Sunday, 18 April 2021

এল।আই।জি চিত্র নায়িকা কবরী

বাবু সারোয়ারকে বিয়ে করে কবরী তখন নারায়নগঞ্জে থাকেন, আব্বুর সাথে বিয়ে হয়ে আম্মিও তখন নারায়নগঞ্জে কাছাকাছি ভাড়া বাসায় সংসার পেতেছেন। আব্বুর সাথে আম্মির প্রথম দেখা সিনেমা “নীল আকাশে নীচে” নায়িকা কবরী। আত্মীয় না হয়েও কত শত মানুষের সুখ-দুঃখের স্মৃতিতে তারকারা জড়িয়ে থাকেন। সুচন্দা, শাবানা, ববিতা, শাহনাজ রহমতুল্লাহ, এদের মত তিনি নিজের কাজ নিয়ে, জীবন দর্শন নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন না। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত নিজের কাজকে ভালবেসেছেন, কাজ করেছেন, ব্যক্তিত্ব ধরে রেখেছেন, নায়িকার মত সেজেছেন, জীবনকে উপভোগ করেছেন, অন্যদের উপভোগ করতে সাহায্য করেছেন। শী ওয়াজ সো স্টিক টু লাইফ এন্ড লাইভ। দুই হাজার নয় সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয় সংসদ নির্বাচন করেছেন এবং এম।পিও হয়েছেন। সেসময় আমি দেশে ছিলাম। নির্বাচনের দিন মেজ মামীর সাথে ফোনে কথা হচ্ছিলো, ফোন ছাড়ার সময় মামী বললো, “যাই, কবরীকে ভোটটা দিয়ে আসি”। পুরুষভোটারদের দু-চারটে ভোট যদি অন্য প্রার্থী পেয়েও থাকেন, নারী ভোটারদের ভোট একচেটিয়া কবরী পেয়েছিলেন। কিন্তু নারায়নগঞ্জবাসীদের সেই ভালবাসা তিনি ধরে রাখতে পারেননি। তাদের ভাষায়, রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি ছিলেন নিতান্ত অসৎ, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ এবং অধনস্তদের সাথে প্রচন্ড তার দুর্ব্যবহার। দুই-তিন বছর আগে প্রথম আলোতে যখন তার সাক্ষাৎকার ছাপা হয় “আমি একেবারে একলা মানুষ” আমার বুকের মধ্যে গিয়ে লেগেছিলো তার কথাগুলো। এই একাকীত্ব আমার বড্ড চেনা। আমি আমার চেনা বেশ কয়েকজনকে এই সাক্ষাৎকার লিঙ্কটি দিয়েছিলাম। যাদের নিয়ে হাজারো মানুষ স্বপ্ন দেখে, যাদের ছবি কতজনের ঘরে শোভা পায় তারা এক কাপ চা হাতে মন খুলে গল্প করার জন্যে একজন মনের মত সাথী হাতড়ে বেড়ায়। এদিক দিয়ে অনেকেই আছেন, ববিতা, রেখা, হেমা মালিনী, আফসানা মিমি আরো অনেকে। একাকী মানুষের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই যাচ্ছে। নিঃসঙ্গ মানুষ বাঁচার জন্যে কাজকে আঁকড়ে ধরে, কাজ করতে ভালবাসে, কাজের মধ্যেই তাদের বসবাস, কবরীও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। সিনেমাতেই নিজেকে সমর্পণ করেছিলেন। কবরী, ববিতা, সুবর্না মুস্তফা, আফজাল, আসাদ, আসাদুজ্জামান নূর, ফেরদৌসী মজুমদার, তারিক আনাম এদের সাথে আমাদের পুরো জীবন কেটেছে। কেউ না হয়েও তারা আমাদের। তাদের মৃত্যু, তাদেরকে হারানোর ব্যথা আমাদেরকে শোকাতুর করে নিতান্ত আপনজন হারানোর মতই। ভালবাসা কবরী আপনাকে।

Friday, 16 April 2021

দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – তেরোই এপ্রিল ---- ইজ দেয়ার এনি লাইট ইন দ্যা টানেল?

