রাই করতে ভালবাসে, আড্ডায় তাদের নিজেদের তৈরী করা ডিশ আসে, রান্নার রেসিপি ও ট্রিক এন্ড টিপস নিয়ে আলোচনা হয়, যারা ড্রিঙ্কস ভালবাসে সে নিয়েও আলোচনা হয়, মুভি লাভাররা এক সাথে সিনেমা দেখা হয় কিংবা নাটক, অনেক সময় বিভিন্ন রকম গেম খেলি, অনেকেরই হবি ফটোগ্রাফি, সেই নিয়ে গল্প হয়, অবশ্যই প্রফেশনাল লাইফের নানা ঝঞ্ঝাট, প্রমোশন, সুবিধা-অসুবিধা সব নিয়ে আলাপ চলে, অনেকেই বাড়ি বড় করার নানা প্ল্যানিং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে, আইডিয়া দেয়-আইডিয়া নেয়, ইউরোপের একটা সুবিধা, তিন বা চারদিনের ছুটিতেও টুক করে গাড়ি নিয়ে পাশের দেশে বেড়াতে যাওয়া যায় সেসব নিয়ে গল্প আর এর ফাঁকে ফাঁকে গান এবং ডিস্কো তো আছেই। আর বাংলাদেশে যেহেতু কিছু না কিছু ঘটতেই থাকে তাই ধর্ম, রাজনীতি এসব কমন ফ্যাক্টর তো আলোচনাতে থাকেই। নেট ও ফেসবুকের কারণে আজকাল এগুলো মেয়েদের খুবই হাতের নাগালের ব্যাপার, তাই আলোচনা কিংবা তর্কে তাদের পিছিয়ে থাকার কোন কারণ তো নেই!   

আড্ডা আলোচনা ব্যাপারটা যেহেতু খুবই পারিপ্বার্শিক আর পারস্পরিক বোঝাপরার মধ্যে পরে, সুতরাং মেয়েরা কি নিয়ে আলোচনা করে কিংবা করে না’র ছকে ফেলে দেয়াটা আজকের প্রেক্ষাপটে হয়ত আর বাস্তবসম্মত নয়। আজকাল বেশির ভাগ মেয়েরই নিজের ক্যারিয়ার আছে এই প্রবাসেও। এই আধুনিক সমাজ কাঠামোতে বেশির ভাগ বাঙালি মেয়েই যেহেতু সারাদিন, “জুতো সেলাই থেকে চন্ডীপাঠ” পেরিয়ে আসে, তাদের লাজুকলতা হয়ে আড্ডায় পিছিয়ে থাকার কোন কারণ তো নেই। বরং মেয়েরা সাহসী, বাস্তববাদী, যেসব ক্লান্তিকর, ক্লিশে, একঘেয়ে ব্যাপার থেকে ছেলেরা সারাবেলা পালাতে চায়, মেয়েরা বিনোদনের মুহূর্তেও তার থেকে পিছপা হয় না, সেটাকে প্যারালাল রেখেই আড্ডা, আনন্দ চালিয়ে যায় কিংবা তার মধ্যে থেকেই আনন্দ খুঁজে নেয়।  

#journey_twentytwenty

 তানবীরা

১৯/০১/২০২০




Thursday, 16 January 2020

মমস উইল বি মমস

 অভিজিত বিনায়ক ব্যানার্জী নোবেল পেলেন, বাঙালি জাতির মুখ আরও একবার দুইশো পাওয়ার বাল্বের আলোয় উজ্জল হলো। পৃথিবীতে যে তিনি বাস করেন সে খবর আমরা জানলাম। দেখলাম, সিল্কের ধূতি পরে তিনি নোবেল গ্রহন করলেন। সাথে এও জানলাম তিনি ইলিশ খেতে ভালবাসেন, এবং তার মা তার জন্যে বেগুন দিয়ে ইলিশ মাছ রাঁধবেন ভেবেছিলেন কিন্তু সেসময় কোলকাতায় ভাল ইলিশ মাছ পাওয়া যাচ্ছিলো না। এই শুনে চিত্রনায়িকা ও সংসদ সদস্য নুসরাত বসিরহাট থেকে বিরাট ইলিশ কিনে অভিজিতের বাড়ি পৌঁছে দিলেন। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সাথে অভিজিতি ব্যানার্জীর যে চুচা ছিলো নোবেল পেয়ে তাও মিটে গেলো, দুজনে আবার বন্ধু হলেন। এছাড়াও আরও অনেক কিছু আমরা জেনেছি তার সম্পর্কে যাহোক আমরা পয়েন্টে থাকি।