প্রিমিয়ে মার্ক রুতে জীবন এখন দুটি ভাগে বিভক্ত। একদল যারা সমানে অভিযোগ করেই যাচ্ছে, রেস্টুরেন্টে যেতে পারছে না, কনসার্টে যেতে পারছে না, পার্টি করতে পারছে না। আর একদল যারা হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে। এখন প্রায় আড়াই হাজার করোনা রোগী হাসপাতালে, যাদের মধ্যে আটশোকে ইনটেন্সিভ কেয়ার দিতে হচ্ছে, এবং যারা মারা যাচ্ছে তাদের অনেকেরই বয়স ষাটের নীচে। একশো ষাট হাজার সংক্রমিত রোগী নিয়ে গত বছরের এপ্রিল মাসের মতই আমরা এখনও সংক্রমণের শীর্ষে আছি। অন্যসব চিকিৎসা এখন স্থগিত করা হয়েছে। এই মুহূর্তে স্বাস্থ্যখাত সবচেয়ে ব্যয়বহুল খাত আর স্বাস্থ্যকর্মীরা পাগলের মত ব্যস্ত রয়েছেন। কিন্তু জীবন থেমে থাকছে না। ভ্রমণ, শিক্ষা, নিঃসংগতা, বিনোদন, খেলাধূলা, রেস্টুরেন্ট সব জায়গায় সমস্যা বেড়েই চলছে। আঠাশে এপ্রিল থেকে শিথিলতার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। বিশে এপ্রিল সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। আপাতত একটি পরিবর্তন আসছে, উনিশে এপ্রিল থেকে ডে কেয়ার পুরোপুরি খুলে দেয়া হবে। হুগো দ্যা ইয়ং যদি সংক্রমণের তীব্রতা কমে আসে তবে আঠাশে এপ্রিল থেকে কার্ফিউ তুলে দিয়ে, দুজন মেহমান বাসায় ডাকার পার্মিশান দেয়া হবে। স্টেপ বাই স্টেপ আগানো হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দুই সপ্তাহ পর, চিড়িয়াখান, সুইংমিংপুল, বাইরে খেলার মাঠ এসব খুলে দেয়া যায় কিনা দেখা হবে। এভাবে ধীরে ধীরে গরমের ছুটির মধ্যে আর কি কি খুলে দেয়া যায় ভাবা হচ্ছে। চার মিলিয়ন মানুষকে ইতিমধ্যে ভ্যাক্সিন দেয়া হয়েছে, মধ্যে মে’র মধ্যে ষাটোর্ধ্ব সবাইকে ভ্যাক্সিন দেয়া হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। জুলাইয়ের প্রথম দিকের মধ্যে সবাইকে অন্তত একটি ডোজ দেয়া হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। উনিশো একান্ন সালের আগে যাদের জন্ম তারা ইচ্ছে করলে ভ্যাক্সিনের জন্যে এপয়ন্টমেন্ট নিতে পারে। ভ্যাক্সিন দেয়ার জন্যে একশোতম টিকা কেন্দ্র খোলা হয়েছে আর এই উইকএন্ডে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ টিকা নেয়ার জন্যে নিজেদের নাম রেজিস্ট্রেশান করেছে। বারবার স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে, এস্ট্রোজেনিকা ভ্যাক্সিন ষাটোর্ধ্ব মানুষের জন্যে নিরাপদ, ষাটের কম বয়সীদেরকে অন্য কোম্পানীর ভ্যাক্সিন দিতে হবে। সাংবাদিকঃ আইসিইউ নিয়ে এত সমস্যা, তারপরও কেন এতদিনে আইসিইউর সংখ্যা বাড়ানো হলো না? প্রিমিয়ে রুতেঃ দুটো পন্থা আছে, অন্য রোগী সরিয়ে করোনা রোগীকে আইসিইউ দিয়ে দেয়া, তাহলে আবার অন্য ডিপার্টমেন্টের পরিকল্পনা ইত্যাদিতে চাপ পড়ে। দুই, হাসপাতালের রিকনস্ট্রাকশান করে আইসিইউর সংখ্যা বৃদ্ধি করা, সেটা করতে গেলে বছরের পর বছরের সময় দরকার, মানুষকে ট্রেনিং দেয়া দরকার, ইকুইপমেন্টস দরকার যদিও আমাদের পরবর্তী পরিকল্পনায় এই জিনিসগুলো আছে (সত্যিই মিনিস্টার প্রেসিডেন্ট!!!!!) সাংবাদিকঃ এতদিনে পরিস্থিতির তেমন কিছু পরিবর্তন হয়নি, আঠাশে এপ্রিলের আছে আর দু সপ্তাহ, তারমধ্যে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি আশা করাটা কি খানিকটা অবাস্তব নয়? প্রিমিয়ে রুতেঃ আমরা প্রতি সপ্তাহে পরিস্থিতির পর্যালোচনা করবো, আঠাশে এপ্রিল সম্ভব না হলে আরো দুই সপ্তাহ বেশী দেখবো নইলে আরো দুই/তিন সপ্তাহ, অন্য কোন উপায় এই মুহূর্তে আমাদের হাতে নেই। সাংবাদিকঃ আঠারোর নীচে যাদের বয়স, তাদের টিকা দেয়ার কথা কি ভাবা হয়েছে? স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুগোঃ যাদের স্বাস্থ্য সমস্যা আছে তাদেরকে প্রায়োরাটাইজ ক্যাটাগরীতে টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। বয়সানুযায়ী বাকীদের টিকা দেয়া হয়ে গেলে, ষোল থেকে আঠারোদেরও টিকা দেয়া হবে। তার নীচের বয়সীদের ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উপদেশ চাওয়া হয়েছে, এখনো তারা কিছু জানাননি। যারা যারা এস্ট্রোজোনিকার টিকা নিচ্ছেন না তাদের জন্যে সুখবর হলো, তাদের দ্বিতীয় ডোজ অনেক তাড়াতাড়ি সম্পন্ন হবে স্টক এভেইলেবিটির কারণে। সাংবাদিকঃ এক্সেস/প্রবেশ পরীক্ষা করার জন্যে আপনাদের যে এক বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করার কথা ছিলো, বিশেষজ্ঞদের মতে আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ার কারনে সেটি নাকি পুরোটাই ভুল দিকে গেছে? হুগো দ্যা ইয়ংঃ আমি পুরোটা ঠিক জানি না, এটি শুরু করার জন্যে প্রথম ধাপে আমরা পাঁচ মিলিয়ন ইউরো খরচ করেছি, আমরা এখন দ্বিতীয় ধাপে আছি, এটি পরিচালনার জন্যে আমাদের মিলিয়ন মিলিয়ন ইউরোর দরকার কিন্তু এখন পাইলট প্রজেক্টে ইউরো যাচ্ছে, বস্তা বস্তা ইউরোতো কোথাও রাখা নেই। তবে সামনের ধাপের জন্যে নাম লেখানো শুরু হয়েছে, সামনের ধাপ থেকে এই প্রজেক্টে বিনিয়োগ করা হবে। “ওপেন নেদারল্যান্ডস” একটি অলাভজনক অর্গানাইজেশান যারা যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পে অংশ গ্রহণ করতে চায় তাদেরকে বিনিয়োগ করতে বলেছে। মাসে কত টেস্টের দরকার হতে পারে সেটি নিয়েও গবেষণা চলছে। ইউরোপীয়ান মেডিসিন এক্ট বাইপাস করেই এগুলো করা হচ্ছে, কারণ বেশীর ভাগ সময়ই তারা খুব বেশি সময় নেয়। বারবার করে প্রিমিয়ে রুতে আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুগো বলেছেন, কখন কি কতটুকু খোলা হবে তার কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। একটি পদক্ষেপ নেয়ার পর দুই তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করে তার ফলাফল দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। এখনের সম্ভাব্য পরিকল্পনা পুরোই পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। রোড ম্যাপ পরিকল্পনামত এগোলে এগারোই মে থেকে ফিটনেস সেন্টার খোলা হবে আন্ডার রেস্ট্রিকশান। তারপরও ফিটনেস থেকে মেইল চলে এসেছে তারা রেডী দুবাহু বাড়িয়ে “ওয়ার্ম ওয়েলকাম” জানাতে। সবকিছুর পরেও জীবনের দিকে ধাবমান এই জগৎ।

Monday, 29 March 2021

দৌড়ে কচ্ছপ জিতেছে আমরা সবাই জানি – খরগোশের গল্পটি?

কার্যত পৃথিবীশুদ্ধ সবাই, কচ্ছপের উদাহরণ দিয়েই যায়, অবিচল থাকা আর নিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে বলেই যায়, স্থির কিন্তু ধীরে চলতে থাকলে প্রতিযোগিতা জেতা যায়। আচ্ছা, কেউ কি কখনো খরশোসের কাছে তার নিজের গল্পটি জিজ্ঞেস করেছে? আমি আপনাকে গল্পটি বরং ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বলি… আমি খরগোশের মনের কথা শোনার জন্যে একদিন তার সাথে বসেছিলাম পরিচিত হওয়ার জন্যে গ্রীস্মের একটি বিকেল বেছে নেই আমরা, বলতে দ্বিধা নেই দুজন দুজনের সাথে চমৎকার সময় কাটিয়েছি। বিশ্বাস করুন .. দুর্দান্ত একটি অভিজ্ঞতা ছিল, “হ্যাঁ, আমিই সেই খরগোশ যে হেরে গেছি। না, আমি অলস বা আত্মতুষ্ট হইনি। আচ্ছা, বরং গল্পটি বলি, আমি পাহাড়ের কাছাকাছি তৃণভূমিতে লাফিয়ে লাফিয়ে যাচ্ছিলাম, পেছনে ফিরে দেখছিলাম কচ্ছপটিকে কোথাও দেখা যায় কিনা। নিজের ওপর আস্থা রেখে ভাবলাম,পুকুরের কাছের বিরাট বটগাছের ছায়ায় একটু জিরিয়ে নেই। প্রতিযোগিতার ভাবনায় সারারাত ঘুমোতে পারিনি। দিনের পর দিন, বুড়ো নির্বোধ খরগোশটি বিরতিহীন কয়েশ মাইল চলার ক্ষমতা নিয়ে গর্ব করেই যাচ্ছিলো। জীবন হলো ম্যারাথনের মত সুস্থির হেঁটে চলা, প্রতিযোগিতার মত উর্ধ্বশ্বাসে দৌঁড়ে চলা নয়। গাছের ছায়াটা ছিল ছাতার মতো। আমি প্রায় ডিমের মত একটি পাথর খুঁজে পেয়ে তাকে ঘাস দিয়ে ঢেকে বালিশ বানিয়ে নিলাম। শুয়ে শুয়ে আমি পাতার শন শন কাপুঁনির শব্দ আর মৌমাছির গুঞ্জন শুনছিলাম – মনে হচ্ছিলো তারা আমাকে ঘুম পারাতে শুধু সাহায্যই করছে না, ষড়যন্ত্রও করছে। তাদের কৃতকার্য হতে বেশি সময়ও লাগেনি। নিজেকে আমি সুন্দর জলের স্রোতের ধারার মধ্যে বয়ে যেতে দেখলাম। যখন তীরে এসে পৌঁছলাম, তখন আমি একজন বৃদ্ধ মানুষকে দেখতে পেলাম যার বিস্তীৰ্ণ দাড়ি ভর্তি মুখ, ধ্যানের ভঙ্গিতে পাথরের ওপর বসে ছিলো। তিনি চোখ খুললেন, বিজ্ঞের হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কে?" “আমি একটা খরগোশ। আমি একটি দৌড় প্রতিযোগিতায় আছি " "কেন?" "জঙ্গলের সমস্ত প্রাণীকে প্রমাণ করতে যে আমিই দ্রুততম।" "কেন নিজেকে দ্রুততম প্রমাণ করতে চাও?" “যেনো এমন একটি পদক পাই যা আমাকে সম্মান দেবে, টাকা দেবে, খাবার দেবে ..." "চারপাশে ইতিমধ্যে অনেক খাবার আছে” তিনি দূর থেকে বনের দিকে ইশারা করলেন। "ফল এবং বাদামে ভরা সমস্ত গাছের দিকে তাকাও, দেখো গাছ ভর্তি করা শাক পাতা” “কিন্তু আমি সম্মানও চাই। আমি এই মুহূর্তে বেঁচে থাকা দ্রুততম খরগোশ হিসাবে স্মরণীয় হতে চাই। " "তুমি কি দ্রুততম হরিণ বা বৃহত্তম হাতি বা সবচেয়ে শক্তিশালী সিংহের নাম জানো যা তোমার আগে হাজার বছর বাস করেছিল?" "না" “আজ তোমাকে কচ্ছপ দিয়ে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। কাল, দেবে সাপ দিয়ে। পরশু হবে জেব্রা। তুমি কি নিজেকে দ্রুততম প্রমাণের জন্যে সারা জীবন দৌড় চালিয়ে যাবে? " “হু। আমি এটি ভাবিনি। আমি সারা জীবন প্রতিযোগিতা করতে চাই না। " "তুমি তবে কি চাও?" পাতার কাঁপন আর মৌমাছির গুঞ্জনের মধ্যে একটি বটগাছের নীচে বালিশ বানিয়ে ঘুমিয়ে পরতে চাই। আমি পাহাড়ের কাছাকাছি তৃণভূমির পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতার কাটতে চাই ” “তুমি কিন্তু এই মুহূর্তে এই সমস্ত জিনিস করতে পা্রো। প্রতিযোগিতা ভুলে যাও। তুমি আজ আছো কিন্তু কাল থাকবে না।“ ঘুম ভেঙে গেলো। পুকুরে ভেসে থাকা হাঁসগুলিকে খুব সুখী লাগছিল। আমি এক মুহুর্তের জন্য তাদের চমকে দিয়ে পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়লাম। তারা প্রশ্নবোধক চোখে আমার দিকে তাকিয়েছিল। "তোমার না আজ কচ্ছপের সাথে দৌড় প্রতিযোগিতার কথা না?" ‘এটা অর্থহীন” । একটি নিরথর্ক চর্চা। আমি এখানেই থাকতে চাই। আশাকরি কোনদিন কেউ এই পৃথিবীকে আমার গল্প বলবে। আমি প্রতিযোগিতা হেরেছি কিন্তু জীবন ফিরে পেয়েছি। জীবন কে পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করতে হবে, আজ, কাল, প্রতিটি দিন। এই ছুটে চলা, প্রতিযোগিতা, সব বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমার মনে হয় আমার জীবনকে আমার মানদণ্ডে যাপন করা উচিত, বিশ্বের মতো নয়। মূলঃ অন্তর্জাল ভাষান্তরঃ তানবীরা হোসেন