নোবেল পুরস্কারের বিকল্প হিসেবে পরিচিত সুইডেনের 'রাইট লাইভলিহুড অ্যাওয়ার্ড' পেলো দেশটির কিশোরী জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থানবার্গ। বাঙালি সাংবাদিকদের এরকম কর্মযজ্ঞ দেখে সুইডিশ সাংবাদিক স্থির থাকতে পারলো না। সে গেলো গ্রেটার বাড়ি ইন্টারভিউ নিতে। সাংবাদিক দেখে গ্রেটার বাবা কইলো, থাবড়া চিনোস? আমার মাইয়া লেখাপড়া থুইয়া সারাদিন, ময়লা ছয়লা ঘেটে বেড়াচ্ছে। পুরস্কার পাইছে, মাত্র এক লাখ সুইডিশ ক্রোনার। এখনও স্কুল শেষ করে নাই, পড়াশোনা না করলে এই পুরস্কার ভিজাইয়া কি চাকরি আইবো? ভবিষ্যত কি, চলবে কেমনে? সাংবাদিকও রাগে তেড়েমেরে কইলো, আগে কই আছিলেন আপনে? আগে খেয়াল ছিলো না? গ্রেটার ইন্টারভিউ বাবাই দিলো অর্ধেক, বললো, আমি কি করমু, আমার কাজ নাই? মাইয়া আইসা কয়, বাবা আমি জীবনের প্রতি আগ্রহ হারায় ফেলছি, আমার বিষন্ন লাগে। আমি কইলাম, এমন কিছু খুঁজে বের করো, যা তোমাকে বেঁচে থাকতে আগ্রহী করে, সবার কাজেও আসে। আমার অফিস আছে, আমার কাছে ফাও প্যাঁচাল কম করো, গায়ে বেশি চর্বি হইলে বিষন্ন বেশি লাগে। বহুত হইছে এখন এসব, কার্বন ডাই অক্সাইড, ক্লাইমেট, মেয়ে স্কুলে ফেরত, পড়াশোনা আগে।

বাবা –মা হইলো বাবা-মা, যেকোন ফরম্যাটেই। একজন যায় ইলিশ মাছ খুঁজতে তো অন্যজন যায় পড়াশোনা নিয়ে চেঁচামিচি করতে। আচ্ছা কল্পনা করি তো অন্যান্য বিখ্যাত লোকদের বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের কাজে কর্মে কেমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেনঃ

নিউটনের মাঃ তুই পার্কে গাছের নীচে বসেছিলি কেন? কোন মেয়ের আসার কথা ছিলো? দেখস না আজকাল পুলিশ এম-পিদের কি অবস্থা, পার্কে পেলেই ধরে। তাও যদি বসলি সরে বসতে পারলি না? আপেল যদি কপালে পরতো, কয়টা সেলাই লাগতো সেই খবর আছে? প্রেমে দেখি একেবারে দিওয়ানা। হ্যাঁরে নিউটন, খাওয়ার আগে আপেলটা ধুয়ে নিয়েছিলি তো? মাটিতে কত রোগ জীবানু থাকে, হাতও ধোসনি? আর কতবার বললে শিখবি বাবা?

আর্কেমেডিসের মাঃ ছিঃ ছিঃ আর্কেমেডিস ছিঃ। তোদের এত খান্দানি বংশ, তোর দাদাকে সিসিলির সমস্ত লোক এক নামে চেনে আর তার নাতি হয়ে রাস্তা দিয়ে জামা কাপড় ছাড়া এমন ন্যাংটো হয়ে দৌড়াতে তোর একটুও লজ্জা করলো না? বংশের মান সম্মানের কথাটা একবারও ভাবলি না তুই? আর “ইউরেকা” কোন মেয়েটা? বাবা কি করে? নিজের বাড়ি না ভাড়া বাড়িতে থাকে? বংশ কি?

এডিসনের মাঃ লাইট আবিস্কার করছো অনেক অনেক খুশী হইছি বাবা, কিন্তু যাও এখন লাইট অফ কইরা শুইতে যাও। এই যে সারাক্ষণ লাইট অন কইরা পাশের বাড়ির মাইয়াদের সাথে টাংকি মারো, ইলেকট্রিসিটি বিল তো বাপ দেয়। নিজে যখন কামাই করবা দেখবো কত পাওয়ারের বাত্তি জ্বালাও। সব ফুটানি বাপের পয়সায়
গ্রাহাম বেলের মাঃ এই স্টুপিড সিলি জিনিসটা বাসায় আইনা লাগাইছোস, যা ঠিকাছে, তুই একমাত্র ছেলে বলে তাও সহ্য করলাম কিন্তু রাতে বিরাতে যদি মাইয়ারা তোরে ফোন দেয়, তোর বাপ হার্টের রোগী, তার যদি ঘুম ভাঙ্গে তাইলে কিন্তু তোর খবর আছে।

গ্যালিলিওর মাঃ এইটা কি টেলিস্কোপ বানাইলিরে গ্যালিলিও, শুধু আকাশ আর চাঁদই দেখা যায়, একটা ভাল কিছু বানাইতি যেইটা দিয়ে মাঝে মাঝে মিলানে আমার মায়েরে দেখতে পারতাম।

কলম্বাসের মাঃ তুই কই যাইয়া কি আবিস্কার করছোস তা দিয়ে আমার কিচ্ছু যায় আসে না। তোরে না বইলা দিছি প্রতি সপ্তাহে আমারে একটা চিঠি দিবি, দুই লাইন লেইখ্যা জানাইতে পারোস না কই ছিলি আর কই আছোস!

বিল গেটসের মাঃ কাজ-কাম বাদ দিয়া সারাদিন ব্রাউজিং করোস ঠিকাছে, উল্টা-পাল্টা ব্রাউজিং কইরা দেখিস আবার স্টিভ জব্বার কাকুর হাতে না ধরা খাস, সাবধান।

হোয়াটসএপে পাওয়া মূল জোকটি প্রথম মন্তব্যে যোগ করে দিচ্ছি, আগ্রহীরা পড়তে পারেন। সারা দুনিয়ার খবর কমপাইল্ড বাই মি।