Thursday, 25 March 2021

দ্যা করোনা ডায়রী অফ তাতা ফ্র্যাঙ্ক – তেইশে মার্চ

কুইন জুলিয়ানা তারপর কুইন বিয়াট্রিক্স, লং হিস্ট্রি অফ উইম্যান এম্পাওরমেন্ট। সিগ্রিড কাখকে নিয়ে আবারও উইম্যান এম্পাওরমেন্টের দিকে ঝুঁকে ছিলো নেদারল্যান্ডস। কিন্তু ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলো সতেরই মার্চের এই নির্বাচন। পরপর চার বারের মত ভিভিডি লীডিং এবং মার্ক রুতে প্রাইম মিনিস্টার, মিডিয়ার মতে, এই বিজয়ের পুরো কৃতিত্ব মার্ক রুতের। ইউরোপে সবচেয়ে বেশী দিন জনপ্রিয়তার সাথে সার্ভ করে যাওয়া লীডারের খাতায় এখন রুতে। ডাচেরা এই নির্বাচনে পরিবর্তনের চেয়ে দেশের অর্থনৈতিক স্থিরতা-অগ্রগতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। নেদারল্যান্ডসের ঐতিহ্য ধরে রেখে কোয়ালিয়শন সরকার, তবে আশার কথা সমভাবাপন্ন চিন্তার দলগুলোর মধ্যে কোয়ালিয়শন, এক্সট্রিম লেফট আর এক্সট্রিম রাইটের মধ্যে নয়। পুরো ইউরোপ ভ্যাক্সিন নিয়ে অরাজকতায় তার মধ্যে নেদারল্যান্ডসের অরাজকতা সীমাহীন। “ল্যান্ড অফ লজিস্টিক” বলা হয় যাদের তারা ঠিক করে কোম্পানী প্রোডাকশান অনুপাত দেখে ভ্যাক্সিন অর্ডার করতে পারে নাই, যাও মজুদ আছে তাও সবাইকে ঠিক করে দেয়া হয় নাই, এক তৃতীয়াংশ ভ্যাক্সিন বাক্সের মধ্যে এক্সপায়ার্ড হয়ে যাচ্ছে। রুতে সাহিত্যিক ভাষা প্রয়োগ করে জনতাকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছে। লাইডেন ইউনিভার্সিটি জনসন এন্ড জনসনের সাথে “ইয়ানসেন” ভ্যাক্সিন আনছে, সব ঠিক থাকলে ডাচ এই ভ্যাক্সিনটি হবে পৃথিবীর চতুর্থ করোনা ভ্যাক্সিন, আঠারো বছরের ওপরে সবাইকে একটি ডোজ দিতে হবে, আমরা সাধারণ জনগন হয়ত খাঁটি ওলন্দাজ ভ্যাক্সিন পাবো। প্রিমিয়ে মার্ক রুতেঃ লোকে বলে সুন্দর সময় “এখন”, আমি বলছি না, সুন্দর সময় সামনে আসছে, গরমের সময়, আশাকরি এরমধ্যে ষাটোর্ধ্ব আর দুর্বল স্বাস্থ্যের সবাইকে ভ্যাক্সিন দেয়া শেষ হয়ে যাবে। দু’সপ্তাহ আগে বলেছিলাম, ইস্টারের আগে কিছু নিয়ম শিথিল করা যায় কিনা সেটা নিয়ে কথা বলবো। দুঃখের সাথে জানাতে হচ্ছে, সংক্রমণের হার কমেনি, আইসিইউ এবং হাসপাতালে ভীড় আরো বেড়েছে তাই লকডাউন আর কার্ফিউ বিশে এপ্রিল অব্ধি বাড়াতে হচ্ছে তবে আমরা ডে-লাইট সেভিং এ যাচ্ছি বলে একত্রিশে মার্চ বুধবার থেকে কার্ফিউর সময় রাত নয়টার পরিবর্তে রাত দশটা থেকে ভোর সাড়ে চারটা করা হলো। সমস্ত পৃথিবীর করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে ট্র্যাভেল ব্যান পনেরই মে পর্যন্ত বাড়ানো হলো। সামনের ছুটির দিনগুলোতে সবাইকে নেদারল্যান্ডসেই ছুটি কাটাতে অনুরোধ করা হচ্ছে, আপাতত দেশের বাইরে নয়। অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ নেদারল্যান্ডসে আসলে কিংবা নেদারল্যান্ডসের বাইরে গেলে ছয় হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। ছোট ব্যবসায়ীরা যারা আজকের সন্ধ্যায় আবারও আশাহত হয়েছেন তাদের বলতে চাই, সরকার থেকে আপনাদের সাহায্য দেয়া অব্যাহত থাকবে, বন্ধ করে দেয়া হবে না, শুধু ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই সমর্থণ দেয়া হবে না, নতুন করে আবার শুরু করতেও সমর্থণ দেয়া হবে। তেরোই এপ্রিলের প্রেস কনফারেন্সে পরবর্তী পরিস্থিতি জানানো হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুগো দ্যা ইয়ংঃ জুনের শেষের দিক আশা করা হচ্ছে চল্লিশ থেকে শুরু করে ত্রিশ বছরের মধ্যে যারা আছেন তাদেরও ভ্যাক্সিন দেয়া হয়ে যাবে। আশাকরছি জুলাইয়ের মধ্যে বিশ বছর বয়সীসহ সবার প্রথম