যাব বড়লোকের বেকার ছেলে চালে জিন্দেগী বানানে

আজ রাজ পরিবারের এই ভাঙনের জন্যে ব্রিটিশ মিডিয়া দায়ী না দায়ী দ্যা শ্যাভেল সেই অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিক যে মেগানকে বিয়ের পর কটাক্ষ করেছিলো, বেকার ছেলে বিয়ে করেছে বলে। আমরা ভুলে গেলেও মেগান সেই অপমান ভুলে নি, ধিকিধিকি জ্বলেছে তার মনে।
মাঝখানে পরছে বেচারা পুলাটা হ্যারি। প্রেমের কারণে বাপ-দাদা চৌদ্দ পুরুষের আরাম আয়েশের জীবন ত্যাগ করে লন্ডনের বৃষ্টির নীচ থেকে এখন যাবে কানাডার বরফের তলে বাচ্চার ন্যাপি বদলাতে। কঠিন নারীবাদী বউ গলায় গামছা দিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। বুঝুক ঠ্যালা। সাধে কি মুরুব্বীরা কইছে, হোয়াট বেঙ্গল থিঙ্কস টুডে, রেস্ট অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড উইল থিঙ্ক টুমরো। শতবর্ষ পূর্বে সেজন্যে বাংলার কবি গাহিয়াছিলেন, “শোনো তাজেল গো, মন না (অবস্থা) না বুঝে প্রেমে মইজো না”। হইছে তো এইবার।
এই উপলক্ষ্যে রাজ পরিবারে কি কি ড্রামা হচ্ছে চলেন দেখে আসি (এই অংশটুকু হোয়াটসএপ থেকে প্রাপ্ত, আমার ভাষান্তর)
তো শাশুড়ি-বউ সিরিয়াল থেকে কারো মুক্তি নেই, এমনকি বাকিমহাম প্যালেসও এই নাটকের উর্ধ্বে নয়
দাদী শাশুড়ি মানে রানী খুবই নাখোশ, ছোট নাতিটা ছোট বউয়ের পাল্লায় পরে গোল্লায় গেলো। ট্যাক্স পেয়ারদের টাকায় যুগ যুগ ধরে ব্র্যান্ডেড জিনিস আর সব শৌখিনতা পালন করে আজকে বউয়ের তালে পরে বলে, অনেক হইছে আর না?
চাচা আর চাচী ইন লজরাও নাখোশ, তাদের সাথে কোনো ধরনের শলা পরামর্শ না করে নিজেরাই নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো। এই তিন কূলে তারা কি তাদের কেউ না? এই বড়দের প্রতি ছোটদের সম্মান? ছোট চাচী তো বলেই ফেললো, বলেছিলাম হ্যারিকে, আমার ছোট বোনের দেবরের বউয়ের বোনের মেয়েকে বিয়ে করো, ঐ এমেরিকান মেয়েকে বিয়ে করলে ঘরে অশান্তি করে, পরিবার ভেঙে দেবে, হলো তো এখন? এমেরিকানদের আমি চিনি না, যে যে এমেরিকান মেয়ে বিয়ে করছে সেই সেই সংসারই দুর্গতিতে পরছে। বউ তো না, সাপ, সাপ, কাল সাপ। জেনে রাখিস হ্যারি, একদিন তোকেও ধোকা দেবে, তখন কাঁদতে কাঁদতে আমাদের কাছেই আসবি, সেদিন বুঝবি রে বোকা ছেলে সেদিন।
মায়ের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে প্রিন্স উইলাম হাত কচলে কচলে বাবাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে, আজকে যদি মা বেঁচে থাকতো, কখনো এদিন দেখতে হতো না বাবা। বউয়ের কথায় হ্যারি এভাবে পরিবারের অসম্মান করে বেরিয়ে যেতে পারতো না বাবা।
বড় বউ কেট মিডেটলন বিজয়ীর হাসি হাসছে, নিজের সাজ পোশাক ঠিক করতে করতে মনে মনে বলছে, আমি রাজ পরিবারের না কিন্তু তাতে কি হয়েছে, সমস্ত রাজ পরিবারের মানদন্ড তো এখন আমারই হাতে।
শুধু পড়লে হবে না, সিরিয়ালের আলোকে মুখ-চেহারা-হাসি, হাঁড়ি-পাতিল-ঢাকনার বাইরাবাইরির শব্দ সব কল্পনা করতে হবে 

এলোমেলো - ১


এই পৃথিবীতে জাতি হিসেবে “জাপানী”রা হলো বিন্দাস। ভাষা সমস্যার আকড়া এই ইউরোপে তারা বিনা দ্বিধায় জাপানী ভাষায় মেইল পাঠাবে। ইমেলের ডিসপ্লে নাম “জাপানী”তে লেখা, সিগনেচার জাপানী, সাবজেক্ট জাপানী, এটাচমেন্ট ও জাপানী ভাষায় শুধু বডিতে কষ্ট করে, দুই লাইন ইংলিশ।
এবং তারা খুব তড়িত্ব উত্তর আশা করছে এ কথাও মেইলে জানিয়ে দেবে।
পরিচিত কারো সাথে রেস্টুরেন্টে গেলে যদি বলে, আজকে তোমাকে আমি খাওয়াবো, তাহলে ঠিক করে খাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে দেন।
তার ওপর সে নিজে অর্ডার না করে হাতে মেনু কার্ড ধরায় দিয়ে যদি বলে, তোমার যা ইচ্ছে নাও, খাও, তাহলে বেটার বাসায় এসএমএস করেন, আমার জন্যে কিছু রেখো, আমি বাসায় এসে খাবো।
প্রেম, বিয়ে, সংসার, বন্ধুত্ব কিংবা চাকরী সবই খুব আপেক্ষিক, আঁকড়ে ধরার কিছু নেই। একপক্ষ যতই লয়াল হোক না কেন, যত ভালই সার্ভ করুক না কেন, অন্যপক্ষ যেকোন সময় মত বদলাতে পারে।
বন্ধুত্ব, প্রেম, বিয়ে কিংবা যেকোন সম্পর্কই খানিকটা অন্তর্বাসের মত। কত দামী ব্র্যান্ড তার চেয়ে কতটা আরামদায়ক সেটা জরুরী, নইলে সারাবেলা হাঁসফাঁস লাগে মনে হয় কখন মুক্তি পাবো।
ক্রিসমাস বোনাসঃ (নেট থেকে পাওয়া, খানিকটা পরিমার্জিত)
সান্টাক্লজ কে কেন পুরুষ ভাবি?
আচ্ছা, কোন ভদ্রমহিলা প্রতি বছর একই দিনে একই জামা পরেন!