ডোজ নেয়া হয়ে যাবে আর দুই তৃতীয়াংশ মানুষের ভ্যাক্সিন কোর্স পুরোই শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করছি। বারোই এপ্রিল সেলফ টেস্টের প্রথম কিটের লট পাওয়া যাবে আশা করা হচ্ছে সেটা প্রথমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেয়া হবে তারপর ছাব্বিশে এপ্রিল থেকে সবাই নিজে নিজেই টেস্ট করতে পারবে, উচ্চশিক্ষা থেকে শুরু করে শিক্ষা ক্ষেত্র পুরোপুরি খুলে দেয়া হবে। দুই হাজার বাইশের প্রথম কোয়ার্টারের জন্যে ভ্যাক্সিনের অর্ডার দেয়া হয়ে গেছে। আমাদের ধারনা দুর্বল স্বাস্থ্যের মানুষদের রক্ষা করতে ভ্যাক্সিন দিয়ে যেতে হবে। সাংবাদিকঃ ইলেকশানের আগের স্পীচে বলেছিলেন, ইস্টারের আগে ক্যাফে, রেস্টুরেন্ট এসব খুলে দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে, এটা কি তবে নির্বাচন জেতার একটি কৌশল ছিলো? প্রিমিয়ে রুতেঃ প্রত্যেকে ইতিবাচক আশা করে আমিও তাই করেছিলাম এবং এখনো করি। নির্বাচনের জন্যে ছিলো না। সাংবাদিকঃ প্রিমিয়ে রুতে আপনি বলেছেন বাসায় একজনের বেশি অতিথি এলাউড না, কিন্তু ভিভিডি জেতার আনন্দে আপনারা সবাই বড় পার্টি করলেন? আপনার উদাহরণ সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না? প্রিমিয়ে রুতেঃ ওটা ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান ছিলো না আর আমরা যতটা সম্ভব অল্প মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছি। মীটিং ছিলো, পার্টি না। সাংবাদিকঃ এই লকডাউন আর কার্ফিউ কিশোর আর তরুণদের মানসিক সমস্যা প্রকট করে তুলছে, সেটা আপনারা জানেন বারবার বলছেন কিন্তু তাদেরকে সাহায্য করার কোন পরিকল্পনার কথাতো বলছেন না। আতঙ্কের ব্যাপার হলো করোনার কারণে তাদের ডাক্তারের নাগাল পেতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। হুগো দ্যা ইয়ংঃ আমরা এটা নিয়ে মিউনিসিপ্যালটিতে কথা বলছি, চেষ্টা করছি আর দেখছি কি করে দ্রুত, কার্যকরী কিছু পরিকল্পনা নেয়া যায়। টাকা পয়সার দিকটাও দেখতে হবে। অনেক বেশি টাকা যেহেতু জীবন বাঁচানোর কারণে খরচ করতে হচ্ছে, তাই অন্য পরিকল্পনাগুলো কিছুটা ধীরে এগোচ্ছে। সাংবাদিকঃ জুনের ইউরোপীয়ান কাপ ফুটবলের প্রস্তূতি নিয়ে আপনারা ব্যস্ত? হুগো দ্যা ইয়ংঃ আমরা সমস্ত কিছু পরীক্ষা করে দেখছি, করোনা এপ, তাৎক্ষণিক করোনা কীটের দ্বারা পরীক্ষার মাধ্যমে কি করে সবার জন্যে ফুটবলকে সামনে নিয়ে যাওয়া যায়। গতকাল একুশে মার্চ হল্যান্ডে একশো পনের হাজার করোনা টেস্টের এপয়ন্টমেন্ট হয়েছে, সর্বোচ্চ রেকর্ড। বাচ্চা আর কিশোরদের সংক্রমণের হার অত্যাধিক। সাংবাদিকঃ ইইউ টপ আর ব্রাসেলসে ডিসিক্সটি সিক্স্যের জয় নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে আর তারা আপনার সমন্ধে মন্তব্য করেছে, আপনি আর একটু সামাজিক আর আন্তরিক হবেন। প্রিমিয়ে রুতেঃ আমি নিজেকে যথেষ্ঠ সামাজিক, আন্তরিক মনে করি, অভিনন্দন ছাড়া কোন সমালোচনা আমার কানে আসেনি, এ ব্যাপার নিয়ে এখন আর আলোচনা চাই না। “বারো হাত কাঁকুড়ের তেরো হাত বিচি” হলো এই প্রেস কনফারেন্স। প্রিমিয়ে আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সব মিলিয়ে বক্তৃতা দিয়েছে বারো-চৌদ্দ মিনিট আর সাংবাদিকরা তার ওপরে প্রশ্ন করেছে এক ঘন্টার ওপরে। “বাল কি খাল নিকাল না” তো কোই ইনসে পুঁছে, এদের এই প্রশ্নোত্তরে কোথাও একটি কমা, সেমিকোলন পরিবর্তন হবে না জেনেও, ওয়ার্ড চেঞ্জ আর টুইস্ট করে একই কথা বলেই যেতে থাকে। ক্যাবিনেট যা ডিসাইড করবে তাই, কারো কথায় হিলার পাত্র তারা না কিন্তু তারা দমবে না।

Sunday, 14 March 2021

আমি নারী, আমি মহিয়সী

সবসময় আমরা ভারতবর্ষে মেয়েদের অত্যাচার-অবিচার, সম্পত্তিতে অধিকারহীনতা, রাস্তাঘাটে নির্যাতন ইত্যাদি নিয়ে কথা বলি। আজ দুটো অন্যরকম ঘটনা লিখবো, খানিকটা আশা জাগানিয়া আর অনেকবেশী ভালবাসার একঃ উত্তর-পশ্চিম রাজস্থানের পিপলান্ট্রি গ্রামের মানচিত্র পরিবর্তন হয়েছে মেয়েদের কারণে, হ্যাঁ, ঠিক পড়েছেন, মেয়েদের কারণে। দুই হাজার সাত সালে গ্রামের সারপাঞ্চ শ্যাম সুন্দর পালিওয়ালের কন্যা কিরণ পানিশূন্যতায় মারা যায়। হৃদয়বিদারক এই মৃত্যুতে তার পরিবার মেয়ের স্মৃতি রক্ষার্থে গ্রামের প্রবেশপথের কাছে তার নামে একটি গাছ লাগিয়েছিল। পিপলান্ট্রির নেতা হিসাবে পালিওয়াল ভেবেছিলেন, এই ওয়ান-অফ ইভেন্টটিকে আরও বিস্তৃত প্রোগ্রামে পরিণত করবেন। আর শীঘ্রই, অন্যান্য গ্রামবাসী তাঁর নেতৃত্ব অনুসরণ করতে শুরু করেছিলেন। পিপলান্ট্রিতে প্রতিবারই যখন কোনও মেয়ে জন্মেছে, গ্রামবাসীরা একশো এগারোটি গাছ রোপণ করেছে, স্থানীয় হিন্দুদের জন্য এটি একটি শুভ সংখ্যা। এই অঞ্চলে এখন আমের ও গুড়ের গাছ থেকে শুরু করে চন্দন কাঠ, নিম, পেপাল এবং বাঁশ পর্যন্ত প্রায় একাধিক গাছ রয়েছে যা এককালের অনুর্বর জমিতে চাষ হচ্ছে এবং তা হচ্ছে প্রায় আনুমানিক এক হাজার হেক্টর জুড়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, পালিওয়ালের সাধারণ ধারণাটি একটি বিস্তৃত ইকো-নারীবাদী আন্দোলনে প্রসারিত হয়েছে। গাছ লাগানোর পাশাপাশি কন্যার নতুন বাবা-মা একটি হলফনামায় স্বাক্ষর করেন যে তারা আঠারো বছর বয়সের আগে তাদের মেয়েদের বিয়ে দেবে না এবং তাদের স্কুল শেষ করতে দিবে। গ্রামবাসীরা একত্রিশ হাজার রুপি (£ ৩০৫ ডলার) দিয়ে প্রতিটি মেয়ের জন্য একটি স্থায়ী আমানত অ্যাকাউন্ট খুলেন যা তার পড়াশুনার জন্য বা তার বিয়ের জন্য আঠারো বছর বয়সে ব্যবহার করতে পারবেন। আরও বড় কথা, পিপলান্ট্রির ক্রমবর্ধমান অরণ্য এখন জলীয় ব্যবস্থাপনার উন্নতি করতে গিয়ে ভারতীয় গ্রামগুলি কীভাবে আক্ষরিক অর্থে সবুজ হতে পারে তার একটি উদাহরণ হিসাবে কাজ করছে। দুইঃ সম্প্রতি নিকোলাস ক্রিস্টোফ নিউইয়র্ক টাইমসে আর্টিকেল লিখেছেন, “What can Biden’s plan do for poverty? Look to Bangladesh”— উনিশো একানব্বই সালে, বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড় নিয়ে বিস্তাতির রিপোর্ট করতে যেয়ে, ফিরে এসে আমি লিখেছিলাম, “দেশটি দুর্ভাগ্যক্রমে উদ্বিগ্নজনক” শুধু জলবায়ু পরিবর্তন নয় প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশাল পরীক্ষার মুখোমুখি। তবে, আমার হতাশাবাদ ভুল ছিল, কারণ তিন দশক ধরে অর্থনীতিতে অসাধারণ অগ্রগতি বাংলাদেশ করে বাংলাদেশ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মহামারীর আগ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক এর চার্ট অনুসারে, বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রতি বছর সাত% থেকে আট% পর্যন্ত বেড়েছে যা চীনের চেয়েও বেশী ছিল। এই উন্নতির রহস্যা? শিক্ষা আর নারীদের কর্মসংস্থান। বাংলাদেশের হাই স্কুলগুলোতে এখন ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের সংখ্যা বেশী। নোবেল শান্তি পুরষ্কার প্রাপ্ত মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা নারীদের উদ্যোক্তা হিসাবে পরিণত করেছিল - চার বছরে প্রায় একশোহাজার নারী "টেলিফোন লেডি" হয়ে ওঠে যারা মোবাইল ফোন সার্ভিসে কাজ করতো, এবং এটি দেশের অর্থনৈতিক মোড় ঘুরিয়ে দিতে সহায়তা করেছিল। শিক্ষিত মহিলারা গ্রামীণ এবং ব্র্যাকের মতো মর্যাদাপূর্ণ সংস্থায় কাজ করে, বাচ্চাদের টিকা দেয়া, স্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবস্থা প্রচার করা, গ্রামবাসীদের পড়তে শেখানো সহ জন্মনিরোধক ব্যবস্থা ব্যাখ্যা করা, বাল্য বিবাহকে নিরুৎসাহিত করার মত কাজগুলো করে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে দারিদ্র্যতা হ্রাসের একটি অনুপ্রেরণামূলক কাহিনী বলে অভিহিত করেছে, পঁচিশ মিলিয়ন বাংলাদেশি পনেরো বছরে দারিদ্র্যতা কার্ভ থেকে উপরে এসেছে, উনিশো একানব্বই সালের তুলনায় অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের অংশ বাংলাদেশে প্রায় অর্ধেক কমেছে এবং এখন ভারতের চেয়ে কম। আর এই পুরো চিত্রটি পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে নারী শিক্ষা থেকে নারীদের কর্মসংস্থান। এক কথায় বলা যায়, দারিদ্রতাতে বিনিয়োগ করেই বাংলাদেশ দারিদ্রতা মোচন করছে। যদিও পোশাক শিল্পের নারীদের কথা এখানে নিকোলাস আলাদাভেব উল্লেখ করেননি কিন্তু আমরা জানি, অর্থনীতি পরিবর্তনের প্রথম ধাপের সূচনা অনেকটা তাদের মাধ্যমেই শুরু হয়েছিলো। সংগ্রামী নারীরা যারা দেশের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দিচ্ছে তাদেরকে আমার লাল স্যালুট। আমি নারী, আমি মহিয়সী আমার সুরে সুর বেধেছে জোৎসাবীণায় শশি। আমি নইলে মিথ্যা হতো সন্ধা তারা উঠা মিথ্যা হতো কাননের ফুল ফোটা (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) http://www.bbc.com/travel/story/20210302-piplantri-the-indian-village-where-girls-rule https://www.nytimes.com/2021/03/10/opinion/biden-child-poverty-bangladesh.html?smid=url-share https://www.mercurynews.com/2021/03/12/kristof-what-can-bidens-plan-do-for-poverty-look-to-bangladesh/amp/