Thursday, 19 December 2019

ঝোড়ো যুবকের কবলে, এক সকালে


এই ঠান্ডা সকালে নীরার একদম বিছানার বুকের গরম ওম ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করে না।
কিন্তু উপায় নেই গোলাম হোসেন, নীরার অফিস সমস্যা না, সমস্যা হলো মেয়ের স্কুল।
মা না উঠলে পৃথিবী ইধার থেকে উধার হয়ে গেলেও মেয়ে উঠবে না। যদিও এসব ভেবে
এলার্ম একটু এগিয়েই দিয়ে রাখে নীরা। বিছানায় গড়াতে গড়াতে রোজ ভাবে, আজ রাতে
ঠিক সময় মত শুয়ে পরবো, কিছুতেই দেরী করবো না, তাহলে এই ঘুম ঘুম কষ্টটা কমবে।
যদিও ভাবাই সার, মুভি, বই আর কিছু না হলে ফেবুতো আছেই, গুঁতোগুঁতি করে সেই দেরী
হবেই।


দেরী করে বের হওয়াতে আজ রাস্তা বেশ শুনশান। স্কুল আর অফিসের ভীড় শেষ।
শীতের কারণে সূর্য্যি মামা আপাতত পুবদিকে শুশ্বরকূলের বাড়ি বেড়াতে গেছে,
মার্চের আগে আর এমুখো হওয়ার তেমন কোন আশা নেই। ঘুটঘুটে অন্ধকারে
আপনমনে সাইকেল চালাচ্ছে রোজকার মত, হঠাৎ কোথা থেকে দুর্বৃত্ত দমকা
হাওয়া এসে তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরলো। আচমকা আক্রমনে দিশেহারা নীরা,
সাইকেল নিয়ে প্রায় পরে যাচ্ছিলো বলে, কোন রকমে টাল সামলালো।
মুখ দিয়ে চিৎকার বেড়িয়েই যাচ্ছিলো, বদ বাতাস আমায় ছাড়ো। বাতাসের চোখ দেখে নীরা
হঠাৎ অনুভব করলো, চিৎকার করে কোন উপায় হবে না, কামুক বাতাসের সাথে তাকে লড়তে হবে।


কিন্তু উদ্দাম যুবক বাতাসের বুনো ছোঁয়ায় আদরে নীরা এই সাত সকালে গলে গলে যাচ্ছিলো।
যদিও সবার ছোঁয়া বাঁচাতে সে সর্বাংগ ভাল করে মুড়েই বের হয়েছিলো, কিন্তু গলার কাছে ওভারকোটের যেই বোতামদুটো খোলা রেখেছিলো, তাই দিয়ে বাতাস পেঁচিয়ে মুড়িয়ে নীচে নামছিলো। গলা ছুঁয়ে বুক, তারপর পেট, নাভি, আহ! বাতাসের উত্তপ্ত জীহবের শিহরণে সে প্রায় দিকহারা।  নীরা তার ভাল লাগা বাতাসকে কিছুতেই বুঝতে দিতে চাইছিলো না। দুষ্ট বাতাস, একা বাগে পেয়েছে নীরাকে আজ, সেই বা ছাড়বে কেন? আস্তে আস্তে তার জোর বাড়ছে, বাড়ছে বেগ, তাকে সামলাতে নীরাকেও তার বেগ ধরে রাখতে, ক্ষনিকে বাড়াতেও হচ্ছে। দুজনেই বুনো উত্তেজনায়, আদরে জড়াজড়ি, কাড়াকাড়ি, মাখামাখি, লেপ্টালেপ্টি।