Wednesday, 10 March 2021

ডাচ সাধারণ নির্বাচন ২০২১

সামনের সতেরই মার্চ নেদারল্যান্ডসে সাধারণ নির্বাচন। আমাদের বাঙালিদের জন্যে খানিকটা অদ্ভূদ ব্যাপার। এ কেমন দেশ যেখানে নাহি মিছিলের ছটা জনসভার ঘনঘটা নাহি শ্লোগান নাহি পোস্টারিং এর রেশ হ্যাঁ, দৈনন্দিন কাজ ফেলে এখানে বক্তৃতা শুনতে যাওয়ার ফুরসত মানুষের কম, আর তাই ডিবেট চলে টিভিতে আর আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ। বাসায় বাসায় প্রতিদ্বন্দ্বীদের তালিকা পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ঠিক যেভাবে বুথে থাকবে সেইভাবে। প্রতি চার বছরে নেদারল্যান্ডসে সাধারণ নির্বাচন হয় আর এখানে কোন এলাকাভিত্তিক ব্যাপার নেই, যেকোন এলাকার লোক, যে কাউকেই ভোট দিতে পারে। আমস্টার্ডামে বসবাসকারীর যদি হেগের প্রার্থী পছন্দ তাকেই ভোট করতে পারে কিংবা উল্টোটা। ভিভিডি আছে এক নম্বর কলামে আর তার এক নম্বর প্রতিদ্বন্দ্বী মার্ক রুতে। ডাচ ডিপ্ল্যোম্যাট সিগ্রিট কাখ তার টেলিভিশিন ডিবেট থেকে আলোচনায় উঠে এসেছেন। যদিও তিনি মার্কে রুতের মন্ত্রীসভায় বৈদেশিক বানিজ্য ও উন্নয়ন মন্ত্রী ছিলেন কিন্তু তিনি এখন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ডিসিক্সটি সিক্স থেকে। পৃথিবীতে মেয়েরা কোথায় সবচেয়ে নিরাপদে এবং ভাল আছে তারওপর ইউএস নিউজ এন্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট ২০২০তে ডেনমার্ক আর সুইডেনের পরেই নেদারল্যান্ডসের মেয়েদের অবস্থান তারপরও জেন্ডার ইনইক্যুইলিটি, জেন্ডার ডিসক্রিমিনেশান তার ক্যাম্পিং এর প্রধান বিষয় যেটা মেয়েদের কাছে তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। নেদারল্যান্ডসের হিলারী ক্লিনটন বলা চলে। ধারনা করা হচ্ছে, রুতের সাথে কাখের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। তিনি আছেন লিস্টের চার নম্বর কলামের এক নম্বরে। কে কয়টা রাস্তা বানিয়েছে, কার্পেটিং করেছে কিনা, গাড়ি গ্রামের বাড়ি অব্ধি যায় কিনা এটা নিয়ে এখানে ভোটাভুটি হয় না। এই পৃথিবীর সমস্যা অন্য। এখানে বাচ্চাদের ডেকেয়ারে সরকার কতটুকু সাবসিডি দিবে, মিনিমাম বেতনের পরিমান এখন বাড়িয়ে দেয়া উচিৎ, পড়াশোনায় সরকার কতটুকু সাবসিডি বাড়াবে ইত্যাদি ইত্যাদি পয়েন্টে হবে ভোটাভুটি। আমার নজর কেড়েছে এই পয়েন্টগুলো অতীতের দাসপ্রথার জন্যে নেদারল্যান্ডস সরকারের প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থণা করা কি উচিৎ? এই বছরের থার্টি ফাস্টে ফায়ার ওয়ার্ক্স করার সুযোগ দিতে হবে যারা মাংস কিনবে/খাবে তাদের বেশি/এক্সট্রা ট্যাক্স দিতে হবে এই ডাচ নির্বাচনে বাংলাদেশেরও একজন প্রার্থী আছে, আমাদের ছোটবোন সুকন্ঠী গায়িকা শম্পার বর নীলস (Niels van den Berge) আমাদের বাংলাদেশের জামাই। খ্রুনেলিঙ্কস আছে লিস্টের পাঁচ নম্বরে আর নীলসের নম্বর হলো বারো। আর অন্যসবার মত শম্পাও নির্বাচন নিয়ে অনেক টেনশানে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের কাছে এবং তরুণ জেনারেশানের কাছে খ্রুনেলিঙ্কস বেশ জনপ্রিয়। জলবায়ু-পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন ছাড়াও তারা কথা দিয়েছে, তারা ক্যাবিনেটে গেলে, ছাত্রছাত্রীদের “বেসিক স্কলারশিপ সিস্টেম” আবার ফিরিয়ে আনবে। স্টুডেন্টদের আর জিরো পার্সেন্ট রেন্টে লোন নিয়ে পড়াশোনার পুরো খরচ টানতে হবে না। যাদের ছেলেমেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে তাদের জন্য অত্যন্ত সুখবর। কে ক্ষমতায় যাবে সেটাই শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়, বেশি সিট পেলে ক্যাবিনেটে অন্তত তর্ক করতে পারবে, ভেটো দিতে পারবে, লড়তে পারবে অধিকারের জন্যে। আলু ভর্তা আর ডাল নীলসের প্রিয় খাবার, নিজেই রাঁধতে পারে। আমাদের বাংলাদেশের জামাই বলে সব বাঙালিদের ভোট নীলস পেতেই পারে। ভেরি বেস্ট উইশেস নীলস আর শম্পা। বাঙালি ভোটারদের জন্যে করা নীলসের বিশেষ ভিডিওটি মন্তব্যে জুড়ে দিলাম। কে কি গুরুত্বপূর্ন ভাবো, তার ওপরে ভিত্তি করে দল নির্বাচন করতে চাও, সেজন্যে প্রতিবারের মত এবারও নির্বাচনী মেনিফেস্টোর ওয়েবসাইট লিঙ্ক বানানো হয়েছে। মন্তব্যের ঘরে আমি লিঙ্ক দিয়ে দিলাম, দেখে নিও। সবাই নিজের পছন্দমত ভোট দেয়াটাই ভাল, কারণ এখানে সাধারণতঃ একক কোন পার্টি ক্যাবিনেট বানানোর মত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় না, বেশীরভাগই কোয়ালিশন হয়। লেখাটা মূলত তাদের জন্যে যারা বলো, আপু আপনি একটু ফেসবুকে লিখে দিয়েন <3 https://tweedekamer2021.stemwijzer.nl/#/

Monday, 8 March 2021

“‘মাইয়াফোয়া’র কহন”