অফিসে পৌঁছে নীরা যখন তার ওভারকোট খুললো, ঘেমে ভিজে সে জবজবে। এই শীতের সকালে
এতো ঘামের উৎস কি, কি করে বলবে সে কাউকে। ভাবতেই আরক্ত মুখে এদিক ওদিক তাকিয়ে
চোখ নীচু করে, ভালো লাগায়, লজ্জায় দু’হাতে নিজেই নিজের চোখ ঢেকে পালালো সে।

১৯/১২/২০১৯






Wednesday, 18 December 2019


“মেঘমালা” যখন পড়াশোনা করে তখন বাসায় “কথা বলা” মোটামুটি নিষিদ্ধ। তিনি স্কুল থেকে ফিরে যতক্ষণ বাবা-মা না ফিরেছে টিভি, ল্যাপি, মোবাইলে ধর্ণা দিয়ে থাকেন। আমরা ফিরলে তবে শুরু হয়। আমি হাইপিচে কথা বলি, আগে ছিলো, কেন এত জোরে কথা বলছো? আর এখন, কেন কথা বলছো, কথা বলবে না। এই কথা বলছো'র ভেতর গান শোনা, টিভি দেখা, ফোন করা সব অন্তর্ভুক্ত। কোন শব্দ করা চলবে না। ফোন নিয়ে আমাকে সারাক্ষণ একতলা-দোতলা করতে হয় কিন্তু তাও চলবে না, আবার মা’কে পাশে বসে থাকতে হবে নইলে ওনার ঠান্ডা লাগে, একলা লাগে, হাত টিপে দাও, পা টিপে দাও সেসব তো আছেই।

বান্ধবীর সাথে ফোনে কথা হচ্ছিলো, দাদু, মা, নিজেরা আর ছেলেমেয়ে এ নশ্বর জীবনের সব বিষয় নিয়েই আলোচনা করতে করতে প্রথমে নিজেরা অনুতাপ করলাম, মায়েদের সাথে আরও ধৈর্য্য রাখা দরকার, এই যে খ্যাক করি, এটা ঠিক না। নিজেরাও তো আস্তে আস্তে মায়েদের দিকেই আগাচ্ছি। তারপর নিজেদের ছেলেমেয়ে যে খ্যাক খ্যাক করে আমাদের সাথে সেই আলোচনায় এসে সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম, “হোয়াট গোজ এরাউন্ড কামস এরাউন্ড”। আমি কইলাম, দোস্ত, আমি ক্যামনে এই ফমূর্লায় আছি! আমি কি সেই বয়সে মায়ের সাথে খ্যাক করার সাহস রাখছি!

লোড শেডিং এর দুপুর গুলোতে যখন বিছানায় গা ঠ্যাকানোর উপায় নেই, এক ফোটা বাতাস কোথাও নেই, তখন ঢাকার মধ্যবিত্ত পরিবারে আইপিএসজেনারেটর কিছু ছিলো না। আমি বারান্দায় হাঁটতাম আর কবিতা পড়তাম, ছোট দুই বোন এতই ছোট, কবিতা কিসের সেটা না বুঝলেও, আমার বিড়বিড়ানি থেকে তাদেরও আমার সাথে সাথে সেই কবিতা মুখস্থ। “অতন্দ্রিলা ঘুমোও নি জানি তাই চুপিচুপি গাঢ় রাত্রে শুয়ে বলি শোনো”। আম্মি এই গরমে কেমনে ঘুমাইতো কে জানে। বারান্দায় হাঁটতাম বটে কিন্তু নিঃশব্দে, একটা ফুলের টব নড়ার শব্দে ভদ্রমহিলার ঘুম ভাংগলে কবিতা দিয়ে শরবত বানিয়ে খাইয়ে দেবে। পুরা এ পাশের শব্দ ঐপাশে ক্যামনে যাইতো তাও আজও এক রহস্য। যাহোক, বান্ধবীরা আসতো, দুপুরে খেয়ে দেয়ে রুমে দরজা বন্ধ করে সেই নিঃশ্বাস বন্ধ করে ফিচফিচি হাসি, শব্দ হলে, ঘুম ভাঙলে এসে শুরু হবে, স্কুল কি আড্ডা মারার জন্যে বন্ধ হইছে, বাসায় কাজ নেই, পড়া নেই, আমার সাথে বান্ধবীদেরও খবর হয়ে যেতো। এর সবই আজন্মের বন্ধুর জানা।