রোঙ্গিগাদের সম্বন্ধে আমরা সাধারণত জানি, এরা মাদক ও চোরাচালান ব্যবসায় জড়িত, অনেক সন্তানের জন্ম দিয়ে বাংলাদেশকে আরো ঘনবসতি করে তুলছে, পড়াশোনা করছে না, বেনামীতে রেশন কার্ড বানিয়ে, সিম কার্ড তুলে হেন কোন অপরাধ নেই যা বাংলাদেশে বা দেশের বাইরে করে যাচ্ছে না। কিংবা “রোহিঙ্গা” মানে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা আর নোবেলজয়ী সুকির ঘৃণ্য রাজনীতি। এবারের বইমেলায় এসেছে ছোটবোন বন্ধু ফাহমি ইলার লেখা প্রথম গল্পের বই “‘মাইয়াফোয়া’র কহন”। ইউএনসহ আরো তিনটি সংগঠনের কর্মী হয়ে ইলা রোহিঙ্গাদের সাথে আঠারো মাস হাতে কলমে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে, দিনের পর দিন ক্যাম্পে ক্যাম্পে তাদের সাথে দিন কাটানোর অভিজ্ঞতা থেকে এই গল্পগুলো লিখেছে। মেয়েদের জীবনে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাই প্রতিটি গল্পের উপজীব্য। শরনার্থী এসেছে, আমাদের ওপর বোঝা হয়েছে, আমরা এটুকুই জানি। ক্যাম্পে এই শরনার্থী জীবন সম্পর্কে কি কিছু জানি? কেমন কাটে সেই দিন? এই বইটি পড়তে যেয়ে লেখক নীলিমা ইব্রাহিমের “আমি বীরাঙ্গণা বলছি” বইটির কথা বারবার মনে পড়ছিলো। একটিতে আছে পাকিস্তানি সৈন্য আর তাদের বাংলাদেশি দোসরদের অত্যাচারের ইতিহাস আর তার পরবর্তী ইতিহাস হলো “মাইয়াফোয়া’র কহন”, রোহিঙ্গা সৈন্য, বাংলাদেশ আর্মি ও তাদের দোসরদের অত্যাচারের ইতিহাস। স্বজন-স্বজাতি দ্বারা মেয়েরা যতোটা নির্যাতিত হয়, বাইরের মানুষ তা থোড়াই করতে পারে। প্রতিটি গল্প আলাদা করে আলোচনা করে আমি স্পয়লার দিতে চাই না। যারা বইটি কিনে পড়বেন তাদের জন্যে কিছুটা সারপ্রাইজ থাকুক। শুধু বলবো, ট্রুথ ইজ স্ট্রেঞ্জার দ্যান ফিকশান। পুরো বইয়ের সারাংশ লেখকের সংলাপ থেকেই উদ্ধৃত করা যায়, শায়লার কেনিয়ান বস মাকেনা বলেছে, ‘নারীর গায়ের রঙ, ধর্ম, পোশাক, দেশ, সংস্কৃতি আলাদা হলেও গল্পগুলো কিন্তু ঘুরে ফিরে এক।’ কিংবা কর্মক্ষেত্রে পুরুষ সহকর্মীর দ্বারা উত্যক্ত বিরক্ত মিতা গাড়ির সিটে হেলান দিয়ে ভাবে- ‘আজও বাংলাদেশে যৌন হয়রানি বলতে মানুষ বোঝে ধর্ষণ। শরীরে বাজে স্পর্শ করলে সচেতন কেউ কেউ একে যৌন হয়রানি বলে, তাও বহু মানুষ এটা জানে না। আর সেক্সিস্ট কমেন্ট করা কিংবা শরীরের বিশেষ অঙ্গের দিকে তাকিয়ে থাকাতো এদের কাছে স্বাভাবিক। এগুলো নিয়ে আলোচনা করতে গেলে বা প্রতিবাদ করলে প্রথম দোষ দেয়া হয় মেয়েটিকেই। মেয়েটির পোশাক থেকে তার হাঁটা চলা, কথা বলা, বাইরে বের হওয়া, পর্দা না করা সকল কিছুকে দায়ী করা হয়।’ রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করতে যেয়ে পদে পদে বিদেশী এনজিওগুলো আমাদের দেশের সরকারি অফিসারদের অসহযোগিতা, রক্ষণশীলতা, অসদাচারণ, ক্ষমতার অপব্যবহারের কাছে জিম্মি হয়েছে। কিছু ব্যতিক্রম বাদে। নীলার পর্তুগীজ বস ম্যাথিলডা বলেছে, “একটা দেশের সরকারি প্রতিনিধি যদি ইন্সেন্সিটিভ হয় তাহলে কাজ করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং তবে অসম্ভব না।“ তারপরেও একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও রক্ষণাবেক্ষনের জন্যে যতটুকু সম্ভব আন্তরিকতার জন্যে বাংলাদেশ সরকার নিঃসন্দেহে ধন্যবাদ পেতে পারে। খুব পরিচ্ছন্ন ভাষায় গোছানো লেখা। ব্লগিং এর কারণে বর্ননার বাহুল্যহীন মেদহীন লেখা পাঠককে আরাম দেয়। ইলা গল্পের সংলাপগুলো প্রথমে রোহিঙ্গা ভাষায় লিখে তারপরের লাইনে প্রমিত বাংলায় অনুবাদ করে দিয়েছে। রোহিঙ্গা ভাষার সাথে চট্রগ্রামের ভাষার অনেক মিল আছে (তথ্য সূত্রঃ লেখক)। এই জিনিসটা আমার কাছে একটু অন্যরকম লেগেছে, আঞ্চলিক গল্পের সংলাপের এরকম অনুবাদ সাধারণত দেখা যায় না। সংবাদপত্রে রোহিঙ্গাদের নিয়ে যেসব খবর আমরা নিয়মিত পড়ি তার পেছনের গল্পগুলো যদি জানতে চান কিংবা নির্মোহ বিশ্লেষণ আর সত্যের প্রতি যাদের আকর্ষণ আছে তাদের জন্যে এই বই অবশ্য পাঠ্য। আমি ইলাকে বলবো, এই পটভূমিতে একটা উপন্যাসে হাত দিতে। বিশাল ক্যানভাস, লেখার মত ইনাফ ম্যাটেরিয়াল তার বাস্তব অভিজ্ঞতাতে মুজুদ, শুধু রঙ-তুলির আঁচর লাগানো বাকি, আরো কত কি তুলে আনা এখনো বাকি, আর সেই উপন্যাসে ভর করে উঠে আসবে দারুণ চিত্রনাট্যের অসাধারণ এক ছবি। অপেক্ষায় রইলাম। বইটি গ্রন্থিক প্রকাশন প্রকাশ করেছে। আমি ফাহমি ইলার লেখক জীবনের আর তার বইয়ের উত্তোরত্তর সাফল্য কামনা করছি।