দোস্ত হাসতে হাসতে কয়, তোর সবই কামস এরাউন্ড, তোর গোজ এরাউন্ড নাই। ফোন ছেড়ে ভাবছি, জীবন যদি ঠেলে সেই পর্যন্ত নেয়, (কিছুতেই চাই না) নাতি-নাতনীর বেবি সিটিং করতে হয়, তাহলে ঐখানেও আমার একই হাসর হবে। ঐগুলাও টের পেয়ে যাবে, এইটা লুজ, এটারে টাইট দেয়া যায়,  দেখা যাবে, ঐগুলাও খ্যাক খ্যাক করবে আমার সাথে।

সবশেষে জাতিকে সৃজিত-মিথিলার বিয়ের শুভেচ্ছা। সম্ভবত, চিরাচরিত সূত্র মতে, সৃজিতের বয়স বেশি বলে এখানে মিডিয়া বয়সের ব্যাপারটা নিয়ে টানাটানি করে নাই। বাকি রইলো এখন ফেসবুকে জাতির বিবেকদের প্রতিক্রিয়া দেখার ইস্যুটি


#আজাইরা_পোস্ট

একদা বিষন্ন নিশি

পুরনো বন্ধু যখন ফোন করে, খুব খুব খুব কাতর কন্ঠে জানায়, এখনও অনেক মনে পড়ে, এখনও অনেক পাশে চায়, ভালবাসা মানেই তুই, খুব অসহায় লাগে নিশির। জীবন বদলে যায়, সামনে এগিয়ে যায় আমি বলবো না,  নিশির জীবনে সামনে পেছনে বলে  কিছু নেই। কিন্তু বদলে গেছে, অনেক অনেক বদলে গেছে সে, নিশির ভেতরে তার জন্যে মায়া আছে কিন্তু কোন উথাল পাথাল অনুভূতি আর নেই, যাকে সবাই "প্রেম" বলে। সহজাত হাই-হ্যালো তো সকল চেনা মানুষকেই সে বলে। অসাড়তা কি সেও বুঝতে পারে, তাই কি এত কাতর হয়? বারবার মুখ দিয়ে বলাতে চায়? 

বদলানো জীবনে অন্য মানুষের সাথে পরিচয় হয়, কাছাকাছি আসা হয়, পছন্দ হয়, ভাল লাগে, প্রেমও জাগে। গল্প,উপন্যাস বা সিনেমার মত একই জনের জন্যে হাজার বছর তার ভালবাসা অপেক্ষা করে না, থেমে থাকে না, তাহলে কি নিশি খুব বাজে কেউ? নাকি নিশি আর সবার মতই সাধারণ কেউ।  

আচ্ছা, বছরে নানা উপলক্ষ্যে দু-চারটা ফোন কল, কখনও দু-একটা জোক ফরোয়ার্ড, কিংবা নানারকম  শুভেচ্ছা বিনিময়, পহেলা বৈশাখ, ঈদ মুবারাক, ভাল আছো, শরীর ঠিকাছে, বাসায় সবাই ভাল, এ কি করে প্রেম হতে পারে? প্রেম তো একটা দৈন্দন্দিন ব্যাপার, এর মাঝে তো মানুষকে বাস করতে হয়, শরীরি কিংবা অশীরীরি কারো সাথে। সকালে বাসি মুখে চুমু খেতে হয়, সারাদিনে অগনিত বার জড়িয়ে ধরে গায়ের গন্ধ নিতে হয়, অলস দুপুরে কিংবা মন খারাপ করা বিকেলে  বুনো উত্তাল আদর খেলতে হয়। 


কিন্তু নিশি তার পুরানো বন্ধুকে মুখ ফুটে তার অসহায়ত্ব বলতে পারে না, আঘাত দিতে চায় না তাকে, কিন্তু চোখ গড়িয়ে অশ্রু পরে, তাজা, নিস্পাপ অশ্রু, সেটা হয়ত ভালবাসা কিন্তু প্রেম নয় কিছুতেই। 


১৮/১২/২০১৯